Showing posts with label হিন্দু নির্যাতন. Show all posts
Showing posts with label হিন্দু নির্যাতন. Show all posts

Friday, 11 September 2020

পশ্চিমবঙ্গে বাম আমলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস : সাঁইবাড়ি, মরিচ ঝাঁপি, ও বিজন সেতু


পশ্চিমবঙ্গে বাম আমলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস : সাঁইবাড়ি, মরিচ ঝাঁপি, ও বিজন সেতু


কমিউনিস্টদের প্রিয় রং লাল। আবার রক্তের রং ও লাল। তাই রক্তও কমিউনিস্টদের প্রিয়। কমিউনিস্ট তথা বামেদের এই অযথা রক্ত ঝরানোর অনেকগুলো নৃশংস ও বিভৎস কাহিনীর মধ্যে থেকে মাত্র তিনটি ঘটনা এবং কমিউনিজম ও ইসলামের সাদৃশ্যকে জানতে ও বুঝতে হলে পড়ুন এই নিচের এই লেখাটি :

বিজন সেতু :

১৯৯০ সালের এপ্রিল মাসের এক সকাল। স্থান, কসবার বিজন সেতু। সি.পি.এম এর হার্মাদ বাহিনী ১৭ জন আনন্দ মার্গীকে পুড়িয়ে মারে এই সেতুর উপর । থানা কাছেই, কিন্তু পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে দেওয়া হলো না। ঘটনা তো একটা ঘটেছে, তার ইনভেস্টিগেশন তো হওয়া দরকার। এই কেসের ইনভেস্টিগেশনের দায়িত্ব দেওয়া হলো কসবা থানার গঙ্গাধর ভট্টাচার্যকে। কিন্তু তার কাজে সিপিএম সন্তুষ্ট হলো না। একদিন তিনি ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। একটি মোটর সাইকেলের পেছনে সিটে বসে কান্তি গাঙ্গুলী নামে একজন গঙ্গাধরকে গুলি করে চলে গেলো। মৃত্যু হলো গঙ্গাধরের। কিন্তু পুলিশ কান্তি গাঙ্গুলীকে খুঁজে পেলো না। কয়েক বছর পর, সেই কান্তি গাঙ্গুলীর আবির্ভাব ঘটলো সিপিএমের নেতা হিসেবে। বামফ্রন্টকে সন্তুষ্ট করার পুরস্কার হিসেবে সে বড় পদ পেলো এবং পরে মন্ত্রীও হয়েছিলো।

জানা যায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় রানী রাসমনি এস্টেট এর কিছু জমি ঐ আনন্দমার্গী সন্ন্যাসীদের দখলে ছিলো। সেই জমি দখল করতেই বামফ্রন্ট সরকারের হাইকমান্ড এর নির্দেশে এই ঘটনা ঘটানো হয়। আর এর মূল খলনায়ক, জ্যোতি বসু- সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোট চুরি করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার অনন্য রেকর্ডের জন্য- যিনি মরে গিয়েও, পশ্চিমবঙ্গের জগদ্দল পাথর হিসেবে, দীর্ঘদিন ইতিহাসে বেঁচে থাকবেন।

মরিচঝাঁপি :

১৯৭১ সালের যুদ্ধে, মুসলমানদের তাড়া খেয়ে বাংলাদেশ থেকে কয়েক লক্ষ হিন্দু, উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে ঢুকে পড়লে, ভারত সরকার তাদেরকে নিয়ে গিয়ে রাখে দণ্ডকারণ্যে। সেখানে তারা মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ, ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি মাসে সিপিএম এর সমর মুখার্জি, মার্ক্সবাদী ফরওয়ার্ড ব্লকের রাম চ্যাটার্জি এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের অশোক ঘোষ দণ্ডকারণ্যে গিয়ে উদ্বাস্তুদের নেতা সতীশ মণ্ডলের সাথে দেখা ক'রে, প্রকাশ্য জনসভায়, তাদেরকে পশ্চিমবঙ্গে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। কিছুদিনের মধ্যেই প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার সর্বস্ব হারানো উদ্বাস্তু হিন্দু দণ্ডকারণ্য ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে এবং এর মধ্যে ৩২ হাজার উদ্বাস্তু হিন্দু, সুন্দরবনের মরিচ ঝাঁপি নামক দ্বীপের মতো একটি জায়গায় আশ্রয় নেয়। কলোনীর নাম রাখা হয় নেতাজী নগর। কিন্তু জ্যোতি বসুর সরকার হঠাৎ মত পরিবর্তন করে, যেভাবেই হোক উদ্বাস্তুদের মরিচ ঝাঁপি থেকে উৎখাত করতে হবে। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা ও অর্থনৈতিক অবরোধ। বন্ধ করে দেওয়া হয় জল ও খাদ্য সরবরাহ।

সেদিনগুলোর ঘটনা স্মৃতিচারণ করে পুলিশ ও কমিউনিস্ট হায়েনাদের হাত থেকে বেঁচে ফিরে আসাদের একজন নারায়ণ মন্ডল উল্লেখ করেন - 

সেদিন ৩০ থেকে ৩৫ টি লঞ্চ সহকারে পুলিশ পুরো দ্বীপটিকে ঘিরে ফেলে। কুমিরমারি থেকে খাবার জল আনতে যাবো, সেই পরিস্থিতিও ছিল না। আমাদের জীবনকে দূর্বিসহ করে তোলার জন্য তারা উঠে-পরে লেগেছিল। অসহায়ভাবে খিদের জ্বালায় তাই আমরা নারকেলের পাতা ও ঘাস (যদু পালং) খেতে বাধ্য হই। বাচ্চাদের অনেকেই শুধু ডায়রিয়াতেই মারা যায়। পাশের কুমিরমারি গ্রাম থেকে খাবার জল, ঔষুধ এবং আহার-সামগ্রী যোগানের জন্য অবরোধের ১০ম দিনে আমরা মরিয়া হয়ে উঠি। নারীদের দেখে অন্তত দয়া হবে এই আশায় আমরা একটা নৌকাতে ১৬ জন মহিলাকে পাঠায়। কিন্তু "ইন্দ্রজিৎ এমভি৭৯" নামের একটি লঞ্চ দ্রুত গতিতে নৌকাটির নিকট এগিয়ে আসে এবং নদীর মাঝপথে নৌকাটিকে বিধ্বস্ত করে। ১৪ জন নারীকে আমরা ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করি। আর পরবর্তীতে বাকি দুজন কে বাগনান জঙ্গল থেকে উদ্ধার করি, যাদের উপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। 

অবশেষে ১৯৭৯ সালের ৩১ জানুয়ারি, ১ হাজার পুলিশ ও সিপিএমের গুণ্ডাবাহিনী আক্রমন করে উদ্বাস্তুদের। চারেদিকে অবরুদ্ধ, পালানোর কোনো পথ নেই। জলে কুমীর, ডাঙ্গায় পুলিশ। অর্থনৈতিক অবরোধে, অনাহারে ও অসুখে এবং সর্বশেষ পুলিশ ও সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর আক্রমনে মারা পড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার হিন্দু, ৫/৭ হাজার এদিক ওদিক পালিয়ে কোনোরকমে প্রাণ রক্ষা করে।

এই ঘটনার শিকার একজন শরণার্থী মুকুন্দ মন্ডল স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন - 

দুপুর ৪টে নাগাদ পুলিশরা আমাদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। আমরা সে সময় একটা নৌকাতে করে দ্বীপ ছেড়ে পাশের কুমিরমারি গ্রামে পালাতে চাইছিলাম। চারদিক প্রবল আতংক ভর করেছিলো। সে সময় আমার নাতনির বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর। এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে একটা গুলি তার গায়ে এসে লাগে এবং নৌকাতেই তার মৃত্যু হয়। আমাদের তার মৃত দেহ নদীর জলে ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। আমরা এতোটাই অসহায় হয়ে পড়েছিলাম সেই সময়।

হত্যার পর পুলিশ ও সিপিএমের দলীয় কর্মীরা মৃতদেহগুলোকে নদীতে ফেলে দেয়। আবার অনেকেরই নদী সাঁতরে পালাতে গিয়ে ডুবে মৃত্যু হয। 

ঘটনার পঞ্চদশ দিনে কোলকাতা হাই কোর্ট মরিচঝাঁপি দ্বীপে খাবার জল, প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং ডাক্তারদের প্রবেশের অনুমতি প্রদান করে। শেষতক অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে পেরে না উঠে তৎকালীন রাজ্যের সিপিআই(এম) সরকার মে মাসের দিকে জোরপূর্বক দ্বীপটিকে খালি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের উক্ত দ্বীপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পুলিশের সহায়তায় দলীয় ক্যাডাররা মে মাসের ১৬ তারিখ ৩০০ টি পরিবারের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়।

কেন্দ্রে তখন জনতা সরকার। দিল্লি থেকে জনতা পার্টির একটি সংসদীয় দল মরিচ ঝাঁপি আসে ঘটনার তদন্ত করতে, কিন্তু বামফ্রন্ট সরকার, তাদেরকে মরিচ ঝাঁপিতে ঢুকতেই দেয় নি।

এখানে অনেকগুলো প্রশ্ন। কেনো উদ্বাস্তুদেরকে পশ্চিমবঙ্গে আসতে বলা হলো ? আর কেনোই বা তাদেরকে আবার উৎখাত করার প্রয়োজন দেখা দিলো ? কারণ কি এটাই যে, উদ্বাস্তুরা ছিলো সবাই হিন্দু ? আর হিন্দুদেরকে মারলে সাম্প্রদায়িক তকমা পাওয়ার ভয়ে কেউ কোনো কথা বলবে না ? উদ্বাস্তুরা মুসলমান হলে বামফ্রন্ট কি এদের গায়ে হাত দিতো ? নিশ্চয় না। এর পরিবর্তে মরিচ ঝঁপিতে মসজিদ-মাদ্রাসা বানিয়ে দিয়ে তাদেরকে রাজার হালে থাকার ব্যবস্থা করে দিতো। বাস্তবে হয়েছেও তাই। হিন্দুদের উৎখাত করার পরেই মরিচ ঝাঁপি ভরে গেছে মুসলমানে । আগে ছিলো বামফ্রন্টের, এখন সেখানে তৃণমূলের এক চেটিয়া ভোট। আসলে এই ঘটনা ঘটানোর কোনো কারণই ছিলো না। বামফ্রন্টের হিন্দুদের প্রতি দরদ না থাক, সামান্য মনুষ্যত্ববোধ থাকলেও কি তারা এইভাবে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে পারতো ? প্রকৃতপক্ষে সিপিএম ছিলো একটি খুনী সরকার। মানুষ খুন করা ছিলো তাদের নেশা। তাদের প্রতীক যেমন লাল রং, তেমনি লাল রক্তেও ছিলো তাদের নেশা এবং সেই রক্ত হতে হবে অবশ্যই হিন্দুদের। উদ্বাস্তুদের এই ঘটনার শুরু থেকে শেষ, বিস্তারিত পাওয়া যাবে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব-পশ্চিম উপন্যাসে।

সাঁইবাড়ি :

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের শাসনামলে ( ১৯৪৭-১৯৬৭) প্রধান বিরোধী দল ছিলো বামেরা এবং তাদের প্রধান নেতা ছিলো জ্যোতি বসু। কেন্দ্রীয় সরকারের জ্বালানী তৈলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কলকাতায় বাস ট্রাম পুড়িয়ে এই সময় আরও বিখ্যাত হয় জ্যোতি বসু । ১৯৬৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে হটিয়ে অ-কংগ্রেসীদলগুলো সরকার গঠন করে, নাম হয় যুক্তফ্রন্ট সরকার। এই সরকারের অংশ ছিলো বামেরা, তাই জ্যোতিবসু হয় উপমূখ্যমন্ত্রী। দু বছর পর এই সরকারের পতন হলে আবারও নির্বাচন হয় এবং আবারও যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে এবং আবারও জ্যোতি বসু হয় উপমূখ্যমন্ত্রী। উপমূখ্যমন্ত্রী হলেও জ্যোতিবসুর হাতেই ছিলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তথা পুলিশ প্রশাসন।

বাম অর্থাৎ কমিউনিস্টের আদর্শ এবং ইসলামের আদর্শের মধ্যে খুব একটা ফারাক নেই, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে দারুন মিল। যেমন- কমিউনিস্টরা মনে করে, যারা তাদের পার্টির সমর্থক নয়, দরিদ্র হলেও তারা দরিদ্র নয়, তাই তাদের জন্য পার্টি কিছু করবে না। একই ভাবে ইসলাম মনে করে, যারা মুসলমান নয় বা ইসলামে বিশ্বাস করে না, তারা মানুষ ই নয়, ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট জীব। আমার এই তথ্যটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হলে কোরানের ৮/৫৫ আয়াত খুলে দেখে নিতে পারেন। ঐ আয়াতে বলা হয়েছে, "নিশ্চয় আল্লাহতায়ালার নিকট যমীনের বুকে বিচরণ শীল জন্তু প্রাণীর মধ্যে নিকৃষ্টতম হচ্ছে সেই সব লোক যারা মহাসত্য ( ইসলাম) কে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে, পরে তারা কোনো প্রকারেই তা কবুল করতে প্রস্তুত হয় নি।"

আবার যারা তুলনামূলক ধনী, কিন্তু পার্টিকে সমর্থন করে না, তারা কমিউনিস্টদের কাছে শ্রেণী শত্রু নামে পরিচিত এবং এদেরকে হত্যা করে শ্রেণীশত্রু খতম করা কমিউনিস্টদের একটা আদর্শ। ইসলামেও তেমনি সকল অমুসলিমকে হত্যা করতে বা তাদেরকে জোর ইসলামে দীক্ষিত করার কথা বলা হয়েছে। আবারও যদি কষ্ট স্বীকার করতে চান, তো দেখতে পারেন কোরানের ৯/৫ আয়াতটি।

"হত্যা কর যেখানেই তাদের পাও এবং তাদের ধরো, ঘেরাও করো এবং তাদের প্রতিটি ঘাঁটিতে তাদের খবরাখবর নেওয়ার জন্য শক্ত হয়ে বসো। অতঃপর তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তাহলে তাদেরকে তাদের পথ ছেড়ে দাও।"

এই আয়াতের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, অমুসলিমদের হত্যা করো, আর তারা যদি মুসলমান হয় তাদেরকে ছেড়ে দাও।

তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যোতিবসুর প্রচ্ছন্ন আস্কারা পেয়েই পশ্চিমবঙ্গের বামেরা রাজ্য জুড়ে শুরু করে দেয় পার্টির নামে চাঁদাবাজি, আর চাঁদা না দিলেই মারধোর, লুঠপাট, খুন। রাজ্য জুড়ে সিপিআইএম এর উচ্ছৃঙ্খলতা ও অরাজকতা সইতে না পেরে, দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকারের মূখ্যমন্ত্রী অজয় মুখার্জি তার প্রতিবাদ করলে, সিপিআইএম এর ক্যাডার বাহিনী মহাকরণেই (বাংলাদেশে বলে সচিবালয়) অজয় মুখার্জিকে শারীরিক নির্যাতন করে। এর ফলে, Ò'এই অসভ্য বর্বর সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আর থাকতে চাই না' বলে ১৬ই মার্চ, ১৯৭0 তিনি পদত্যাগ করেন। ফলে মাত্র ১৩ মাসের মাথায় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙ্গে যায় এবং প্রবল ক্ষমতাশালী বামেরা একদিনেই প্রশাসনিকভাবে ক্ষমতাশুন্য হয়ে যায়। সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ডের মূলে ছিলো এই রাজনৈতিক পটভূমি।

সাঁইরা ছিলো ব্রিটিশ আমলের জমিদার এবং কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সমর্থক। তাই কংগ্রেসকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করা যুক্তফ্রন্ট সরকারের - নিজেদের অভ্যন্তরীন কোন্দলে - আকস্মিক পতনে স্বভাবতই কংগ্রেস সমর্থকরা খুশি হয় এবং বর্ধমানের কংগ্রেসীরা একটি আনন্দ মিছিল বের করে এবং তাতে সাঁইরা অংশ নেয়। অন্যদিকে কংগ্রেসের আনন্দ দেখে মনিহারা ফনীর মতো সিপিএম সমর্থকরা রাগে ফুঁসতে থাকে এবং ১৭ মার্চ রাজ্য জুড়ে বাংলা বন্ধের ডাক দেয়।

এর আগে একটা ঘটনা ঘটেছিলো, ১৯৬৯ সালের ১১ই ডিসেম্বর বর্ধমানের আলমগঞ্জে কংগ্রেসের সক্রিয় সমর্থক ইন্দ্রভূষণ গড়িয়াকে সিপিএম সমর্থকরা বোমা মেরে খুন করে। সেই হত্যামামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল সাঁই পরিবার।

কোনো এক এলাকায় জমিদার থাকা মানেই, ঐ এলাকার অন্যান্য লোকজন চাষাভূষা, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এবং তাদের মধ্যে থেকে - জমিদারদের সাধারণ কিছু অত্যাচার এবং তাদের ক্ষমতা ও বিলাস ব্যসনে - জমিদারদের প্রতি ঈর্ষান্বিত কিছু লোক থাকবেই। সাঁইরাও এর ব্যতিক্রম ছিলো না। যেহেতু তাদের জমিদারীর ক্ষমতা চলে গিয়েছিলো ঘটনার মাত্র কিছু বছর আগে, ১৯৫৩ সালে, তাই জমিদারদের ক্ষমতার দাপটে অত্যাচারিত কিছু লোক তখনও বেঁচে ছিলো এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই সাঁই পরিবারের উপর ক্ষুব্ধ ছিলো। এর সাথে যুক্ত হয়েছিলো কমিউনিস্টদের শ্রেণীশত্রু থিয়োরি, যেহেতু সাঁইরা বামেদের সমর্থক ছিলো না। তাই কমিউনিস্ট আদর্শ অনুসারে সাঁই পরিবার ছিলো খতম যোগ্য; কিন্তু এর জন্য তো সময়, সুযোগ ও ইস্যু দরকার। এই তিনটিই মিলে গিয়েছিলো ১৯৭০ সালের ১৭ মার্চ।

সাঁইরা ছিল পাঁচ ভাই- প্রণব, মলয়, নবকুমার, উদয় ও বিজয় এবং বোন ছিলো ৭ জন। ঘটনার দিন এক বোন বাড়িতে ছিলো এবং সেও হয়েছিলো এই নৃশংস ঘটনার শিকার ও প্রত্যক্ষদর্শী।

১৭ মার্চ তারিখে সাঁইবাড়িতে এক নবজাত শিশুর নামকরণের উৎসব ছিলো।ঠিক ঐ দিনই আকস্মিকভাবে ডাক দেওয়া বন্ধ সফল করার জন্য সিপিএম সমর্থকরা একটি মিছিল বের করে। সাঁইবাড়িতে যখন অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিলো, তখন সিপিএমের মিছিল বড় রাস্তা ছেড়ে সাঁইবাড়ির সরু গলিতে এসে ঢুকে। বিরোধী পক্ষের মিছিলে ৫০/৬০জন লোক দেখে প্রণব সাঁই এর মা মৃগনয়না দেবী বাড়ির মেইন গেট বন্ধ করে দেয়, যাতে মিছিলের লোকজন বাড়ির মধ্যে ঢুকে নামকরণ অনুষ্ঠানে কোনো বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, যেহেতু তারা শত্রুপক্ষ। এতেই আঁতে ঘা লাগে সিপিএমের লোকজনের, তারা অপমানিত বোধ করে।

কাশীরাম দাস কহে, শুনে পুণ্যবান

মহাভারতের কথা অমৃত সমান।

সংস্কৃত থেকে বাংলায় মহাভারত অনুবাদ করার সময়, কাশীরাম দাস মহাভারতের মুল্যায়ন করতে গিয়ে উপরের এই অমূল্য কথাটি বলে গিয়েছেন। কারণ, মহাভারতের প্রতিটি কথা, প্রতিটি ঘটনার মধ্যে এত শিক্ষা লুকিয়ে আছে যে, একমাত্র মহাভারতকে অনুসরণ করলেই জীবনের অনেক জটিলতা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।এবং এই মহাভারত সব দিক থেকে এতটাই বিশুদ্ধ গ্রন্থ যে, "মহাভারত কি অশুদ্ধ হয়ে যাবে ?" ব'লে একটা প্রবাদ আছে। আর মানে হলো, মহাভারত এতটাই শুদ্ধ যে, কেউ যদি মহাভারত বর্ণনা করতে গিয়ে কোথাও ভুল করে, সে অন্য জায়গায় গিয়ে আর কাহিনী মেলাতে পারবে না। সেই মহাভারতের একটি বাণী হলো, ভিলেন অর্থাৎ "দূরাত্মার ছলের অভাব হয় না।" সেই দিন সিপিএমের লোকজনেরও ছলের অভাব হলো না।

মিছিলের ভেতর থেকে একজন বললো, সাঁইবাড়ির ভেতর থেকে মিছিলে একটি ইট মেরেছে, কেউ বললো বোমা মেরেছে, কেউ বললো ভাতের গরম ফ্যান ফেলেছে।

ইসলামের অনুসারীরা যেমন অন্ধ হয়, তাদের যেমন কোনো বিচার বুদ্ধি থাকে না, মুহম্মদ যা বলে গেছে ও করে গেছে, তা যেমন অন্ধ বিশ্বাসে করে ফেলে; ঠিক তেমনি কমিউনিস্টের অনুসারীরাও, পার্টির লিডাররা যা বলে তারা তা অন্ধের মতো বিশ্বাস করে এবং সেইভাবে কাজও করে। লিডাররা যেই বললো, সাঁইবাড়ি থেকে মিছিলের উপর ইট, বোমা মেরেছে; অমনি প্রায় হাজার দেড়েক কমিউনিস্ট পন্থী লোকজন- লাঠি, হেঁসো, টাঙ্গি, বল্লমের মতো দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সাঁইবাড়ি ঘিরে ফেললো। তারপর শুরু হলো এ্যাকশন।

প্রথমেই দরজা ভেঙ্গে তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে। ভয় পেয়ে প্রণব সাঁই খাটের তলে গিয়ে লুকায়। তাকে বল্লম দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে খাটের তলা থেকে বের করে এবং বল্লম দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়েই হত্যা করে।

এরপর, ওদের বাড়ির এক দিদিকে, উঠানে চিৎ করে শোয়ায় এবং তার চার হাত পা চার দিক থেকে চেপে ধরে তার বুকের উপর তার ছোট ভাইকে উপুর করে শোয়ায় এবং ঐ অবস্থাতেই ভাইকে হেঁসো দিয়ে জবাই করে। এতে রক্তে ভেসে যায় দিদির মুখ, বুক। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছিটকে গিয়ে পড়ে মা মৃগনয়নার মুখে। দিদির দেহের উপরই তার ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

ঘটনা ছিলো সকাল ১০টার দিকে, বাড়ির গৃহশিক্ষক জীতেন্দ্রনাথ রায়, ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে সাঁইবাড়ি থেকে বেরোনোর জন্য, লুকানো অবস্থান থেকে, রান্না ঘরের পেছন দিয়ে প্রাচীর টপকিয়ে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, পা পিছলে পড়ে যান। টের পেয়ে সিপিএম সমর্থকরা ঐ জায়গাতেই তাকে কুপিয়ে খুন করে।

এমনিতেই পুরোনো জমিদার, তার উপর ধনী, বাড়িতে চাকর বাকর থাকা খুবই স্বাভাবিক| বিপদের এই দিনে সেরকম দুজন চাকর, মনিবদের বাঁচানোর চেষ্টা করছিলো, সেই দুজনের মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। পরের দিন হাসপাতালে সেই দুজন মারা যায়।

চোখের সামনে দুই ছেলেসহ এতগুলো মানুষের মৃত্যু দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় ঐ বাড়ির মা মৃগনয়না দেবী। কিছু পড়ে তার জ্ঞান ফিরলে ছেলেদের রক্ত দিয়ে ভাত মেখে, সেই ভাত মৃগনয়নার মুখে গুঁজে দেয় সিপিএমের ঐ নরপশুরা।

এই ঘটনা জানার পর থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে জীবনে যতবারই "সিপিএম" লিখবো, বানানটা লিখবো "ছিঃপিএম"।

বড় পরিবার, বেশি লোক, সেই বাড়ির রান্নার চুলাও নিশ্চয় অনেক বড় হবে। এ্যাকশন শেষে যাবার সময় সেই চুলার মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যায়, যার নামকরণের অনুষ্ঠান চলছিলো, সেই তিন মাস বয়সী ছোট্ট শিশুকে, হাসপাতালে দীর্ঘ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরে যে কোনোরকমে বেঁচে যায় এবং আধাপোড়া শরীর ও "অমৃত" নাম নিয়ে বড় হয়।

নৃশংসতার ক্ষেত্রেও ইসলাম ও কমিউনিস্টদের কত মিল তা বোঝার জন্য উপরের ঘটনাগুলোর সাথে ১৯৪৬ সালের নোয়াখালির ঘটনাগুলোর তুলনা করে দেখুন। অসংখ্য ঘটনা থেকে নোয়াখালির মাত্র দুটি ঘটনা উল্লেখ করছি :

ঘটনা (1) : ২৬.১০. ১৯৪৬ তারিখের স্টেটসম্যান পত্রিকায় এই ঘটনাটি ছাপা হয়। এই পত্রিকার এক সাংবাদিক, ভূক্তভোগী একটি বাচ্চা মেয়ের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে পত্রিকায় ছাপেন। সেই ঘটনাটি এরকম : "১০ অক্টোবর সকালে গোলাম সারোয়ারের সভা থেকে বেরিয়ে আসা ৩ নং দলটি ঐ মেয়েটির বাড়িতে এসে মুসলিম লীগের তহবিলে ৫০০ টাকা চাঁদা চায়। চাঁদা না দিলে বাড়ির সবাইকে খুন করা হবে বলে হুমকি দেয়। প্রাণের বয়ে মেয়েটির বাবা ওদের ৫০০ টাকা দিয়ে দেন। কিছুক্ষণ বাদে ওরা আবার আসে, সাথে এক বিরাট জনতা। ঐ বাড়ির একজন অভিভাবক, যিনি ছিলেন পেশায় মোক্তার, তিনি ঐ উত্তেজিত মুসলমানদের শান্ত করতে এগিয়ে যান। কিন্তু তিনি কোনো কথা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করার আগেই তার মাথা কেটে ফেলা হয়। এরপর মুসলমানরা পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক লোক, যিনি মেয়েটির দাদু, তাকে খুন করে। এরপর মেয়েটির বাবার পালা। মেয়েটির বাবাকে তারই সদ্য খুন হওয়া পিতার মৃতদেহের উপর শুইয়ে দেওয়া হয়। তখন মেয়েটির ঠাকুমা,তার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য ছেলের দেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ওদের কাছে ছেলের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে থাকেন। কিন্তু তাতে মুসলমানরা ঐ বৃদ্ধা মহিলার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং তার অচৈতন্য দেহকে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এরপর আবার মেয়েটির বাবাকে মারতে উদ্যোগী হয়। মেয়েটি ভয়ে এতক্ষণ ঘরের কোণে লুকিয়ে থেকে এসব দেখছিলো। বাবার প্রাণ বাঁচানোর জন্য সে তখন ঘর থেকে বেরিয়ে আসে এবং ঘাতক মুসলমানের হাতে ৪০০ টাকা ও কিছু গহনা দিয়ে কাকুতি মিনতি করে তার বাবাকে না মারার জন্য। এরপর ঐ ঘাতক মুসলমান, বাম হাতে ঐ টাকা-গয়না গ্রহন করে এবং ডান হাতে থাকা দা দিয়ে মেয়েটির বাবার মাথা কেটে ফেলে।"

ঘটনা (২) : পাড়ার সকল হিন্দু বাচ্চাদেরকে হিন্দুদেরই খড়ের গাদার উপর মই দিয়ে তুলে দিয়ে চারধানে কেরোসিন পেট্রোল দিয়ে মুসলমানরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো; তারপর বাচ্চারা, মা বাবা বলে চিৎকার করছিলো, এই শুনে উপস্থিত মুসলমানরা উল্লাস প্রকাশ করছিলো আর মজা দেখছিলো। কিছুক্ষণ পর আধা পোড়া বাচ্চাগুলো খড়ের গাদা থেকে গড়িয়ে পড়লে ওদের পা ধরে নিকটবর্তী পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলো ।

এক জনের দেহের উপর ফেলে আরেকজনকে জবাই করতে এবং ছোটো ছোটো শিশুদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করতে কমিউনিজম এবং ইসলাম কীরকম সিদ্ধহস্ত, সেটা একবার চিন্তা করুন।

যা হোক, ঘটনার দিনই প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দীলিপ কুমার ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি ৬২ জনের নামে বর্ধমান থানায় মামলা দায়ের করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রায় সবাই ছিলো ছিঃপিএমের লোক। ঘটনার সময় ওদের ভয়ে সাধারণ লোক সবাই দোকান পাট বন্ধ করে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। আর যারা ঘটনাক্রমে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিলো, ছিঃপিএমের লোকজনের ভয়ে হিমশীতল আতঙ্ক তাদের গ্রাস করেছিলো, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে, সবাই মুখ বন্ধ রাখাই উচিত বলে মনে করেছিলো। 

তারপরও ৭৮ জন লোক, সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে রাজী হয়।

১৯৭০ সালের ৬ জুন, বর্ধমান টাউন হলে মুখার্জি কমিশন বসে সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য। সেই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হয় গুলমনী রায়। সাঁইবাড়ির জীবিত সদস্যদের এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য ছিঃপিএমের লোকজন প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপের কাছে মাথা নত না করায় ছিঃপিএমের লোকজন সাঁই পরিবারের আরেক ছেলে নবকুমারকে, রায়নার আহ্লাদিপুরে টাঙ্গি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। এর ফলে সব সাক্ষী ভয়ানকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং তদন্তের কাজ চালিয়ে যাওয়াই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতদসত্ত্বেও তদন্তকারীদের সামনে মূল দোষী রাঘব বোয়ালদের নাম উঠে আসে। সরাসরি খুন করার জন্য অভিযুক্ত হয়- ছিঃপিএম দলের মেমারির তৎকালীন বিধায়ক বিনয় কোঙার; নিরুপম সেন, মানিক রায়, অমল হালদার এবং এসএফআই নেতা পল্টু ব্যানার্জি। এই ৫ জন সহ মোট ১১১ জনের নামে, ১৯৭১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চার্জ শিট দাখিল হয় বর্ধমান দায়রা জজ আদালতে। ১৯৭১ সালেই বর্ধমানের সেসন জজ ৮জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এর পর শুরু হয় আপিল মামলা। কিন্তু সেখানে সাক্ষীদের উপর ক্রমাগত হুমকি ধমকির কারণে কলকাতা হাইকোর্টের আদেশে এই মামলাটি ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আলীপুর দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হয়।

এরপর মামলাটি ঢিমে তালে চলছিলো। কিন্তু ১৯৭৭ সালে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে সিপিএম এককভাবে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই ৩০ হাজার বন্দীকে মুক্তি দিয়ে জেল থেকে ছেড়ে দেয়, যাদের অধিকাংশই ছিল তাদের দলের লোক, মার্কসবাদী। সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। আসামী মানিক রায় ছিলো পলাতক। পরে অনিল বসু নামে লোকসভায় এম.পি নির্বাচিত হয়।

এর পরে "অল ইন্ডিয়া লিগ্যাল এইড ফোরাম" এর পক্ষ থেকে জয়দীপ মুখার্জি এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সুপ্রিম কোর্ট, কলকাতা হাইকোর্টকে কেস রেকর্ডস পাঠাতে বলে। হাইকোর্ট জানায় সাঁইবাড়ির সকল রেকর্ডস চুরি হয়ে গেছে। মামলা ডিসমিস। এভাবে বামেদের তিন যুগের দুঃশাসনে চাপা পড়ে যায় সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ডের সকল ঘটনা এবং একইভাবে চাপা পড়ে, পরিস্থিতির চাপ সইতে না পেরে উন্মাদ হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, সাঁই পরিবারের ছেলে উদয় সাঁই এর "আর্ত চিৎকার"।

(বি.দ্র. - নেট ঘেঁটে এবং বই পুস্তক পড়ে বাম আমলের সন্ত্রাস সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি, তার ভিত্তিতেই, নতুন প্রজন্মকে জানানোর স্বার্থে, অনেক ঘটনা থেকে শুধু মাত্র তিনটি ঘটনা নিয়ে এই লেখাটি আমি লিখেছি। যদি কোনো তথ্যগত ত্রুটি থেকে থাকে এবং কারো যদি সেই সঠিক তথ্য জানা থাকে, তাহলে আমাকে সেই বিষয়টি ইনফর্ম করার জন্য অনুরোধ করছি, যাতে পরের পোস্টে বিষয়গুলো সংশোধন করে দিতে পারি।)

জয় হিন্দ।

Sunday, 16 August 2020

"গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং" (১৯৪৬)- এর ভেতর বাহির” : (পর্ব-২)


"গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং" (১৯৪৬)- এর ভেতর বাহির” : (পর্ব-২)

জ্যোতিবসু, পরে তার লেখা এক বইয়ে কলকাতার এই ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে এর কথা লিখতে গিয়ে লিখেছে, "প্রথম তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার লোক নিহত হয়।" এছাড়াও অন্যান্য সূত্রে যে তথ্যগুলো পাওয়া যায়, তা হলো, শহরের সমস্ত ড্রেন হিন্দুদের লাশে ভর্তি হয়ে গিয়েছিলো। আর গঙ্গায় এত লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো যে, দুর্গন্ধে মাঝিদের নৌকা চালানো দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিলো। বাঁশের লগি দিয়ে লাশ সরিয়ে সরিয়ে রাস্তা তৈরি করে মাঝিদেরকে নৌকা এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিলো। এই দৃশ্যগুলো কল্পনা করুন আর ভাবুন, ১৯৪৬ সালে কোলকাতায় মুসলমানরা হিন্দুদের কত রক্ত ঝরিয়েছিলো ?

পরিস্থিতি কিছুটা শাস্ত হলে একই রকমের ছোরা বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া গিয়েছিলো, বেলগাছিয়া খিদিরপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমান অব্যবহৃত তরোয়াল, লাঠি ও ছোরা উদ্ধার করা হয়েছিলো। এগুলো পুরোপুরি ব্যবহার হলে আরও কত হিন্দুর রক্ত ঝরতো সেই বিষয়টিও একবার কল্পনা করুন। আর একই জায়গা থেকে এরকম বিপুল পরিমান অব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার নিঃসন্দেহে এটাই প্রমাণ করে যে, হিন্দু হত্যার এই পরিকল্পনা ছিলো সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত এবং অস্ত্রগুলোও মুসলিম লীগ সরকারের পক্ষ থেকেই সরবরাহ করা হয়েছিলো। আরও একটা উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হলো, হত্যাকাণ্ডে কসাইখানার কসাইদের সক্রিয় ভূমিকায় লাগানো হয়েছিলো, যাতে কসাইদের জবাই করার দক্ষতাকে হিন্দুদের গলা কাটার জন্য ব্যবহার করা যায় এবং যত বেশি সম্ভব হিন্দুদেরকে যেন হত্যা করা যায়।

ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে এর প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল শ্রী গোলক বিহারী মজুমদার আই.পি.এস, "ছেচল্লিশের আতঙ্কের দিনগুলো ভুলি নি"- শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। সেই প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন, "রাত ১১ / ১২টা নাগাদ ( ১৬ আগস্ট, ১৯৪৬) পাড়ায় ওরা আবার আক্রমন করলো। দেখলাম একদল লোক - তাদের হাতে ছোরা, তরোয়াল ইত্যাদি নানা অস্ত্রশস্ত্র। তারা চিৎকার করে বলছে, 'আজ তো এক এক হিন্দুকো কোরবানী করেগা।' মা, বাবা, দিদি, আমি, ভাগ্নে সবাই সন্ত্রস্ত। যেকোনো মূহুর্তে আমরা আক্রান্ত হতে পারি। সবচেয়ে বেশি ভয় দিদিকে নিয়ে। দিদি দেখতে খুব সুন্দরী। ভাবলাম দিদিই হবে ওদের প্রথম টার্গেট। হিন্দু মেয়েদের ওপর ওদের বরবারই লোভ। চার পাঁচদিন পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও আতঙ্ক কাটে নি। ইউনিভার্সিটি খোলা ছিলো। রাজা বাজারের উপর দিয়ে আমাকে যেতে হতো। একদিন দেখলাম, গরু কেটে যেমন হুকের সাথে ঝুলিয়ে রাখে, তেমনিভাবে দেখলাম, হাত পা কাটা হিন্দু মেয়েদের চুল বেঁধে সব ঝুলিয়ে রেখেছে। বিভৎস আর নৃশংস সেই দৃশ্য।"

দেবকুমার বসু, "১৯৪৬ এর দাঙ্গার কয়েকটা দিন" নামে একটি লেখা লিখেছেন ২০০৬ সালে; সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, "রাজা বাজারের সামনের ভিক্টোরিয়া কলেজ ও স্কুল। মেয়েদের কলেজ ও হোস্টেল একদম ফাঁকা, সব পালিয়েছে। কেবলমাত্র রাস্তার দোতলার জানালায় চারটি মেয়েকে খুন করে রাস্তার দিকে ঝুলিয়ে রেখেছে, কে বা কারা । এই নৃশংসতা ও বিভৎসতা যারাই দেখেছেন, তারাই অনুভব করতে পারেন যে, আমাদের মতো, যুবকেরা কেনো উত্তেজিত হয়ে ক্ষিপ্ত হবে। কেউ এই হোস্টেলের দিকে তাকালে রাস্তার দিকের জানালাগুলি ইট গেঁথে বন্ধ করে দেওয়া আছে, দেখবেন। আজ ষাট বছর পরেও বন্ধ আছে। কাদের ভয়ে ? "

তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়াভেল তার ডায়েরিতে ৩.১১.১৯৪৬ তারিখে লিখেন, "পলাশীর যুদ্ধে যত লোক নিহত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি লোক নিহত হয়েছে, গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং এ।"

গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং সম্পর্কে লিওনার্ড মোসলে তার বই "দ্য লাস্ট ডেজ অব ব্রিটিশ রাজ" এ লিখেছেন, "ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওড়া পোল পার হয়ে হাওড়া থেকে দলে দলে আসতে শুরু করলো মারাত্মক অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত অবাঙ্গালি মুসলমান গুণ্ডারা এবং তারা মিশে গেলো চৌরঙ্গী, চিৎপুরে অপেক্ষমান মুসলমানদের সঙ্গে, শুরু হলো প্রলয়কাণ্ড- কোলকাতার মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলের হিন্দু এলাকাগুলিতে। ইসলামের বিশ্বপ্রেম গ্রাস করে নিলো অরক্ষিত মুসলমান পরিবেষ্টিত হিন্দু পরিবারগুলোকে। আর্ত আহতদের আর্তনাদ, লাঞ্ছিত নারীর ভয়ার্ত ক্রন্দন চাপা পড়লো- লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান এবং আল্লাহো আকবার- এর উন্মত্ত কোলাহলে। আগুনে জ্বলতে থাকলো হিন্দুদের স্থাবর অস্থাবর সব কিছু, আকাশে উঠলো কুণ্ডলায়িত কালো ধোঁয়া।"

মুসলমানদের এই আক্রমন সম্পর্কে বীন্দ্রনাথ দত্ত তার "দ্বিখণ্ডিতা মাতা ধর্ষিতা ভগিনী" পুস্তিকায় লিখেছেন, "১৬ আগস্টের ২/৩ দিন আগে থেকেই কলিকাতার নিকটবর্তী জেলাগুলো থেকে নৌকাযোগে হায়নার দল গঙ্গার ঘাটে ক্রমে বাসা বেঁধেছিলো। শ্রাবণের জমাট বাঁধা কালো মেঘের আড়াল ভেঙ্গে সেদিন সূর্য উঠেছিলো কলিকাতার আকাশে; আর রাতের আঁধারেই তৈরি হয়েছিলো শত শত ইসলামের বিশ্বস্ত সৈনিক সম্পূর্ণ অপ্রস্তত নিরীহ হিন্দুদের প্রাণ সংহার করতে।"

১৯৪৬ সালে কলকাতার হিন্দুদেরকে রক্ষা করেন শ্রী গোপাল মুখার্জি :

সূরাবর্দীর সরকারের পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় মুসলমানদের হাতে হিন্দুরা যখন একের পর এক মার খাচ্ছিলো, মরছিলো আর ধর্ষিতা হচ্ছিলো এবং এটা যখন লাগাতার তিন দিন ধরে চললো, তখন কিছু হিন্দু বুঝতে পারলো যে, হিন্দুদের বাঁচাতে সরকার পুলিশ কিছু করবে না। অতএব যা করার নিজেদেরকেই করতে হবে। এই ভাবনা নিয়ে একজন কসাই, নাম গোপাল, পাঁঠার মাংস বিক্রি করতো বলে যার নাম হয়েছিলো গোপাল পাঁঠা, সেই গোপাল পাঁঠা দিনের মধ্যে ৮০০ হিন্দু ও শিখ যুবককে সাথে নিয়ে গড়ে তোলে এক বাহিনী এবং পাল্টা মুসলমানদের হত্যা করতে শুরু করে। এর পরই, খুব দ্রুত, পরিস্থিতি মুসলমানদের বিরুদ্ধে যেতে থাকে এবং সূরাবর্দী তার বিপদ বুঝতে পারে। তাই মুসলমানরা মার খেতে শুরু করলে সূরাবর্দী দ্রুত পুলিশ-প্রশাসনকে সক্রিয় করে এবং দাঙ্গা থামাতে বাধ্য হয়। এভাবে গোপাল পাঁঠা নামক এক বীরের নেতৃত্বে ১৯৪৬ এ রক্ষা পায় কোলকাতার হিন্দুরা ।

হিন্দুরা নিজের জাতির লোকের প্রতি কেমন অকৃতজ্ঞ আর বেঈমান, গোপাল পাঁঠার প্রতি হিন্দুদের এই দৃষ্টিঙ্গীতে তার কিছু প্রমান পাওয়া যায়। যার কারণে কোলকাতার হিন্দুরা রক্ষা পেলো, সেই তাকেও পরবর্তীতে কোনো হিন্দু তার মূল্যায়ন করা দূরে থাক, তার নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করে নি। গোপাল পাঁঠার জীবদ্দশায় সম্ভবত একজন সাংবাদিক তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলো। অথচ প্রতিবছরই ১৬ আগস্ট আসে, যায়; কিন্তু তাকে নিয়ে আধ মরা নামের বুড়োগুলোর কারো কোনো মাথাব্যথা নেই! হিন্দুদের এই অকৃতজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলো বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচের শ্রদ্ধেয় রবীন্দ্র ঘোষও, তিনি আমাকে বলেছিলেন, অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে যখন কোনো মেয়েকে মুসলমানদের হাত থেকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারে পৌঁছে দিই, তখন অনেকেই ধন্যবাদ পর্যন্ত দেয় না। এই ক্ষোভ এবং লজ্জা আমারও, কিন্ত কাকে দোষ দেবো ? আমি নিজেই তো হিন্দু সমাজের একজন সদস্য। হিন্দুদের জন্য কাজ করতে হলে এদেরকে নিয়েই কাজ করতে হবে আর অল্প অল্প করে সিস্টেমটাকে পাল্টাতে হবে। আজ আমি বুঝেছি, কাল আপনি বুঝবেন, পরশু আরেকজন বুঝবে এভাবেই হিন্দু সমাজের দুর্বলতাগুলো কেটে যাবে এবং সমাজ আস্তে আস্তে পরিবর্তনের পথে চলবে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই, পরিবর্তন এক দিনে হয় না, আর এক দিনে বড় কিছু অর্জনও করা যায় না। হিন্দু সমাজের যে ক্ষত ও দুর্বলতা, সেই লজ্জা আমাদের পূর্ব পুরুষদের; কিন্তু এখন আমরা যদি সেই দুর্বলতাগুলোকে কাটানোর চেষ্টা না করি, তাহলে আমরা যেমন এখন পূর্বসূরীদের দায়ী করছি, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও আমাদেরকে দায়ী করবে আর গালি দেবে। এ ভুল আমি করতে চাই না, আর আমি বিশ্বাস করি, আপনিও নিশ্চয় চান না।

মুসলমান হওয়ার প্রস্তাব:

সেই সময়ের একটি ঘটনায় জানা গেছে, মুসলমানদের দ্বারা আক্রান্ত হিন্দু পরিবারের একটি অবিবাহিত যুবতী মেয়ে, তার প্রতিবেশি মুসলমানের বাড়িতে গিয়ে সাহায্য ও আশ্রয় চাইলে, ওই বাড়ির মুসলমান মালিক মেয়েটিকে প্রকাশ্যে এই প্রস্তাব দেয় যে, মুসলমান হলে তাকে সাহায্য ও রক্ষা করবে। মেয়েটি এই প্রস্তাবে রাজী না হলে, ওই বাড়ির মালিক ই, মেয়েটিকে দাঙ্গাকারী মুসলমানদের হাতে তুলে দেয় এবং মেয়েটিকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মুসলমানরা দুদিন ধরে ধর্ষণ করে। পরে গোপাল পাঁঠার নেতৃত্বে মুসলিম নিধন শুরু হলে মেয়েটি উদ্ধার পায়।এই মেয়েটি জীবিত ছিলো বলে তার নিকট থেকে এই ঘটনাটি জানা গেছে। কিন্ত এরকম ঘটনার শিকার কত শত মেয়ে যে মারা গেছে, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই।

পুলিশের অস্ত্র :

আরেকটি ঘটনায় জানা গেছে, এ্যাকশন শুরু হওয়ার পর, দাঙ্গাকারী মুসলমানদেরকে, পুলিশের মুসলমান সদস্যরা তাদের অস্ত্র দিয়ে দিয়েছিলো; পরে গোপাল পাঁঠার নেতৃত্বে হিন্দু ও শিখরা ঘুরে দাঁড়ালে পুলিশের হিন্দু সদস্যরাও তাদের অস্ত্র গোপালের বাহিনীকে দিয়ে সাহায্য করে; যার কারণেই মুসলমানরা আক্রমন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে এর সময় ঢাকায় হিন্দু গনহত্যা:

এ সম্পর্কে শুধু একজনের মাধ্যমেই কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, তিনি হলেন শ্রদ্ধেয় রবীন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তাঁর, "দ্বিখণ্ডিতা মাতা, ধর্ষিতা ভগিনী" নামক ছোট্ট পুস্তিকায় তুলে ধরেছেন। এখানে উল্লেখ করছি তার মুখেই, "১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট আমি ঢাকা শহরের বাসিন্দা ছিলাম। ঐ সময় অসংখ্য হিন্দুদেরকে হত্যা ক'রে, সমস্ত মৃতদেহগুলি উলঙ্গ করে (যাতে বিভৎসতা দেখে হিন্দুরা ভয় পায়) ট্রাক বোঝাই ক'রে হিন্দুপাড়া ওয়ারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হতো, দাহ করানোর জন্য। ঐ মৃতদেহগুলির মধ্যে উলঙ্গ মহিলাদের দেহ এবং এবং শিশুদের মস্তকবিহীন দেহও ছিলো। উলঙ্গ মহিলাদের স্তন এবং তলপেটের মাংস নরপশুরা কামড়ে তুলে নিয়েছিলো। একদিন এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক ঐ প্রকার এক মহিলার মৃতদেহ দেখে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো। শিশুদের মাথাগুলি লাইটপোস্ট বা অন্য কিছুর সাথে বাড়ি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো। ট্রাকের পাটাতনের নিচে ত্রিপল পেতে দেওয়া হতো, যাতে রাস্তায় রক্ত না পড়ে। ট্রাক থেকে মৃতদেহগুলো হাত, পা ধরে নামানোর সময় আমাদের পায়ের পাতা রক্তে ডুবে যেতো। অবস্থা একটু শান্ত হলে যখন স্কুল কলেজ খুললো, তখন আমাদের সহপাঠী মুসলিম লীগের কট্টর সমর্থক ছাত্রদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, হিন্দুদের মৃতদেহগুলি শ্যামপুর ঘাটে না পাঠিয়ে উয়ারির হিন্দু পাড়ায় পাঠানো হলো কেনো ? তারা বললো, লীগ নেতারা তোদের ভয় দেখানোর জন্য ওখানে পাঠিয়েছে; কারণ, পাকিস্তানের দাবী না মানলে তোদেরও ঐ একই অবস্থা হবে।"

ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে এর সময় "হরেন ঘোষ" এর  কারণে রক্ষা পায় কোলকাতার বড় বড় স্থাপনা :

১৯৪৬ সালে বাংলার মূখ্যমন্ত্রী সূরাবর্দীর মেয়েকে গান শেখাতেন হরেন ঘোষ নামের এক বৃদ্ধ। ১৬ আগস্টের হিন্দু হত্যার ছক সূরাবর্দীর বাড়িতেই তৈরি হয়। পরে দেখা যায়, এই পরিকল্পনার কিছু কিছু বিষয় আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিলো। সূরাবর্দীর সন্দেহ হয় হরেন ঘোষকে, কিন্তু প্ল্যান মোটামুটি সাকসেস হওয়ায়; সূরাবর্দীর, সন্দেহের বিষয়টি চেপে যায়। এরপর, হিন্দু হত্যা ছাড়াও সূরাবর্দীর আরও একটা প্ল্যান ছিলো- টালার জলের ট্যাংক, হাওড়া ব্রিজ, হাওড়া রেল স্টেশন এবং শিয়ালদহ স্টেশনসহ কোলকাতার বড় বড় স্থাপনাগুলো বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার। ঘটনাক্রমে এই প্ল্যান একদিন হাতে পড়ে যায় হরেন ঘোষের। তার পর ই, তিনি দ্রুত অন্তর্ঘাতের এই পরিকল্পনাটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন, ফলে বিরাট এক ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেকে রক্ষা পায় কোলকাতা। পরিকল্পনা ফাঁসের জন্য, স্বাভাবিক ভাবেই সূরাবর্দীর সন্দেহ আবারও গিয়ে পড়ে হরেন ঘোষের উপর। সূরাবর্দীর গুন্ডারা গিয়ে ধরে আনে হরেন ঘোষকে এবং তারপর, তার হাত পা এক এক করে টুকরো টুকরো কাটে এবং একটি বাক্সে ভরে রাস্তায় ফেলে দেয়।

ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে এর সময় গান্ধী-নেহেরুর ভূমিকা :

১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট থেকে কোলকাতায় মুসলমানরা যখন পাইকারি দরে হিন্দুদেরকে হত্যা ও ধর্ষন করতে থাকে এবং হিন্দুদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুঠপাট করতে থাকে, তখন ভারতবর্ষের জাতীয় বাবা, গান্ধী বাবা, মৌনী বাবা হয়ে চুপ করে বসেছিলো, মুসলমানদের গণহিংসার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলে নি এই অহিংসাবাদী। অন্যদিকে পরকীয়ায় পণ্ডিত নেহেরু, লেডি মাউন্টব্যাটেনের সাথে পরকীয়ার ফাঁকে ফাঁকে ভাইসরয়ের সাথে তার অন্তবর্তী সরকারের রূপরেখা কেমন হবে, সেই আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। গান্ধী-নেহেরুর ভুল নীতির কারণে যখন হাজার হাজার হিন্দুর জীবনে দুর্দশা নেমে এসেছিলো, তখন এই দুই লম্পট ছিলো এ ব্যাপারে একেবারে উদাসীন; যেন হিন্দু হত্যা-ধর্ষণ, তাদের সম্পত্তি লুঠ ছিলো একেবারে সাধারণ ব্যাপার। নোয়াখালির হিন্দু নিধন যজ্ঞেও এই দুই কুলাঙ্গারের ভূমিকা ছিলো এই একই রকম। কিন্তু কোলকাতা ও নোয়াখালির প্রতিক্রিয়ায় বিহারে যখন মুসলিম নিধন শুরু হয়েছিলো, তখন এই হারামজাদারা ঠিকই বিহারে ছুটে গিয়েছিলো এবং প্রায় ২০০ হিন্দুকে পুলিশ- সেনাবাহিনী দিয়ে মেরে বিহারের দাঙ্গা অতিদ্রুত থামিয়েছিলো। শুধু মুসলমান মরলেই এই বাস্টার্ডদের প্রাণ কাঁদতো, হিন্দু মরলে না।

গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ও আমাদের সাহিত্যিকগণ :

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, কাকের চেয়ে কবি অর্থাৎ সাহিত্যিকের সংখ্যা বেশি। এই সাহিত্যিকদের মধ্যে অনেকেই আবার কোকিল অর্থাৎ পাবলিক তাদের খায় ভালো। কাক বা কোকিল যে ই হোক, প্রেমের কাল্পনিক গল্পের নামে আবর্জনা লিখে টার্গেট যাদের বাজার ধরা, তারা ১৯৩৯ থেকে ১৯৭১, এই সময়ের মধ্যে মুসলমানদের দ্বারা বাংলায় যে হিন্দু নির্যাতন হয়েছে, সে সম্পর্কে কেউ কিছু লিখে নি। যদিও এই কাক কোকিলেরা নামে হিন্দু এবং তারা বা তাদের পূর্বপুরুষরা সেই পূর্ববাংলা থেকেই মুসলমানদের তাড়া খেয়ে পশ্চিমবাংলায় হিজরত করেছিলো। এই হিন্দু নিধন, ধর্ষণ এবং বিতাড়ন সম্পর্কে আমরা যাদের লেখা পেয়েছি, তারা কেউই প্রচলিত অর্থে সাহিত্যিক নন, বাজারে তাদের নাম-ডাক নেই, তাই কোনো প্রকাশক তাদের বই ছাপে না। তারা হিন্দু সমাজ, ধর্ম ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার স্বার্থে নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে বই ছাপে। এই মহান ব্যক্তিদের প্রতি জানাচ্ছি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। 

এর বিপরীতে এক বিখ্যাত কোকিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত আবর্জনার বর্ণনা দিই। ইনি ১৮৪০ থেকে ১৯০৫ সালের মধ্যের ঘটনা নিয়ে "সেই সময়""প্রথম আলো" নামে দুটি এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়কে ধারণ করে "পূর্ব পশ্চিম" নামে আরেকটি ইতিহাস ভিত্তিক উপন্যাস লিখছেন। এই পূর্ব পশ্চিম উপন্যাসে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে, টাঙ্গাইলে মুসলমানদের দ্বারা জোরপূর্বক কিছু হিন্দুর মুসলমান হওয়া ছাড়া অন্য কোনো হিন্দু নির্যাতনের বর্ণনা নেই। অথচ এই পুরোটা সময় ছিলো পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের জন্য এক বিভীষিকাময় সময়। তিনি হয়তো ঐসব মুসলিম নির্যাতনের কাহিনী লিখে মুসলিম পাঠক হারাতে চান নি, যদিও এই উপন্যাসে তিনি দুই দুইটা হিন্দু মেয়েকে মুসলমান ছেলের সাথে প্রেমের বিয়ে দিয়ে মুসলমান পাঠককে খুশি করেছেন ঠিকই, আর সবক্ষেত্রে হিন্দুদের দিয়েছেন আচাঁছা বাঁশ। 

তসলিমা নাসরিন যে বলেছে, সব লেখকই ধান্ধাবাজ, সুনীলের ক্ষেত্রে সেটা আরও বেশি করে সত্য। তসলিমা তার দ্বিখণ্ডিতা বা উপন্যাসে নিজের সব ঘটনা উজার করে লিখেছে, সেখানে প্রেম, যৌনতার মতো গোপন ঘটনাগুলোকেও তিনি গোপন করেন নি। এ সম্পর্কে তসলিমার বক্তব্য ছিলো, "আমি তো আমার জীবনী লিখছি, সেখানে কাউকে খুশি রাখার জন্য সেন্সর করবো কেনো ? আমি তো আর সুনীল নয়, যে কাট ছাট করে অর্ধেক জীবন লিখবো।" এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে হয় যে, সুনীলের জীবনী ভিত্তিক একটি উপন্যাস রয়েছে, যার নাম "অর্ধেক জীবন", তসলিমা সেই উপন্যাস নিয়েই উপরের এই মন্তব্য করেছে। অর্ধেক জীবনে সুনীল খুব কমই নিজেকে প্রকাশ করেছে। এটা পড়লে মনে হবে, সেক্স এর মতো কোনো ঘটনা তার জীবনে ঘটে নি। 

এমনই ধান্ধাবাজ লেখক সুনীল এবং সুনীলের মতো অন্যান্য বাজারী লেখকরা। এদের কাছ থেকে হিন্দু সমাজ ও ধর্ম আর কী আশা করতে পারে। অথচ, তসলিমার মতো মুসলমান পরিবারে জন্ম নেওয়া একটা মেয়ে, ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ঘটনায় বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে "লজ্জা" উপন্যাস লিখে আজ দেশ ছাড়া। তার না আছে সংসারের সুখ, না আছে জীবনের নিরাপত্তা। মৌলবাদীদের তলোয়ার যার ঘাড়ের উপর ঝুলছে সব সময়। এইসব বিবেচনা করলে সুনীলের মতো লেখকদের মুখের উপর যেমন বমি করে দিতে ইচ্ছা হয়, তেমনি তসলিমার মতো মানুষদেরকে পূজা করতে ইচ্ছা হয়। অথচ সুনীলের লেখার ক্ষমতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা তসলিমার চেয়ে অনেক বেশি। ও যদি হিন্দু সমাজ নিয়ে কিছু ভাবতো আর কিছু কাজ করতো, তাহলে হিন্দুদের আজকের যে দুর্দশা, তার অনেকটাই লাঘব হতো।

গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং এবং আমাদের পূর্ব প্রজন্ম :

মুসলমানদের দ্বারা এই হিন্দু নিধনের প্রত্যক্ষ ফল আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে ভোগ করতে হয় নি, ভোগ করতে হয়েছে আমাদের পূর্ব প্রজন্মকে। তারা চোখের সামনে দেখেছে, কিভাবে মুসলমানরা তাদের মা বাবা, ভাই বোন আত্মীয় স্বজনকে হত্যা করেছে, বাড়ির মেয়েদের ধর্ষণ করেছে, মৃতদের লাশগুলো রাস্তায় পড়ে থেকে কিভাবে পচেছে আর কাক শকুন কুকুরেরা কিভাবে সেগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছে। কিন্তু এই নৃশংসতার ইতিহাস তারা শুধু নিজেরাই ভুলে যেতে চায় নি, পরবর্তী প্রজন্মকেও তারা তা জানতে দিতে চায় নি। তাদের মনোভাব, "কী হবে ঐ পুরোনো ঘাকে খুঁচিয়ে, তার চেয়ে ভুলে যাওয়াই ভালো।" তাই তারা তাদের কোনো বক্তৃতা, বিবৃতি ও লেখায় এই নৃশংসতাকে স্মরণ করে নি, যাতে নতুন প্রজন্ম মুসলমানদের ঐ নৃশংসতা সম্পর্কে জানতে পারে এবং ভবিষ্যতে সাবধান হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে তারা ছিলো সাংঘাতিক রকমের ভীতু, অপদার্থ ও নপুংসক। তারা মনে করেছিলো, আমরা তো পারি নি, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর বদলা নিতে পারবে না। তাই এগুলো নিজেরা ভুলে যাওয়া এবং অন্যদের ভুলিয়ে দেওয়াই ভালো। এই নির্বোধদের প্রতি কিভাবে শ্রদ্ধা রাখা সম্ভব ?

প্রতিশোধ নেওয়াটা বড় ব্যাপার না হলেও, ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সেই সাথে মুসলমানদের মন-মানসিকতা সম্পর্কে সচেতন হওয়াও তো দরকার, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার হাত থেকে হিন্দুরা রক্ষা পায়। আবারও যদি এই ধরণের ঘটনা ঘটানোর সুযোগ মুসলমানরা পায়, তাহলে তো তাদেরই ছেলে মেয়ে নাতি নাতনীরা তার শিকার হবে, এই বুদ্ধিটুকুও তাদের মাথায় ছিলো না ? যারা নিজেদের মা বোনের ধর্ষণ ও পিতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারে না এবং এজন্য পরবর্তী প্রজন্মকে উৎসাহিত করা বা কমপক্ষে জানানোরও বোধ করে না, তারা কি মানুষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য ? তারা তো নপুংসকের চেয়েও অধম। এদের উদ্দেশ্যেই বোধ হয়, কবি গুরু বলেছিলেন, "ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা, আধ মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।" 

একটা কথা প্রচলিত আছে যে, হিন্দুরা পড়তে জানে কিন্তু লড়তে জানে না। তো যে পড়া দিয়ে হিন্দুদের আত্মরক্ষার চেতনার কোনো বিকাশ হয় না, সেই পড়া প'ড়েই বা কী লাভ ? মহাভারতের ঘটনা প্রায় সবাই জানে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে গুরু দ্রোণকে বঞ্চিত করার শোধ, দ্রোণ নিজে না নিলেও, দ্রোণই তৈরি করেছিলো পঞ্চপাণ্ডবকে। তারাই গুরু দক্ষিণা হিসেবে দ্রোণের হয়ে যুদ্ধ করে রাজা ধ্রুপদকে পরাজিত ও বন্দী করে ধ্রুপদের অহংকারী মাথাকে দ্রোণের সামনে নিচু করে দিয়েছিলো। আর এই ভাবেই গুরু দ্রোণ তার প্রতিশোধ নিয়েছিলো। রামকৃষ্ণ দেবও হিন্দু সমাজের জন্য নিজে কিছু করতে না পারলেও তৈরি করে গিয়েছিলো স্বামী বিবেকানন্দ সহ বেশ কয়েকজন শিষ্যকে, যারা হিন্দু সমাজকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গিয়েছে। এসব কাহিনী কি আমাদের দুর্বুদ্ধিজীবী হিন্দুরা জানে না ? এরা সবই জানে সবই বোঝে, কিন্তু প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বা আত্মরক্ষার করার জন্য যে ক্ষমতার প্রয়োজন; নিরামিষ ভোজন- তাদের সেই ক্ষমতাকে শুষে নিয়েছে, তারা এসব ভাববে কিভাবে ? এদের উদ্দেশ্যেই শ্রদ্ধেয় শিবপ্রসাদ রায় তার দিব্যজ্ঞান নয়, কাণ্ডজ্ঞান চাই পুস্তিকায় বলেছেন, "ভিখারীর বৈরাগ্য, নপুংসকের ব্রহ্মচর্য আর শক্তিহীনের ভক্তি এরকমই হয়"| অর্থাৎ এদের না আছে আত্মরক্ষার ক্ষমতা, না আছে প্রতিশোধ নেবার শক্তি। যাদের নিজেকে রক্ষা করার কোনো ক্ষমতা নেই, তারা সমাজ-সংসার নিয়ে ভাববে কিভাবে ?

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, গীতায় জ্ঞানযোগ কর্মযোগের কথা বলেছেন। কিন্ত তিনি প্রথমে কর্মযোগ ও পরে জ্ঞানযোগের কথা বলেছেন। এর তাৎপর্য এই যে, কর্ম করলেই জ্ঞানলাভ হবে। যেমন- এই লেখাটি পড়তে প্রথমে আপনাকে কর্ম করতে হচ্ছে এবং তারপরই এ বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারছেন অর্থাৎ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারছেন। ঠিক একইভাবে, "গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং" নিয়ে প্রথমে আমি গবেষণা করে কর্ম করেছি, তারপর এই বিষয়ে আমার জ্ঞান লাভ হয়েছে। তারও আগে, আমি যে বইগুলো ঘেঁটে গবেষণা করেছি, সেই বইগুলো, যে প্রত্যক্ষদর্শীরা লিখেছে, তারা কর্ম করেছে; কিন্তু এই কর্মটা ব্যাপক ও বিস্তৃত ছিলো না ব'লে, ঘটনার এতদিন পরেও এই নৃশংসতা সম্পর্কে, হিন্দুরা খুব কমই জানে বা জানতে পেরেছে বা কেউ জানতেই পারে নি। আগে জানা না থাকলেও আজ আপনি সেটা জানলেন এবং তা মোটামুটি বিস্তারিত। 

গীতায় জ্ঞানযোগ ও কর্মযোগের কথা বলা হয়েছে পাশাপাশি অধ্যায়ে। এর তাৎপর্য হলো, কর্ম করলে যেমন জ্ঞান লাভ হবে, তেমনি জ্ঞানলাভ অর্থাৎ জানার পরেও আপনাকে কিছু কর্ম করতে হবে। আমি কর্ম করে আপনাকে, আপনার স্ব-জাতীয় পূর্বপুরুষদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার কথা জানালাম; এরপর আপনার কর্তব্য, কিছু কর্ম করা। সেই কর্ম কী হবে, সেটা ঠিক করবেন আপনি এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করবেন- আপনার পরিবার, হিন্দু সমাজ, হিন্দু জাতি ও হিন্দু ধর্মের - ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করবার জন্য আপনার কী কী করা বা কোন কোন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ?

জয় হিন্দ।

জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।

"গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং" (১৯৪৬)- এর ভেতর বাহির” : (পর্ব-১)

 

"গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং" (১৯৪৬)- এর ভেতর বাহির” : (পর্ব-১)

জিন্নার পূর্বপুরুষরা ছিলো হিন্দু এবং তারা ছিলো গুজরাটের বাসিন্দা। 'কোনো হিন্দুর মুসলমান হয়ে যাওয়ার মানে শুধু হিন্দু সমাজের একজন সদস্য কমে যাওয়া নয়, একজন শত্রু বৃদ্ধি পাওয়া"-স্বামী বিবেকানন্দের এই বাণী যে কতখানি সত্য, তা বুঝতে পারবেন এই লেখাটি পড়লে এবং জিন্না যে হিন্দুদের কী ধরণের শত্রু হয়ে উঠেছিলো এবং সে হিন্দুদের যে কী পরিমান ক্ষতি করেছে, সে সম্পর্কেও একটা মোটামুটি ধারণা পাবেন এই প্রবন্ধে।

ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত জিন্নার প্রিয় কাজ ছিলো জলের মতো মদ খাওয়া। জীবনে নামাজ-রোযা করেছেন কি না সন্দেহ। শুকরের মাংস ছিলো তার প্রিয় খাদ্য। ভারতের মুসলমানদের জিন্না যথেষ্টই ঘৃণা করতো। তবু তার জ্ঞান-বুদ্ধির কারণে, মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমি- পাকিস্তান-এর স্বপ্ন দেখা রহমত আলী, ১৯৩৩ সালে, জিন্নাকে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করার প্রস্তাব দিলে, জিন্না তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলো, "এটি একটি অসম্ভব স্বপ্ন।" কিন্তু রহমত কোরান খুলে জিন্নাহকে দেখিয়ে বলেছিলো, এ অসম্ভব নয়, সম্ভব। মুসলমানদের জাগিয়ে পাকিস্তান আদায়ের জন্য সব রকম উপাদান কোরানের মধ্যে রয়েছে।" জিন্না বিষয়টি নিয়ে ভাবতে লাগলো এবং কোরানের তত্ত্ব জিন্নাকে এমনই প্রভাবিত করলো যে, পাকিস্তানের স্বপ্নে বিভোর জিন্না কয়েক বছর পরেই বলে ফেললো, "কয়েক শতক আগে যেদিন প্রথম হিন্দুটি ইসলামে ধর্মন্তরিত হয়েছিলো, সেদিনই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে।" অর্থাৎ জিন্নার মতে পাকিস্তান রাষ্ট্র অলরেডি সৃষ্টি হয়েই আছে, এখন তা বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ, লাহোর প্রস্তাবে জিন্না বললো, "ভারতবর্ষের সমস্যা সম্প্রদায়গত নয়, বরং জাতিগত। এটা খুবই দুঃখের যে হিন্দুরা, ইসলাম ও হিন্দুত্বের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারছেন না। ইসলাম এবং হিন্দুত্ব শুধুমাত্র আলাদা ধর্ম নয়, সম্পূর্ণ বিপরীত দুই জাতিসত্ত্বা। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি পৃথক ইতিহাস থেকে প্রেরণা পায়। এদের একজনের মহাপুরুষ, অন্যজনের শত্রু। মুসলমানরা সংখ্যালঘু নয়। মুসলমান একটা আলাদা জাতি। জাতি গঠনের সমস্ত প্রয়োজনীয় উপাদান তাদের আছে। তাই তাদের অবশ্যই নিজের বাসভূমির অধিকার আছে।" (ভিপি মেনন, ট্রান্সফার অব পাওয়ার, পৃষ্ঠা-৮২) 

ঠিক এর ১০ দিন পর, ১৯৪০ সালের ৬ এপ্রিল, গান্ধী, মুসলিম লীগের দাবিকে সমর্থন করে হরিজন পত্রিকায় লিখলো, "দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতো মুসলমানদেরও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে। বর্তমানে আমরা একটা যৌথ পরিবারের মতোই বসবাস করছি। তাই এর কোনো এক শরিক ভিন্ন হতে চাইতেই পারে।" 

মূলত এই দুটি ঘটনাতে ১৯৪০ সালেই ভারত ভাগ হয়ে গিয়েছিলো; ১৯৪৭ সালে তা শুধু বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র। 

মুসলমানরা যাতে পাকিস্তানের দাবীকে ভুলে না যায়, সেজন্যই হয়তো ১৯৪২ সালের ১৮ এপ্রিল, গান্ধী, হরিজন পত্রিকায় আবার লিখলো, "যদি ভারতের বেশির ভাগ মুসলমান এই মত পোষণ করে যে, মুসলমানরা একটা আলাদা জাতি, যাদের সঙ্গে হিন্দু ও অন্যান্য গোষ্ঠীর মিল নেই, তবে পৃথিবীর এমন কোনো শক্তি নেই যে সেই চিন্তা ভাবনা থেকে তাদের বিরত করতে পারে এবং সেই ভিত্তিতে তারা যদি বেশির ভাগ চায়, তবে অবশ্যই দেশভাগ করতে হবে। তবে ইচ্ছা করলে হিন্দুরা তার বিরোধিতা করতে পারে।"

জিন্না দেখলো, তার দাবীর তেমন কোনো বিরোধিতা হিন্দুদের মধ্যে নেই, বরং হিন্দুদের প্রধান নেতা গান্ধীর, তার দাবীর ব্যাপারে যথেষ্ট অনুমোদনও রয়েছে।

এরপর ১৯৪৪ সালে জিন্নার সাথে গান্ধীর বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ হয়। গান্ধী, জিন্নাহকে বলে, "আমি আপনার বা ইসলামের শত্রু নই। আমি আপনাদের দীন সেবক মাত্র। আমাকে দয়া করে ফিরিয়ে দেবেন না।" গান্ধীর এই অসহায় আত্মসমর্পনে উৎফুল্ল জিন্না পাকিস্তান আদায়ের প্ল্যান তৈরি করে ফেলে। কারণ, জিন্না বুঝেছিলো, শুধু মুখে বলে কিছু আদায় হবে না, এর জন্য এ্যাকশনে যেতে হবে। তাই ১৯৪৬ সালের ২৮ জুলাই বোম্বেতে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের জাতীয় সভায়, ১৬ আগস্টকে জিন্না, "ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে" বা "প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস" হিসেবে ঘোষণা করে। এই সভায় জিন্না বলে, "পাকিস্তান বাদ দিয়ে অন্য কিছুর সাথেই মুসলমান জাতি কোনো প্রকার আপোষ করবে না। এখন সময় হয়েছে, সেই দাবী আদায়ে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার। আমরা আজ একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত সব সময়ই আমরা নিয়মতান্ত্রিক পথেই দাবী জানিয়ে এসেছি। কিন্তু আজ সময় এসেছে সেই নিয়মতান্ত্রিক পথকে বিদায় জানাবার।...আজ আমাদের কাছে একটি পিস্তল আছে এবং আমরা তা ব্যবহার করতে সমর্থ।" ( পীরজাদা, ফাউন্ডেশন অব পাকিস্তান, পৃষ্ঠা-৫৬০)

শুরু হলো প্রস্তুতি:

১৯৪৬ সালে সমগ্র বাংলায় মুসলমান ছিলো ৫৫%, হিন্দু ৪৫%। তাই খুব সহজে কংগ্রেসকে হারিয়ে প্রাদেশিক নির্বাচনে জিতে বাংলার ক্ষমতা দখল করে মুসলিম লীগ। সোহরাওয়ার্দী বা সুরাবর্দী হয় মুসলিম সরকারের মূখ্যমন্ত্রী; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ছিলো তার হাতে। জিন্নার ডাইরেক্ট এ্যকশন ডে বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় এই জল্লাদ। ২৮ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট, সময় খুব কম। তাই খুব দ্রুত পরিকল্পনামাফিক এগোতে থাকে সে। ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট, স্টেটসম্যান পত্রিকার এক নিবন্ধে সুরাবর্দী লিখে, "হিংসা এবং রক্তপাত অন্যায় নয়, যদি তা মহৎ উদ্দেশ্যে করা হয়। মুসলমানদের কাছে আজ পাকিস্তান আদায় ছাড়া অন্য কোনো প্রিয় কাজ নেই।"

এই দিনই খাজা নাজিমুদ্দিন, যে পরে পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী হয়, সে মুসলিম ইনস্টিউটে, মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের এক সমাবেশে বলে, "মুসলিম লীগের এটা পরম সৌভাগ্য যে, এই রমজান মাসেই সংগ্রাম শুরু হবে। কারণ, এই রমজান মাসেই তো জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ।"

এর সাথে কলকাতার মুসলমান মেয়র, ওসমান খান, উর্দুতে একটি প্রচার পত্র বিলি করে। যাতে লিখা ছিলো, "আশা ছেড়ো না, তরোয়াল তুলে নাও, ওহে কাফের, তোমাদের ধ্বংসের দিন বেশি দূরে নয়।" এই লিফলেটে ছিলো তরোয়াল হাতে জিন্নার ছবি। এছাড়াও মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে, হিন্দুদের কিভাবে ধ্বংস করা যাবে, সেই রকম ২৩ টি নির্দেশনা সংক্রান্ত একটি লিফলেট বিলি করা হয়। নির্দেশনাগুলো এরকম :

১. ভারতের সকল মুসলমান পাকিস্তানের দাবীতে প্রাণ দেবে।

. পাকিস্তান জয়ের পর সারা ভারত জয় করতে হবে।

৩. ভারতের সব মানুষকেই ইসলামে ধর্মান্তরিত করতে হবে।

৪. সমস্ত মুসলিম রাষ্ট্রকেই বৃটিশ-আমেরিকার পৃথিবী শোষণের সাথে হাত মেলাতে হবে।

৫. একজন মুসলমানকে ৫ জন হিন্দুর অধিকার পেতে হবে, অর্থাৎ একজন মুসলমান সমান ৫ জন হিন্দু।

৬. যতদিন পর্যন্ত পাকিস্তান ও ভারত স্থাপিত না হয়, ততদিন পর্যন্ত নিম্নলিখিত কাজগুলি করে যেতে হবে:

ক) হিন্দুদের যত কারখানা ও দোকান আছে, তা ধ্বংস করতে হবে এবং লুঠ করতে হবে এবং লুঠের মাল মুসলিম লীগ অফিসে জমা দিতে হবে।

খ) মুসলিম লীগের সব সদস্যকে অস্ত্র বহন করতে হবে।

গ) সকল জাতীয়বাদী মুসলমান, যারা লীগের সাথে যুক্ত হবে না (অর্থাৎ কংগ্রেসী), তাদেরকে গুপ্তভাবে হত্যা করতে হবে।

ঘ) হিন্দুদেরকে ক্রমাগত খুন করে যেতে হবে এবং তাদের সংখ্যা কমাতে হবে।

ঙ) সমস্ত মন্দির ধ্বংস করতে হবে।

চ) কংগ্রেস নেতাদেরকে প্রতিমাসে ১ জন করে খুন করতে হবে।

ছ) কংগ্রেসের অফিসগুলি মুসলমানদের দিয়ে ধ্বংস করাতে হবে।

জ) করাচী, বোম্বাই, কলিকাতা, মাদ্রাজ, গোয়া বিশাখাপত্তনম ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই অচল করে দিতে হবে।

ঝ) কোনো মুসলমানকেই হিন্দুদের অধীনে সামরিক বাহিনী, নৌবাহিনী, সরকারী, বেসরকারী কোথাও কাজ করতে দেওয়া হবে না।

ঞ) মুসলমানদেরকে সমস্ত ভারত ও কংগ্রেসকে অন্তর্ঘাত করে যেতে হবে, মুসলমানদের দ্বারা শেষ ভারত আক্রমন পর্যন্ত।

ট) এসব ব্যাপারে অর্থ দেবে মুসলিম লীগ।

ঠ) সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র বোম্বাই, দিল্লী, কলিকাতা, মাদ্রাজ, ব্যাঙ্গালোর, লাহোর, এবং করাচির মুসলমানদের হাতে ভাগ করে দেওয়া হবে।

ড) মুসলিম লীগের সব সদস্য অস্ত্র ব্যবহার করবে, এমনকি দরকার হলে পকেটে রাখার মতো ছোড়া ব্যবহার করবে, যাতে ভারতবর্ষ থেকে সমস্ত হিন্দুদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া যায়।

ঢ) সমস্ত বাহন হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করা হবে।

ণ) সমস্ত হিন্দু নারী ও মেয়েদেরকে ধর্ষণ করবে, লুঠ করবে, ইসলামে ধর্মান্তরিত করবে ১৬ আগস্ট, ১৯৪৬ সাল থেকে।

ত) হিন্দু সংস্কৃতি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে হবে।

থ) লীগের সমস্ত সদস্যরা হিন্দুদের প্রতি সব সময় নিষ্ঠুর ব্যবহার করবে এবং তাদেরকে সামাজিক অর্থনৈতিক সব ব্যাপারে পরিত্যাগ করবে।

এসবের পাশাপাশি নোয়াখালি, ত্রিপুরা, চট্টগ্রাম, ঢাকা, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, নদীয়া, ২৪ পরগনা প্রভৃতি জেলায় মুসলিম লীগের আহ্বানে অনুষ্ঠিত জনসভায় আকার ইঙ্গিতে মুসলমানদের বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে, দেশে মুসলিম লীগের সরকার আছে, সুতরাং পাকিস্তান আদায়ের জন্য ১৬ আগস্ট থেকে অগ্নি সংযোগ, লুঠ, নারী অপহরণ, ধর্ষণ, খুন এসবের জন্য কারো কোনো প্রকার শাস্তি হবে না।

এসব প্রচারের সাথে সাথে বাইরে থেকে প্রচুর সংখ্যক মুসলমানকে কলকাতায় এনে বিভিন্ন মুসলমান বস্তিতে রাখা হয়।

এছাড়াও এ্যাকশন শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকেই চোখে পড়ছিলো যেসব খণ্ডিত দৃশ্য :

বেলগাছিয়া, রাজাবাজার, কলাবাগান বস্তি, ক্যানাল ওয়েস্ট রোড, ধর্মতলা, পার্কসার্কাস, এন্টালি প্রভৃতি এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই মুসলমানরা বিভিন্নরকম অস্ত্রশস্ত্রে ধার দিচ্ছিলো।

বেলগাছিয়া, বি.টি রোডে - লাঠি, ছোরা ও তরোয়াল ভর্তি লরি দেখা গিয়েছিলো।

মানিকতলায় ক্যানাল ওয়েস্ট রোডে অস্ত্র ভর্তি ঠেলাগাড়ি দেখা গিয়েছিলো।

এবং মুসলমানদের দোকানগুলোতে পাকিস্তান লিখে চিহ্নিত করা হয়েছিলো।

এ্যাকশনে ট্রাক / লরির ব্যবহার :

কলকাতার মেয়র ওসমান খান, কর্পোরেশনের সব লরি মুসলিম লীগের নেতাদের ব্যবহারের জন্য দিয়ে দিয়েছিলো, যাতে করে মুসলমানরা সে সব লরি ব্যবহার করে ইচ্ছেমতো লুঠপাট করতে পারে আর হিন্দুদেরকে মারার জন্য অস্ত্র শস্ত্র বহন করে বিভিন্ন এলাকার মুসলমানদের হাতে তা পৌঁছে দিতে পারে। আর এই লরিগুলো যাতে ঠিক মতো চলতে পারে, সেজন্য সুরাবর্দীর সরকার, সেই সময় পেট্রোলের যথেষ্ট অনটন থাকা সত্ত্বেও, ঢালাও ভাবে, লুঠপাট ও হিন্দু হত্যার কাজে নিয়োজিত লরিগুলোর জন্য পেট্রোলের কূপন ইস্যু করেছিলো। এছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবসারত ইস্পাহানি মির্জাপুর চা কোম্পানির মালিক ইস্পাহানি ছিলো সেই সময় সুরাবর্দী সরকারের চাউল সরবরাহকারী। ইস্পাহানি নিজের সব লরি মুসলিম লীগের লোকজনদেরকে ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে এর সময় ব্যবহারের জন্য দিয়ে দিয়েছিলো। এসব লরিতে মুসলিম লীগের পতাকা টানিয়ে তা সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিলো। আর এসব লরি, যাদের পেট্রোলের কূপন ছিলো না, তারা জোর করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে পেট্রোল আদায় করেছিলো।

এ্যাকশনের পূর্বরাত্রি :

১৮ দিন ধরে সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়ার পর, ১৫ আগস্ট ১৯৪৬ তারিখে, মুসলিম লীগ ১৬ আগস্টে বাংলা বন্ধের ডাক দেয়, আর কোনো কারণ না থাকা সত্ত্বেও সুরাবর্দী ঐ দিন ঘোষণা করে সরকারী ছুটির। উদ্দেশ্য, যাতে নিরাপদে এবং নিশ্চিন্তে মুসলমানরা হিন্দুদের হত্যা করতে পারে ও তাদের ধন-সম্পত্তি লুঠ করতে পারে। এ্যাকশনে অংশগ্রহনে ইচ্ছুক মুসলমানদেরকে, কলকাতা শহরকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করে, একেক এলাকার দায়িত্ব, একেক এলাকার মুসলমানদেরকে দেওয়া হয়। যেমন- বেলগাছিয়ার মুসলমানদের উপর দায়িত্ব পড়ে পুরো বেলগাছিয়া এলাকাকে বিধ্বস্ত করার। রাজাবাজার এলাকার মুসলমানদের উপর দায়িত্ব পড়ে মানিকতলা থেকে শিয়ালদহ এবং বৌ বাজার ও কলেজস্ট্রিট এলাকা। কলাবাগান বস্তির মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট হয় হ্যারিসন রোড, বড়বাজার, ঠনঠনিয়া, মার্কাস স্কয়ার, ফলপট্টি অঞ্চল। কলুটোলা, জ্যাকেরিয়া স্ট্রিট, নাখোদা মসজিদ, টেরিটি বাজার, ফিয়ার্স লেন এলাকার মুসলমানদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়- লালবাজার থেকে চিৎপুর এবং ক্যানিং ও এজরা স্ট্রিট অঞ্চল। এছাড়াও ধর্মতলা, তালতলা, ওয়েলেসলি, পার্কসার্কাস, বেলেঘাটা, বালিগঞ্জ, খিদিরপুর, ওয়াটগঞ্জ, মেটিয়াবুরুজের মুসলমানদের উপর ভার পড়ে স্ব স্ব এলাকার হিন্দুদেরকে হত্যা করার ও তাদের ধনসম্পত্তি লুঠপাট করার। 

এছাড়াও এই হিন্দু হত্যার প্রত্যক্ষ পরিচালক জনৈক রহমান আলী ১৫ আগস্ট রাতেই তার লোক জন নিয়ে কোলকাতায় এসে পড়ে এবং মুসলমান গুণ্ডাদেরকে খিদিরপুর, কলুটোলা, রাজা বাজার, ধর্মতলা, পার্কসার্কাস, তালতলার বিভিন্ন মুসলমান বস্তিতে থাকার ব্যবস্থা করে। রহমান আলী সবাইকে বলে দিয়েছিলো, লুঠের মালের ভাগ কাউকে দিতে হবে না। আর খুন-ধর্ষণ-অপহরণে পুলিশ কোনো নাক গলাবে না, সরকার থেকে এসব দেখবে।

ভেতরে ভেতরে এসব প্রিপ্যারেশন নেওয়া হলো আর মুখে বলা হলো, ১৬ আগস্ট প্রত্যক্ষ সংগ্রামের দিন মুসলিম লীগের নেতা কর্মীরা এখানে সেখানে মিছিল মিটিং করে পাকিস্তানের পক্ষে জনমত গঠন করবে, এককথায় প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস হবে শান্তিপূর্ণ!

পূর্বেই উল্লেখ করেছি, মুসলিম লীগ ১৬ আগস্ট, বাংলা জুড়ে হরতালের / বন্ধের ডাক দেয় এবং সূরাবর্দীর সরকার দেয় সরকারী ছুটির ঘোষণা । মুসলিম লীগের এই যৌথ কর্মসূচীতে কংগ্রেস কিছুটা হৈচৈ করে বটে; কিন্তু আইনসভার চার দেয়ালের মাঝেই তা আটকে থাকে, এর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করে এটাকে প্রতিরোধের কোনো চেষ্টাই কংগ্রেস করে নি। একমাত্র ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির হিন্দু মহাসভা জায়গায় জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচী চালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু কংগ্রেসের মতো ব্যাপক জনসমর্থন না থাকায় লোকজনের মাঝে তা বেশি প্রভাব ফেলতে পারে নি। প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস, শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করা হবে, জিন্না ও মুসলিম লীগের এই মিথ্যা আশ্বাসে ভুলে গান্ধী চুপ করে থাকে। আর নেহেরু বললো, যারা বন্ধ সমর্থন করে না, তারা যেন প্রতিদিনের মতোই হাট, বাজার, অফিস করে।

মুসলিম লীগের প্রত্যক্ষ সংগ্রাম নিয়ে সবচেয়ে অদ্ভুত স্ট্যান্ড নেয় কমিউনিস্ট পার্টি১৩ আগস্ট, ১৯৪৬ এ পার্টির নেতা জ্যোতিবসু এক প্রচার বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, "মূলত আমাদের পার্টির চেষ্টা হবে মুসলিম লীগের ডাকা বাংলা বন্ধের দিন রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। তাই যেখানে প্রয়োজন আমরা বন্ধ সমর্থন করবো, আর যেখানে প্রয়োজন নয়, সেখানে বন্ধের বিরোধিতা করবো।" কমিউনিস্টদের চরিত্র আসলে মেয়ের, না পুরুষের, না অন্য কোনো কিছুর ? জ্যোতিবসুর এই মন্তব্য থেকে সেটা আপনারাই বিচার করে নিন। কেননা, কমিউনিস্টদের সিদ্ধান্ত ছিলো, যেখানে বন্ধের প্রয়োজন, অর্থাৎ মুসলিম এলাকায় ওরা বন্ধ সমর্থন করবে; আর যেখানে বন্ধের প্রয়োজন নেই, অর্থাৎ হিন্দু এলাকায় বন্ধ সমর্থন করবে না, বন্ধের প্রতিবাদ করবে। ১৪.৮.১৯৪৬ তারিখের অমৃতবাজার পত্রিকায় বেরিয়েছিলো কমিউনিস্ট পার্টির এই বেশ্যানীতির খবরটি।

কোলকাতার মেয়র ওসমান খান এবং তার সহযোগী সেরিফ খান, সক্রিয়ভাবে ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে এর এই হিন্দু হত্যাকে পরিচালনা করে। পূর্বেই উল্লেখ করেছি, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ছিলো মূখ্যমন্ত্রী সুরাবর্দীর হাতে। এই এ্যাকশনে পুলিশ-প্রশাসনের কোনো সাহায্য যাতে হিন্দুরা না পায়, সেজন্য রাজ্যের ২৪টি পুলিশ হেড কোয়াটার্সের সব কয়টি থেকে হিন্দু পুলিশ অফিসার সরিয়ে ২২টিতে মুসলিম পুলিশ অফিসার এবং ২টিতে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান পুলিশ অফিসার নিয়োগ করে সুরাবর্দী। শুধু তাই নয়, ১৬ আগস্ট সকাল থেকেই সুরাবর্দী এবং মেয়র ওসমান খান বসেছিলো লালবাজার পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে এবং সেখান থেকেই তারা নজর রাখছিলো মুসলমানরা কোন এলাকায় কত হিন্দু মারতে পারলো। এমনকি একটি থানা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সুরাবর্দী ঐ থানায় লালবাজার থেকে কোনো পুলিশ ফোর্স পাঠায় নি।

এ্যাকশন হলো শুরু :

মুসলিম শরীফের ৭৪৫ নং হাদিসে বলা আছে, 

"নবী যখন কোনো জনপদ আক্রমন করতো, তখন ভোর বেলায় করতো।" কোলকাতাতেও এই সূত্রও খাটিয়েছিলো হিন্দু হত্যার খলনায়ক সুরাবর্দী এবং তার অনুসারীরা। ১৫ আগস্ট রাতে টার্গেটেড এলাকার সমস্ত মসজিদে মুসলমানদের এনে জড়ো করা হয়েছিলো। যাদের অস্ত্র ছিলো না, মসজিদেই তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিলো। তারপর ফজরের (ভোরের) নামাজ শেষে খোলা তরবারি হাতে মুসলমানাদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছিলো রাস্তায়।

অন্যদিকে নির্বোধ হিন্দুরা, মুসলমানদের এই দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি দেখেও তার বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা না নিয়ে, নিশ্চিন্ত ঘুম ঘুমিয়ে ১৬ আগস্ট সকালে যেই না রাস্তায় বেরিয়েছে, অমনি মুসলমানরা আক্রমন করে তাদের খুন করতে শুরু করে ।

প্রথম ছুরিকাঘাত করা হয় ভোর ৪.৩০ মিনিটে, ভোরের হাওয়া খেতে বের হওয়া এক হিন্দুকে। এরপর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বিপুল সংখ্যক মুসলমান আক্রমন করে মানিকতলা বাজার, ভাংচুর ও লুঠ করতে থাকে হিন্দুদের দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসময় দুজন হিন্দু মহিলা মুসলমানদের হাতে আক্রান্ত হয়, একজন হিন্দু পুরুষ ছুরিকাঘাতে নিহত হয়।

এরপর থেকে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে লালবাজার পুলিশ হেড কোয়াটার্স এ যে খুন-জখম লুঠপাট ও অগ্নি সংযোগের খবর আসতে থাকে সেগুলো হলো-

সকাল ৭ টা: মানিকতলায় মুসলমানরা আক্রমন করেছে।

সকাল ৭.৩০ : লালবাজার টেলিফোন অফিসের কর্মকর্তা, সার্জেন্ট ই উইয়লিয়াম, থানায় রিপোর্ট করে যে, সে যখন তার মহিলা সহকর্মীকে প্রহরা দিয়ে একটি পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে সেন্ট্রাল এভিনিউ দিয়ে যাচ্ছিলো, সেই সময় সেই গাড়িতেই মুসলমানরা হামলা করে এবং তাদেরকে আহত করে।

সকাল ৭.৩৫ : বউবাজার ও লোয়ার সার্কুলার রোডের সংযোগস্থল শিয়ালদহে বিরাট সংখ্যক মুসলমান, লাঠি, লোহার রড সহ বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে জমায়েত হয়েছে।

সকাল ৮.২৫ : টেরিটি বাজার মুসলমানরা আক্রমন করেছে।

সকাল ৮.৩০ : লোয়ার চিৎপুরে সিটি সিনেমা হল এলাকায় মুসলমানরা আক্রমন করেছে।

সকাল ৯টা : শিয়ালদহ এলাকার অবস্থা ভয়াবহ।

সকাল ৯.৫ : ওয়ার্ডস ইনস্টিউশন স্ট্রীটে মুসলমানরা আক্রমন করেছে।

সকাল ৯.১২ : রিপন স্ট্রিট, ওয়েলেসলি স্ট্রিট ও মল্লিকবাজার এলাকায় মুসলমানরা যাকে পাচ্ছে, তাকেই ছুরিকাঘাত করে হত্যা করছে।

সকাল ৯.৩০ : বড়তলা থানার পুলিশেরাই মুসলমানদের দ্বারা আক্রান্ত। থানা থেকেই সশস্ত্র পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়েছে লালবাজার পুলিশ হেডকোয়াটার্সে।

সকাল ৯.৫৫ : বড় তলা থানা থেকে আবারও সাহায্যের অনুরোধ।

সকাল ১০.১০ : দমদম রোডে কয়েকহাজার মুসলমান আক্রমন করেছে। হিন্দুরা বাধা দেবার চেষ্টা করলে, মুসলমানরা গুলি বর্ষণ করেছে।

সকাল ১০.১২ : গড়পার, যোগীপাড়া লেন অর্থাৎ ক্যানাল অঞ্চলে মুসলমানরা আক্রমন করেছে।

সকাল ১০.৩০ : হ্যারিসন রোডে গোলমাল। রিপন কলেজের সামনে দুপক্ষের লড়াই চলছে।

বেলা ১১.০৮ : ২১২, বিবেকানন্দ রোডের কমলা বস্ত্রালয়ে আগুন লাগানো হয়েছে।

বেলা ১১.১৫ : রিপন কলেজের সামনে সাংঘাতিক দাঙ্গা চলছে।

বেলা ১১.৫০ : মুসলমানদের একটি বিরাট দল শিয়ালদহের দিক থেকে দোকান পাট লুঠ করতে করতে বউ বাজারের দিকে আগুয়ান। আর একটি দল হিন্দু বিরোধী শ্লোগান দিতে দিতে এবং দোকান লুঠ করতে করতে আপার সার্কুলার রোড ধরে ময়দানের দিকে এগিয়ে চলেছে। লাঠি ও খোলা তরবারি হাতে মুসলমানদের আর একটি দল শ্যামবাজার থেকে হাতিবাগান পর্যন্ত এগিয়ে আসছে।

দুপুর ১.৩০ : ষষ্ঠীতলায় হিন্দুদের ঘরবাড়িতে অগ্নি সংযোগ। নারকেল ডাঙ্গা মেইনরোডের কাছে পড়ে আছে ৫ টি মৃতদেহ।

বিকেল ৩টা : গড়পার এলাকায় ভয়ানক হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছে। খালের পশ্চিমপাড়ে হিন্দুদেরকে পাইকারিভাবে হত্যা করা হচ্ছে। হিন্দুদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

এই একই সময় ময়দানে মনুমেন্টের নিচে মুসলমানদের সমাবেশ চলছিলো। সেখান থেকে হিন্দু বিরোধী বক্তৃতা দেওয়া হচ্ছিলো, সমাবেশ শেষ হতে না হতেই মুসলমানরা হিন্দুদের দোকানে ভাঙচুর ও লুঠপাট করতে শুরু করে।

বিকেল ৪.৫ : লাইট হাউস সিনেমার পাশের সমস্ত হিন্দু মালিকানাধীন দোকান ভাঙা ও লুঠপাট চলছে।

বিকেল ৪.২০ : মুসলমানরা বেঙ্গল ক্লাব আক্রমন করেছে।

বিকেল ৪.৩০ : মেট্রো সিনেমার পাশের কে.সি বিশ্বাসে বন্দুকের দোকান ভেঙ্গে সমস্ত অস্ত্র লুঠ করে নিয়ে গেছে মুসলমানরা। ঐ অঞ্চলে আরো লুঠপাট চলছে।

বিকেল ৪.৪২ : ধর্মতলা রোডের বিখ্যাত কমলালয় স্টোর্স সম্পূর্ণ লুঠ হয়ে গেছে।

বিকেল ৫.১০ : কলকাতার সব বড় বড় রাস্তায় নৃশংস হত্যা ও লুণ্ঠন চলছে। ধর্মতলা স্ট্রিটে চাঁদনি চক বাজার মুসলমানদের দ্বারা লুণ্ঠিত। ইন্দ্র রায় রোডে সশস্ত্র মুসলমানরা বেরিয়ে আসছে।

মির্জাপুর স্ট্রীট ও আপার সার্কুলার রোডের সংযোগস্থল সশস্ত্র ও উত্তেজিত মুসলমানদের দ্বারা পরিপূর্ণ। 

ওয়েলেসলি স্ট্রিটে বাটা সু কোম্পানি ও সেন এন্ড ল'র দোকান লুঠ করা হয়েছে।

৮ নং তারা চাঁদ দত্ত স্ট্রীটে গমের কলের হিন্দুদেরকে খুন করা হয়েছে।

১৫২ নং লোয়ার সার্কুলার রোডে লক্ষীকান্ত দাসের সাইকেল দোকান লুঠ করা হয়েছে এবং তাতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রীটের প্রায় সমস্ত হিন্দু বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ৫৫ ক্যানিং স্ট্রিটের এ্যালুমিনিয়ামের একটি দোকান লুঠ করা হয়। কয়েক শত মুসলমান ঐ দোকান লুঠ করে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় ৬ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হিন্দুকে তারা উঠিয়ে নিয়ে যায়।

মারকুইস স্ট্রিট, এলিয়ট রোড, কর্পোরেশন স্ট্রিট, ওয়েলেসলি স্ট্রিটে হিন্দুদেরকে পাইকারিভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের বাড়িঘর লুঠ করা হয়েছে।

ডি.সি নর্থ, খান সাহেব খলিলুর রহমান, তার এক রিপোর্টে ১৬ আগস্ট সম্পর্কে লিখে, "বিশৃঙ্খলা এবং অরাজকতা চলেছে ধর্মতলা স্ট্রিট, ওয়েলেসলি স্ট্রিট, মার্কেট স্ট্রিট, কর্পোরেশন স্ট্রিট, এবং ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে। দোকান লুঠ হয়েছে, খুন হয়েছে এবং হামলা এখনও চলছে। মিলিটারী মোতায়েন করা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন।"

উপরের এই বর্ণনা শুধু মাত্র ১৬ আগস্টের। এরপর ১৭ তারিখ পুরো দিন এবং ১৮ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত মুসলমানরা একইভাবে হিন্দুদের হত্যা, মেয়েদের ধর্ষণ, প্রাণের ভয় দেখিয়ে ধর্মান্তরের চেষ্টা, বাড়ি-ঘরে অগ্নি সংযোগ এবং লুঠপাট করতে থাকে।

এভাবে গৃহহীন হয় হাজার হাজার হিন্দু। ধর্ষিতা এবং অপহৃতা মহিলাদের কোনো হিসেব ছিলো না। কোলকাতার রাস্তায়, এখানে সেখানে জমে উঠেছিলো লাশের পাহাড়। এই খুন-হত্যার বিভৎসতা দেখে স্টেটসম্যান পত্রিকার বৃটিশ সাংবাদিক কিম ক্রিস্টেন লিখেছিলেন, "দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) অভিজ্ঞতায় আমার স্নায়ু যথেষ্ট শক্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধও এত পৈশাচিক নয়। এ এক মধ্যযুগীয় বর্বর উন্মাদনা এবং এটাকে পৈশাচিক রূপ দেওয়া হয়েছিলো।"

জ্যোতিবসু, পরে তার লেখা এক বইয়ে কলকাতার এই ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে এর কথা লিখতে গিয়ে লিখেছে, "প্রথম তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার লোক নিহত হয়।" এছাড়াও অন্যান্য সূত্রে যে তথ্যগুলো পাওয়া যায়, তা হলো, শহরের সমস্ত ড্রেন হিন্দুদের লাশে ভর্তি হয়ে গিয়েছিলো। আর গঙ্গায় এত লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো যে, দুর্গন্ধে মাঝিদের নৌকা চালানো দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিলো। বাঁশের লগি দিয়ে লাশ সরিয়ে সরিয়ে রাস্তা তৈরি করে মাঝিদেরকে নৌকা এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিলো। এই দৃশ্যগুলো কল্পনা করুন আর ভাবুন, ১৯৪৬ সালে কোলকাতায় মুসলমানরা হিন্দুদের কত রক্ত ঝরিয়েছিলো ?

(বাকি অংশ দ্বিতীয় পর্বে)

জয় হিন্দ।

Friday, 31 July 2020

হিন্দুদেরকে বলছি, কখনো কোনো মুসলমানকে বলবেন না ঈদ মোবারক :


হিন্দুদেরকে বলছি, কখনো কোনো মুসলমানকে বলবেন না ঈদ মোবারক :

কারণ, আপনি যদি মুসলমানদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান, সেটা হবে- আমাদের পূর্বপুরুষের উপর মুসলমানরা যে হাজার বছর ধরে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে, হাজার হাজার মন্দির এবং বিগ্রহ ভেঙ্গেছে, কোটি কোটি হিন্দুকে খুন করেছে, কোটি কোটি হিন্দু নারীক গনিমতে মাল হিসেবে বন্দী করে ধর্ষণ করেছে, যৌনদাসী হিসেবে বাজারে বিক্রি করেছে, জোর করে তাদের গর্ভে মুসলমানের বাচ্চার জন্ম দিয়েছে- তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।

যাদের এই সব ইতিহাস জানা নেই, তাদের জন্য খুব সংক্ষিপ্তভাবে মুসলমানদের হাজার বছরের দুঃশাসনের সেই ইতিহাসের কয়েকটি তুলে ধরলাম, এগুলো পড়ুন, জানুন আর বিবেচনা করুন কোনো মুসলমানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো আপনার উচিত কি না ?

মুহম্মদ বিন  কাশেম, ৭১১ সালে, সিন্ধু দখল করার পর, যেসব হিন্দু পুরুষ মুসলমান হতে চায় নি, তাদেরকে হত্যা করে, প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার হিন্দু নারীকে ক্রীতদাসী হিসেবে বন্দী করে বাগদাদে পাঠায় এবং সকল মন্দিরের মূর্তিকে ভেঙ্গে ফেলে সেগুলোকে মসজিদে রূপান্তরিত করে ।

১০০১ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ নভেম্বর, গজনীর সুলতান মাহমুদ, প্রথমবার ভারত আক্রমন করে প্রায় ১৫ হাজার হিন্দুকে হত্যা করে, প্রায় ৫ লক্ষ হিন্দু নর-নারীকে ক্রীতদাস হিসেবে বন্দী ক'রে কাবুলে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে বিক্রি করে ।পরে আরো ১৭ বার ভারত আক্রমন করে গুজরাটের সোমনাথ মন্দির লুট করে এবং প্রায় ২০ লক্ষ স্বর্ণ মুদ্রা কাবুলে নিয়ে যায়, সেই সাথে মন্দিরে পাথরের মূর্তিগুলো ভেঙ্গে নিয়ে গিয়ে মসজিদের সিঁড়ি বানায়। এসব ঘটনায় কত হিন্দুর প্রাণ যে গিয়েছে এবং কত হিন্দু নারী বন্দী হয়ে যে ক্রীতদাসীর জীবন কাটাতে বাধ্য হয়েছে তার কোনো হিসেব নেই। তবে অনুমান করা হয়, সুলতান মাহমুদের হাতে প্রায় ১৫ লক্ষ হিন্দু নিহত হয়েছে এবং ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ নারী, বন্দী হয়ে যৌনদাসীত পরিণত হয়েছিলো।

১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দে, মহম্মদ ঘোরী কুতুবুদ্দিন, রাজা জয়চাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় এত হিন্দুকে হত্যা করে যে তাদের কাটা মাথা এক সাথে জড়ো করায় ছোট খাটো তিনটা পাহাড় হয়ে যায় এবং এতে তারা এত লুটের মাল পায় যে, সেগুলো দেখতে দেখতে তাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে যায়। এর পর কাশিতে এই দুইজন প্রায় ১ হাজার মন্দির ধ্বংস করে।

১১৯৬ খ্রিষ্টাব্দে এই কুতুবুদ্দিন, গোয়ালিয়র দুর্গ আক্রমন করে প্রায় ১ লাখ হিন্দুকে হত্যা করে এবং সমস্ত মন্দির ধ্বংস করে সেগুলোকে মসজিদ ও মাদ্রাসায় পরিণত করে।

১১৯৭ সালে গুজরাট আক্রমন করে কুতুব প্রায় ৫০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করে এবং ২০ হাজার হিন্দুকে দাস হিসেবে বন্দী করে; এতে তাদের হাতে এত পরিমান লুটের মাল আসে যা তারা কল্পনাও করে নি।

১২০২ সালে কুতুব কালিঞ্জর দুর্গ আক্রমন করে প্রায় ৫০ হাজার হিন্দুকে ক্রীত দাস হিসেবে বন্দী করে, সমস্ত মন্দিরকে মসজিদে পরিণত করে এবং এত হিন্দুকে হত্যা করে যে হিন্দুদের রক্তে মাটি পিচের মতো কালো হয়ে যায়।

বখতিয়ার খিলজি, ১২০৪ সালে সমস্ত বৌদ্ধকে হত্যা করে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করে।

আলাউদ্দিন খিলজি, গুজরাট আক্রমন করে রাতের বেলা ঘুম থেকে ডেকে তুলে এত হিন্দু হত্যা করেছিলো যে, হিন্দুদের রক্ত নদীর স্রোতের মতো বয়ে গিয়েছিলো। এছাড়াও এই খিলজি, সোমনাথ মন্দির আক্রমন করে শুধু টাকা পয়সাই লুটই করে নি, মূর্তি গুলো ভেঙ্গে নিয়ে গিয়ে দিল্লির জামে সমজিদের সামনে ফেলে রেখেছিলো, যাতে মুসলমানরা নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সময় সেগুলো পায়ে মাড়িয়ে যেতে পারে।

মুহম্মদ বিন তুঘলকের প্রিয় শখ ছিলো, তার দরবারে কোনো মুসলমান, সৌজন্য সাক্ষাত করতে এলেই তাকে কিছু হিন্দু মেয়ে উপহার দেওয়া, যাতে তারা তাদের নিয়ে গিয়ে ভোগ করতে পারে। আর সভাসদরা তো হিন্দু মেয়েদের নিয়মিত উপহার পেতোই। এই হিন্দু মেয়েগুলো যে জোর করেতুলে আনা এবং এরা আমাদের ই পূর্বপুরুষের মা-বোন-মেয়ে।

ফিরোজ শাহ, জোর করে তুলে আনা হিন্দু মেয়েদের শুধু ধর্ষণ করেই মজা পেতো না, তাদের যোনী দ্বারে গরম লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়া, যোনী দ্বার সেলাই করে দেওয়া এবং স্তন কেটে ফেলা ছিলো তারনিত্য দিনের শখ। এই ফিরোজ শাহ ১৩৬০ সালে উড়িষ্যা আক্রমন করে পুরী শহর লুট করে, জগন্নাথ মন্দিরে সমস্ত মূর্তি ভেঙ্গে সমুদ্রে ফেলে দেয় এবং তার ভয়ে একটা দ্বীপে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হিন্দুকে কেটে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়।

তৈমুর লং, হনুমানগড় আক্রমন করে প্রায় ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করে, এরপর সিরসা আক্রমন করে প্রায় ২ হাজার জাঠ হিন্দুকে হত্যা করে এবং তাদের নারী ও শিশুকে ক্রীতদাস হিসেবে বন্দী করে। এরপর দিল্লির নিকটে লোনি শহরে হিন্দু মুসলমানের একত্রে বাস হওয়ায়, মুসলমানদের বাদ দিয়ে বেছে বেছে হিন্দুদের হত্যা করে। শেষে দিল্লি আক্রমন করার পূর্বে বন্দী হওয়া প্রায় ১লক্ষ হিন্দুকে একদিনের মধ্যে হত্যা করে যমুনা নদীতে ফেলে দেয়।

বাবর, রাজপুত রাজা সংগ্রাম সিংহের সাথে যুদ্ধের সময় প্রায় ১ লক্ষ হিন্দু সৈনিক এবং আরো প্রায় ১লক্ষ সাধারণ হিন্দুকে হত্যা করে। এই বাবরই অযোধ্যার রাম মন্দির ধ্বংস করে বাবরি মসজিদ বানানোর সময় বন্দী হিন্দুদের গলা কেটে রক্ত সংগ্রহ করে সেই রক্ত, জলের পরিবর্তে চুন সুড়কির সাথে মিশিয়ে মসজিদের ইট গাঁথে।

সম্রাট আকবর, আকবর দ্য লম্পট, মীনা বাজার বসিয়ে হিন্দু মেয়েদের বেচতো এবং এই আকবরের হেরেমে যে প্রায় ৫ হাজার মেয়ে ছিলো, তারা সবাই ছিলো হিন্দু। এই আকবর চিতোর দুর্গ দখল করার সময় এত হিন্দুকে হত্যা করেছিলো যে, তাদেরকে গণনা করা সম্ভব ছিলো না, শেষে তাদের গলার পৈতা খুলে এনেগণনা করে দেখা গেলো মোট ওজন সাড়ে ৭৪ মন। কত লক্ষ হিন্দুকে হত্যা করলে তাদের পৈতার ওজন সাড়ে ৭৪ মন হতে পারে, একবার কল্পনা করুন।

নাচনেওয়ালি আনার কলির বিশ্বপ্রেমিক জাহাঙ্গীরের আমলে বিভিন্নভাবে কয়েকলক্ষ হিন্দুকে হত্যা করা হয়।

ঔরঙ্গজেব, শাজাহানের মেয়ে কাম উপপত্নী জাহানারার মসজিদের সিঁড়ির নিচে দেবতাদের ভাঙ্গা মূর্তি ফেলে রাখতো, যাতে মুসলমানরা মসজিদে যাওয়ার সময় সেগুলো পায়ে মাড়িয়ে মসজিদে উঠতে পারে। এছাড়াও ঔরঙ্গজেব, তার শাসনকালে, মোট ১৮৫ টি মন্দির ধ্বংস করে এবং পাথরের মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে খোয়া করে দিল্লির জামে মসজিদের ছাদ ঢালাই দেয় । এছাড়াও ঔরঙ্গজেব, শিখদের সপ্তম গুরু তেগ বাহাদুর ও তার তিন শিষ্যকে ইসলাম গ্রহন না করার জন্য নির্মমভাবে হত্যা করে, রাজা শিবাজীর পুত্রকে গ্রেফতার করার পর তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে কুকুরকে দিয়ে খাওয়ায়।

আহমেদ শাহ আবদালী, ১৭৫৭ সালে মথুরা, বৃন্দাবনগোকূল আক্রমন করে, সমস্ত মন্দির লুট করে, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলে এবং এত হিন্দু হত্যা করে যে, মথুরা বৃন্দাবনের রাস্তা রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিলো এবং রাস্তাগুলো এত পিচ্ছিল পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিলো যে, রাস্তা দিয়ে ঠিক মতো হাঁটা যাচ্ছিলো না, সেই সাথে লাশের দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নেওয়াও সম্ভব অসম্ভব হয়ে পড়েছিলো; এই বর্ণনা আবদালিরই দলে থাকা তার ইতিহাস রচয়িতার। এরপর আবদালী অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে যায় এবং ১০০ গরু জবাই করে সেই রক্ত দিয়ে মন্দিরকে অপবিত্র করে।

বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলার অত্যাচারে কোনো হিন্দু মেয়ে নদী পুকুরে স্নান করতে যেতে পারতো না।

টিপু সুলতানের প্রধান নেশা ছিলো যেকোনো ভাবে হিন্দুদের নির্যাতন করে মুসলমান বানানো। আর তার প্রিয় খেলা ছিলো, হিন্দুরা মুসলমান হতে অস্বীকার করলে তাদের চার হাত পা চারটি হাতির পায়ে বেঁধে দিয়ে চার দিকে হাতিগুলোকে ছুটিয়ে দিয়ে হিন্দুদের দেহকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করা। এই টিপু দক্ষিণ ভারতে প্রায় ১ হাজার মন্দির ধ্বংস ক'রে মাদ্রাসা মসজিদ বানায়। এছাড়াও কেরালা ও কর্ণাটকের প্রায় সকল মুসলমান এই টিপুর দ্বারা জোর পূর্বক ইসলামে ধর্মান্তরিত।

১৯৪৬ সালে, মুসলিমরা, কলকাতায় প্রায় ২০ হাজার এবং নোয়াখালিতে প্রায় ১ হাজার হিন্দুকে হত্যা, মেয়েদের ধর্ষণ এবং নোয়াখালির প্রায় সব হিন্দুকে জোর করে মুসলমান বানিয়েছিলো।

১১০০ বছর ধরে মুসলমানর ভারতে হিন্দুদের উপর যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তাতে যে পরিমান হিন্দু নিহত ও ক্রীতদাস ও যৌনদাসীতে পরিণত হয়েছে, স্বামী বিবেকানন্দের হিসেব মতে এই সংখ্যা ৪০ কোটি; অর্থাৎ, তারা বেঁচে থাকলে এবং বংশ বৃদ্ধি করতে পারলে তারা সংখ্যায় হতো ৪০ কোটি। স্বামী বিবেকানন্দ যে সময় এই হিসেব করেছিলেন, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সেই সময় ভারতে মুসলিম শাসনের উপর এত গবেষণা হয় নি, যেটা বর্তমানে হচ্ছে, আর বর্তমান গবেষনা অনুযায়ী আমেরিকান একজন গবেষক দেখিয়েছেন যে, ভারতে মুসলমানদের দ্বারা নিহত হিন্দুর সংখ্যা ৬০ কোটি, নিচের এই লিঙ্কে গেলে এর প্রমান পাবেন।

http://www.danielpipes.org/comments/172982

এখন আপনিই বিবেচনা করুন, যে মুসলমানরা হিন্দুদের উপর এত অত্যাচার নির্যাতন করেছে, তাদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালে আপনার পূর্ব পুরুষদের রক্ত, যে রক্ত ঝরিয়েছে মুসলমানরা, তার সাথে বেঈমানী করা হবে কিনা ?

জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ

Saturday, 18 July 2020

হিন্দু সমাজের সাধু-সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারী-মহারাজদের কাজটা কী ?


হিন্দু সমাজের সাধু-সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারী-মহারাজদের কাজটা কী ?

আমাদের সাধু সন্ন্যাসীদের বলছি, আপনারা হাজার হাজার বছর ধরে হিন্দুদের অন্ন ধ্বংস করে নিজেদের মোক্ষের কথা অনেক ভেবেছেন। এবার হিন্দুদের ইহলৌকিক মুক্তির কথা কিছু ভাবুন। কোথাও হিন্দুরা আক্রান্ত হলে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। আপনার ১০ জন যদি পথে নামেন, আপনাদের সাথে আর ১০০ জন সাধারণ মানুষ পথে নামবে। এই সম্মিলিত শক্তি মুসলমানদের শায়েস্তা করার জন্য যথেষ্ট। আর আপনারা যদি যেকোনো দাবী নিয়ে পথে নামেন আপনাদের কথা সরকারও শুনতে বাধ্য, সেই সরকার যতই মুসলিম তোষণকারী হোক না কেনো। আপনারা হিন্দুদের দাবী দাওয়া নিয়ে পথে নামেন না বলেই যুগ যুগ ধরে কেন্দ্রে কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট এবং তৃণমুল, মুসলিম তোষণের নামে একের পর এক হিন্দুস্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে পার পেয়ে গেছে।

যা হোক, বিনা কারণে ভারতে হিন্দুরা একের পর এক বিভিন্ন জায়গায় মার খাচ্ছে, মুসলিমদের অত্যাচারে তারা বাড়ি-ঘর বিক্রি করে দিয়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে, সরকার যতই হিন্দুদের পাশে না দাঁড়াক, আপনাদের কি এজন্য কিছুই করার নেই। কোথাও কোনো ইস্যু নিয়ে আপনাদের তো পথে নামতে দেখি না। আপনারা পথে না নামলে হিন্দুরা তার নিজ ধর্ম-সংস্কৃতি পালনে সাহস পাবে কোথা থেকে ? আর নিজ ধর্ম ও স্বজাতির মানুষদের বিপদের মধ্যে রেখে যারা শুধু মোক্ষের কথা ভাবে, তাদের মোক্ষ লাভ হবে  কিভাবে ?

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, রামচন্দ্র আপনাদের মতো সংসার থেকে পালিয়ে বেড়ান নি। তারা বিয়ে করেছেন, সংসার করেছেন, দুষ্টের দমনের জন্য যুদ্ধ করেছেন। এরাই তো আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় আদর্শ। এরা কি কখনো সংসার থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছেন ? আপনারা পালিয়ে বেড়ান কেনো ?   আপনাদের তো সংসার, ছেলে-মেয়ে- বউ, কেউ নেই। টাকা রোজগারের কোনো চিন্তা নেই। সংসারের কোনো দায়িত্বও নেই। জেল-জুলুমে আপনাদের এত ভয় কিসের ? আর মৃত্যুকেই বা এত পরোয়া করেন কেনো ? মানুষ কি মরে ?

আপনারাই তো বলেন, আত্মা শুধু পুরোনো দেহ ছেড়ে নতুন দেহ ধারণ করে। তাহলে মৃত্যুতে আপনাদের কিসের এত ভয়? মনে রাখবেন, আপনারা মারা গেলেও চোখের জল ফেলার মতো একটি ব্যক্তিও নেই। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা আর হিন্দু সমাজের জন্য আপনারা কে, কোথায়, কবে প্রাণ দিয়েছেন ? কেনো আপনাদের এত প্রাণের মায়া? আর জেল জুলুমের ভয়? আপনারা বোধহয় জানেন না, রাস্তায় নামলে আপনাদের পেটাতে যেমন পুলিশের হাত কাঁপবে, তেমনি জেলে ঢোকাতে সরকারেরও বুক কাঁপবে। নিজেদের এত শক্তি নিয়েও আপনারা এত ভীরু কেনো ? নাকি নিরামিষ ভোজন, আপনাদের কামের সাথে সাথে আপনাদের ক্রোধকেও নিঃশেষ করে দিয়েছে ?

ক্রোধ ছাড়া পৃথিবীর কোনো অবস্থার পরিবর্তন হয় নি।  আপনাদের ক্রোধ জগতের সিস্টেমকে পাল্টে ফেলার ক্ষমতা রাখে। এটা যদি ভুলে যান, তাহলে হিন্দুরাও আপনাদের একদিন ভুলে যাবে। তখন পেটের চিন্তা করতে করতে আর মোক্ষ লাভের চিন্তা করার সময় পাবেন না।  আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, গৃহী হিন্দুরা আপনাদের অন্নের সংস্থান করে বলেই আপনারা নিশ্চিন্তে বসে মোক্ষ লাভের চিন্তা করতে পারেন। যখন হিন্দুরা বুঝতে পারবে যে, আপনারা সাধারণ হিন্দুদের জন্য কোনো ভাবনা ভাবেন না, তখন কিন্তু তারা আপনাদের ছুঁড়ে ফেলে দেবে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সেই দিন আর খুব বেশি দূরে নয়।

মুসলিম, যাদের এই ভারতে থাকতে দেওয়ারই কোনো কথা ছিলো না, তাদের যখন ভারতে থাকতে দিলো নেহেরু আর গান্ধী, তখন আপনারা কেনো পথে নামেন নি ? নাকি মোক্ষলাভের চিন্তায় ভারতে মুসলিমদের ৮০০ বছরের দুঃশাসনের ইতিহাস পড়ার সময় পান নি, না পড়ার প্রয়োজন বোধ করেন নি ? নেহেরু ইসলামিক আইনের দোহাই দিয়ে মুসলিমদের চারটি বিয়ে করার অধিকার দিয়ে আইন পাশ করলো। তখনও কেনো আপনারা পথে নামেন নি ? এর ভয়াবহতা বুঝতে পারেন নি ? নাকি নিজেরা বিয়ে করবেন না বলে কে কয়টা বিয়ে করবে তা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন বোধ করেন নি ? ভারতে হিন্দুদের সংখ্যালঘু করে ফেলার এটা একটা ভয়াবহ ষড়যন্ত্র, নাকি এই ষড়যন্ত্রকে বোঝার মতো কাণ্ডজ্ঞানও আপনাদের ছিলো না।

কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার হজ করার জন্য প্রতিটি মুসলিমকে ৪০ হাজার টাকা করে ভর্তুকি দিতো। উল্টো হিন্দু তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে কর নিতো। কেনো এর প্রতিবাদ করেন নি ? টাকা আপনাদের পরিশ্রম করে কামাতে হয় না, এজন্য ? ভারতের সকল মসজিদ, যেগুলোর বেশির ভাগই মুসলিম শাসনামলে মন্দির ভেঙে তৈরী করা, সেগুলো থেকে সরকার কোনো কর নেয় না। উল্টো মন্দিরের আয়ের একটা অংশ সরকার কেটে নেয়। কেনো এজন্য প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন না ?  লোকজন আপনাদের সাম্প্রদায়িক বলবে, এজন্য ? নিজেকে যদি হিন্দুই ভাবতে না পারেন, তাহলে সন্ন্যাসী হতে গিয়েছেন কেনো ?

যে নিজেকে হিন্দু বলতে গর্ব বোধ করে, সে নিজেকে সাম্প্রদায়িক ভাবতেও লজ্জা বোধ করে না। কেননা, সাম্প্রদায়িক না হলে কেউ নিজের সম্প্রদায়ের জন্য কোনো ভালো কিছু করতে পারে না।  নেহেরু অসাম্প্রদায়িক ছিলো বলেই, মুসলিম ছেলের  সাথে নিজের মেয়ে ইন্দিরা গান্ধীর বিয়ে দিয়েছিলো। আপ বাপ বেটি মিলে ভারতের হিন্দুদের যত রকম ভাবে বাঁশ দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করে গিয়েছে। ইন্দিরার পেটে মুসলিম বীজে জন্ম নেওয়া রাজীব, আর এক খ্রিস্টান মেয়ে সনিয়াকে বিয়ে করে ভারতে এনেছে। রাজীব মরার পর এই খ্রিস্টান সোনিয়াই এখন কংগ্রেসের প্রধান। ও হিন্দুদের আবেগ অনুভুতির কী বুঝবে ?

এই সোনিয়া, "সাম্প্রদায়িক ও লক্ষিত হিংসা বিল" নামে একটি বিল পাশ করতে চেয়েছিলো, এই বিলের মোট কথা হচ্ছে,  ভারতের যেখানেই  সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগুক, তার দায় খ্রিস্টান, মুসলমান বা আর কোনো জাতির নয়, তার দায় শুধু হিন্দুদের। হিন্দুর বিরুদ্ধে কেউ যদি থানায় গিয়ে কোনো অভিযোগ করে, তাহলে সেই থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ঐ হিন্দুকে গ্রেফতার করতে বাধ্য থাকবে। পুলিশ দায়িত্বে অবহেলা করলে তাকে বরখাস্ত করা যাবে, রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে শৈথিল্য দেখালে কেন্দ্র, রাজ্য সরকারকে ভেঙে দিতে পারবে। এটা পাশ হলে হিন্দুরা ভারতে ৪র্থ শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হতো। এর বিরুদ্ধে কখনো রাস্তায় নামার কথা ভেবেছেন ?  ভারতীয় হিন্দুরা কি ভারতের নাগরিক? না মধ্যপ্রাচ্যের কোনো মুসলিম দেশের নাগরিক ?

বাম(মুসলিম)ফ্রন্ট সরকার হজ যাত্রীদের জন্য কৈখালিতে ভিআইপি রোডের উপর আটতলা হজ মঞ্জিল তৈরি করে দিয়ে গেছে, মমতা নাকি রাজারহাটে আরেকটা কুড়ি তলা বানিয়ে দেবে। অথচ গঙ্গাসাগরে যে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থ যাত্রী প্রতিবছর আসে, তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।  এর প্রতিবিধান করার জন্য কখনো রাস্তায় নেমেছেন ? সম্প্রতি মমতাজ বেগম মুসলিম ইমামদের প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে ঘুষ দেবার কথা ঘোষণা করেছে। একজন হিন্দু মূখ্যমন্ত্রী এই সাহস পায় কোথায় ?  যে হিন্দুদের করের টাকা মুসলিমদের মধ্যে বিলিয়ে দেবে ? তাহলে হিন্দু পুরোহিতরা কী দোষ করলো ? এ নিয়ে কখনো রাস্তায় নামার কথা চিন্তা করেছেন ? নাকি আপনাদের কেউ পূজা করতে ডাকে না বলে আপনাদের তা নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই ? হিন্দু সমাজের ভালো মন্দ নিয়ে ভাবুন, তাহলে হিন্দুসমাজ আপনাদের মাথায় তুলে রাখবে। না হলে আমার মতো লোকের সংখ্যা কিন্তু খুব কম নয়, যারা আপনাদের কাজের মূল্যায়ন করে সমালোচনা করছে।

সুমন চট্টোপাধ্যায়, বাংলাদেশের গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিনকে বিয়ে করার জন্য কবীর সুমন নাম নিয়ে মুসলমান হলো। এখন বিসমিল্লা ছাড়া সে কথাই শুরু করে না। সেই সুমনকে মমতা নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে দিলো; দিব্যি সে নির্বাচিত হয়েও গেলো। এই সুমনকে কি শুধু মুসলিমরা ভোট দিয়েই নির্বাচিত করেছে ? তাকে কি হিন্দুরা ভোট দেয় নি ? যে হিন্দু, সমাজ ও ধর্মকে অপমান করে মুসলমান হলো, সে কিভাবে আবার হিন্দুদের ভোটে নির্বাচিত হয় ? এখানে আপনাদের কিছুই কি করার ছিলো না ? লোকজনকে কি সচেতন করা আপনাদের উচিত ছিলো না। এই সুমন এখন ভারতের আর (গুণ)গান গায় না, গায় বাংলাদেশের, মুসলমানদের গান। ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশ জিতলে সে খুশি হয়, এগুলো সে আবার ফেসবুকে খোলাখুলি প্রচারও করে। এত সাহস সে পায় কোথা থেকে ? নিশ্চয় আপনারা সব মুখ বুজে সহ্য করেন বলেই হিন্দুবিরোধী শক্তি এত প্রশ্রয় পায়।

আরেক মহিলা কুলাঙ্গার অপরুপা পোদ্দার, এক মুসলমানকে বিয়ে করে সে আফরিন আলি নাম নিয়ে মমতার দল থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে ২০১৪ এর লোক সভা নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলো। এ শুধু ভারতেই সম্ভব। আর সম্ভব আপনাদের নিস্ক্রিয়তার জন্য। যে কোনো মুসলিম দেশে কেউ ইসলাম ত্যাগ করলে, মুসলিমরা তাকে ভোট দেওয়া দূরের কথা, সাথে সাথে গলা কেটে ফেলে। আপনারা কি এসব বিষয়ে হিন্দুদের সচেতন করতে পারেন না ? যে, যারা হিন্দুত্ব ত্যাগ করেছে, তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনা যাবে না, তাহলে তারা শুধু মুসলিমদের স্বার্থই দেখবে, হিন্দু স্বার্থ দেখবে না। স্বামী বিবেকানন্দের কথা কি ভুলে গেলেন ? - "একজন হিন্দু যখন মুসলমান হয়, তখন হিন্দু সমাজের শুধু একজন সদস্যই কমে না, সাথে সাথে একজনশত্রুও বাড়ে।"- এই অমিয় বাণী ? শুধু তাই নয়, মমতা একের পর এক শুধু মুসলিম ভোটের জন্য হিন্দু স্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে বা নিচ্ছে। এ সব ব্যাপারে আপনাদের কি কিছুই বলার বা করার নেই ?

বাংলা সিনেমায় অহরহ হিন্দু মেয়েদের সাথে মুসলিম ছেলেদের প্রেম বিয়ে দেখানো হচ্ছে, আপনারা নিশ্চুপ কেনো ? এর সুদূরপ্রসারী পরিণাম কি চিন্তা করে দেখেছেন ? না, নিজেদের ছেলে মেয়ে নেই বলে, এ সব বিষয় নিয়ে ভাবার  কোনো সময় বা প্রয়োজন আপনাদের নেই ? মনে রাখবেন, সকল হিন্দুই আপনাদের সন্তান। এজন্যই লোকনাথ কোনো ছেলে মেয়ের জন্ম না দিয়েও সে লোকনাথ বাবা। সারদার  কোনো ছেলে মেয়ে না থাকলেও সে  'মা সারদা'।

আপনাদের মতো সাধু সন্ন্যাসী আর গুরু বাবাদের জন্যই মাংসাহারী হিন্দু সমাজের বিশাল অংশ আজ নিরামিষ ভোজী।  এতে কী লাভ হয়েছে, হিন্দু সমাজের ? হিন্দুরা আজ শক্তিহীন, দুর্বল। যে পুরুষ তার স্ত্রী-কন্যা-পুত্রদের মুসলিমদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না, তার এত সাত্ত্বিক হওয়ার কী দরকার ? রামচন্দ্র মাংস খেতেন না ? বিবেকানন্দ মাছ মাংস খেতেন না ? আপনারা কী তাদের চেয়েও বড় অবতার বা সন্ন্যাসী ? আমিষ না খেয়ে আপনারা নিজেদের কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ সব ত্যাগ করেন, ঠিক আছে। কিন্তু মুসলিমরা যখন মারতে আসবে, তখন নিজেদের রক্ষা করবেন কী দিয়ে ? নিরামিষ খাওয়ার ফলে গায়েও শক্তি নেই, আবার ক্রোধও নেই, অস্ত্র চালাবেন কী দিয়ে ? মুসলিমরা ভারতে সশস্ত্র জিহাদ শুরু করলে প্রাণ বাঁচাতে প্রথমে তো আপনাদেরকেই ইসলাম গ্রহন করে গরুর মাংস খেতে হবে।

ইসকনের লোকজন সারাক্ষণ মালা নিয়ে কৃষ্ণ নাম জপ করে। কিন্তু একজনও কৃষ্ণভক্তের কি একজন মুসলিমকে মোকাবিলা করার মতো দৈহিক শক্তি  আছে ? আপনি কৃষ্ণ নাম জপ করে আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন করে দিব্যজ্ঞান লাভ করতে পারেন, কিন্তু একজন মুসলিমের খোলা তরবারির কাছে আপনার দিব্যজ্ঞান কিছুই না, ঐ দিব্যজ্ঞান আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। তরবারির মোকাবেলা তরবারি দিয়েই করতে হয়, সেখানে প্রেমের গান গেয়ে লাভ নেই। আছে  এমন শক্তি আপনাদের ? যেখানে আপনারা নিজেই শক্তিহীন, সেখানে হিন্দু সমাজকে আপনারা বাঁচাবেন কিভাবে ? তাই বোধহয় আপনাদের এত ভয়! হিন্দু স্বার্থ রক্ষা করার জন্য পথে নামেন না, রাস্তায় গলা ফাটান না।

ধর্ম করতে গেলেই বিয়ে করা যাবে না, সাধু-সন্ন্যাসী হয়ে পাহাড়ে জঙ্গলে থাকতে হবে, নিরামিষ খেয়ে কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ ত্যাগ করে নপুংসক হতে হবে, এই থিয়োরি আপনারা কোথায় পেয়েছেন ? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রেম করেন নি? বিয়ে করেন নি? তার ছেলে মেয়ে সংসার ছিলো না ? রামচন্দ্র বিয়ে করেন নি ?  দেবাদিদেব মহাদেব শিবের কয় জন স্ত্রী ? সব মুনি ঋষিরাই কি অবিবাহিত ছিলো ? যে গৃহীদের জন্য আপনারাসহ পুরো বিশ্ব সংসার টিকে আছে, সেই গৃহীদের আপনারা এতো ছোট করে দেখেন কেনো ? তারা স্ত্রীর সঙ্গে সেক্স করে বলে ? আপনার পিতা মাতা এই সেক্স না করলে আপনি আসতেন কোথা থেকে ? একজন পুরুষ বিয়ে করবে, সংসার করবে, ছেলে মেয়ের জন্ম দেবে-এটাই প্রকৃতির নিয়ম, এটাই ধর্ম। প্রকৃতির নিয়মের বাইরে যাওয়াই অধর্ম। তাহলে আপনারা ধর্ম করছেন, না অধর্ম করছেন ?

পুরুষ এবং মহিলার মাঝামাঝি ঈশ্বর আরেক প্রজাতির প্রাণী সৃষ্টি করেছেন, যাদের সন্তান জন্ম দেবার ক্ষমতা থাকে না, তাই তারা বিয়ে করে না, সংসার করে না। এটা তাদের প্রাকৃতিক অক্ষমতা। কিন্তু আপনারা কেনো বিয়ে করেন না, সংসার করেন না, সন্তানের জন্ম দেন না ? তাহলে আপনাদের আর হিজরাদের মধ্যে পার্থক্য কী ? আপনারা নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবেন, এইজন্য যে, আপনারা নিজেদের ভাবেন, দিব্যজ্ঞানী, ব্রহ্মজ্ঞানী। আচ্ছা,  এই দিব্যজ্ঞান এবং ব্রহ্মজ্ঞান সমাজ সংসারের কী কাজে লাগে ? আপনার দিব্যজ্ঞান ব্রহ্মজ্ঞান কি মুসলিমদের আক্রমনের হাত থেকে হিন্দুদের রক্ষা করতে পারে বা পারবে ? আসলে আপনারা হিন্দু সমাজের সাথে প্রতারণা করে বেড়াচ্ছেন। হিন্দুদের কষ্টার্জিত টাকায় খাচ্ছেন আর ঘুমাচ্ছেন। তাদের বাস্তব কল্যানের জন্য কোনো চিন্তা করছেন না।

ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবান্দজী মহারাজের হিন্দু চিন্তা দারুন বৈপ্লবিক। কিন্তু আশ্রমের সিস্টেম, নপুংসক তৈরীর কারখানা। তাই সেখান থেকে কোনো বীর তৈরী হয় না। আশ্রমের ছাত্রাবাস আছে। ছাত্রদের নিরামিষ খাইয়ে খাইয়ে শুধু দুর্বল নয়, একেবারে ক্লীব বানিয়ে ছাড়ে। এ আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা। কারণ, ১ বছর ভারত সেবাশ্রম সংঘের ছাত্রাবাসে থাকার অভিজ্ঞতা আমার আছে। ছাত্র এবং যুবকরাই সমাজের পরিবর্তন আনে। তাদেরই যদি নিরামিষ খাইয়ে নপুংসক আর ক্লীব বানানো হয় তাহলে ধর্ম রক্ষার জন্য যুদ্ধটা করবে কে ? এটা কি মহাভারতের যুগ, যে অর্জুনের এক তীর থেকে ১০০ তীর বেরিয়ে ১০০ জনকে বধ করবে ?

স্বামী বিবেকানন্দের হিন্দু চিন্তাও দারুন বৈপ্লবিক। কিন্তু তার বর্তমান শিষ্যরা নপুংসক, আর ক্লীব তো বটেই সেই সাথে ধূর্ত বিজনেসম্যান। রামকৃষ্ণ মিশন সারা ভারতে স্কুল কলেজ  প্রতিষ্ঠা করে সকল ধর্মের স্টুডেন্ট ভর্তি করিয়ে চুটিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। একটা ক্লাসে ১০টা হিন্দু ছাত্রের মাঝে যদি ২ জন মুসলিম  ছাত্র থাকে, তাহলে ঐ ৮জন হিন্দু ছাত্রকে কি ইসলামের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব ? তাদেরকে কি মুসলিমদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য শিক্ষা দেওয়া সম্ভব, যেটা বিবেকানন্দ উপলব্ধি করেছিলেন।

রামকৃষ্ণ মিশনের এক স্বামী, 'স্বামী অভেদানন্দ' তো আবার একটা বই লিখে ফেলেছেন, "মাহাত্মা মুহম্মদ ও তার উপদেশ" নামে। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, ইসলাম কি মহান ধর্ম! আর তাই এই বই পড়লে এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, ইসলামের চেয়ে হিন্দু নীচতর ধর্ম! উনার এতই যদি ইসলাম প্রেম, তাহলে রামকৃষ্ণ মিশনে বসে হিন্দুদের অন্ন ধ্বংস করছেন কেনো ? যান, গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হোন। তাহলে বেহেশতে গিয়ে নিশ্চিন্তে ৭২জন হুর নিয়ে ফুর্তি করতে পারবেন। রামকৃষ্ণ মিশন আবার মাঝে মাঝে সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের জন্য সভাও করে থাকে। মূলত হিন্দু সমাজ ও ধর্মের কতিপয় ব্যক্তি ও সংগঠনের এ ধরণের উদ্যোগ ও কাজকর্মের ফলে আমাদের হিন্দু ছেলে মেয়েরা বিভ্রান্ত হয়ে মুসলিম ছেলে মেয়েদের লাভ জিহাদের কবলে পড়ে হিন্দু ধর্ম ও সমাজ ছেড়ে হিন্দু সমাজকে কলঙ্কিত করছে। আবার কোনো কোনো হিন্দু ছেলে মেয়ে মুসলমানদের দ্বারা ব্রেইন ওয়াশের স্বীকার এসবের জন্য দায়ী মূলত আমাদের সাধু সন্ন্যাসী নামধারী কিছু নপুংসক ব্যক্তি।

আমাদের সাধু-সন্ন্যাসী এবং গুরুবাবাদের কাছে আমার একটি বিনীত নিবেদন, ভগবানের পরেই আমাদের হিন্দু সমাজ, এখনও আপনাদেরকে ভগবান বলে মান্য করে। তাদের বিশ্বাস এবং ভক্তি নিয়ে প্রতারণা করবেন না। তাদের এমন উপদেশ দিন এবং এমন দিক নির্দেশনা দিন, যাতে তারা নিজেদের শক্তিশালী করে সর্ব অবস্থায় নিজেদের রক্ষা করতে পারে। হিন্দুত্ববাদী একজন রাজনীতিকের কথা যদি ১০ জন লোকে শুনে ও বিশ্বাস করে, আপনাদের একটা কথা ১০০ জন লোকে শুনবে ও বিশ্বাস করবে। আপনাদের মধ্যে কত শক্তি আছে, সেটা কি আপনারা জানেন না। এই শক্তিকে কাজে লাগান। এই শক্তিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে হিন্দু সমাজের কল্যান ও উন্নতি করুন। প্রয়োজনে সক্রিয় রাজনীতি করুন। ভারতের কোনো রাজ্যে এখন পর্যন্ত বিশুদ্ধ হিন্দু দল একটিও নেই। আপনারা সেই শুন্যস্থান পূরণ করুন। তখন কারো কাছে দাবী দাওয়া নিয়ে আপনাদের যেতে হবে না। হিন্দুর কল্যান ও স্বার্থে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারবেন।

জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।

Friday, 10 July 2020

প্রসঙ্গ : হিন্দুদের হিন্দু প্রতিবেশীর দেশত্যাগ


প্রসঙ্গ : হিন্দুদের হিন্দু প্রতিবেশীর দেশত্যাগ

ফটোপোস্টে যেমনটা বলা হয়েছে, আপনি যদি এমনটা করেন, তাহলে আপনি কী কী সমস্যায় পড়তে পারেন বা কী কী সমস্যায় ভুগতে পারেন, সেটা বোঝানোর জন্য একটি বাস্তব গল্প বলছি-

ঘটনাটি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার কোনো একটি থানার কোনো একটি গ্রামের।

তো হিন্দু পাড়ার একেবারে মধ্যস্থল, যেখানে পাড়ার মন্দির অবস্থিত, সেখান থেকে একটি পরিবার গোপনে এক মুসলমানের কাছে তার বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে ইন্ডিয়ায় চলে যায়। ওরা যাওয়া মাত্র মুসলমানরা এসে বাড়ি দখল নেয় এবং তারপর তুলসীর গাছ উপড়ে ফেলে দিয়ে গরুর রক্ত এনে বাড়ির মধ্যে এবং বাড়ির চারপাশে ছিটিয়ে ওদের চিন্তাভাবনা মতে বাড়িকে পাক পবিত্র করে নেয়।

পাড়ার মধ্যে এই ধরণের ঘটনায় পাড়ার হিন্দুরা ভীষণ ক্ষুব্ধ। কারণ, সে যদি চাইতো তাহলে হিন্দুদের কাছেই বাড়ি বিক্রি করে যেতে পারতো, কেননা তার পাশের বাড়ির লোকজনই যথেষ্ট ধনী, তারাই বাড়িটি কিনে নিতে পারতো। কিন্তু সে কাউকে তার বাড়ি বিক্রি করার পরিকল্পনার কথা না জানিয়ে গোপনে মুসলমানের কাছে বাড়ি বিক্রি করে চলে গেছে এবং তারপর আগত মুসলমানের কাণ্ডকারখানা দেখে পাড়ার হিন্দুরা, ইচ্ছে মতো তাকে গালি গালাজ করতে থাকে এবং অভিশাপ দিতে থাকে, তাদের গালি গালাজ ছিলো এরকম- হারামজাদা, তুই ভাত পাবি না, মরলে মাটি পাবি না, তোর আবার এই দেশে ফিরে আসতে হবে, কিন্তু এই গ্রামে তুই ঠাঁই পাবি না, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।

কথায় বলে- মানুষের মুখেই জয়, আবার মানুষের মুখেই ক্ষয়। বিশেষ করে নির্দোষ কোনো মানুষ যদি কষ্ট পেয়ে অভিশাপ দেয়, সেটা কখনো ব্যর্থ হয় না। পাড়ার লোকজন যা যা বলে গালি দিয়েছিলো, কয়েক বছর পর ঐ ব্যক্তির জীবনে ঠিক সেসব ঘটনা ই ঘটতে থাকে। ভারতে গিয়ে সে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে নি, কাজ কর্মে স্যুট করতে না পেরে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া সব টাকা নিঃশেষ করে ফেলেছে, অভাব ও কষ্টের তাড়নায় বউ ছেলে মেয়ে নিয়ে সে আবার দেশে ফিরে আসে, কিন্তু গ্রামের লোক তাকে আর গ্রামে ঢুকতে দেয় নি। শেষ পর্যন্ত সে অন্য গ্রামে অবস্থিত তার কোনো এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠে এবং দিনমজুরী করে কোনো রকমে দিন কাটায় এবং সবচেয়ে নির্মম ব্যাপার হলো- অভাব ও দারিদ্রে ভুগতে ভুগতে এমন সময় তার মৃত্যু হয়, যখন চারেদিকে বন্যার জলে থৈ থৈ, তাকে যে মাটি দেবে তার কোনো উপায় ছিলো না, শেষ পর্যন্ত তাকে নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দিতে হয়। এই ভাবে সেই ব্যক্তি তার ভুলের মাশুল অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ভোগ করে দিয়ে যায়।

১৯৪৬ সালে নোয়াখালিতে হিন্দু গণহত্যার পর থেকে বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের ইন্ডিয়ায় চলে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে অমানুষ মুসলমানরা আরো বহু ঘটনার জন্ম দিয়েছে, যা হিন্দুদেরকে দেশত্যাগে বাধ্য বা উদ্বুদ্ধ করেছে। যারা বিভিন্ন কারণে বাধ্য হয়েছে, তারা ছাড়াও অনেক হিন্দু প্রবণতাবশত দেশ ত্যাগ করেছে বা এখনও করছে, যার কোনোই প্রয়োজন নেই। যত কষ্টই হোক, আর যে পরিস্থিতিই সৃষ্টি হোক, জন্মভূমিতেই সবাইকে টিকে থাকতে হবে, এখানেই লড়াই করতে হবে, প্রয়োজনে প্রিয়া সাহার মতো আমেরিকায় গিয়ে নালিশ জানিয়ে এদেশের মুসলমানদের প্রেস্টিজ পাঞ্চার করে দিতে হবে, কিন্তু থাকতে হবে দেশেই। কারণ, আত্মহত্যা যেমন কোনো সমাধান নয়, তেমনি দেশত্যাগও সমাধান নয়।

যা হোক, উপরে যে হিন্দুর গল্প বললাম, সে দেশত্যাগ করেছিলো মুসলমানদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে নয়, প্রবণতাবশত; বিভিন্ন কারণে অনেকে গিয়েছে, যাচ্ছে, তাই সেও শখের বশে গিয়েছে। কিন্তু ভুলটা সে করেছে বাড়ি বিক্রির বেলায়। শুধু বাড়ি বিক্রির বেলায় ই নয়, চাষের জমি বিক্রি করলেও পাশের জমিওয়ালাদেরকে আগে জানাতে হয়। আর বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে তো এটা আরো বেশি সত্য। যদি এমন হয় যে নিকটতম প্রতিবেশীর সাথে তার শত্রুতা এবং তার কোনো আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েই সে দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাহলে তাকে না ব'লে পাড়ার অন্য হিন্দুদেরকে তো সে সেই কথা বলতে পারতো বা নিকটতম প্রতিবেশির কাছে বিক্রি না করলেও পাড়ার অন্য হিন্দুদের কাছে তা বিক্রি করতে পারতো; তাহলে তো বাড়িটা মুসলমানরূপী জানোয়ারদের কাছে যেতো না এবং ঐ হিন্দুরা তাকে ঐভাবে অভিশাপ দিতো না এবং তার ঐ করুণ পরণতিও হতো না।

এখন কোনো হিন্দু প্রতিবেশী যদি তার বাড়ি কোনো মুসলমানের কাছে বিক্রি করে ভারতে চলে যায়, তাহলে থেকে যাওয়া হিন্দুরা কোন ধরণের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে তা বোঝানোর জন্য নিচে আরেকটি বাস্তব গল্প বলছি-

এই ঘটনাটা বাংলাদেশের মাগুরা জেলার।

প্রতিবেশী হিন্দু, বাড়ি মুসলমানের কাছে বিক্রি করে দেশত্যাগ করে চলে গেছে। তাই পাশের বাড়িতে মুসলমান এসে উঠেছে। সেই মুসলমানের ছিলো একটি যুবক ছেলে, আর পাশের হিন্দু বাড়িতেই ছিলো একটি যুবতী মেয়ে। পাশাপাশি থাকতে থাকতে দুজনের ভাব হয়ে গেছে এবং এক পর্যায়ে সেই হিন্দু মেয়েটি মুসলমান ছেলের সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। মুসলমানদের কাজই হলো তো তাদের ছেলে মেয়েদের দিয়ে হিন্দু ছেলে মেয়েদের শিকার করা। এই কাজে কোনো মুসলিম ছেলে মেয়ে যখন সফল হয়, তখন তাকে পুরো মুসলিম সমাজ তাকে বাহবা দেয় এবং সব রকম সাহায্য করে। যা হোক, শেষ পর্যন্ত দু চারদিন এখানে সেখানে লুকিয়ে থেকে পরিস্থিতি একটু ঠাণ্ডা হলে ঐ মুসলিম ছেলে, হিন্দু মেয়েটিকে নিয়ে এসে তার বাড়িতে এসে উঠে; তখন মেয়েটির শশুড় বাড়ি আর বাপের বাড়ি পাশাপাশি। রাত পোহালেই হিন্দু পিতা মাতাকে দেখতে হচ্ছে মুসলমান হয়ে যাওয়া মেয়ের মুখ, কষ্টটা একবার চিন্তা করুন।

কোন পাপে ঐ হিন্দু পরিবারটির এই কষ্ট, এবার সে ব্যাপারে একটু আলোচনা হয়ে যাক-

কথায় বলে- হাজার পাপে পুড়ে বাড়ি, আর লক্ষ পাপে অন্ধ হয় চোখ। তাই কারো বাড়িতে যেমন এমনি এমনি আগুন লাগে না, এমনি এমনি চুরি ডাকাতি হয় না; তেমনি এমনি এমনি কোনো দুর্ঘটনাও ঘটে না। বহু পাপের ফলে কোনো বাড়িতে কষ্টদায়ক কোনো ঘটনা ঘটে।

কয়েক মাস আগে আমার গ্রামের একটি এস.এস.সি দেওয়া হিন্দু মেয়ে, তার সহপাঠী এক মুসলিম ছেলের সাথে পালিয়েছিলো, কিন্তু মেয়ের বংশের প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকায় কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মেয়েটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনা সম্ভব হয়। এই মেয়ের বংশের কেস হিস্ট্রি ঘাঁটতে গিয়ে দেখলাম- মেয়ের দাদু ছিলো নং ওয়ান লম্পট, এই লম্পটের ছিলো ৫ পুত্র; বড় পুত্রও ছিলো লম্পট, বিয়ের আগে যুবক বয়সে সে এক মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করে মুসলমান হয়ে কিছুদিন কাটিয়েছিলো, পরে সেই মেয়ের সাথে ছাড়াছাড়ি হলে আবার হিন্দু সমাজে ফিরে আসে, তারপর তাকে হিন্দু মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে হিন্দু বানিয়ে রাখা হয়। এই লম্পটের দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়েটা ভালো ভাবে হলেও ছোট মেয়েটা এক মুসলমানের সাথে পালিয়েছিলো, যেটা পাড়ার লোকও তেমন জানতো না; কারণ তারা কোনো হৈচৈ করে নি, সপ্তাহখানেক পরে মেয়েটা এমনিই বাড়িতে ফিরে আসে, তখনও কেউ হৈচৈ করে নি। কিন্তু মূল ঘটনা দু চারজন টের পেয়েছিলো, মেয়েটাকে বিয়ে দিতে হবে বলে তারাও বিষয়টি চেপে গিয়েছিলো, পরে মেয়েটার বিয়ে হলেও, মেয়ের আগের কুর্কীতি তার শশুড় জেনে ফেলেছিলো, এর জন্য মেয়ের সংসার ভাঙারও প্রায় উপক্রম হয়েছিলো, কিন্তু সনাতনী কালচারে সংসার ভাঙা সহজ নয় বলে সেই যাত্রায় মেয়েটি বেঁচে গিয়েছিলো। যা হোক, এই লম্পটের ছোট ছেলে ইন্টার পড়া অবস্থায় একা একা এক দরিদ্র নীচু বংশীয় মেয়েকে বিয়ে করে গ্রামজুড়ে সমালোচনার পাত্র হয়। মানে যেমন কোম্পানি, তেমনই তার প্রোডাক্ট।

যা হোক, ঐ ব্যক্তির দ্বিতীয় পুত্রও লম্পট, সেও বাড়ি থেকে অনেক দূরে অন্য এক জেলায় এক মুসলিম মেয়ের সাথে কিছু ঘর সংসার করে, তার মধু খাওয়া শেষ হলে সেখান থেকে পালিয়ে এসে পরে এক হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে হিন্দু সমাজে স্থান করে নেয়।

তৃতীয় পুত্রের ব্যাপারে তেমন কোনো খারাপ কিছু শোনা যায় নি, তাই তার মেয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও কোনো মুসলিম ছেলেকে ভালোবাসে নি বা তাদের সাথে পালিয়ে যায় নি, বাপ মায়ের ঠিক করা ছেলেকে বিয়ে করে এখন সুখে শান্তিতেই আছে বলে শুনতে পাচ্ছি। চতুর্থ পুত্র হলো সেই মেয়ের পিতা, যে মেয়ে বাড়ি থেকে মুসলমান ছেলের সাথে পালিয়েছিলো, এর কাহিনী বলবো শেষে।

এই মেয়ের কাকা অর্থাৎ ৫ম পুত্র বিয়ে করার পর শশুড় বাড়ির এলাকায় গিয়ে থাকতো, নিজ বাড়ির সাথে তার সম্পর্ক তেমন ছিলো না। এ চায়ের দোকান করতো, তো ছেলে মেয়ের জন্ম হয়ে যাবার পরেও সে এক মুসলিম মেয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং তাকে নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যায়, সেখানে বছর খানেক মুসলিম হিসেবে থাকার পর কোনো কারণে আবার নিজের স্ত্রীর কাছে ফিরে আসে, বর্তমানে সে হিন্দু হিসেবেই বাস করছে।

যা হোক এই পলাতক মেয়ের বাপ, নিজের বিয়ের আগে থেকেই এক মুসলিম মেয়ের সাথে প্রেম করতো, সেটা টের পেয়ে বাড়ির লোকজন তাকে অন্য এক হিন্দু মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে হিন্দু সমাজে ধরে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু এই হারামজাদা, যার বর্তমানে ষোল বছর বয়স্কা একটি মেয়ে আছে এবং ২২/২৩ বছর বয়স্কা একটি ছেলে আছে অর্থাৎ যার নিজের বিয়ের বয়স প্রায় ২৫ বছর, তারপরও সেই মুসলিম মেয়ের সাথে সম্পর্ক রেখে চলেছে এবং এই বিষয়টি এখনও তার স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে এমনকি পাড়ার লোকজনও জানে এবং তা অনেকটাই প্রকাশ্য। এই লম্পটের চিন্তাভাবনাও মুসলমানদের মতো, এই যুগেও তার চার চারটি ছেলে মেয়ে, অথচ তার পরিবার দারিদ্রে জর্জরিত, গ্রামের যেখানে প্রায় সবারই ইটের বাড়ি, সেখানে তার বাড়ি জরাজীর্ণ, ঝড় বৃষ্টি শুরু হলেই তার স্ত্রী ছেলে মেয়েদের নিয়ে পাশের বাড়িতে গিয়ে বসে থাকে, যদি ঝড়ে বাড়ি উড়ে যায়, সেই ভয়ে এবং বর্তমানে যেখানে প্রায় শতভাগ বাড়িতে বিদ্যুত সুবিধা আছে, সেখানে তার বাড়িতে কোনো বিদ্যুত সংযোগ নেই, এছাড়াও মন মানসিকতায় সে সম্পূর্ণ চিটার, তার কোনো কথাকে বিশ্বাস করা অসম্ভব ব্যাপার, যে তার কথাকে বিশ্বাস করেছে, সেই মরেছে। এই রকম পরিবারের মেয়ে মুসলমানের সাথে পালাবে না তো কে পালাবে ? সে নিজে যেমন দরিদ্র পরিবারের সন্তান, তেমনি সে এমন একটি ছেলের সাথে পালিয়েছিলো যার পিতাও একজন দিনমজুর, মানে যেমন চিন্তা, তেমনই পছন্দ।

এই কাহিনীটা আপনাদেরকে এজন্য বললাম যে- কোনো বাড়িতে যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, সেই দুর্ঘটনা ঘটার পেছনে বহু যৌক্তিক কারণ থাকে, এমনি এমনি হুট করে কিছু ঘটে না, সেটা ঘটার জন্য বহু বছর থেকে তার পরিবেশ তৈরি হয়। এই মেয়ের দাদুর লাম্পট্য তার ছেলেদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে এবং ছেলেরা সেই লাম্পট্য উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েছে, আর সমস্ত ঘটনার ফল স্বরূপ সেই বংশের এই মেয়ে এক মুসলমানের সাথে পালানোর মন মানসিকতা অর্জন করেছে। তাই কেউ যখন কোনো বিষয়ে দুঃখ কষ্ট পায়, হয় সেটা তার পূর্ব পুরুষদের কর্মের ফল অথবা তার নিজেরই কর্মফল। এজন্য কোনো বিষয়ে দুঃখ কষ্ট পেতে না চাইলে এবং ভবিষ্যতে নিজের বংশে কলঙ্কজনক কোনো ঘটনা না ঘটুক, এটা চাইলে নিজেকে ভালো হতে হবে, সততার সাথে জীবন কাটাতে হবে, আপনার আদর্শ দেখেই আপনার ছেলে মেয়েরা খারাপ কিছু করতে পারবে না বা করার সাহস পাবে না, পরিবার-বংশ-সমাজের ক্ষতি হতে পারে এমন কোনো বিষয় ঘটানোর আগে সে ১০ বার চিন্তা করবে, আর যে, কোনো বিষয়ে ১০ বার চিন্তা করে, সে খারাপ কিছু ঘটাতে পারে না, সে সঠিক সিদ্ধান্তই নেয়।

তাই যদি দেখেন যে কোনো পরিবারের মেয়ে মুসলমানের সাথে পালিয়ে গেছে বা কোনো পরিবারের ছেলে মুসলিম হয়ে গেছে, তাহলে ভাববেন, এটা ঐ পরিবারের বহু পাপের ফল, যে ফলে বর্তমানে তারা জর্জরিত।

ফিরে আসি প্রতিবেশীর দেশত্যাগের প্রসঙ্গে-

প্রতিবেশী যদি দেশত্যাগ করে, তাহলে, উপরে বলা গল্পের মতো যে শুধু আপনার মেয়েকেই হারাতে পারেন, এমন নয়; আপনার ছেলেকেও হারাতে পারেন প্রতিবেশী মুসলমানের মেয়ের প্রেমের ফাঁদ দ্বারা। এই ছেলে মেয়ে হারানো হলো চুড়ান্ত ক্ষতি। এটা ছাড়াও, আপনার প্রতিবেশী যদি মুসলমান হয়, তাহলে আপনি নানা ধরণের যন্ত্রণার শিকার হবেন, যেমন- সে তার বাড়িতে গরুর মাংস রান্না করবে, তার ঘ্রাণ আপনার নাকে এসে লেগে আপনার বমির উদ্রেক হবে। কুরবানী এলে আপনার বাড়ির পাশে আপনার বাড়ির খলায় গরু ছাগল জবাই করবে, আপনি কিছু বলতে পারবেন না। সন্ধ্যায় আপনার বাড়িতে শঙ্খ বাজালে, তাদের নামাযের ক্ষতি হচ্ছে বলে তারা বিরক্ত প্রকাশ করবে বা অভিযোগ জানাবে। মুসলমানদের তো নামায আর আজানের শেষ নেই, এজন্য আপনার বাড়িতে ইচ্ছে মতো গান শুনতে পারবেন না বা টিভিও দেখতে পারবেন না। আপনার বাড়ি সংলগ্ন যদি মন্দির থাকে, সেখানে স্বাধীনভাবে পূজা পার্বন করতে পারবেন না।

এগুলো ছাড়াও মুসলমানদের রয়েছে চিরন্তন দখল মনোবৃত্তি, ওরা আপনার বাড়ির ভিটা একটু একটু করে দখল করবে, প্রতিবাদ জানালেই আপনার সাথে ঝগড়া করবে, মারামারি করবে, যেখানে আপনি প্রতিবারই পরাজিত হবেন; এমনই চলতে থাকবে বছরের পর বছর, শেষে বিরক্ত হয়ে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন যে, না এই জংলী জানোয়ারদের সাথে একত্রে বাস করা যাবে না, তখন আপনি নিজেই আপনার বাড়ি ঐ মুসলমান বা অন্য মুসলমানের কাছে বিক্রি করে দিয়ে দেশত্যাগ করে চলে যাবেন। কারণ, আপনার বাড়ি যেহেতু মুসলমানের বাড়ির পাশে, সেহেতু আপনার বাড়ি কোনো হিন্দু কিনবে না। মুসলমানদের সাথে বা পাশে কেউ যে শান্তিতে বাস করতে পারে না, পৃথিবী জুড়ে এর বহু উদাহরণ আছে। ইউরোপ আমেরিকার বহু জায়গা আছে, যেখানে মুসলমানরা বাস করে বলে অন্যরা স্বেচ্ছায় অন্য এলাকায় চলে গিয়েছে, যাচ্ছে। তাই মুসলমানদের সাথে বা পাশে শান্তিতে অন্য ধর্মের লোকের বাস, এককথায় অসম্ভব। এমনকি অনেক মুসলমানও, মুসলমানদের সাথে বা পাশে একত্রে শান্তিতে থাকতে পারে না, তাদের মধ্যে সমস্যা লেগেই থাকে, কিন্তু যেহেতু তারা একই ঝাড়ের বাঁশ, তাই টিকে যায়, কিন্তু হিন্দুরা তো বাঁশের মতো শক্ত নয়, তাই মুসলমানদের পাশে হিন্দুরা অসহায়।

যা হোক, মুসলমান সম্পর্কিত এই সমস্ত ঘটনা ঘটবে, যদি হিন্দু প্রতিবেশীর সাথে আপনার সম্পর্ক খারাপ হয়, প্রতিবেশী রেগে গিয়ে আপনাকে শায়েস্তা করার জন্য কোনো মুসলমানের কাছে বাড়ি বিক্রি করে চলে যায়। তাই প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক অবশ্যই ভালো রাখতে হবে, সেটা নিজের স্বার্থেই, এজন্য যদি একটু ছাড় দিতে হয়, সেটাও দিতে হবে; কারণ, আপনি জ্ঞানী, আপনি ভবিষ্যত সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা করতে পারেন, তাই ছাড় আপনাকেই দিতে হবে। যে মূর্খ, সে তো এসব বুঝবে না, তাই তার ছাড় দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই, তার মূর্খামির ফল সে অন্যভাবে পাবে, তাতে অন্তত আপনি এফেক্টেড হবেন না।

বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যাওয়ার ভূত যাদের মাথায় আছে, এবার তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা-

এখন যদি আমি বলি, এই মূহুর্তে বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা - ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দেশত্যাগ করে যেখানে আপনারা যাবেন বলে আমি মনে করি, সেই - পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে দ্বিগুন ভালো এবং অন্যান্য সব দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে বাংলাদেশ অন্তত ২০ বছর এগিয়ে, তাহলে সেটা আপনাদের বিশ্বাস নাও হতে পারে; কারণ, আপনারা বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের তুলনা করেন নি। কিন্তু এটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা, তাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, স্থায়ীভাবে পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়ার আগে, অন্তত ছয় মাস অস্থায়ীভাবে সেখানে আগে বাস করে দেখুন, সেই জায়গার আর্থ সামাজিকতার সাথে আপনি খাপ খাওয়াতে পারবেন কি না ? আর এটা আপনি তখনই বুঝতে পারবেন, যখন আপনি সেখানে থাকার উদ্দেশ্যে যাবেন। মনে রাখবেন, ঘুরতে গিয়ে প্রকৃত অবস্থা আপনি কখনোই উপলব্ধি করতে পারবেন না। আর মুসলমানদের হাতে নির্যাতনের কথা ভাবছেন ? বাংলাদেশের হিন্দুদের চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা বর্তমানে মুসলমানদের হাতে মার খাচ্ছে বেশি, যদি আপনি নেট ফেসবুকে নিয়মিত হন, তাহলে আমার কথার সত্যতার প্রমাণ পাবেন। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশ থেকে যে আর্থ সমাজিক অবস্থান নিয়ে আপনি পশ্চিমবঙ্গে যান না কেনো, সেখানে গিয়ে আপনাকে হতে হবে দিনমজুর, এইটা ভাববেন না যে আমি তো শিক্ষিত, আমার কিছু শিক্ষা দীক্ষা আছে, সুতরাং সেই হিসেবে আমি কাজ পাবো ? যে অবস্থাতেই হোক, আপনি যদি দেশত্যাগ করেন, আপনার এক পুরুষ পিছিয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে আপনার সন্তান সন্তুতি যদি স্কুল কলেজ পড়াশোনা করে, তারা সেখানে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বা সম্মানজনক জীবন পেতে পারে, যদি ভাগ্য খুব ভালো হয়, বা বিজেপির হাতে ক্ষমতা গিয়ে যদি আগামী ১৫/২০ বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্যের উন্নতি হয়, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গকে আমি মনে করে ভিখারী রাজ্য, সেখানে গিয়ে যদি আপনি ভিক্ষাও করেন, ভিক্ষাও ঠিক মতো পাবেন না। তবে এই অবস্থার উন্নতি হবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে, কিন্তু তাতে বর্তমান বাংলাদেশের মতো আর্থ সামাজিক অবস্থায় আসতে আরো ১০/১৫ বছর লাগবে, ততদিন বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে। তাই কোনো কিছুতেই বাংলাদেশ ত্যাগ করে পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে আপনি বাংলাদেশের মতো লাইফ পাবেন না, এটা গ্যারান্টি।

এই সব বিষয় মাথায় রেখে, জন্মভূমি ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়াই আমার মতে শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত। তাই প্রতিবেশীর সাথে মিলেমিশে বাস করুন, যতই মনোমালিন্য থাক বিপদে আপদে একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসুন বা যান। মনে রাখবেন, নিজের শক্তিতে কখনো কখনো আত্মরক্ষা করা যায় না, তখন সমাজের শক্তির প্রয়োজন হয়, আর এই সমাজের শক্তি তখনই আপনার পাশে দাঁড়াবে, যখন সমাজের সকলের সাথে আপনার সদ্ভাব থাকবে, আর এজন্য প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক থাকা ভীষণ জরুরী; কারণ, আপনার বিপদে আপদে প্রথম যে ব্যক্তি আপনার পাশে দাঁড়াবে সে হলো আপনার প্রতিবেশী, আবার প্রথমেই আপনাকে যে বিপদে ফেলতে পারে, সেও হলো আপনার প্রতিবেশী।

যা হোক, প্রতিবেশীর দেশত্যাগ কিভাবে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে, সেই গল্প উপরেই বলেছি- তাই ছাড় দিয়ে হলেও প্রতিবেশীর সাথে সদ্ভাব রাখুন, এতে আপনি বড় ধরণের বিপদের হাত থেকে বেঁচে যাবেন। আর কেউ যদি প্রতিবেশীকে শায়েস্তা করতে মুসলমানদের কাছে বাড়ি বিক্রি করে চলে যান, তার পরিণতি কী হতে পারে, সেই গল্পও উপরে বলেছি। একটা কথা মনে রাখবেন- মানুষের আশীর্বাদ ছাড়া ভালো থাকা যায় না, তাই কোনো কাজ করতে বাধ্য হতে হলে কাজটি এমনভাবে করুন, যাতে কেউ মনোক্ষুন্ন না হয় বা কষ্ট না পায়। কারণ, আপনার কারণে পাওয়া মানুষের কষ্ট, আপনাকে ধ্বংস করে দিতে পারে। যেসব ছেলে মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে, তারা জীবনে এই কারণেই সুখ পায় না, কারণ তাদের জীবনে পিতা মাতা বা বয়োজ্যেষ্ঠদের আশীর্বাদ থাকে না। তাই জীবনে সুখে থাকতে হলে, ভালো থাকতে হলে মানুষের আশীর্বাদ অর্জনের চেষ্টা করুন এবং এমনভাবে কাজ করুন, যাতে কারো কোনো রকম অসুবিধা না হয়। যদিও দেশত্যাগের কোনো প্রয়োজনই নেই, তথাপি যদি আপনি দেশত্যাগ করতে চান, আপনার বাড়ি কোনো হিন্দুর কাছে বেচে যাবেন, এতে যদি কিছু টাকা আপনি কম পান, তবু ভালো, কারণ, তাহলে পাড়ার হিন্দুদের অভিশাপ থেকে আপনি মুক্ত থাকবেন, যা আপনার জীবনকে সুন্দর করবে।

শেষে ঈশ্বরের আশীর্বাদে সব হিন্দু জীবন সুন্দর হোক। এই কামনায় বলছি-

জয় শ্রীকৃষ্ণ।