Showing posts with label সেকুলারিজম. Show all posts
Showing posts with label সেকুলারিজম. Show all posts

Saturday, 5 September 2020

বিপথগামী কংগ্রেস এবং ভয়ঙ্কর তৃণমূল কংগ্রেস : সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকেই


বিপথগামী কংগ্রেস এবং ভয়ঙ্কর তৃণমূল কংগ্রেস : সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকেই 

৭১২ থেকে ১৭৫৭, এই ১০৪৫ বছরে ভারতে  মুসলমানরা ৪০ কোটি হিন্দুকে হত্যা করেছে; বাকি জীবিত হিন্দুদের জিজিয়া কর দিয়ে তাদের হিন্দুত্বকে রক্ষা করতে হয়েছে; ২ কোটি ২০ লাখ ভীতু হিন্দুকে মুসলমানরা প্রাণের ভয় আর জিজিয়া কর দিতে হবে না এই লোভ দেখিয়ে মুসলমান বানিয়েছে; প্রায় সব মন্দিরকে মুসলমানরা ধ্বংস  ক'রে বড় মন্দিরগুলোকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে; সংস্কৃত টোলগুলোকে বন্ধ করে দিয়ে তারা শিক্ষার হার ৫৮% থেকে ২% এ নামিয়ে এনেছে। এরপর ১৭৫৭ সালে ইংরেজরা এসে মুসলিমদের কবল থেকে হিন্দুদের উদ্ধার করে। তারপর ইংরেজরা কখনো প্রাণের ভয় দেখিয়ে কোনো হিন্দুকে খ্রিষ্টান বানায় নি; কোনো মন্দিরকে  গির্জা বানায় নি; বরং ইংরেজ আমলে মুসলিমদের দ্বারা ধ্বংস প্রাপ্ত মন্দিরগুলো হিন্দুরা এই সময় পুনঃনির্মান করতে পারে, মুসলিম আমলে যেটা নিষিদ্ধ ছিলো। এছাড়াও ইংরেজরা অসংখ্য স্কুল, কলেজ খুলে হিন্দুদের শিক্ষিত করে তুলতে থাকে। এভাবে ইংরেজরা যখন হিন্দুদের সাহায্য করছিলো, তখন ১৮৮৫ সালে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে কংগ্রেসীরা ইংরেজ বিরোধিতায় নামে। হিন্দু কংগ্রেসীদের এই অকৃতজ্ঞতার ফলে ইংরেজরা প্ল্যান করে মুসলিম লীগকে মাঠে নামায়। যার পরিণতিতে  ভারত হয় দ্বিখণ্ডিত; লক্ষ লক্ষ হিন্দুর প্রাণ যায়, লক্ষ লক্ষ হিন্দু মেয়ে ধর্ষিতা হয়। কংগ্রেস যদি হিন্দুদের বিভ্রান্ত না করে ব্রিটিশদের বিরোধিতায় না নামতো, তাহলে এসবের কিছুই ঘটতো না। সময়ের ব্যবধানে অখণ্ডরূপেই ভারত একদিন স্বাধীন হতো।

সুতরাং এই কংগ্রেসকে ২০২১ এ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে ভোট দিয়ে আপনি আর ভারত মাতার ক্ষতি করবেন না, একইভাবে মমতার জোড়াফুলে ভোট দিয়ে নিজেদের ক্ষতি নিজেরা করবেন না; কারণ মমতাকে ভোট দিলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা শক্তিশালী হবে, যাদের হাতে আপনারা মার খাচ্ছেন এবং আরো খাবেন। ভারতকে রক্ষা করতে পারে যে বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদেরকে রক্ষা করতে পারে যে বিজেপি, সেই বিজেপিকে ভোট দিয়ে তাদেরকে শক্তিশালী করুন, বিজেপি শুধু আপনাকে মুসলমানদের হাতে মার খাওয়া থেকে বাঁচাবেই না, আপনার ভবিষ্যতও সুনিশ্চিত করবে।

জয় হিন্দ।

কংগ্রসের শিক্ষামন্ত্রীগণ এবং ভারতের ইতিহাস :


কংগ্রসের শিক্ষামন্ত্রীগণ এবং ভারতের ইতিহাস :

কংগ্রেসের এই শিক্ষামন্ত্রীরা (১৯৪৭-১৯৭৭) ভারতের হিন্দুদেরকে শিখিয়েছে গজনীর সুলতান মাহমুদ ভারত আক্রমন করে সোমনাখ মন্দির লুঠ করে নি, তিনি ভারতে অভিযান চালিয়েছিলেন ! ভারতের কোনো মুসলিম শাসক হিন্দুদের উপর কোনো অত্যাচার নির্যাতন করে নি, কোনো মুসলিম শাসক মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ করে নি, লক্ষ লক্ষ হিন্দু হত্যা করলেও এনারাই ভারতবাসীর মনে এই বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছেন যে - আকবর হলেন, আকবর দ্যা গ্রেট!

১৯৪৭ এর পর ভারতের যে ইতিহাস লিখা হয়, সেই ইতিহাস লিখা হয়েছিলো মন মানসিকতায় মুসলিম, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বা বলা ভালো ভারতের প্রথম দুর্ভাগ্য- জওহরলাল নেহেরুর তত্ত্বাবধানে। ইতিহাস রচয়িতাদের উপর এই নেহেরুর নির্দেশ ছিলো- ইতিহাসে মুসলিম শাসকদের সম্পর্কে খারাপ কিছু লিখা যাবে না, তাদেরকে পজিটিভ আকারে তুলে ধরতে হবে, এজন্য এই ইতিহাসকে বলে নেহেরু মার্কা ইতিহাস। 

পাঠ্য পুস্তকের ইতিহাসের বইয়ে মুসলিম শাসকদেরকে পজিটিভ আকারে তুলে ধরা হচ্ছে কি না, সেটা দেখভাল করার জন্যই কংগ্রেস সরকার একের পর মুসলমানকে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ করতে থাকে, যাদের ফটো আপনারা ফটোপোস্টে দেখতে পাচ্ছেন, আর তাদের তত্ত্বাবধানেই ভারতের হিন্দুরা পাঠ্যপুস্তক পড়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বাস করে আসছে যে- মুসলিম শাসকরা হিন্দুদের সাথে কোনো অন্যায় আচরণ করে নি, তারা কোনো মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ করে নি এবং সম্রাট আকবর হলেন- আকবর দ্যা গ্রেট।

শুধু তাই নয়, ভারতে মুসলিম শাসন পূর্ববর্তী যে গৌরবময় হিন্দুশাসন, যা অন্য একটি ফটোপোস্টে দেখতে পাচ্ছেন, সেই বিষয়গুলো পর্যন্ত তারা ইতিহাসের বইয়ে যুক্ত করে নি, যদি সেই সব ইতিহাস পড়ে হিন্দুরা আবার শৌর্যবীর্যে জেগে উঠে মুসলিমদেরকে পদানত করে, সেই ভয়ে।

জওহরলাল নেহেরু তথা কংগ্রেস, হিন্দুদেরকে মুসলিম শাসনামলের ভুল ইতিহাস শিক্ষা দিয়ে এবং হিন্দুশাসকদের প্রকৃত ইতিহাস ভুলিয়ে দিয়ে কিভাবে হিন্দুদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে বা দেবার চেষ্টা করেছে, সেটা একবার ভাবুন; আর সেই কংগ্রেস দলকে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় বসালে তারা হিন্দুদের কোনো স্বার্থ রক্ষা করবে কি না, সেটাও বিবেচনা করুন।

জয় হিন্দ।

Saturday, 15 August 2020

ভারত ভাগের মূল উদ্যোক্তা গান্ধী :


ভারত ভাগের মূল উদ্যোক্তা গান্ধী :

ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত জিন্নার প্রিয় কাজ ছিলো জলের মতো মদ খাওয়া। জীবনে নামাজ-রোযা করেছেন কি না সন্দেহ। শুকরের মাংস ছিলো তার প্রিয় খাদ্য। ভারতের মুসলমানদের জিন্না যথেষ্টই ঘৃণা করতো। তবু তার জ্ঞান-বুদ্ধির কারণে, মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমি- পাকিস্তান-এর স্বপ্ন দেখা রহমত আলী, ১৯৩৩ সালে, জিন্নাকে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করার প্রস্তাব দিলে, জিন্না তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলো, "এটি একটি অসম্ভব স্বপ্ন।" কিন্তু রহমত কোরান খুলে জিন্নাহকে দেখিয়ে বলেছিলো, এ অসম্ভব নয়, সম্ভব। মুসলমানদের জাগিয়ে পাকিস্তান আদায়ের জন্য সব রকম উপাদান কোরানের মধ্যে রয়েছে।" জিন্না বিষয়টি নিয়ে ভাবতে লাগলো এবং কোরানের তত্ত্ব জিন্নাকে এমনই প্রভাবিত করলো যে, পাকিস্তানের স্বপ্নে বিভোর জিন্না কয়েক বছর পরেই বলে ফেললো, "কয়েক শতক আগে যেদিন প্রথম হিন্দুটি ইসলামে ধর্মন্তরিত হয়েছিলো, সেদিনই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে।" অর্থাৎ জিন্নার মতে পাকিস্তান রাষ্ট্র অলরেডি সৃষ্টি হয়েই আছে, এখন তা বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ, লাহোর প্রস্তাবে জিন্না বললো, "ভারতবর্ষের সমস্যা সম্প্রদায়গত নয়, বরং জাতিগত। এটা খুবই দুঃখের যে হিন্দুরা, ইসলাম ও হিন্দুত্বের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারছেন না। ইসলাম এবং হিন্দুত্ব শুধুমাত্র আলাদা ধর্ম নয়, সম্পূর্ণ বিপরীত দুই জাতিসত্ত্বা। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি পৃথক ইতিহাস থেকে প্রেরণা পায়। এদের একজনের মহাপুরুষ, অন্যজনের শত্রু। মুসলমানরা সংখ্যালঘু নয়। মুসলমান একটা আলাদা জাতি। জাতি গঠনের সমস্ত প্রয়োজনীয় উপাদান তাদের আছে। তাই তাদের অবশ্যই নিজের বাসভূমির অধিকার আছে।" (ভিপি মেনন, ট্রান্সফার অব পাওয়ার, পৃষ্ঠা-৮২) 

ঠিক এর ১০ দিন পর, ১৯৪০ সালের ৬ এপ্রিল, গান্ধী, মুসলিম লীগের দাবিকে সমর্থন করে হরিজন পত্রিকায় লিখলো, "দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতো মুসলমানদেরও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে। বর্তমানে আমরা একটা যৌথ পরিবারের মতোই বসবাস করছি। তাই এর কোনো এক শরিক ভিন্ন হতে চাইতেই পারে।" 

মূলত এই দুটি ঘটনাতে ১৯৪০ সালেই ভারত ভাগ হয়ে গিয়েছিলো; ১৯৪৭ সালে তা শুধু বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র। 

মুসলমানরা যাতে পাকিস্তানের দাবীকে ভুলে না যায়, সেজন্যই হয়তো ১৯৪২ সালের ১৮ এপ্রিল, গান্ধী, হরিজন পত্রিকায় আবার লিখলো, "যদি ভারতের বেশির ভাগ মুসলমান এই মত পোষণ করে যে, মুসলমানরা একটা আলাদা জাতি, যাদের সঙ্গে হিন্দু ও অন্যান্য গোষ্ঠীর মিল নেই, তবে পৃথিবীর এমন কোনো শক্তি নেই যে সেই চিন্তা ভাবনা থেকে তাদের বিরত করতে পারে এবং সেই ভিত্তিতে তারা যদি বেশির ভাগ চায়, তবে অবশ্যই দেশভাগ করতে হবে। তবে ইচ্ছা করলে হিন্দুরা তার বিরোধিতা করতে পারে।"

জিন্না দেখলো, তার দাবীর তেমন কোনো বিরোধিতা হিন্দুদের মধ্যে নেই, বরং হিন্দুদের প্রধান নেতা গান্ধীর, তার দাবীর ব্যাপারে যথেষ্ট অনুমোদনও রয়েছে।

এরপর ১৯৪৪ সালে জিন্নার সাথে গান্ধীর বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ হয়। গান্ধী, জিন্নাহকে বলে, "আমি আপনার বা ইসলামের শত্রু নই। আমি আপনাদের দীন সেবক মাত্র। আমাকে দয়া করে ফিরিয়ে দেবেন না।" গান্ধীর এই অসহায় আত্মসমর্পনে উৎফুল্ল জিন্না পাকিস্তান আদায়ের প্ল্যান তৈরি করে ফেলে। কারণ, জিন্না বুঝেছিলো, শুধু মুখে বলে কিছু আদায় হবে না, এর জন্য এ্যাকশনে যেতে হবে। তাই ১৯৪৬ সালের ২৮ জুলাই বোম্বেতে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের জাতীয় সভায়, ১৬ আগস্টকে জিন্না, "ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে" বা "প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস" হিসেবে ঘোষণা করে। এই সভায় জিন্না বলে, "পাকিস্তান বাদ দিয়ে অন্য কিছুর সাথেই মুসলমান জাতি কোনো প্রকার আপোষ করবে না। এখন সময় হয়েছে, সেই দাবী আদায়ে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার। আমরা আজ একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত সব সময়ই আমরা নিয়মতান্ত্রিক পথেই দাবী জানিয়ে এসেছি। কিন্তু আজ সময় এসেছে সেই নিয়মতান্ত্রিক পথকে বিদায় জানাবার।...আজ আমাদের কাছে একটি পিস্তল আছে এবং আমরা তা ব্যবহার করতে সমর্থ।" ( পীরজাদা, ফাউন্ডেশন অব পাকিস্তান, পৃষ্ঠা-৫৬০)

শুরু হলো প্রস্তুতি:

১৯৪৬ সালে সমগ্র বাংলায় মুসলমান ছিলো ৫৫%, হিন্দু ৪৫%। তাই খুব সহজে কংগ্রেসকে হারিয়ে প্রাদেশিক নির্বাচনে জিতে বাংলার ক্ষমতা দখল করে মুসলিম লীগসোহরাওয়ার্দী বা সুরাবর্দী হয় মুসলিম সরকারের মূখ্যমন্ত্রী; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ছিলো তার হাতে। জিন্নার ডাইরেক্ট এ্যকশন ডে বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় এই জল্লাদ। ২৮ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট, সময় খুব কম। তাই খুব দ্রুত পরিকল্পনামাফিক এগোতে থাকে সে। ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট, স্টেটসম্যান পত্রিকার এক নিবন্ধে সুরাবর্দী লিখে, "হিংসা এবং রক্তপাত অন্যায় নয়, যদি তা মহৎ উদ্দেশ্যে করা হয়। মুসলমানদের কাছে আজ পাকিস্তান আদায় ছাড়া অন্য কোনো প্রিয় কাজ নেই।"

এই দিনই খাজা নাজিমুদ্দিন, যে পরে পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী হয়, সে মুসলিম ইনস্টিউটে, মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের এক সমাবেশে বলে, "মুসলিম লীগের এটা পরম সৌভাগ্য যে, এই রমজান মাসেই সংগ্রাম শুরু হবে। কারণ, এই রমজান মাসেই তো জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ।"

এই ভাবে, গান্ধীর মৌনসম্মতিতে মুসলমানরা শুরু করে দেশ আদায়ের জিহাদ এবং অবশেষে ২০ লক্ষ হিন্দু ও শিখের প্রাণ এবং কমপক্ষে ১ লক্ষ হিন্দু ও শিখ নারীর সম্মানকে মুসলমানরা কেড়ে নিয়ে আদায় করে পাকিস্তান। গান্ধী নামক এই কুলাঙ্গারের যদি জন্ম না হতো বা নাথুরাম যদি একে আরো ১০ বছর আগে খুন করতে পারতো ভারত কোনো দিনই ভাগ হতো না।

জয় হিন্দ।

Tuesday, 4 August 2020

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি : যোগেন মণ্ডল থেকে মনীষা এবং যোগেন মণ্ডলের চিঠি :


ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি : যোগেন মণ্ডল থেকে মনীষা এবং যোগেন মণ্ডলের চিঠি :

মনীষার মতই বরিশালে আরেকজন নেতা হঠাৎ করে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন ভারত ভাগের ঠিক পূর্বমূহুর্তে, তবে তিনি ছিলেন দলিত সমাজের মানুষ। নাম ছিল তার যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল, ওরফে যোগেন মন্ডল। একেবারে হতদরিদ্র, অচ্যুত ঘরে জন্ম নিয়েও তিনি জীবনের বহু চড়াই-উৎরাই পার হয়ে শেষমেশ একজন আইনজীবী হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। এটা আরও একশ বছর আগের কথা, তখন বৃটিশদের শাসন চলছে। আইনজীবী হয়ে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে একের পর এক চমক দেখাতে শুরু করলেন। বরিশালের কিংবদন্তী অশ্বিনীকুমার দত্তের ভাইয়ের ছেলে সরল কুমার দত্তকে হারিয়ে এই অঞ্চলের প্রথম দলিত ব্যক্তি হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হোন। এরপর ধাপে ধাপে তিনি বাংলার প্রাদেশিক সরকারে সমবায় মন্ত্রী ও বিচার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপরে যখন দেশ ভাগাভাগি শুরু হয় তখন তিনি ভারতের পক্ষে না গিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করা শুরু করেন। ব্রাহ্মণ শাসিত হিন্দু সমাজ দ্বারা যুগ যুগ ধরে লাঞ্চিত হওয়ার কারণে তিনি হিন্দুদের দেশে থাকতে চাইলেন না। তিনি চাইলেন আরেক নিপীড়িত জনগোষ্ঠী মুসলমানদের সাথে জোট বেঁধে থাকতে। তার হিসাব ছিল সহজ, হিন্দু অভিজাতদের কাছে অস্পৃশ্য হিন্দুরা যেমন নিপীড়িত, গরীব মুসলমানরাও তেমনি নিপীড়িত। অতএব, দুই নিপীড়িত জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, পরষ্পরের সহযোগী হতে হবে। গরীবের দুঃখ গরীব ছাড়া আর কে বুঝবে?

এই চিন্তা থেকে তিনি পূর্ব বাংলার সকল দলিত মানুষদের পাকিস্তানে থেকে যাওয়ার আহবান জানালেন। ভারত পাকিস্তান প্রশ্নে সিলেট বিভাগে যখন গণভোট আয়োজন হয়েছিলো তখন যোগেন মন্ডল সর্বশক্তি দিয়ে সিলেটকে পাকিস্তানে রাখার কাজে নেমেছিলেন। এই অঞ্চলের দলিত নেতাদের ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি সিলেটকে পাকিস্তানে রাখার পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য সকলকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তার এই পরিশ্রম বৃথা যায় নি। সিলেটের জনগণ ৫৬%-৪৩% ভোটে সিলেটকে পাকিস্তানে রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়, যেখানে দলিত ভোটের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। পূর্ব বাংলার অন্যান্য অঞ্চলেও নিম্নবর্গের হিন্দুরা পাকিস্তানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তার এহেন তৎপরতায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ খুব খুশি হোন। তিনি যোগেন মন্ডলকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং পাকিস্তান আইনসভার প্রথম স্পীকারের পদে অধিষ্ঠিত করেন। যোগেন মন্ডলের জীবনের সেরা সময় ছিল সম্ভবত ঐ দিনগুলো। কিন্তু সুখের সময় বেশিদিন থাকলো না। পাকিস্তান গঠিত হওয়ার তিন বছরের মাথায় যখন পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের উপর ভয়ংকর হামলা শুরু হয়, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, দলিত নির্বিশেষে যখন লক্ষ লক্ষ হিন্দুদের ঘরবাড়ি লুটপাট করা হয়, জ্বালিয়ে দেয়া হয়, ধর্মান্তরিত করা হয় তখন তিনি বুঝতে পারেন, তিনি কি ভুল করেছেন। কিন্তু তখন আর সেই ভুল শোধরাবার কোন সুযোগ ছিল না। তাই তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধাণমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পত্র পাঠিয়ে পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে পাড়ি জমান।

তার ভারতের জীবনও খুব সুখকর ছিল না। ভারতে গিয়ে তিনি দলিত সমাজের উন্নতির জন্য আবার রাজনীতি করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেখানে আর কেউ তাকে পাত্তা দেয় নি। না নিজের সমাজ, না অভিজাত সমাজ কেউই তাকে আর আপন করে নেয় নি। সেখানকার মানুষের কাছে তিনি বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই প্রতিপন্ন হয়েছেন এবং মাত্র ৬৪ বছর বয়সে একাকী নিঃসঙ্গ অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

আজ যখন মনীষার গরুর মাংস বিতরণের ছবি দেখি তখন আমার যোগেন মন্ডলের কথা বার বার মনে হয়। যে গোহত্যা সনাতন সমাজে পাপ বলে বিবেচনা করা হয়, যে গোহত্যায় তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজন অত্যন্ত দুঃখিত হোন, যে গোহত্যার মাধ্যমে দুষ্ট লোকেরা হিন্দুদের মন্দির, বাড়িঘর অপবিত্র করে দেয়, বাড়ির ভেতর গরুর হাড়গোড়, নাড়িভুঁড়ি ফেলে আসে সেই গোহত্যায় অংশ নিয়ে এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে মনীষা দেশের হিন্দু / মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কি বার্তা দিতে চাইলেন ? এর মাধ্যমে কি তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে নিজের অসাম্প্রদায়িক অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করলেন? সম্প্রতি বরিশাল কলেজের নাম অশ্বিনীকুমার দত্তের নামে নামকরণের আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এক শ্রেণীর মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে সাম্প্রদায়িক ও হিন্দুত্ববাদী হিসেবে চিহ্নিত  হয়েছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি তাদের মন জয় করার চেষ্টা করলেন ? নাকি তিনি দেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীকে এর মাধ্যমে সেক্যুলারিজমের পাঠ দিলেন?

যা হোক, সময়ই বলে দেবে মনীষার এমন দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডে কার কি লাভ হয়েছে, তবে আমি চাই তাকে যেন যোগেন বাবুর ভাগ্য বরণ করতে না হয়। আমি চাই তিনি এই মাটিতেই যেন সসম্ভ্রমে বাঁচতে পারেন এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেন। তার ক্ষেত্রে ইতিহাস যেন ভুল প্রমাণিত হয় কিংবা তিনি যেন নতুন ইতিহাস নির্মাণ করতে পারেন। কিন্তু আমি চাইলেই কি তার পাপ তাকে ছাড় দেবে, তার কুকর্মের ফল তো তাকে ভোগ করতেই হবে।

উপরের এই অংশটি কল্লোল দাশ এর থেকে কপি পেস্ট করা হলেও সামান্য এডিট করা হয়েছে।

সরকারী হিসেবে ১৯৫০ সালে পরিকল্পিতভাবে ৫০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়; বেসরকারী হিসেবে সংখ্যাটা কত হতে পারে তা একটু চিন্তা করুন; সেই সাথে কল্পনা করুন-ধর্ষণ-লুঠপাট ও অগ্নি সংযোগ কী পরিমাণ হয়েছে। এর সবই করা হয় বাকি হিন্দুদেরকে ভয় দেখিয়ে তাড়ানোর জন্য, যাতে হিন্দুদের জমি-জমা, বাড়ি-ঘর এমনিই দখল করা যায় বা নিদেনপক্ষে নাম মাত্র মূল্যে পাওয়া যায়। আর এই বিতাড়নে সাধারণ মুসলমান থেকে শুরু করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীরও ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। কেননা, পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের বিষয়ে, মন্ত্রী যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বলতে গেলে, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলো, আপনি এসব বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলছেন। কিন্তু ঘটনার সত্যতার বিষয়ে যোগেন্দ্র নাথ মণ্ডল জোর করলে, তাকে গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হয়। যোগেন্দ্র নাথ বুঝতে পারেন, পাকিস্তান নামক জঙ্গলে সভ্য লোকেদের কোনো স্থান নাই। এরপর তিনি কোলকাতায় চলে যান এবং কোলকাতা থেকেই ১৯৫০ সালের অক্টোবর মাসে তার পদত্যাগ পত্র করাচীতে পাঠিয়ে দেন।

যা হোক নিচে দেখে নিন মনীষার মতো মূর্খ এবং নির্বোধ যোগেন মণ্ডলের সেই বিখ্যাত চিঠির কিছু অংশ, যা সে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে মনীষার মতো বিশ্বাস যে ভুল ছিলো, যে ভুলে বাংলাদেশের হিন্দুদের বহু ক্ষতি হয়েছিলো, নিজের সেই ভুলকে স্বীকার করে গেছেন-

"ঢাকায় ৯ দিন অবস্থানকালে আমি ঢাকা ও তার পার্শ্ববতী এলাকার প্রায় সব দাঙ্গাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করি। ঢাকা-নারায়নগঞ্জ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে শত শত নিরপরাধ হিন্দুর হত্যালীলার সংবাদ আমাকে দারুণভাবে ব্যথিত করে।"

, "ইং ২০ ফেব্রুয়ারি, (১৯৫০) আমি বরিশাল পৌঁছলাম এবং সেখানকার দাঙ্গার ঘটনাবলী শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। এই জেলার শহরে প্রচুর হিন্দু বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক হিন্দুকে খুন করা হয়েছে। এই জেলার প্রত্যেকটা দাঙ্গা-বিধস্ত এলাকা আমি পরিদর্শন করি। আমি সত্যিই বুঝতে পারছিলাম না, কী করে জেলা শহর থেকে মাত্র ৬ মাইল পরিধির মধ্যে মোটর রাস্তা দ্বারা কাশীপুর মাধব পাশা এবং লাখুটিয়ার মতো স্থানেও মুসলিম দাঙ্গাবাজরা বিভৎস তাণ্ডব সৃষ্টি করতে পারে। মাধব পাশার জমিদার বাড়িতে প্রায় ২০০ জনকে হত্যা ও ৪০ জনকে আহত করা হয়। মুলাদী নামক একটি স্থানে নরকের বিভীষিকা নামিয়ে আনা হয়। একমাত্র মুলাদীতেই ৩০০ জনের বেশি লোককে খুন করা হয়েছে। মুলাদী গ্রাম পরিদর্শন কালে আমি স্থানে স্থানে মৃত ব্যাক্তিদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি। দেখলাম নদীর ধারে কুকুর-শকুনেরা মৃতদেহগুলি ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে। আমি জানতে পারলাম, সব প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে পাইকারি হারে খুন করার পর- সব যুবতী নারীকে মুসলমানদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হয়েছে। রাজাপুর থানার অন্তর্গত কৈবর্তখালি গ্রামে ৬৩ জনকে একদিনে হত্যা করা হয়। ঐ থানা অফিসের কাছেই অবস্থিত হিন্দু বাড়িগুলি লুট করে জ্বালিয়ে দিয়ে তাদেরকে কেটে ফেলা হয়। বাবুগঞ্জ বাজারের সমস্ত হিন্দুর দোকান প্রথমে লুঠ করে পরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বিস্তারিত বিবরণ যা এসেছে, তা থেকে খুব কম করে ধরলেও একমাত্র বরিশাল জেলাতেই খুন করা হয়েছে ১০ হাজার হিন্দুকে। ঢাকা তথা পূর্ববঙ্গের দাঙ্গার বলির সংখ্যা মোট ৫০ হাজারের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াবে। গভীর দুঃখে আমি কাতর হয়ে পড়লাম। প্রিয়-পরিজন হারানো, স্বজন হারানো নারী-পুরুষ ও শিশুদের সব হারানো কান্না-বেদনা-বিলাপে আমার ভগ্ন হৃদয় হাহাকার করে উঠলো। আমি নিজেই নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম, "ইসলামের নামে কী আসছে পাকিস্তানে ?"

"পাকিস্তানে হিন্দুদেরকে সবদিক থেকেই বিড়ম্বিত করে দেশের মধ্যেই রাষ্ট্রহীন নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে।...মুসলিম লীগ নেতারা বারবার বিবৃতি দিয়ে জানাচ্ছেন যে, পাকিস্তান মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে জন্মগ্রহন করেছে এবং মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবেই বেড়ে উঠবে।...মহান শরিয়ত নির্দেশিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাসনক্ষমতা শুধু মুসলমানদের হাতেই থাকবে। হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যাঘুরা সেখানে হবে জিম্মি। এই সব জিম্মিরা রাষ্ট্রের কাছে থেকে তাদের নিরাপত্তা ও বাঁচার অধিকার পেতে কিছু মূল্য দিতে বাধ্য থাকবে।"

"গভীর উৎকণ্ঠা এবং দীর্ঘদিন ধরে চিন্তাভাবনা করে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, পাকিস্তান হিন্দুদের বসবাসের জায়গা নয়। সেখানে তাদের ভবিষ্যৎ তমসাচ্ছন্ন; তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ধর্মান্তরিতকরণ অথবা নিশ্চিত অবলুপ্তির করাল গ্রাস। বিরাট সংখ্যক হিন্দু পূর্ববঙ্গ ত্যাগ করেছেন। যেসব হিন্দু এই অভিশপ্ত প্রদেশে থেকে যাবেন, ভাবতে কষ্ট হয়, তারা সবাই ক্রমে ক্রমে পরিকল্পিত পদ্ধতির যাঁতাকলে পড়ে হয় ধর্মান্তরিত হয়ে যাবেন, নয় তো খুন হয়ে যাবেন।"

"আমি যখন নিশ্চিত যে, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার মন্ত্রী পদে থাকা সত্ত্বেও সেখানকার হিন্দুদের কোনো কাজেই লাগতে পারবো না, তাদের জন্য কোনো সুযোগ সুবিধা ই আদায় করতে পারবো না; তখন সব জেনে শুনে পাকিস্তানের হিন্দুদের এবং বিদেশের মানুষের মনে এই ধারণা কেনো দিতে যাবো যে পাকিস্তানে হিন্দুরা পূর্ণ মান-মর্যাদা-নিরাপত্তা এবং সম্পত্তি ও নিজের ধর্মাচরণের অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারছে বা পারবে ? এরকম ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি করার মতো ভণ্ডামি করা আমার উচিত নয় বলে মনে করছি এবং মন্ত্রীপদ থেকে পদত্যাগ করছি।"

কর্মের ফল মানুষ অবশ্যই পায়, মনীষাও পাবে, যেমন যোগেন মণ্ডল পেয়েছিলো।

জয় হিন্দ।

Monday, 3 August 2020

ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি :


ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি :

আমি বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের একজন সদস্য। তাই হিন্দুধর্ম ও হিন্দুসমাজ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যাপার, যা হিন্দুদের ভাবাবেগকে আঘাত করে বা আহত করে, সেই ব্যাপারে কথা বলার এবং যে ব্যক্তি হিন্দুসমাজের ভাবাবেগকে আঘাত বা আহত করে, তাকে আক্রমন ক'রে কথা বলার অধিকার আমার আছে বলে আমি মনে করি। আপনি যেহেতু হিন্দু পরিচয়ে গরুর মাংস মুসলমানদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিলি করেছেন এবং ফেসবুকে তা লাইভ টেলিকাস্ট করে প্রচার করেছেন, সেহেতু আপনি হিন্দুসমাজের ভাবাবেগকে আঘাত করেছেন, তাই আপনার উদ্দেশ্যে এই খোলা চিঠি।

সমাজের যা কিছু উপকারী, তাকেই সনাতন ধর্মে পূজ্য করা হয়েছে, যাতে মানুষ সেই ব্যাপারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি পোষণ করে; কারণ, উপকারী প্রাণী বা বস্তুর প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি বা ভালোবাসা থাকলে, সেটা- পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য উন্নতির সহায়ক। গরু একদিকে যেমন মানুষের পক্ষে অসীম উপকারী প্রাণী, অন্যদিকে তেমনি এর মাংস মানুষের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর; এই দুই দিক বিবেচনা করে মুনি ঋষিরা গরুকে হত্যা করে তার মাংস খেতে নিষেধ করে গেছেন, যেটা সেই প্রাচীন কাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সনাতন ধর্মের অনুসারী হিন্দুরা মেনে চলে আসছে এবং সব হিন্দু যেন বিনা প্রশ্নে তা মেনে চলে, সেজন্য বিষয়টিকে ধর্মের অন্তর্ভূক্ত ক'রে বলে দেওয়া হয়েছে, সকল দেব-দেবীর স্থান গরুর মধ্যে, ফলে গরু শুধু দেবতা নয়, দেবতাদের আধার। এসব কারণে হিন্দুরা গরুকে খুবই পূজনীয় মনে করে এবং গরুকে হত্যা করে তার মাংস খায় না।

পৌরাণিক কাহিনীগুলি হলো পৃথিবীর সকল ঘটনার সার সংক্ষেপ, অর্থাৎ পৃথিবীতে এমন কোনো ঘটনা ঘটে নি বা ভবিষ্যতে ঘটবে না, যার ইঙ্গিত পুরাণে নেই; সেই পুরাণে যাদেরকে অসুর বলা হয়েছে, পৃথিবীতে সেই অসুরদের প্রতিনিধি হলো মুসলমানরা; তাই পৃথিবীতে যা কিছু নিন্দনীয়, মুসলমানদের মতবাদ ইসলামে সেগুলো প্রশংসনীয়, এই যেমন- অন্যের সম্পত্তি লুঠ করে খাওয়া, নারী ধর্ষণ করা, কাউকে হত্যা করাকে যেকোনো মানুষ বলবে অন্যায়, কিন্তু ইসলামে এইসবগুলিই বৈধ বা হালাল, বিশ্বাস না হলে নিরপেক্ষ মন নিয়ে কোরান হাদিস পড়ে দেখুন। তাই অসুরজাত মুসলমানদের কাছে গরুকে হত্যা করা পুন্যের কাজ হতে পারে, কিন্তু একজন হিন্দুর কাছে তা মহাপাপ। অথচ আপনি হিন্দু পরিচয়ে এই মহাপাপের কাজটি করেছেন, যার জন্য আপনার কোনো ক্ষমা নেই, আপনাকে ক্ষমা করা যায় না, ক্ষমা করবোও না।

আপনার ফেসবুকের ইনবক্সে আপনার এই কুকীর্তি, গরুর মাংস বিলি করার ব্যাপার নিয়ে কোনো একজন মন্তব্য করলে আপনি জবাব দিয়েছেন, "আমি তো হিন্দু নয়, স্রেফ মানুষ।" এই প্রসঙ্গে আপনাকে বলছি-

আপনি হিন্দু নয় তো নামের সাথে চক্রবর্ত্তী লাগিয়ে রেখেছেন কেনো ? চক্রবর্ত্তী যে একটি হিন্দু পদবী, সেটা কি আপনার গালে থাপ্পড় মেরে আপনাকে বুঝিয়ে দিতে হবে ?

আর আপনি নিজেকে মানুষ বলছেন, তাহলে হিন্দুদেরকে কি আপনার মানুষ মনে হয় না বা হিন্দুরা মানুষ নয় ? ধরে নিলাম, যাদের নামের শেষে হিন্দু পদবী আছে তারা আপনার কাছে মানুষ নয়, তাহলে নামের শেষে চক্রবর্ত্তী লাগিয়ে রেখে কিভাবে নিজেকে মানুষ বলে মনে করেন বা আপনার পিতা মাতাকে কিভাবে মানুষ ভাবেন, তাদের নামের সাথেও তো তারা চক্রবর্তীই ব্যবহার করে ?

নামের শেষে কোনো ধর্মীয় পরিচয় থাকলে তাকে যদি আপনার মানুষ ব'লে মনে না হয়, তাহলে নামের শেষে- খান, ইসলাম, সৈয়দ জাতীয় মুসলিম পদবী থাকলে তাদেরকে আপনার কিভাবে মানুষ বলে মনে হয়, যাদের জন্য প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে আপনি গরুর মাংস বিলি করছেন ? মানবতার আড়ালে এটা মুসলিম তোষণ, না অন্য কিছু ?

শোনেন, যেসব হিন্দু, নিজেদেরকে হিন্দু হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে পরিচয় দেয়, তারাই কিন্তু পরে মুসলমান হয়, ইতিহাসে এর বহু উদাহরণ আছে, যারা সবাই আপনার মতো বামপন্থী। আপনিও যে সেই পথে আছেন, তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই, তাই মানুষ হওয়ার এই ভণ্ডামি ত্যাগ করে নাম পরিবর্তন করে আপনি মুসলমান হয়ে যান, তারপর গরুর মাংস বিলি করেন বা গরুর মাংস খান, তাতে হিন্দুদের কিছু যাবে বা আসবে না; আপনার নামের শেষে চক্রবর্তী না থাকলে হিন্দুরা অন্তত আপনার মতো নামধারী হিন্দুর বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে স্বস্তি বোধ করবে।

জানতে পাই, আপনি মানবতার বাজার খুলে মানুষের সেবা করেন, তো সেখানে আপনার সেবা শুধু মুসলমানরাই পায় কেনো ? বাংলাদেশের হিন্দুরা মুসলমানদের মতো ভিক্ষুক না হলেও তারা নানাভাবে মুসলমানদের দ্বারাই নির্যাতিত, তো নির্যাতিত কোনো হিন্দুর পাশে কখনো আপনাকে দাঁড়াতে দেখি না কেনো ? শুধু মুসলমানদেরকেই কি আপনার মানুষ মনে হয়, যে মুসলমানরা, তাদের ধর্মমতেই- লুঠেরা, দখলবাজ, ধর্ষক, খুনি ?

রাজনৈতিক বিশ্বাসে আপনি কমিউনিস্ট, মানে বামপন্থী; তো যে মুসলমানদেরকেই শুধু আপনার মানুষ ব'লে মনে হয়, অন্য কাউকে নয়, সেই মুসলমানরা কমিউনিস্টদেরকে কোন চোখে দেখে, সেটা কি জানেন ?

১৯৪৭ এর দেশভাগের পর পূর্ববাংলার কমিউনিস্টদের সাথে এই বাংলার মুসলমানরা কী করেছিলো, সেই ইতিহাস জানেন ? হিন্দুরা তো এমনিতেই মুসলমানদের চোখে কাফের, আর কাফেররা, ইসলাম মতে সর্বদায় ই হত্যাযোগ্য, তাদের নারী শিশু এবং তাদের ধনসম্পদ লুঠযোগ্য, সেই হিন্দু কাফেররা যদি আবার হয় কমিউনিস্ট, তাহলে তো কোনো কথায় নেই, এই বিশ্বাসের দ্বারা বহু হিন্দু কমিউনিস্টকে মুসলমানরা এই পূর্ববাংলা থেকে মেরে কেটে তাড়িয়েছিলো, বহু হিন্দু কমিউনিস্টদের দোকান বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিলো, সেই মুসলমানদেরকেই শুধু আপনার মানুষ ব'লে মনে হয় ? আপনার নিজের কি কোনো বিবেক বুদ্ধি বা বোধশক্তি আছে ?

কমিউনিস্টরা বরাবরই হারামজাদা বা বারোচোদা টাইপের হয়, এই যেমন পূর্ব বাংলা থেকে মুসলমানদের চোদানি বা পেদানি খেয়ে যে কমিউনিস্টরা পূর্ব বাংলা থেকে কোনোমতে জীবন নিয়ে এক কাপড়ে পশ্চিম বাংলা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলো, সেই কমিউনিস্টরাই আবার জাস্ট শুধু ক্ষমতার লোভে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদেরকে তোষণ করা শুরু করেছিলো এবং এভাবে পশ্চিম বাংলাকে হিন্দুদের বসবাসের নিরীখে প্রায় খাদের কিনারায় নিয়ে গিয়েছে, আপনি তো সেই কমিউনিস্টদেরই উত্তরসূরী, আপনার বিবেক বুদ্ধি আর কত উন্নত হবে ?

কমিউনিস্টরা ধর্ম নিরেপেক্ষতার কথা বলে, যে ধর্মনিরেপেক্ষতার আড়ালে তারা শুধুই মুসলমানদের তোষণ করে। তাই যেকোনো দেশের মুসলমান মৌলবাদী দল, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কমিউনিস্টদেরকে ব্যবহার করে এবং তারা যখন ক্ষমতায় যায়, প্রথমেই কমিউনিস্টদেরকে হত্যা করে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের ইতিহাস পড়ুন, আমার কথার সত্যতার প্রমাণ পাবেন।

আপনি তো নারী, তাই না ? তো নারীত্বের কিছু ধর্ম আছে, সেটা বোঝেন? এই যেমন- প্রাপ্ত বয়স্ক হলে বিয়ে করা, সংসার করা, সন্তানের জন্ম দেওয়া, সন্তানকে সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবার জন্য বড় করা; এর বাইরে যদি সময় পায়, তাহলে সে নিজে সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবার জন্য কাজ করতে পারে। বিয়ে, সংসার ও সন্তানের জন্ম না দিয়ে কোনো নারীর অধিকার নেই অন্য কিছু নিয়ে ভাবার। আপনি কি বিয়ে করেছেন, সংসার করছেন, সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ? যদি না করে থাকেন, তাহলে আপনাকে কে বলেছে রাস্তায় নেমে গলাবাজী করার ?

বিয়ের মাধ্যমে পরিবার রচিত হয়, যে পরিবার থেকে আসে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, সন্তান; আর এই সব কিছুর পেছনে মূখ্য ভূমিকা পালন করে যৌনতা, যেটা শুধু মানুষ নয়, সকল প্রাণীর বৈশিষ্ট্য। যৌনতার অনুভূতি একটি শক্তি, নারী ও পুরুষের এই যৌনশক্তি তখনই মিনিমাইজ বা অবদমিত হয়, যখন নারী ও পুরুষ একে অপরের সাথে যৌনমিলন করে। অন্য কোনো উপায়ে একে দমন করার কোনো স্বাস্থ্যসম্মত উপায় নেই।

সামাজিক বৈধ পথে নারী ও পুরুষের যৌনতার একমাত্র পথ হলো বিয়ে, আমি যতদূর জানি আপনি এখনও কাউকে বিয়ে করেন নি, তাহলে বিয়ে না করে কিভাবে আপনার যৌনশক্তিকে দমন করেন ? নাকি আপনার যৌনশক্তিই নেই, আপনি হিজড়া ? যদি আপনার যৌনশক্তি থাকে, তাহলে নিশ্চয় সেটাকে দমন করতে হয়, সেই কাজটা কাকে দিয়ে বা কাকে কাকে দিয়ে করান ? যদি সেই কাজ কাউকে দিয়ে করান, সে বা তারা নিশ্চয় আপনার সমাজ স্বীকৃত স্বামী নয়, তাহলে আপনি কি চরিত্রবতী ? আর যদি বলেন, আমার সেসবের প্রয়োজন হয় না. তাহলে ধরে নিতে হবে যে আপনার যৌনশক্তিই নেই, তাহলে আপনি হিজড়া, তাই বোধহয় হিজড়াদের অধিকার নিয়ে আপনি জান প্রাণ ?

আর যদি আপনি বলেন, আমার যৌণশক্তি আছে, আমি পরিপূর্ণ নারী, আবার যদি এই দাবী করেন যে আমি কোনো পুরুষের সাথে মেলামেশা করি না, তাহলে আমাকে ধরে নিতে হবে যে আপনি আপনার যৌনশক্তিকে দমন করার জন্য স্বমৈথুন করেন এবং আমার অনুমান মতে এটা ঘটা স্বাভাবিক, সেই জন্যই বোধ হয় আপনার চেহারার এই অবস্থা; কখনো আয়নায় নিজের চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখেছেন ? আপনার চেহারায় নারী সুলভ কোনো লাবণ্যতা বা কমনীয়তা আছে ? যোনীতে আঙ্গুল বা অন্য কিছু ঢুকিয়ে স্বমৈথুন করেন বলেই হয়তো আপনার চেহারার এই ভাঙাচোরা মরুভূমির মতো অবস্থা। আপনাকে দেখে যদি কোনো মেয়ে উদ্বুদ্ধ হয়, আর আপনার মতো জীবন যাপন করে, তাহলে সেই মেয়ের ভবিষ্যৎ কী ? যা হোক, আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমার এই সব ধারণার মধ্যে কোনটা সত্য, সে বিষয়ে ক্লিয়ার ক'রে আমার সাথে সাথে জাতিকে একটু ভারমুক্ত করবেন। যেহেতু বর্তমানে আপনি নিজেকে "লিডার অব দ্যা ম্যান" বা "মানুষের নেত্রী" হিসেবে মনে করেন ?

আমার এই সব কথার বিপরীতে শুধু আপনি নন, আপনার মতো বিকৃত মস্তিষ্কের প্রাণীরা প্রশ্ন তুলতে পারে যে- কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি উচিত ?

এখানেই আপনিসহ তাদের উদ্দেশ্যে আমার পাল্টা প্রশ্ন হচ্ছে- কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয় কেনো ? ডা. মণীষার কর্মকাণ্ড দেখে যদি আমার বাড়ির মেয়েরা উদ্বুদ্ধ হয়, আর তারা যদি মণীষার মতো জীবন যাপন করে, যে জীবনের কোনো অর্থ নেই, উদ্দেশ্য নেই, তাহলে আমার পরিবারের হবেটা কী ? আমার পরিবার তো ধ্বংস হয়ে যাবে। তাহলে আমি মণীষার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে পারবো না কেনো ? মানুষের ব্যক্তিগত জীবনই তো অন্যের কাছে আদর্শ। আমি চাই আমার মতো সব হিন্দু হোক, সবাই আমার মতো হিন্দুধর্ম ও হিন্দুসমাজ নিয়ে ভাবনা চিন্তা করুক, তাহলে কেউ যদি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলে, তাতে আমার আপত্তি থাকবে কেনো ?

প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর, শারীরিক কোনো সমস্যা না থাকলে বা আর্থিক কোনো সমস্যা না থাকলে, যদি কোনো নারী বা পুরুষ বিয়ে না করে, তাহলে ধরে নিতে হবে যে তার কোনো মানসিক সমস্যা আছে, যার কারণে তার আচরণ স্বাভাবিক নয়, যে কারণে সে পরিপূর্ণ মানুষ নয়, এরকম মানুষ কিভাবে সমাজের কোনো আদর্শ হতে পারে ? আর যেটা সমাজের আদর্শ হতে পারে না, সেই রকম ব্যাপারকে কিভাবে প্রকাশ্যে সমাজে প্রচার করতে দেওয়া যেতে পারে ? মণীষা রাস্তায় নেমে যা করে, তার কোনো প্রয়োজন নেই; যদি থাকতো, তাহলে তাকেই বরিশালের লোকজন গত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত করতো, তার প্রয়োজন নেই বলেই লোকজন তাকে বয়কট করেছে, এরপরও সে রাস্তায় নেমে ঘেউ ঘেউ করে কেনো ?

আমি মনীষাকে পরামর্শ দেবো, এই সব অর্থহীন কাজ ছেড়ে সে নিজের ডাক্তারি পেশার দিকে মনোযোগ দিক, এখানেই মানুষের সেবা করার যথেষ্ট সুযোগ আছে, আর বিয়ে করে সংসারী হয়ে বাচ্চার জন্ম দিক, বাচ্চাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবার জন্য উপযোগী করে বড় করুক, ঈশ্বর যে তাকে নারী হিসেব জন্ম দিয়েছে, সেই নারীত্বের ধর্ম পালন করুক বা নারীত্বের মর্যাদা রাখুক, না হলে এই জন্মে নারীত্বের অপমান করার জন্য ঈশ্বর তাকে পরের জন্ম হিজড়া হিসেবে জন্ম দিয়ে তাকে শাস্তি দেবে। এই জন্মে সে তো হিজড়াদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে, পরের জন্মে সে নিজেই হিজড়া হয়ে হিজড়াদের জীবনকে ভোগ করবে, সামান্য অর্থের বিনিময়ে নেচে গেয়ে বা অন্যভাবে পুরুষদেরকে মনোরঞ্জন করবে।

আমি জানি জন্মসূত্রে অনেক হিন্দু খুব আত্মাভিমানী এবং নিজেকে খুব বড় এবং জ্ঞানী মনে করে, তাই তাদেরকে কিছু বোঝানো যায় না বা ততক্ষণ তারা কিছু বুঝতে চায় না, যতক্ষণ তারা মাইর না খায়; আপনি যদি এই টাইপের হন, আপনাকেও কিছু বোঝাতে পারবো না আমি জানি, কিন্তু কর্মের ফল তো মানুষকে ভোগ করতেই হয়, যেটা আপনাকেও ভোগ করতে হবে। আবার কিছু হিন্দু আছে যারা দেখে শিখে না, ঠেকে অর্থাৎ মাইর খেয়ে শিখে। আপনার কুকর্মে সোশাল মিডিয়ায় যে ঝড় উঠেছে, আমি চাই সেগুলো দেখে আপনি শিখুন এবং নিজেকে শোধরান, অন্যথায় হিন্দু পরিচয়ে ভবিষ্যতে যদি আবার হিন্দুর ভাবাবেগকে আঘাত করেন বা আঘাত করার চেষ্টা করেন, না জানি কে কোথা থেকে এসে কিভাবে আপনাকে মাইর দেয়, তখন এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ কান্নাকাটি করেও কোনো ফল পাবেন না; কারণ, তখন সবাই বলবে- উচিত শাস্তি হয়েছে, হিন্দু হয়ে হিন্দু পরিচয়ে গরুর মাংস বিলানোর মতো পাপ কাজ করেছিলো কেনো ? ভগবানই ওকে শাস্তি দিয়েছে। আর তখন, যাদেরকে আপনার শুধু মানুষ মনে হয়, যাদের জন্য আপনি মানবতার বাজার খুলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন, সেই মুসলমানদেরকেও পাশে পাবেন না। কারণ, মুসলমানরা শুধু মুসলমানদের জন্যই কিছু করে। কাফেরদের জন্য কিছু করা মুসলমানদের নিষেধ। তখন আপনি যাবেন কোথায় ? মুসলমানদের পাশে পেতে তখন আপনাকে মুসলমান হয়ে নিজের নাম বা নামের পদবী পাল্টিয়ে মণীষা আক্তার করতে হবে, তখন কোথায় থাকবে আপনার মানবতা বা মানুষ পরিচয় ? মনে রাখবেন, দিন শেষে মুসলমানদের কাছে আপনার পরিচয় হিন্দু, মানুষ নয়। আর হিন্দুরা, মুসলমানদের কাছে কাফের, আর নারী কাফেররা গনিমতের মাল, তারা ভোগের বস্তু, ধর্ষণ যোগ্য।

নিজের মাথাটা একটু খাটান। আপনি কেনো ভুলে যান যে- এই মুসলমানদের জন্যই এই বাংলার ২৯% হিন্দু আজ ৯%, এই মুসলমানরাই আপনার মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে রাজাকার বানিয়েছিলো। যতই আপনি মুসলমানদের জন্য কাজ করেন, কোনোদিনই আপনি মুসলমানদের মন পাবেন না। গোবিন্দ চন্দ্র দেব, রণদাপ্রসাদ সাহা, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, যোগেন মণ্ডল কি এদের জন্য কম করেছিলো ? তার কি প্রতিদান দিয়েছে এরা ? এসব আগে জানার চেষ্টা করেন, জানার চেষ্টা করেন ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত পূর্ব বাংলার হিন্দুদের সাথে কী ঘটেছিলো, কারা, কী উদ্দেশ্যে সেসব ঘটিয়েছিলো ? কেনো বরিশালের লক্ষ লক্ষ হিন্দুর বাস আজ আন্দামান দ্বীপে, সেগুলো আগে জানার চেষ্টা করেন, তারপর মুসলমানদের মানুষ ভাবেন, আর তাদের জন্য মানবতার বাজার খুলে কাজ করেন।

আপনি শুধুই নামধারী শিক্ষিত, যেমন আপনি নামধারী হিন্দু। আপনার মধ্যে যেমন হিন্দুত্ববোধের কিছু নেই, তেমনি আপনার মধ্যে প্রকৃত শিক্ষাও কিছু নেই। যদি থাকতো তাহলে আপনি বুঝতেন সনাতন ধর্ম হলো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম সংস্কৃতি, যে ধর্ম সংস্কৃতিকে পৃথিবীর সকল লোক জেনে বা জেনে পালন করে বা করতে বাধ্য, আর সনাতন ধর্মই হলো মানব ধর্ম। আপনি যদি প্রকৃত শিক্ষিত হতেন, তাহলে জানতেন এই বাংলার হিন্দু মুসলিমের ইতিহাস, তখন আর নিজেকে হিন্দু হিসেবে পরিচয় না দিয়ে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে পারতেন না।

যা হোক, আপনার কাজকর্ম যে ভুল, সেটা আপনাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং আপনাকে শোধরানোর জন্য আপনার উদ্দেশ্যে এত কিছু বললাম। যদি এই বুঝ না নিয়ে নিজের গোঁয়ার্তুমিতে আপনি অটল থাকেন এবং এইসব হিন্দুবিরোধী কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকেন, তাহলে প্রস্তুত থাইকেন সেই সময়ের জন্য, যে সময়ে ঈশ্বর আপনাকে প্রকৃত শিক্ষা দেবেন, যার পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে আপনার আর গলাবাজী করার ক্ষমতা থাকবে না।

জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।

Sunday, 2 August 2020

বিদ্যা সিনহা সাহা মিমের কেনো এরকম ইসলামিক মনোভাব ?


বিদ্যা সিনহা সাহা মিমের কেনো এরকম ইসলামিক মনোভাব ?

ফটোপোস্টে দেখুনন বিদ্যা সিনহা মিম, তার পরিবারে ঈদ পালন করেছে এবং একটি খাসিও কুরবানী করেছে। মিমের উত্থান বাংলাদেশের একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার মাধ্যমে। মিমের এইরকম মনোভাব সবাইকে বোঝানোর জন্য সুন্দরী প্রতিযোগিতার আড়ালের কিছু কথা আপনাদেরকে আগে বলা দরকার, তাহলে বুঝতে পারবেন মিমের সাইকোলজি, তাই শুরুতেই বাংলাদেশের সুন্দরী প্রতিযোগিতা সম্পর্কে একটা গোপন তথ্য আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি-

যেকোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতার টপ টেনে যারা থাকে, বাস্তবে তারা এক একজন দামী বেশ্যা, ভদ্র ভাষায় যাদেরকে বলে কলগার্ল। খেয়াল করে দেখবেন, টপ টেনদেরকে নিয়েই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়, যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকে দেশের যত হাইফাই লোক, যেমন- শিল্পপতি, সরকারী ক্ষমতাবান চাকুরে এবং মিডিয়ার প্রভাবশালী লোকজন। এদের সামনে টপটেনের মেয়েদেরকে প্রদর্শন করা হয়। এখানে যারা ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড হয়, তারা মিডিয়ায় একটু নাম ধাম করতে পারে, ফলে বিছানায় গেলে, এরা রেটটা একটু বেশী পায়; আর যারা টপ থ্রিতে যেতে পারে না, তারা পর্দায় কিছু করতে না পারলেও বেড এ ভালোই কামাই করে। কিভাবে এই কামাই হয়, এবার সেই বিষয়টি বলছি-

ফাইনাল অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত থাকে, তাদের মধ্যে থেকে অনেকে তো বটেই, যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকে না, টেলিভিশনের পর্দায় যারা তাদেরকে দেখে, তাদের মধ্যেও অনেকে, সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজক কোম্পানির মালিকের সাথে যোগাযোগ করে মেয়েগুলোকে বিছানায় পাওয়ার জন্য। দরদাম ঠিক হলে ঐ আয়োজক, মেয়েদের কে বিভিন্ন জনের বিছানায় পাঠায়, বিনিময়ে যা আয় হয়, তার একটা অংশ ঐ মেয়ে পায়, এভাবেই চলে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া টপটেনদের আয় রোজগার। এরা যতদিন বিয়ে ক'রে সংসার না করে, ততদিন এই ব্যবসা ঠিক ঠাক মতো চলে। কিন্তু যখন বিছানায় এদের চাহিদা কমে যায়, তখন মনোযোগী হয় সংসারের প্রতি এবং কাউকে বিয়ে করে সংসারে স্থিতু হয়। এদের মধ্যে থেকে টিভি বা সিনেমায় যারা নাম ডাক করতে পারে, তারা কারো সাথে বিছানায় শোওয়ার পাশাপাশি ফাঁকে ফাঁকে অভিনয়টাও চালিয়ে যায়, এতে যেমন মানুষকে দেখানো যায় কোনপথে তার আয় রোজগার হচ্ছে, তেমনি বিছানার চাহিদাটাকেও টিকিয়ে রাখা যায়।

যদি কোনো সুন্দরী বিছানার কোনো অফার পায়, আমার মনে হয় না সেটা বাদ দিয়ে সে কোনো টিভি নাটকের শ্যুটিং করবে। কারণ, টিভি নাটকের জন্য একদিনে হয়তো কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা অভিনেত্রী ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা আয় করে, সেখানে সে যদি এক ঘন্টা কাউকে বিছানায় সময় দেয়, তার আয় মিনিমাম ১ লাখ। কোনটা তার জন্য বেটার, সারাদিন রোদে ঘেমে নেচে গেয়ে শুটিং করা, না এক ঘন্টার জন্য বিছানায় গিয়ে কাপড় খুলে শুয়ে থাকা ? তবে এটাও ঠিক পর্দার উপস্থিতি কমলে বিছানার চাহিদাও কমতে থাকে। তাই বুদ্ধিমতী মেয়েরা দুটোকেই ব্যালান্স করে চলে। বাংলাদেশের সুন্দরী প্রতিযোগিতার একজন আয়োজকের, প্রভাবশালী মহলে যে সম্মান এবং ক্ষমতা, তা জানলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যাবে, এনার মূল সম্পদ উনার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী টপটেনের মেয়েগুলো। যাদের মাধ্যমে সে ধনীদের পকেট কাটে এবং ক্ষমতাবানদের মাথার উপর ছুড়ি ঘোরায়।

বিদ্যা সিনহা সাহা মিম, মিডিয়া পাড়ায় যে ছোট মিম নামে পরিচিত; কারণ, তার আবির্ভাবের সময় একজন বড় মিম মিডিয়ায় কাজ করছিলো। এই ছোট মীমের কর্মকাণ্ড, যেটা ফটোপোস্টে দেখতে পাচ্ছেন, যাকে আমার অপকর্ম বলেই মনে হচ্ছে, সেটা দেখে সুন্দরী প্রতিযোগিতার আড়ালের কাহিনীগুলি মনে পড়ে গেলো, আর এটা আপনাদের সাথে এজন্য শেয়ার করলাম- সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে আপনাদেরকে সতর্ক করতে, যাতে আপনার পরিবারের কোনো মেয়েকে আপনারা ঐ দিকে যেতে উৎসাহিত না করেন। কারণ, আমি চাই না কোনো হিন্দু পরিবারের মেয়ে এই ধরণের প্রতিযোগিতায় অংশ নিক এবং ভাড়াটে বেশ্যায় পরিণত হোক।

যা হোক, সবাই যে সুন্দরী প্রতিযোগিতার আড়ালের ঘটনা জেনেশুনে এই ধরণের প্রতিযোগিতা অংশ নেয়, তা নয়; প্রায় সবাই না জেনেই এই ফাঁদে পা দেয়, কিন্তু টপটেনে উঠার পর তারা আস্তে আস্তে বুঝতে পারে কোন ফাঁদে তারা পা দিয়েছে। তখন তারা চাইলেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না; কারণ, আয়োজক কোম্পানি তখন অলরেডি গ্রুমিং এর নামে তাদেরকে তথাকথিত "মাল" বানানোর পেছনে অনেক টাকা ইনভেস্ট করে ফেলেছে, সেই টাকা না তুলে দেওয়া পর্যন্ত কিছুতেই তাদের নিস্তার নেই। টপটেনে উঠার আগেই আস্তে আস্তে তাদেরকে মূল ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে আসলে তাদের কাজ কী হবে এবং কোন পথে তারা বেশি আয় করতে পারবে। এজন্য টপটেনে উঠার আগেই শারীরিক ও মানসিকভাবে তাদেরকে প্রস্তুত করা হয়, এমনকি কারা টপটেন বা টপ থ্রিতে বা নাম্বার ওয়ান হবে, সেটাও আয়োজক কোম্পানির লোকজনই ঠিক করে, বিছানায় কে কত ভালো পারফর্মেন্স করে তার ভিত্তিতে। এ ব্যাপারে কোনো মেয়ে যদি অসহযোগিতা করে অর্থাৎ আয়োজক কোম্পানির লোকজনকে খুশি না করে, তাহলে তাদেরকে সাথে সাথে ঝেড়ে ফেলা হয়। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় তারাই টিকে থাকে, যাদের দৈহিক সৌন্দর্য থাকার পাশাপাশি, সেই সৌন্দর্যকে যারা অন্যদেরকে ভোগ করতে দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে।

তাই টেলিভিশনের পর্দায় আমরা যে সুন্দরীদের সৌন্দর্য এবং উপস্থিত বুদ্ধির খেলা দেখি, সেটা শুধুই লোক দেখানো, আসলে আগে থেকেই সব কিছু সেট করা থাকে, কে প্রথম হবে, কে দ্বিতীয়, আর কে তৃতীয়। যা হোক, টপ টেন, টপ থ্রি বা টপ ওয়ান হওয়ার বাইরে কেউ যদি মিডিয়ায় নাম ডাক করতে পারে, সেটা তাদের জন্য প্লাস, কিন্তু আয়োজক কোম্পানির হয়ে তাদেরকে অন্যের বিছানায় গিয়ে কাপড় খুলতেই হবে, তাদের ইনভেস্ট শুধু নয়, বিপুল পরিমাণ লাভ তাদেরকে তুলে দিতে হবে, তার আগে কোনো সুন্দরীর নিস্তার নাই। তাই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মানে আধুনিক যুগের যৌনদাসীতে পরিণত হওয়া, যার নিজের ইচ্ছায় সেক্স করে না, অন্যের ইচ্ছায় সেক্স করতে বাধ্য হয়।

মুসলমানরা হলো একটি যৌনকাতার এবং যৌনপাগল জাতি, এরা যে পরিমান সেক্স করে, তা অন্যদের পক্ষে ভাবাও সম্ভব নয়। একমাত্র ঔষধের দোকানদাররা বুঝতে পারে তার এলাকার কোন মুসলমান সপ্তাহে কতদিন সেক্স করে; কারণ, তারাই তো তাদের যৌনশক্তি বৃদ্ধির ঔষধের সরবরাহকারী। সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যা সিনহার মতো মেয়েরা যখন মুসলমানদের এই যৌনতার ফাঁদে পড়ে এবং যখন সেটা দিনের পর দিন ধরে চলতে থাকে, তখন তাদের মন মানসিকতা আর হিন্দুদের মতো শুদ্ধ ও পবিত্র থাকে না, তারা মুসলমানদের মতোই হয়ে যায়, মুসলমানদের মতোই আচরণ করে এবং প্রায় সব ক্ষেত্রে তারা মুসলমানকে বিয়ে করে কমপ্লিটলি মুসলমান হয়ে যায়। যে কারণে জন্মসূত্রে হিন্দু হয়েও মিডিয়ায় কাজ করার কারণে হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করে হিন্দু সমাজে থাকে নি শ্রাবন্তী দত্ত তিন্নি, অপু বিশ্বাস এবং এদের মতো আরো অনেকে।

হিন্দু পুরুষদের যেহেতু খতনা করা থাকে না, তাই হিন্দুরা এক স্ত্রীতেই সন্তুষ্ট থাকে; কারণ, তারা সেক্সের চুড়ান্ত আনন্দটা একজনের কাছে প্রতিবারই পায়। কিন্তু খতনা করার কারণে লিঙ্গের সেনসিভিটি নষ্ট হওয়ায় মুসলমান পুরুষরা কোনো এক নারীর কাছে সেই সুখ পায় না, যে সুখের মাত্রা তার মস্তিষ্কে সেট করে দেওয়া আছে, এই অতৃপ্তির কারণেই সে মনে করে অন্য কারো কাছে গেলে বোধহয় ঐ সুখ পাওয়া যাবে, কিন্তু তার কাছেও পায় না, এভাবে সে একের পর একের কাছে যেতে থাকে, কিন্তু কোথাও সে সেই সুখ পায় না, যেহেতু কাপড়ের ঘর্ষণ ঘর্ষণে তার সুখ প্রদানকারী বস্তু লিঙ্গের সেনসিভিটিই নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে একজন মুসলমান পুরুষ বহুগামীতে পরিণত হয়, কিন্তু হিন্দুদের এই সমস্যা নেই বলে তারা বহুগামীতে পরিণত হয় না। বিয়ের আগে কোনো কোনো হিন্দু ছেলের মধ্যে একটু এদিক ওদিক যাওয়ার স্বভাব থাকলেও বিয়ের পর তারা প্রায় কেউই ওপথে আর পা বাড়ায় না; নিজের ক্যারিয়ার, চাকরি বা ব্যবসার উন্নতির দিকেই সে বেশি মনোযোগ দেয়, তাই যৌনতার পেছনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হিন্দুরা কখনোই করে না, যেটা করে মুসলমানরা, তাই সিনেমা বা টিভি পর্দার বা বেপর্দার সকল সুন্দরীদের আয় মূলত মুসলমানদের কাছ থেকেই হয়, যেটা ঐ মেয়েকে আস্তে আস্তে মুসলমানে পরিণত করে।

বিদ্যা সিনহা মিম, তার ফেসবুক পোস্টে বলেছে, পরিবারের মধ্যে সে স্বল্প পরিসরে ঈদ পালন করবে, এতে আমি মোটেই অবাক হই নি এই কারণে যে আমি ওর সাইকোলোজি বুঝি, শুধু সে ঈদ ই পালন করবে না, একটা খাসিও কুরবানী করবে, যার ছবি সে নিজের সাথে তুলে দিয়েছে। এই বিদ্যা সিনহা মিম যদি কোনো মুসলমানকে বিয়ে করে মুসলমান হয়ে যায়, তাতে আমি মোটেই অবাক হবো না। আবার এতেও আমি মোটেই অবাক হবো না, যদি শুনি যে অনেক আগেই সে কোনো মুসলমানকে বিয়ে করে গোপন করে রেখেছে। কারণ গোপনে বিয়ে করে মজা লুটা এবং তা গোপন রাখা নায়িকাদের একটি স্বভাব; কারণ, বিয়ের খবর ফাঁস হলে পর্দায় এদের চাহিদা যতটা কমে তার চেয়ে বেশি চাহিদা কমে অন্যের বিছানায়, তাই তারা কিছুতেই বুড়ি না হওয়া পর্যন্ত বা অপুর মতো বাচ্চা না হওয়া পর্যন্ত নিজের বিয়ের খবর প্রকাশ করে না।

আপনি যা ই ভাবুন, বাস্তবে টিভি বা সিনেমার নায়িকাদের চরিত্র বলে কিছু নেই, এরা স্বভাবগতভাবেই পতিতা, যৌনতাকে এরা কোনো বিষয়ই মনে করে না; যার সাথে মন চায়, এরা যেমন তার সাথেই শোয়, তেমনি টাকা পেলেও এরা যার তার সাথেও শোয়। তাই আমার পাঠক বন্ধুদের কাছে আমার অনুরোধ, যদি আপনারা চান যে আপনার বাড়ির মেয়েরা এগুলো না করুক, ভুলেও কখনো কাউকে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহ দেবেন না বা এ ব্যাপারে কোনো হিন্দু মেয়েকে সাপোর্ট দেবেন না। বাংলাদেশের কোনো হিন্দু মেয়েকে টিভি বা সিনেমায় অভিনয় করতে দেওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ ওখানে পৌঁছে গেলে এরা নিজেরাই শুধু চরিত্র হারাবে না, বিদ্যা সিনহা মিম, শ্রাবন্তী দত্ত তিন্নি বা অপু বিশ্বাসের মতো হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগকে নিয়ে এরা খেলবে, হিন্দুধর্ম ও সমাজকে এরা এদের কর্মকাণ্ড দ্বারা অপমান করবে এবং এই সবকিছু করার মাধ্যমে এরা হিন্দু সমাজকেও ডোবাবে।

হিন্দু মেয়েরা- সুন্দরী প্রতিযোগিতা এবং মিডিয়ার ফাঁদ থেকে রক্ষা পাক, এই কামনায় বলছি-

জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।
জয় হিন্দ।