Showing posts with label ইসকন. Show all posts
Showing posts with label ইসকন. Show all posts

Saturday, 5 September 2020

নপুংসক ব্যক্তি যাদের আদর্শ, তারা নপুংসকই হয় :


নপুংসক ব্যক্তি যাদের আদর্শ, তারা নপুংসকই হয় :

ফটোপোস্টের গদাধরের পৈতৃক নাম নিশ্চয় গদাধর নয়, সে নিজেকে কঠিন এবং খাঁটি বৈষ্ণব হিসেবে তুলে ধরার জন্য নিশ্চয় এই নামটি নিয়েছে।

বৈষ্ণব মতবাদের গদাধর, চৈতন্যদেবের একজন শিষ্য এবং সখা। চৈতন্যদেবের নির্দেশে নিত্যানন্দের সাথে থেকে তিনি প্রেমভক্তি প্রচার করেন এবং শেষ পর্যন্ত পুরীর মন্দিরে চৈতন্যদেবের সাথেই নিহত হন বলে অনেকের ধারণা, যেহেতু চৈতন্যদেবকে পুরীর মন্দিরের ভেতর হত্যা করার পর থেকে গদাধরকে কোথাও আর কেউ দেখে নি এবং চৈতন্যদেব যখন শেষ বারের মতো পুরীর মন্দিরে প্রবেশ করে, তখন নাকি গদাধরও চৈতন্যদেবের সাথে ছিলো।

এই গদাধরের স্ত্রী, সংসার ও ছেলে মেয়ের কোনো খবর পাওয়া যায় না, এ থেকে ধারণা করা হয় যে- তিনি ছিলেন প্রকৃত বৈরাগী, যিনি নারীর মুখ দর্শন করেন নি। আর কোনো পুরুষের পক্ষে তখনই এটা করা সম্ভব যখন তিনি হবেন সম্পূর্ণ নপুংসক।

সেই গদাধরের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই ইসকন সদস্য নিজের নাম নিয়েছে গদাধর, নপুংসক হওয়া ছাড়া এর সামনে বিকল্প কোনো পথ আছে কি ?

ফটোপোস্টে দুইজন মুসলিম এবং একজন হিন্দুর দাঁড়ানোর এটিচিউডকে লক্ষ্য করুন। হিন্দুটিকে দেখেই মনে হচ্ছে যে, সে দুর্বল- দৈহিক শক্তি এবং জ্ঞানে। মুসলমানরা তাকে এমন কিছু প্রশ্ন করেছে, যার উত্তর খুঁজে না পেয়ে সে মাথা নত করে আছে। এর মূল কারণ সে চৈতন্য এবং রাধার ভক্ত। আর যে ব্যক্তি, চৈতন্য এবং রাধার ভক্ত, তার বিনাশের জন্য অন্য কিছুর কোনো প্রয়োজনই নেই। কেননা, চৈতন্যদেবের নীতি হলো- মেরেছে কলসির কানা, তাই বলে কি প্রেম দেবো না ? এছাড়াও চৈতন্য চরিতামৃতে বৈষ্ণবদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- 

"তরুসম সহিষ্ণুতা বৈষ্ণব করিবে।

ভর্তসনা তাড়নে কারে কিছু না বলিবে।।

কাটিলে তরু যেন কিছু না বোলয়।

শুকাইয়া মৈলে তবু জল না মাগয়।।"

অর্থাৎ বৈষ্ণবদেরকে যদি কেটেও ফেলে, তবু সে কিছু বলতে পারবে না, সে মরতে থাকবে, কিন্তু প্রেম দিতে থাকবে।

চৈতন্যদেবের শিষ্যরা নিরঙ্কুশ নিরামিষ খায়, এই নিরামিষ খেয়েও নাকি মানুষ অনেক শক্তিশালী হতে পারে বলে অনেক ইসকন ভক্ত আবার আমাকে এটা সেটার উদাহরণ দেখায়। তাদের এইসব কথা যে ভাবের, বাস্তবের নয়, তারা এরকম ইসলামি দাওয়াতের মুখোমুখি হলে বুঝতে পারবে, যেমন বুঝতে পেরেছে চৈতন্যভক্ত, তৃণভোজী গদাধর।

কোন প্রশ্নের মুখে পড়ে গদাধর এভাবে মাথা নত করে আছে, সেটা না জানলেও ধারণা করছি, মুসলমানরা রাধা নিয়েই তাকে প্রশ্ন করেছে, যেহেতু যেখানে তারা দাঁড়িয়ে কথা বলছে, সেটা রাধা মন্দির।

মুসলমানরা রাধা নিয়ে যেসব প্রশ্ন করে, সে সব প্রশ্ন এখন আমি- রাধাভক্তদের উদ্দেশ্যে করছি, দেখুন তো উত্তর দিতে পারেন কি না ? ধরে নিন, আমি ঐ দুই মুসলমানের একজন এবং আপনি গদাধর, আমার প্রশ্নগুলো শুনলেই বুঝতে পারবেন, কেনো আপনাদের গদাধর মাথা নিচু করে আছে ?

মুসলমানদের প্রশ্ন- আচ্ছা, এটা তো আপনাদের রাধামন্দির, তো রাধার সাথে আপনাদের ভগবান কৃষ্ণের সম্পর্ক কী ?

গদাধর- রাধা হলেন আদ্যাশক্তি মহামায়া।

মুসলমান- আমরা এসব আদ্যাশক্তি মহামায়া টায়া শুনতে চাই নি, আমি জিজ্ঞেস করছি- রাধা, কি কৃষ্ণের স্ত্রী ?

গদাধর- না।

মুসলমান- তাহলে রাধা কার স্ত্রী ?

গদাধর- আয়ান ঘোষের।

মুসলমান- তাহলে রাধা কৃষ্ণের স্ত্রী নয়, অন্য কারো স্ত্রী ?

গদাধর- হুমম।

মুসলমান- তাহলে আপনাদের ভগবান কৃষ্ণ, অন্য একজনের স্ত্রীর সাথে প্রেম করছে, এটা কি কৃষ্ণের লাম্পট্য নয় ?

গদাধর- না, মানে, হ্যাঁ, ব্যাপারটা সেরকম নয়। রাধা লক্ষ্মীর অবতার, আর শ্রীকৃষ্ণ বিষ্ণুর অবতার, আর বিষ্ণু ও লক্ষ্মী স্বামী স্ত্রী। স্বর্গে- এক দেবতা, লক্ষ্মীকে স্ত্রী হিসেবে প্রার্থনা করেছিলো বলে, সেই দেবতা পৃথিবীতে আয়ান ঘোষ নামে জন্ম নেয় এবং রাধা হিসেবে জন্ম নেওয়া লক্ষ্মীর সাথে তার বিয়ে হয়, কিন্তু সামান্য এক দেবতা তো আর বিষ্ণুর স্ত্রী লক্ষ্মীর সাথে সহবাস করতে পারে না, তাই আয়ান ঘোষ নপুংসক হয় এবং রাধা, কৃষ্ণের সাথে প্রেম করেন, যে প্রেম নিষ্কাম অর্থাৎ কামনাশূন্য।

মুসলমানআপনাদের এসব আজগুবি কাহিনীতে আমাদের কোনো ইন্টারেস্ট নেই, আচ্ছা বলেন তো রাধা ও কৃষ্ণের এইসব প্রেমের কাহিনী আপনাদের কোন কেতাবে আছে ?

গদাধরব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে।

মুসলমান- সেই কেতাবে তো রাধা ও কৃষ্ণের যৌনলীলার ছড়াছড়ি, আমি নিজে পড়েছি, তাহলে আপনি কিভাবে বলছেন যে- রাধা ও কৃষ্ণের প্রেম নিষ্কাম বা কামনাশূন্য ?

গদাধর- নিরুত্তর, মাথা নিচু করে ভাবছে কী জবাব দেবে ?

মুসলমান- আচ্ছা, এসব বাদ দেন। রাধার সাথে যে কৃষ্ণের প্রেম ছিলো, সেটা তো আপনারা স্বীকার করেন, আবার এটাও স্বীকার করেন যে রাধা, কৃষ্ণের স্ত্রী নয়। তাহলে রাধা ও কৃষ্ণের যে প্রেম হয় সেটা হয় পরকীয়া। এই পরকীয়া প্রেমের প্রচার করে আপনারা সমাজকে কি শিক্ষা দিচ্ছেন ? সবাইকে কি কৃষ্ণের মতো পরকীয়া প্রেম করতে বলছেন ?

গদাধর- নিরুত্তর।

মুসলমান- বাদ দেন এসব কথা। আপনি কি বিয়ে করেছেন ?

গদাধর- না।

মুসলমান-ভবিষ্যতে বিয়ে করবেন ?

গদাধর-না।

মুসলমান-আপনার মতো সব হিন্দু যদি বিয়ে না করে, তাহলে তো আপনাদের বাচ্চাকাচ্চাও হবে না। তাহলে আপনাদের মৃত্যুর পর আপনাদের এইসব মন্দিরে পূজা করবে কে ?

গদাধর- নিরুত্তর।

আমার ধারণা এই ধরণের প্রশ্নের মুখে পড়েই গদাধর নিরুত্তর হয়ে মাথা নিচু করে আছে। কারণ, বৈষ্ণব মতবাদ ইসলামের মতোই সম্পূর্ণ অবাস্তব থিয়োরি, বাংলার এমন কোনো বৈষ্ণব নেই, যে আমার তিনটি প্রশ্নের উত্তর যুক্তিসম্মতভাবে দিতে পারে। কারণ, পৃথিবীতে কেউই প্রকৃত বৈষ্ণব নয়, সবাই নামে বৈষ্ণব।

সম্পূর্ণ অবাস্তব থিয়োরি এবং অশাস্ত্রীয় ভ্রান্ত বিশ্বাসকে ধারণ ও লালন করার জন্যই গদাধরের এই অবস্থা। শুধু গদাধরের নয়, মুসলমানদের প্রশ্নজিহাদের মুখে পড়লে সকল ইসকনির এই একই অবস্থা হবে। তবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, এই মুসলমানরা শুধু একবারই গদাধরকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েই তারা হাল ছেড়ে দেবে, তারা বার বার ঐ মন্দিরে গদাধরের কাছে যাবে, গদাধরকে নানারকম প্রশ্ন করবে, তাকে হেয় করবে, এ থেকে বাঁচার জন্য গদাধরকে ঐ মন্দির থেকে পালাতে হবে। আর যদি গদাধরের পালানোর কোনো জায়গা না থাকে, সে এক সময় বাধ্য হবে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হতে।

কিন্তু এর বিপরীতে আমার মতো কৃষ্ণভক্ত, যে নিরামিষ খায় না বলে যার শরীর দুর্বল নয়, আক্রান্ত হলে যার আক্রমন প্রতিহত করার মানসিকতা আছে, যার আত্মরক্ষার ক্ষমতাও আছে, তাদের কাছে এসে যদি কোনো মুসলমান ইসলামের দাওয়াত দেয়, সেই মুসলমানের এরকম বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো অপশন নেই, আমাদের পাল্টা প্রশ্নের মুখে পড়ে বাপ বাপ করে পালাতে বাধ্য হবে।

ইসলামের প্রাথমিক যুগ অর্থাৎ মুহম্মদের মদীনায় পলায়নের (৬২৩ খ্রি.) পর থেকে মধ্যযুগ অর্থাৎ ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত, মুসলমানরা অমুসলিমদের গলায় তরবারি ধরে বলেছে- হয় ইসলাম গ্রহণ কর, নয়তো মৃত্যুকে বরণ কর। ইসলামের সেই তরবারির জোর আর নেই, এখন কোনো মুসলমান যদি ঐ থিয়োরিতে ইসলাম প্রচার করতে যায়, সে নিজেই মার খাবে বা মরে যাবে, যেমন মরেছে ইরাক সিরিয়ার আইএস জঙ্গীরা। তাই ইসলাম প্রচার করতে মুসলমানদের এখন প্রশ্নজিহাদ এবং ব্রেইন ওয়াশ থিয়োরিই ভরসা। একারণে ইসলামের দাওয়াত প্রসঙ্গে মুসলমানদের সাথে পেশীশক্তির লড়াইয়ের কথা বাদ দিলাম, মুসলমানরা এখন যেহেতু জ্ঞানশক্তির সাহায্যে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছে, সেহেতু এখন আমাদেরকেও জ্ঞানশক্তি দিয়েই তাদের সাথে লড়াই করতে হবে, যেটা আমাদের জন্য অনেক সহজ।

পৃথিবীতে যেমন একজনও খাঁটি বৈষ্ণব নেই, তেমনি একজনও খাঁটি মুসলমান নেই। তাই জ্ঞানশক্তির জোরে বৈষ্ণবদেরকে পরাজিত করা যেমন কোনো ব্যাপার নয়, তেমনি মুসলমানদেরকে পায়ের নিচে ফেলাও কোনো বিষয় নয়। এই পৃথিবীতে এমন কোনো বৈষ্ণব বা এমন কোনো মুসলমান নেই যে আমার সামনে দাঁড়িয়ে ৩ মিনিট বুক ফুলিয়ে লেকচার দিতে পারে। মুসলমানদের সাথে আমার ঘটা দুটো ঘটনার উদাহরণ দিচ্ছি-

একবার আমি এবং এক হুজুর মুসলমান পাশাপাশি বসে ছিলাম। মুসলমানদের স্বভাব তো ধর্ম নিয়ে চুলকানো, তাই সুযোগ পেলেই তারা ধর্ম নিয়ে চুলকাবে। হঠাৎ সে বলে উঠলো- আমাদের যে রোযা, এটা কিন্তু দেহের জন্য খুব উপকারী। আপনারা রোযা রাখেন না কেনো ?

জবাবে আমি শুধু এটাই বলেছি- যদি রোযা এতই উপকারী হয়, তাহলে তা সারা বছর রাখেন না কেনো ?

ব্যস, এরপরই ঐ মুসলমান আর একটা কথাও তখন মুখ দিয়ে বের করে নি এবং তার পরেও ধর্ম নিয়ে কোনো কথা আমার সাথে কোনোদিন আলোচনা করে নি।

আরেকদিন আরেক মুসলমান আমার কাছে এসে বসে হিন্দুধর্ম নিয়ে এটা সেটা বলছিলো, যেটা ঠিক কটূক্তি নয়, সমালোচনা বলা যেতে পারে। ভাবলাম, এর মুখ বন্ধ করতেই হবে। আমি জানতাম সে এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে, তাই বললাম- তোর ফোনে কোনো অডিও ভিডিও গান আছে ? বললো- আছে। আমি বললাম- গান শুনতে ভালো লাগে ? বললো- লাগে। তখন আমি বললাম, তুই জানিস, ইসলাম মতে গান শোনা হারাম ? সে চুপ করে গেলো। তারপর আমি বললাম- নিজে আগে প্রকৃত মুসলমান হ, তারপর অন্যের ধর্মের সমালোচনা করিস বা অন্যের কাছে গিয়ে ইসলামের গুনগান বা প্রচার করিস। তারপর থেকে ঐ মুসলমান আর কোনোদিন আমার সামনে এসে ঐরকম কথাবার্তা আর কোনোদিন বলে নি।

মুসলমানদেরকে কথায় পরাজিত করতে গেলে আপনাকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে হবে। ঈশ্বরের কৃপায় ইসলাম সম্পর্কে আমার এমন নলেজ যে, কোনো মুসলমানের ক্ষমতা নেই কোনো একটি বিষয় নিয়ে আমার সামনে বক্তৃতা মারার। যে বিষয়ে কথা বলবে, সেই বিষয়েই এমন প্রশ্ন করবো, যে তার উত্তর দিতে গিয়ে কূল কিনারা খুঁজে পাবে না, বাপ বাপ করে আমার কাছ থেকে পালাবে।

আর বৈষ্ণবদের সাথে লড়াইয়ের কথা আর কী বলবো, এরা তো কখনো আলোচনাতেই বসতে চায় না। এরা এমন ভাবারু যে, এরা ভাবে- আমি যা বুঝি, সেটাই চুড়ান্ত সত্য, সেটা অন্য কেউ বোঝে না এবং সেই জ্ঞান অন্য কাউকে বলা যাবে না, তাই বৈষ্ণবদেরকে কোনো প্রশ্ন করলেও তার উত্তর পাওয়া যায় না। কোনো না কোনো অজুহাতে তারা এড়িয়ে যায়। পেটে বোম মারলেও মুখ দিয়ে কিছু বাড়ায় না, এই প্রবাদ, বৈষ্ণবদের এই ধরণের আচরণের কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। আসলে এরা তো মূর্খ, সনাতন ধর্মের প্রকৃত জ্ঞান তো এদের নেই ই, যে মতবাদ এরা পালন করে, সেই বৈষ্ণব মতবাদ সম্পর্কেও এদের টোটাল জ্ঞান নেই, যেখানে মুখ খুলবে, সেখানেই এরা ধরা খাবে, তাই সবক্ষেত্রে মৌনতাকেই এরা অবলম্বন করে, যেটা মূর্খদের বৈশিষ্ট্য; কারণ, মুখ খুললেও তো তাদের জারিজুরি সব ফাঁস।

যা হোক, একবার আমার গ্রামে এক ইসকন সদস্য এলো একেবারে বউ নিয়ে। বিয়ে করার পরও সে না কি বৈষ্ণব বা বৈরাগী! যে চৈতন্যদেব স্ত্রীকে ত্যাগ করেছিলো, এক নারীকে সম্বোধন করার অপরাধে যে চৈতন্যদেবে তার এক শিষ্য ছোটহরিদাসকে বর্জন করেছিলো, যাকে সে কোনো দিন ক্ষমা করে নি, সেই চৈতন্যদেবের অনুসারীরা আবার বিয়ে করে, স্ত্রীর সাথে যৌনক্রিয়া করে, আবার সন্তানের জন্মও দেয়, এরা পালন করে সম্পূর্ণ সনাতনী কালচার, আবার নিজেকে পরিচয় দেয় বৈষ্ণব হিসেবে ! একই সাথে কেউ যেমন নারী ও পুরুষ হতে পারে না, তেমনি একই সাথে কেউ সনাতনী এবং বৈষ্ণব হতে পারে না। তাই বিয়ে শাদী ও সংসার করা এবং নিজেকে বৈষ্ণব বলে পরিচয় দেওয়া সম্পূর্ণ ভাণ্ডমিক ব্যাপার।

যা হোক, বিয়ে করা সেই ইসকনী- অস্ট্রেলিয়া, না ফিজির কোনো এক মন্দিরে থাকে। তার আগমন উপলক্ষ্যে পাড়ার লোকজন তাকে নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করলো, সেখানে গেলাম। বক্তৃতার এক পর্যায়ে সে বললো- চৈতন্যদেব, কলিহত জীবকে উদ্ধার করার জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন। এই তথ্যকে ভিত্তি করে আমি বললাম- চৈতন্যদেব যদি কলিহত জীবকে উদ্ধার করার জন্য আবির্ভূত হন, তাহলে তার জন্ম ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দে কেনো, কেনো তার জন্ম কৃষ্ণের তিরোধানের পরপরই কলিযুগের শুরুতে সেই প্রায় ৫ হাজার ৩শ বছর আগে হয় নি ?

-আমার এই প্রশ্নের জবাবে সে ধানাই পানাই শুরু করে বললো- না, নাম তো সব যুগেই ছিলো।

আমি বললাম- আমার প্রশ্ন তো এটা নয়, আমি ঠিক যে পয়েন্টে কথা বলেছি, আপনি ঠিক সেই পয়েন্টেই কথা বলবেন।

এরপর সে এটা সেটা হাবি জাবি বলে টাইম পাস করতে লাগলো এবং আমি রাধা ও চৈতন্য বিরোধী কথাবার্তা বলি ব'লে কিছু লোক শুরু থেকেই আমার বিরোধী ছিলো, তারা ঐ ইসকন সদস্যের কথায় সাঁয় দিয়ে যেতে লাগলো। এভাবে সংখ্যাধিক্য মূর্খের কাছে আমার প্রশ্নের পয়েন্ট কোনো গুরুত্বই পেলো না। তারা যে বিশ্বাস করে, কলিহত জীবকে উদ্ধার করার চৈতন্যদেব আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং এই বিশ্বাস নিয়ে তারা সেই ছোটবেলা থেকেই ভজগৌরাঙ্গ লহগৌরাঙ্গের নাম ব'লে ব'লে যে চিৎকার করে আসছিলো, আমার যুক্তিকে মেনে নিলে তাদের সেই বিশ্বাস ভুল প্রমাণিত হয় ব'লে, তারা আমাকে গুরুত্ব না দিয়ে সেই ইসকনির কথাতেই নাচতে লাগলো, যেহেতু ইসকনির কথাকে মেনে নিলে তাদের লালিত বিশ্বাস ভুল বলে প্রমাণিত হয় না।

আরেকটি তথ্যে সে বললো, উপনিষদ ১০৮টি, আমি তাকে বললাম উপনিষদ ১২ টি। কিন্তু এই তথ্য প্রমাণ করার জন্য তখন আমার কাছে উপনিষদ সমগ্র ছিলো না বলে তর্ক আর বাড়ালাম না, ভাবলাম এই মূর্খের সাথে তর্ক করে কোনো লাভ নেই। আর যদিও তার কাছে, কেনো উপনিষদ ১২টি, কেনো ১০৮টি নয়, সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করি, তখন সে বলবে এই সব গ্রন্থ গ্রহনযোগ্য নয়, কিন্তু কোন গ্রন্থ এবং সেটা কেনো গ্রহন যোগ্য সেটাও তারা বলবে না, তাদের মনোভাব এরকম - আমরা যেটা বিশ্বাস করি এবং প্রচার করি, একমাত্র সেটাই ঠিক, বাকিগুলো সব মিথ্যা। যেমন- ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের প্রসঙ্গে আমি যখন বললাম, ঐ গ্রন্থে রাধা ও কৃষ্ণের যৌনলীলার ছড়াছড়ি, সেই গ্রন্থের রেফারেন্স দিয়ে আপনি রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমের সম্পর্ককে মেনে নিচ্ছেন কিভাবে ? তখন সে বললো- একই শ্লোকের মধ্য কেউ আধ্যাত্মিকতা দেখতে পায়, কেউ দেখতে পায় যৌনলীলা, এটা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীর সমস্যা যে কে কিভাবে কোন বিষয়কে দেখবে ? তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলাম- আপনি কি কখনো ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ পড়ে দেখেছেন ? বললো- না। তখন তাকে বললাম, তাহলে আপনি কিভাবে সেই গ্রন্থ থেকে রাধা ও কৃষ্ণের নিষ্কাম প্রেমের ব্যাপারে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন ? আর ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের অনুবাদ যদি ভুলভাবে করা হয়ে থাকে, আপনার এত বড় সংগঠন এতদিন ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের সঠিক অনুবাদ বের করে নি কেনো ?

এরপরেও তার সেই একই ধানাই পানাই, হিন্দুধর্মের অনেক গ্রন্থ, সেগুলো একজীবনে পড়ে শেষ করা যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি।

তর্ক বিতর্কের একটি নিয়ম হলো- আপনি যদি একা হন, আর আপনার প্রতিপক্ষরা যদি সংখ্যায় বেশি হয়, তাহলে আপনি যতই যুক্তির কথা বলেন, মূর্খ প্রতিপক্ষদের কাছে আপনি পরাজিত হবেনই হবেন। সেদিন আমার অবস্থাও হয়েছিলো তাই, ঐ মূর্খ কোনো যুক্তির ধার ধারবে না বলে এক সময় আমি নিজেই চুপ মেরে গিয়েছিলাম। আর দর্শক সারিতে বসে প্রশ্ন করে মঞ্চে উপবিষ্ট আলোচকদের সাথে পেরে উঠা যায় না। কারণ, যে ব্যক্তি মঞ্চে উপবিষ্ট থাকে এবং পূর্বেই কিছু বক্তৃতা রাখার সুযোগ পায়, মনোবৈজ্ঞানিক কারণেই তার বক্তব্যের সাথে অনেকেই একমত থাকে, তারা তাকে প্রটেক্ট করে। তাই কারো সাথে তর্কে জিততে হলে দর্শক সারি থেকে প্রশ্ন করে জেতা যাবে না, বসতে হবে সমানে সমানে এবং আপনার অনুসারীর সংখ্যাও হতে হবে পর্যাপ্ত, যারা আপনার কথাকে সাপোর্ট করবে। আর মঞ্চে উপবিষ্ট কোনো আলোচককে যদি প্রশ্ন করে আটকাতে হয়, যখন সে কোনো ভুল তথ্য দেবে, তখনই তাকে পাল্টা প্রশ্ন করতে হবে, তার বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর তাকে প্রশ্ন করে আটকানো যাবে না। কারণ, তার বক্তৃতা শুনে বেশ কিছু লোক তার ভক্ত হয়ে যাবে, তারা তাকে সাপোর্ট করবে। সেদিন আমারও হয়েছিলো এই ভুল, তাকে বেশকিছুক্ষণ বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলাম, এটা না করে প্রথম থেকেই তাকে আটকাতে হতো, সেদিনের সেই অনুষ্ঠানে এই শিক্ষাটা আমার হয়েছে।

আমার এলাকায় এক বৈষ্ণবগুরু আছে, যার আছে প্রায় হাজারখানেক শিষ্য। তাকে একদিন কাছে ডেকে বসিয়ে আমার রাধা ও কৃষ্ণ সম্পর্কিত সিদ্ধান্তের কথা জানালাম। সে আবার কথায় ওস্তাদ, কেউ কোনো প্রশ্ন করলে সেটার সঠিক উত্তর তার কাছে থাক বা না থাক, সাত সমুদ্র তেরো নদীর পাড়ের কাহিনী বানিয়ে এমনভাবে কিছুক্ষণ বক্তৃতা দেবে, যে পরে ঐ প্রশ্নকারী কোনো কথাই বলতে পারবে না, সে যা বলবে, তাই মুখ বুঝে শুনতে বাধ্য হবে। তার এই বেশিষ্ট্যের কথা আমি জানতাম বলে- আমি বললাম, আমি আপনাকে যা প্রশ্ন করেছি, আপনি শুধু তারই উত্তর দেবেন, সেটা হলো - বালক বয়সে, যেটা ১১ বছর বয়সের পূর্বেই, শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবন থেকে মথুরায় যান কংস বধের উদ্দেশ্যে, তারপর আর কোনোদিন কৃষ্ণ, বৃন্দাবনে যান নি, রাধারও বৃন্দাবনের বাইরে কোথাও যাওয়া কোনো প্রমাণ নেই, তাহলে যুবক কৃষ্ণের সাথে যুবতী রাধার দেখা হলো কখন, আর তাদের মধ্যে প্রেমই বা হলো কখন, যেটা আপনারা হরিবাসরে লীলাকীর্তনের মাধ্যমে প্রচার করেন ?

এতে সে বললো, সামনের মাসে আমার কোনো কাজ নেই, অনেক সময় ফ্রি আছে, তখন তোর সাথে বসবো, এরপর প্রায় ৩ বছর কেটে গেছে, এখনও সে আমার সাথে বসে নি।

আরেক জন লীলাকীর্তনওয়ালা বৈষ্ণব, যে বিভিন্ন হরিবাসের লীলাকীর্তন করে হাজার হাজার টাকা আয় করে, তার কাছেও আমার এই রাধা-কৃষ্ণ সম্পর্কিত বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছিলো, সে বলেছিলো দু দিন পর ঢাকা থেকে একজন লোক আনিয়ে আমার সাথে আলোচনায় বসবে, এই ঘটনার পরও প্রায় ৩ বছর কেটে গেছে, আজ পর্যন্ত তার ক্ষমতা হয় নি আমাকে মোকাবেলা করার।

এসব ঘটনা থেকে আমি এটা বুঝতে পেরেছি যে, এইসব বৈষ্ণবরা, কোনো দিনই আমার সাথে বসে প্রকৃত সত্যকে বুঝবে না বা গ্রহন করবে না, এদেরকে ধরে থাপড়িয়ে থাপড়িয়ে প্রকৃত সত্যকে বোঝাতে হবে এবং কেবল তার পরেই তারা সেটাকে গ্রহন করবে এবং শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে মিথ্যা প্রচার বন্ধ করবে, বর্তমানে সেই প্রস্তুতি আমি নিচ্ছি।

যা হোক, বৈষ্ণবদের জ্ঞানশক্তির জোর যখন এরকম, তখন তারা যে কোনো মুসলমানের প্রশ্নের মুখে টিকে থেকে নিজেদের বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখতে পারবে, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই; এদেরকে হয় পালাতে হবে, নয়তো ইসলাম গ্রহন করে নিজের মান বাঁচাতে হবে। কারণ, টিকে থাকার জন্য অভ্রান্ত থিয়োরিকে ধারণ করতে হয়, যা নিয়ে কেউ কখনো কোনোরকম প্রশ্ন তুলতে পারবে না; সেই অভ্রান্ত থিয়োরি শুধু আপনাকে বাস্তবতার জ্ঞানই দেবে না, কিভাবে নিজে টিকে থাকতে হয় এবং তথ্যের জ্ঞানে অপরকে পরাজিত করতে হয়, সেই শক্তিও দেবে। যা বৈষ্ণব বা ইসলাম, কোনো মতবাদেই নেই।

ইসলাম এখনও পৃথিবীতে টিকে আছে শুধু মুসলমানদের- অন্ধবিশ্বাস, চাপা এবং চাপাতির জোরে। যখন মুসলমানরা যুক্তি মানতে শিখবে এবং বিরোধী শক্তিকে দমন করার অস্ত্র চাপাতিকে ত্যাগ করবে, তখনই ইসলাম পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অবাস্তব মতবাদ ইসলামের তবু নিজেকে টিকিয়ে রাখার মতো দুটি প্রধান শক্তি আছে- গলাবাজী এবং চাপাতি; বৈষ্ণব মতবাদের তো এর কোনোটিই নেই, এরা টিকে থাকবে কিভাবে ? গলাবাজী এবং চাপাতি চালানো, এই দুটোর জন্য লাগে রাগ এবং দৈহিক শক্তি, যা নিরামিষ খেয়ে অর্জন করা যায় না, তাহলে বৈষ্ণব মতবাদ পৃথিবীতে টিকে থাকবে কিভাবে ?

চৈতন্যদেবের জন্মের পর প্রায় ৫০০ বছর ধরে কেউ তার মতবাদের বাস্তবতা এবং তার দ্বারা সনাতন হিন্দু সমাজের ক্ষতির বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে নি, তাই এতদিন ধরে টিকে আছে এবং ঘটেছে বৈষ্ণব মতবাদের প্রসার, কিন্তু বর্তমানে এটি নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাই বৈষ্ণবরা রাধা এবং চৈতন্যদেবকে ত্যাগ করে যদি সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণে সমর্পিত না হয়, এদের বিলুপ্তি নিশ্চিত এবং এদের দ্বারাই মুসলমানরা সনাতন ধর্মের বেশি ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম হবে, তাই বৈষ্ণব মদবাদের বিরুদ্ধে আমার এই লড়াই, আমি চাই সকল মতপথ ভুলে সবাই শুধুমাত্র শ্রীকৃষ্ণের শরণ নিক; কারণ একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই রক্ষার পথ, মুক্তির পথ; বাকি সব বোগাস, মিথ্যা।

জয় হিন্দ।

জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।

Friday, 24 July 2020

যারা ইসকনের পক্ষে সাফাই গায়, তাদেরকে বলছি-


যারা ইসকনের পক্ষে সাফাই গায়, তাদেরকে বলছি-

ইসকন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্মের প্রচার এ প্রসার ঘটিয়েছে, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই, বরং এজন্য তারা প্রশংসা পাবারই যোগ্য, যে প্রশংসা আমি করিও; যদিও আমি জানি যে ইসকনের ধর্ম প্রচার ভুলে ভরা, যে ভুলের জন্য তাদেরকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও পড়তে হবে।

ইউরোপ, আমেরিকা রাশিয়ার মানুষেরা ইসলামের নৃশংসতা দেখেছে এবং বর্তমানেও দেখছে, সেই সাথে তারা জানতে পেরেছে ইহুদি ও খ্রিষ্টীয় মতবাদের অসারতা, সেজন্য তারা বিশ্ব নিয়ন্ত্রক হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকে যখন জানতে পেরেছে বা  জানতে পারছে ইসকনের মাধ্যমে, তখন তারা বেশি কিছু চিন্তা না করে ইসকনের সদস্য বা ভক্ত হচ্ছে, গ্রামের ভাষায় এটা অনেকটা না পেয়ে নাতীই ভাতার। তার মানে ভালো কেউ নাই, তাই  ইসকন চান্স পাচ্ছে; কিন্তু প্রকৃত বিশুদ্ধ ব্যাপারটা নিয়ে যখন তাদের কাছে কেউ যাবে, তখন তারা ইসকনকে ছুঁড়ে ফেলবে; কারণ, মিথ্যা কখনো চিরস্থায়ী রাজ করতে পারে না, মিথ্যার পতন অবশ্যই একদিন হবেই হবে, যেমন হচ্ছে ইসলাম ও মুহম্মদের।

এরপর- ইসকন অমুক দেশে এটা করেছে, তমুক দেশে ওটা করেছে, পারবেন কি আপনি করতে ? ইসকনিদের এই ধরনের খোঁড়া যুক্তির বিরুদ্ধে অনেক আগেই বলেছিলাম, আরে ভাই, রাশিয়ার হিন্দুরা প্রতিদিন বিরিয়ানী খায়, সেই স্বপ্ন আমাদেরকে দেখাস না, আমরা বাংলার হিন্দুরা যে প্রতিদিন মার খাই বা খাচ্ছি, সেদিকে একটু নজর দে, তাহলেই আমরা খুশি।

ইসকন ভুল ভাল যা প্রচার করে করুক, ইসকন যদি শুধু বাঙ্গালি হিন্দুদের অস্তিত্বের ব্যাপার নিয়ে ভাবে, তাহলেই ইসকনকে আমরা মাথায় তুলে রাখবো; কারণ, এই মূহুর্তে বাংলায় একটি বড় মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরিবর্তে বাংলায় একজন হিন্দুর শক্ত অবস্থান নিয়ে টিকে থাকা জরুরী। কেননা, হিন্দুরা থাকলে মন্দির একদিন এমনিই হবে, কিন্তু হিন্দুরা না থাকলে মন্দির কোনো কাজেই লাগবে না, তাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মন্দির প্রতিষ্ঠা করা নয়, গুরুত্বপূর্ণ হিন্দুর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা।
পোস্টের শেষে ইসকন প্রেমী তুষার বলেছে, পারলে যুক্তি দিয়ে তাদের মুখোমুখি হন।

যে নিজে পুরুষ নয়, সে ই অন্য পুরুষকে দিয়ে ভয় দেখায়; কিন্তু যারা প্রকৃত পুরুষ, তারা নিজেরাই সবকিছু মোকাবেলা করে। আমি যদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হয়ে কোনো দেশে পোস্টিং পাই, সেদেশে, বাংলাদেশ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের জবাব এবং যাবতীয় সমস্যার সমাধান আমাকেই করতে হবে; কোনো প্রশ্নের মুখে পড়ে আমি যদি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীকে দেখিয়ে দিই, তাহলে কিন্তু কোনো কাজ হবে না; একইভাবে ইসকন সম্পর্কে যাবতীয় প্রশ্নের জবাব, যারা ইসকনের সম্পর্কে সাফাই গাইবে, তাদেরকেই দিতে হবে, ঠেকে গিয়ে যদি কেউ এরা অন্য কাউকে দেখায়, ধরে নেওয়া হবে যে এরা কেউ মরদ নয়, প্রত্যেকে এক একটা নপুংসক।

উপরে কী বললাম, আশা করছি তা ইসকনীদের মাথায় ঢুকেছে এবং এও আশা করছি যে এই ধরণের অন্তঃসারশূন্য লাফালাফি ভবিষ্যতে কোনো ইসকনী আর করবে না।

জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।

সৌম্যের বিয়ের আসরে এই ইসকনি নপুংসক কেনো ?


সৌম্যের বিয়ের আসরে এই ইসকনি নপুংসক কেনো ?

এই ইসকনি নপুংসক মনে করে যে যৌনতা এবং সন্তান জন্ম দেওয়া পাপ। তাহলে এই অকর্মা, যে স্ত্রী-সন্তান-পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করতে পারবে না বলে ইসকনে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে ঝামেলামুক্ত এবং সেফ লাইফ লিড করার সমাজ বিলুপ্তকারী পথ বেছে নিয়েছে, সে সৌম্যের বিয়েতে গিয়েছে কেনো ?

বিয়ের প্রথম উদ্দেশ্য যৌনতা এবং পরবর্তী উদ্দেশ্যগুলো হলো সন্তানলাভসহ পরিবারের অস্তিত্ব রক্ষার মাধ্যমে সমাজ রক্ষা করা। এই নপুংসক যেখানে যৌনতাকে পাপ মনে করে, তাহলে সে  যৌনতার কারক কোনো বিয়েতে যাবে কেনো ?

একে বিবাহ আসরে ঢুকতে দিয়ে সৌম্য একটি চরম ভুল করেছে। কারণ, এর প্রভাব যদি তার জীবনে পড়ে, সৌম্যের সংসার জীবন তছনছ হয়ে যাবে। কারণ, সৌম্য তখন তার স্ত্রীর সাথে এক বিছানায় ঘুমাবে না, ইসকনিদের পরম আদর্শ চৈতন্যদেবের মতো স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে সন্ন্যাসী হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াবে। সৌম্যের খেলাধূলা, সৌম্যকে নিয়ে সৌম্যের স্ত্রীর সুখের সংসার, সন্তানকে নিয়ে সৌম্যের পিতা মাতার স্বপ্ন, সৌম্যকে নিয়ে হিন্দু সমাজের গর্ব এবং সৌম্যকে নিয়ে বাংলাদেশের আশা ধুলিসাৎ হবে।

এই নপুংসক আবার সৌম্য এবং তার স্ত্রীকে রাধা কৃষ্ণের ছবি সম্বলিত বই উপহার দিয়েছে। সৌম্যের স্ত্রী যদি রাধাকে অনুসরণ করে- যে রাধা, নিজের স্বামীকে বাদ দিয়ে শাশুড়ি ননদের শাসনকে উপেক্ষা করে পর পুরুষের সাথে গিয়ে প্রেম ও যৌনতায় মেতে উঠে- তাহলে সৌম্যের সংসার জীবন তো পৃথিবীতেই নরক হয়ে উঠবে।

এই ইসকনি নপুংসকের সৌম্যের বিয়েতে উপস্থিতির এই সুদূরপ্রসারী কুফলের বিষয়গুলো কি সেখানে উপস্থিত কেউ ভাবে নি। ভাবলে তাকে বিবাহ আসরে ঢুকতে দিলো কেনো ? যদি আমার বিয়েতে এই রকম কেউ উপস্থিত  হওয়ার চেষ্টা করতো, তাকে আমি ঢুকতেই দিতাম  না।

জয় শ্রীকৃষ্ণ।

Sunday, 31 May 2020

ইসকন থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখুন; কারণ- ইসকন আপনার ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিতে পারে


ইসকন থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখুন; কারণ- ইসকন আপনার ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিতে পারে :

ফটো হিসেবে যা পোস্ট করেছি, সেই দুটো আগে পড়ুন।

এই ধরণের ঘটনা ইসকনের দ্বারা কিন্তু একটা দুইটা ঘটছে না, ঘটছে সারা বাংলায়, অসংখ্য; আর এর মাধ্যমে ইসকন হিন্দু যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করে ঐ সব যুবকদের পরিবারের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিয়েছে, দিচ্ছে এবং আপনি যদি সতর্ক না হোন, আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎকেও ধ্বংস করে দিতে পারে।

আমি বাংলাদেশের খুলনা জেলার একটা ঘটনা জানি। পরিবারের একমাত্র পুত্র সন্তানকে পিতা মাতা অনেক টাকা পয়সা খরচ করে ইঞ্জিনিয়ার বানিয়েছে, কিন্তু ছেলে চাকরি বাকরি বাদ দিয়ে ইসকনে যোগ দিয়ে দিয়েছে। ইসকনে যোগ দেওয়ার পর সে নিজের বাড়ি যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে, বাপ মায়ের কোনো খোঁজ খবর রাখে না, বাড়ি সে যায়ই না, যদিও বা কখনো বাড়ি যায়, সে তার মায়ের হাতের রান্না করা খাবার খায় না; কারণ, তার মা নাকি শুদ্ধ কৃষ্ণভক্ত নয়, এছাড়াও তার মায়ের অপরাধ, সে মাছ মাংস অর্থাৎ আমিষ খাবার খায়। ছেলের এই পরিবর্তনে মা চোখের জল ফেলে আর বাবা ফেলে দীর্ঘশ্বাস।

ইসকনে যারা যোগ দিয়ে বাড়ি ছাড়ে, সবার কাহিনীই প্রায় এরকম। প্রথমে তারা বাড়ির খোঁজ খবর নেওয়া বন্ধ করে দেয়, মাঝে মাঝে বাড়ি যায়, কিন্তু মায়ের হাতের রান্না করা খাবার খায় না এবং এক পর্যায়ে বাড়ি যাওয়াই বন্ধ করে দেয়। এভাবে মৃত্যু হয় একটি পরিবারের স্বপ্নের এবং ধ্বংস হয় একটি পরিবারের ভবিষ্যতের।
মানুষ সন্তানের জন্ম দেয় নিজের বংশ ধারাকে রক্ষা এবং বৃদ্ধ বয়সে নিজেদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু ইসকন হিন্দু যুবকদের ব্রেইন ওয়াশ করে, তাদেরকে বাড়ি ও বাপ মায়ের কাছ থেকে প্রথমে বিচ্ছিন্ন করছে, তারপর তার কর্মশক্তিকে ভগবানের সেবার নামে নিজেদের কাজে লাগিয়ে নিজেদের উন্নয়ন করছে; কারণ, তাকে তো কোনো বেতন দিতে হচ্ছে না, শুধু খাবার এবং শোবার জায়গা দিলেই হচ্ছে।

সনাতন ধর্ম বলেছে,

“পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহি পরমং তপঃ
পিতোরি প্রিতিমা পন্নে প্রিয়ন্তে সর্ব দেবতা।”

এর মানে হলো- পিতা খুশী হলে সব দেবতা খুশি হয় এবং এবং পিতাই পরম ধর্ম। একারণেই পরশুরাম তার পিতার আদেশে তার মাকে হত্যা করেছিলো, একারণেই রামচন্দ্র পিতার ধর্ম রক্ষার্থে ১৪ বছরের বনবাসের কঠিন জীবন বেছে নিয়েছিলো এবং একারণেই পিতার খুশীর জন্য মহাভারতের ভীষ্ম, বিয়ে না করে আজীবন ব্রহ্মচর্য্য পালনের প্রতিজ্ঞা করেছিলো, হিন্দুধর্ম ও হিন্দু সমাজে এই হলো পিতার স্থান, যেখানে পিতাই শেষ কথা এবং পিতাই পরম তপস্যার ব্যাপার বা পিতাই পরম ধর্ম।

অন্যদিকে আবার মাতা সম্পর্কে হিন্দুধর্ম বলেছে,

“মাতা জননী ধরিত্রী, দয়াদ্র হৃদয়া সতী।
দেবীভ্যো রমণী শ্রেষ্ঠা নির্দোশা সর্ব দুঃখ হারা।।”

-এর মানে হলো সকল দেবীর মধ্যে মা শ্রেষ্ঠ।

তাই পিতা ও মাতাকে কেউ কখনো কষ্ট দিয়ে জীবনে সুখী হতে পারে না বা জীবনে কোনো কিছু অর্থাৎ উন্নতি করতে পারে না। প্রেমের আবেগে পড়ে যে সব ছেলে মেয়ে বাপ মায়ের অমতে তাদের বিরদ্ধে গিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে, একারণেই তারা কখনো সুখী হয় না বা হতে পারে না; কারণ বিয়ে হলো নতুন জীবনের শুরু, আর তাতে সবার আশীর্বাদ মাস্ট; বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করলে এই আশীর্বাদ থাকে না্ বরং থাকে অভিশাপ, তাই খুর শীঘ্রই তাদের জীবনে ঝড় নেমে আসে এবং দাম্পত্য জীবনের অবসান হয় আত্মহত্যা বা বিচ্ছেদের মাধ্যমে।

সনাতন ধর্মে স্পষ্ট করে- ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বাণপ্রস্থ ও সন্ন্যাস- এই চারটি আশ্রমের কথা বলা আছে; ব্রহ্মচর্য্যের কাল হলো জন্ম থেকে ২৫ বছর, এই সময়টা শিক্ষা অর্জনের কাল; গার্হস্থ্য মানে পারিবারিক জীবন, এই সময়টা ২৫ থেকে ৫০ বছর; শিক্ষাগ্রহণ শেষে বিয়ে করে সংসারের দায়িত্ব নেওয়া এবং সন্তানের জন্ম দিয়ে তাদেরকে মানুষ করাই হলো এই সময়ের কাজ। বাণপ্রস্থ হলো ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত সময়, এই সময়ের শুরুতে পরিবারের দায়িত্ব ছেলের হাতে তুলে দিয়ে কোনো ধর্মীয় সংগঠনের অধীনে থেকে ধর্ম ও সমাজের জন্য কাজ করতে হয় এবং ৭৫ বছর পরবর্তী জীবন হলো সন্ন্যাসের জীবন, সন্ন্যাস মানে পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব থেকে পূর্ণ অবসর, এই সময় মানুষকে শুধু ঈশ্বরের চিন্তায় মগ্ন থাকতে হবে।

সনাতন ধর্মের এই চারটি আশ্রমের মাধ্যমে কোন বয়সে মানুষের কোন কাজ করা কর্তব্য তা স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে এবং একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় যে এই সিস্টেমটা সম্পূর্ণ বাস্তব; কারণ, শিক্ষাগ্রহণ না করলে মানুষ পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় না, তাই শিক্ষা গ্রহণ অবশ্যই করতে হবে এবং শিক্ষাগ্রহণ শেষেই বিয়ের মাধ্যমে একজন নারীর দায়িত্ব নিতে হবে এবং তারপর সন্তানের জন্ম দিয়ে সমাজ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে; কারণ, সমাজ টিকেই থাকে জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে; আপনার বা আমার পিতা মাতা আপনাকে বা আমাকে জন্ম দিয়েছিলো বলেই আপনি বা আমি এই পৃথিবীর আলো বাতাস ভোগ করতে পারছি এবং ধর্ম ও সমাজ নিয়ে ভাবতে পারছি বা কাজ করতে পারছি। যদি চৈতন্যদেবের থিয়োরি অনুসরণ করে আমাদের পিতা আমাদেরকে জন্ম না দিতো তাহলে প্রভুপাদ যেমন ইসকন সংগঠন তৈরি করতে পারতো না, তেমনি ইসকনে যোগ দিয়ে আপনি এটা বলতে পারতেন না যে আমিষভোজী মায়ের হাতের রান্না খাওয়া পাপ।

সমাজে প্রতিটি মানুষের জন্ম গুরুত্বপূর্ণ এবং এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার জন্য প্রতিটি পিতা মাতা আরও গুরুত্বপূর্ণ, তাই তাদেরকে অবহেলা ও কষ্ট দিয়ে সামাজিক কোনো সংগঠন যেমন সফলতা লাভ করতে পারে না, তেমনি এই ধরণের সংগঠন সমাজে টিকে থাকতে বা টিকে থাকার অধিকারও পেতে পারে না। অসংখ্য পিতা মাতার চোখের জল এবং বুক ভরা দীর্ঘশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলার ইসকন নামক সংগঠন, তাই এই সংগঠনের ধ্বংস বা বিলুপ্তি অনিবার্য, সেটা ১০ বছর পর হোক বা ১০০ বছর পর হোক।

সনাতন ধর্মের চার আশ্রমের যে বৈশিষ্ট্য তা থেকে স্পষ্ট যে, যুবক বয়সে সংসারের দায়িত্ব না নিয়ে বা পিতা মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন না করে ধর্মের উদ্দেশ্যে বা ভগবানের সেবার নামে সংসার ত্যাগ করার কোনো বিধান সনাতন ধর্মে নেই। এটা না বুঝে যারা যুবক বয়সে বিয়ে শাদি না করে, সন্তানের জন্ম না দিয়ে, পিতা মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন না করে সংসার ত্যাগ করছে, তারা ধর্ম নয়, অধর্ম করছে, এরা চরম পাপী, এদের আত্মার মুক্তি কোনো দিন কখনোই হবে না, হতে পারে না।

আমি আমার গবেষণায় দেখেছি- সনাতন ধর্মের ক্যান্সার হলো চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব মতবাদ। যদিও বৈষ্ণব মতবাদ সনাতন ধর্মে থেকে আলাদা একটি মতবাদ, কিন্তৃ শ্রীকৃষ্ণকে আশ্রয় করে এরা সনাতন ধর্মের মধ্যে ঢুকে আছে এবং আস্তে আস্তে সনাতন ধর্ম ও সমা্জকে উই পোকার মতো কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। বৈষ্ণব মতবাদে বিয়ে ও সংসার করার কোনো বিধান নেই, যদিও এই ব্যাপারটা প্রায় কোনো বৈষ্ণবই জানে না, কিন্তু যে দু চারজনের মাথায় এই বিষয়টি ঢোকে, তারা চৈতন্যদেবে আদর্শ অনুসারে বিয়ের পর সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে ফেলে রাতের বেলা চুপি চুপি সংসার ত্যাগ করতে না পারলেও, যুবক বয়সে বিয়ে শাদি না করেই সংসার ত্যাগ করে, ফলে তার মাধ্যমে একটি নারীর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ে, যাকে সে বিয়ে করে একটি সুন্দর জীবন দিতে পারতো; একটি পিতা মাতার স্বপ্ন দুঃস্ব্প্নে পরিণত হয়, একটি সংসার ধ্বংস হয় এবং তার মাধ্যমে সৃষ্টি প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় সমাজ বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যায়।

বৈষ্ণব মতবাদের এমন একটি বিষয় নেই যা সমাজের জন্য কল্যাণকর, বৈষ্ণব মতবাদ এমনিতেই গত ৪/৫শ বছর ধরে বাংলার হিন্দু সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে আছে, এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক হিন্দু ছেলেই মাঝে মাঝে সংসার ত্যাগ করে তার সংসার ও সমাজের সর্বনাশ করতো; বৈষ্ণব মতবাদকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমানে ইসকন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে হিন্দু যুবকদের এই সংসার ত্যাগ একেবারে মহামারী আকার ধারণ করেছে, যার ফলে হাজার হাজার হিন্দু পরিবার চোখের জল ও বুকভরা কষ্ট নিয়ে দিনাতিপাত করছে, যেমনটা আপনারা বুঝতে পেরেছেন ফটোপোস্টের ঘটনাটির মাধ্যমে।

ইসকনের যে মূল থিয়োরি- নিরামিষ আহার এবং তাদের যে শ্রমশোষণ ধান্ধাবাজ থিয়োরি যুবক বয়সে সংসার ত্যাগ, তার কোনো শাস্ত্রীয় স্বীকৃতি নেই। উপরে চার আশ্রমের আলোচনায় আমি দেখিয়েছি যুবক বয়সে সংসার ত্যাগ আসলে সব দিক থেকে অধর্ম, তাই যুবক বয়সে সংসার ত্যাগ বলতে সনাতন ধর্মে কিছু নেই। ৫০ বছর পর্যন্ত সংসার থেকে আপনি মুক্তিই পেতে পারেন না, ৫০ এর পর সংসারের দায়িত্ব থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন কিন্তু সমাজের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবেন না; সংসার ও সমাজের প্রতি পূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে যদি বেঁচে থাকেন তো ৭৫ বছর বয়সের পর আপনি সন্ন্যাস নিতে পারবেন, যাকে বলা হয় পূর্ণ অবসর। তাই সনাতন ধর্মে সংসার ত্যাগ বলতে প্রকৃতপক্ষে কিছু নেই; আর সনাতন ধর্মে নিরামিষ আহার বলতেও যে কিছু নেই, সে সম্পর্কে আমি অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, এ সম্পর্কে আমার অনেক পোস্টও আছে, যারা পড়েছেন, তারা জানেন, আর যারা এখনও পড়েন নি, তারা অপেক্ষা করুন আর আমার সাথে থাকুন নিশ্চয় জানতে পারবেন।

সুতরাং বাপ মা আমিষভোজী বলে ইসকনিরা যে তাদের পিতা মাতাকে ঘৃণা করে এবং মায়ের হাতের রান্না খায় না, এটা যেমন পাপ; তেমনি পিতা মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন না করে, তাদেরকে পরিত্যাগ করে ইসকনে চলে যাওয়াও আরো বড় মহাপাপ। এই দুই মহাপাপের উপর ভিত্তি রচনা করেছে বা করছে ইসকন, সুতরাং ইসকনের ভবিষ্যত যে কী, সেটা একটু চিন্তা করুন।
আমি আমার ফেসবুক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলছি- ফটোপোস্টের ঘটনার মতো ঘটনায় যেসব পিতা মাতা ভূক্তভোগী, তাদের সাথে আপনারা যোগাযোগ রাখবেন, তাদেরকে আশ্বাস দেবেন যে- তারা যেন তাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা ও দেখাশোনা কে করবে, এটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় না ভোগেন, আমি আছি তাদের জন্য, তাদেরকে আমি দেখাশোনা করবো পিতা মাতার মতো। যারা আমার পুরোনো পাঠক তারা জানেন যে- আমি একটি ধর্মীয় সংগঠনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি, যেটা অর্থ অভাবে আটকে আছে, আমার সেই সংগঠন হিন্দু সমাজে শুধু বিশুদ্ধ সনাতনী জ্ঞানই প্রচার করবে না, হিন্দুদের সকল রকম বিপদ আপদে তাদের পাশেও দাঁড়াবে। সেই সংগঠনেরই একটি শাখা থাকবে, যেখানে অসহায় হিন্দু পিতা মাতা, যাদেরকে তাদের সন্তানেরা দেখা শোনা করে না, সেখানে তারা আশ্রয় পাবে এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত আমার আশ্রমে থেকে ধর্মকর্মের মাধ্যমে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের সেবা করে যেতে পারবে।

সংগঠনের প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই কার্যক্রম শুরু হবে, কিন্তু তার আগেও যদি বাংলাদেশে এমন কোনো অসহায় পিতা মাতার সন্ধান আপনারা পান, যার ছেলে ইসকনে যোগ দিয়ে পিতা মাতাকে ভুলে গিয়েছে, তাদের ঠিকানা এবং ফোন নং আমাকে জানাবেন, আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে আমার কাছে এনে তাদের সেবা শুশ্রুষা করবো।

সেই সব অসহায় পিতা মাতার সেবা শুশ্রুষা করার মানসিক শক্তি এবং আর্থিক সামর্থ্য যেন ঈশ্বর আমাকে দেন, সেই প্রত্যাশায় বলছি-

জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।
জয় হিন্দ।

Friday, 8 May 2020

ইসকনের রথযাত্রায় শ্রীকৃষ্ণ নয়, প্রভুপাদই ভগবান :



ফটোপোস্টে যে রথযাত্রার একটি ছবি দেখছেন, এটা ইসকন কর্তৃক প্রযোজিত এবং আয়োজিত 2019 সালের রথযাত্রার একটি ছবি। খুব ভালো করে খেয়াল করে দেখুন রথের মধ্যে যিনি বসে আছেন, তিনি ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা প্রভুপাদ। এই রথযাত্রায় কৃষ্ণ, বলরাম, সুভদ্রা নেই; তাদের পরিবর্তে আছে প্রভুপাদ, তার মানে প্রভুপাদই ইসকনিদের মতে ঈশ্বর।

হিন্দুরা যেমন নির্বোধ, তেমনি তাদের সহ্য বা ধৈর্য শক্তিও সীমাহীন। না হলে এই ধরণের অশাস্ত্রীয় কাজ কিছু হিন্দু নামধারী ব্যক্তি করেই বা কেনো, আর কিছু হিন্দু তা সহ্য করেই বা কেনো ?
ইসকন নামধারী এই ব্যবসায়ী সংগঠন- একদিকে বাংলার হিন্দুদের জন্য কোনো কাজ না করে তাদের পকেট ফাঁকা করছে, অন্যদিকে কিছু নির্বোধ ছেলেদের ব্রেইনওয়াশ করে তাদেরকে সংসার থেকে বিচ্যুত করে সেই পরিবারের স্বপ্নের বিনাশ এবং হিন্দু সমাজের ক্ষতি করছে। এভাবে ইসকনের মাধ্যমে বাংলার হিন্দু সমাজের আস্তে আস্তে ক্ষতি হলেও খুব কম হিন্দুই এ ব্যাপারে সচেতন, কিন্তু ইসকন এবার একেবারে হিন্দুদের মাথায় আঘাত করেছে কৃষ্ণের স্থলে প্রভুপাদকে বসিয়ে। এখনই যদি হিন্দুরা একত্রিত হয়ে এর প্রতিবাদ না করে, তাহলে এক সময় ইসকনিরা প্রচার করবে যে প্রভুপাদই পূর্ণব্রহ্ম, সুতরাং প্রভুপাদ প্রবর্তিত ইসকন ধর্মই হিন্দুদের জন্য একমাত্র আদর্শ এবং পালনীয়।

ইসকনিরা একদিকে প্রভুপাদকে ভগবান বানাচ্ছে, অন্যদিকে এরাই আবার নকল ভগবানের সিরিয়াল নামে বই প্রকাশ এবং তা প্রচার করছে, যেখানে তারা স্বঘোষিত ভগবান- অনুকূল, হরিচাঁদ প্রভুতির সমালোচনা করছে । অথচ বর্তমানে বাঙ্গালি হিন্দু সমাজে সবচেয়ে প্রভাবশালী নকল ভগবান হলো চৈতন্যদেব, সে সম্পর্কে তারা কোনো কথা বলে না, আবার এই চৈতন্যদেবই তাদের আদর্শ, যে চৈতন্যদেবের আদর্শ মানলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস হতে বাধ্য।

যা হোক, একদিকে নকল ভগবান চৈতন্যদেবকে তারা আদর্শ হিসেবে মানছে, অন্যদিকে আবার আরেক নকল ভগবান প্রভুপাদের জন্ম দিতে চলেছে, যার ট্রেলার তারা এবারের রথযাত্রায় দেখিয়েছে। সারা রাংলায় সব ইসকন মন্দিরে তারা এই ট্রেলার তারা দেখায় নি, দেখিয়েছে একটি মন্দিরের অধীনে এবং আমার ধারণা এই ট্রেলার দেখিয়ে তারা এটা বোঝার চেষ্টা করছে যে প্রভুপাদকে যদি তারা ভগবান হিসেবে চালায়, সেটা লোকজন খাবে কি না ? এই প্রচেষ্টায় যদি তারা সফল হয়, এবং হিন্দুদের মধ্যে থেকে যদি এর প্রতিবাদ না উঠে, পরের বছর তারা আরো বেশি জায়গায় এই ট্রেলার শো করবে, এভাবে তারা আস্তে আস্তে তাদের সমস্ত মন্দিরে এই শো চালাবে এবং প্রভুপাদকে এভাবে আস্তে আস্তে ভগবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং বলবে প্রভুপাদ প্রবর্তিত ধর্ম হলো ইসকন ধর্ম এবং এটাই সকল হিন্দুর ফলো করা উচিত, কিছু বলদ হিন্দু তা ফলো করবেও।

ইসকন একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং এই ঘটনা যে ইসকনের কোনো একটি মন্দির বিচ্ছিন্নভাবে করেছে, এটা আমি মনে করি না। ইসকনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ফলেই যে তারা এই ট্রেলার শো করেছে, তাতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদও বিচ্ছিন্নভাবে করলে চলবে না, বাংলার সমস্ত হিন্দু সংগঠনকে সমস্বরে এর প্রতিবাদ করতে হবে, তাহলেই ইসকন এই অপতৎপরতা থেকে বিরত হবে, না হলে এরা আস্তে আ্স্তে প্রভুপাদকে ভগবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ করেই যাবে, এভাবে ১০০/১৫০ বছর পর আমাদেরই পরবর্তী প্রজন্ম, আমাদেরই উদাসীনতায় বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে যে হ্যাঁ, প্রভুপাদ ভগবান, তার পূজো অর্চনা করলেই চলবে, আমাদের আর অন্য কিছু করার দরকার নেই; যেমন- ভগবান হিসেবে বিশ্বাস করে বর্তমানের কিছু হিন্দু- অনুকূল, হরিচাঁদ, জগদ্বন্ধু, চৈতন্যদেবকে। ঠিক একইভাবে প্রভুপাদকেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভগবান হিসেবে বিশ্বাস করবে, যদি এখনই আমরা এই নকল ভগবানের চারাকে উপরে ফেলে দিতে না পারি।

গ্রামের ভেতরে রাতের অন্ধকারে যখন চুপিচুপি চোর ডাকাত প্রবেশ করে তখন রাস্তার কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করে গ্রামবাসীকে ঘুম থেকে জাগানোর চেষ্টা করে এবং চোর ডাকাত সম্পর্কে সচেতন করে। কুকুর মানুষের জন্য উপকারী প্রাণী, তাই কুকুর মানুষের এই উপকার করার চেষ্টা করে, কিন্তু কুকুরের ঘেউ ঘেউকে যদি কোনো মানুষ পাত্তা না দিয়ে ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত চুড়ান্ত ক্ষতি হয় সেই মানুষদেরই, চোর ডাকাত তাদের সর্বস্ব লুটে নিয়ে যায়। আমি কুকুরের ভূমিকা পালন করে প্রচলিত নকল ভগবানের সাথে সাথে উদীয়মান নকল ভগবান সম্পর্কেও হিন্দুদেরকে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি, যদি আপনার আমার এই উদ্যোগ পছন্দ হয়, আমার সাথে সুর মিলিয়ে আমার স্বরকে আরও বেগবান করুন, আপনার এই সচেতনতার জন্য আপনার ভবিষ্যত প্রজন্ম সঠিক ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে মরে নিজের আত্মার উদ্ধারের পাশাপাশি আপনার আত্মাকেও উদ্ধার করতে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি।

জয় হিন্দ।

জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।