Showing posts with label পুস্তক পর্যালোচনা. Show all posts
Showing posts with label পুস্তক পর্যালোচনা. Show all posts

Saturday, 15 August 2020

ভারত ভাগের মূল উদ্যোক্তা গান্ধী :


ভারত ভাগের মূল উদ্যোক্তা গান্ধী :

ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত জিন্নার প্রিয় কাজ ছিলো জলের মতো মদ খাওয়া। জীবনে নামাজ-রোযা করেছেন কি না সন্দেহ। শুকরের মাংস ছিলো তার প্রিয় খাদ্য। ভারতের মুসলমানদের জিন্না যথেষ্টই ঘৃণা করতো। তবু তার জ্ঞান-বুদ্ধির কারণে, মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমি- পাকিস্তান-এর স্বপ্ন দেখা রহমত আলী, ১৯৩৩ সালে, জিন্নাকে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করার প্রস্তাব দিলে, জিন্না তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলো, "এটি একটি অসম্ভব স্বপ্ন।" কিন্তু রহমত কোরান খুলে জিন্নাহকে দেখিয়ে বলেছিলো, এ অসম্ভব নয়, সম্ভব। মুসলমানদের জাগিয়ে পাকিস্তান আদায়ের জন্য সব রকম উপাদান কোরানের মধ্যে রয়েছে।" জিন্না বিষয়টি নিয়ে ভাবতে লাগলো এবং কোরানের তত্ত্ব জিন্নাকে এমনই প্রভাবিত করলো যে, পাকিস্তানের স্বপ্নে বিভোর জিন্না কয়েক বছর পরেই বলে ফেললো, "কয়েক শতক আগে যেদিন প্রথম হিন্দুটি ইসলামে ধর্মন্তরিত হয়েছিলো, সেদিনই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে।" অর্থাৎ জিন্নার মতে পাকিস্তান রাষ্ট্র অলরেডি সৃষ্টি হয়েই আছে, এখন তা বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ, লাহোর প্রস্তাবে জিন্না বললো, "ভারতবর্ষের সমস্যা সম্প্রদায়গত নয়, বরং জাতিগত। এটা খুবই দুঃখের যে হিন্দুরা, ইসলাম ও হিন্দুত্বের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারছেন না। ইসলাম এবং হিন্দুত্ব শুধুমাত্র আলাদা ধর্ম নয়, সম্পূর্ণ বিপরীত দুই জাতিসত্ত্বা। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি পৃথক ইতিহাস থেকে প্রেরণা পায়। এদের একজনের মহাপুরুষ, অন্যজনের শত্রু। মুসলমানরা সংখ্যালঘু নয়। মুসলমান একটা আলাদা জাতি। জাতি গঠনের সমস্ত প্রয়োজনীয় উপাদান তাদের আছে। তাই তাদের অবশ্যই নিজের বাসভূমির অধিকার আছে।" (ভিপি মেনন, ট্রান্সফার অব পাওয়ার, পৃষ্ঠা-৮২) 

ঠিক এর ১০ দিন পর, ১৯৪০ সালের ৬ এপ্রিল, গান্ধী, মুসলিম লীগের দাবিকে সমর্থন করে হরিজন পত্রিকায় লিখলো, "দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতো মুসলমানদেরও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে। বর্তমানে আমরা একটা যৌথ পরিবারের মতোই বসবাস করছি। তাই এর কোনো এক শরিক ভিন্ন হতে চাইতেই পারে।" 

মূলত এই দুটি ঘটনাতে ১৯৪০ সালেই ভারত ভাগ হয়ে গিয়েছিলো; ১৯৪৭ সালে তা শুধু বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র। 

মুসলমানরা যাতে পাকিস্তানের দাবীকে ভুলে না যায়, সেজন্যই হয়তো ১৯৪২ সালের ১৮ এপ্রিল, গান্ধী, হরিজন পত্রিকায় আবার লিখলো, "যদি ভারতের বেশির ভাগ মুসলমান এই মত পোষণ করে যে, মুসলমানরা একটা আলাদা জাতি, যাদের সঙ্গে হিন্দু ও অন্যান্য গোষ্ঠীর মিল নেই, তবে পৃথিবীর এমন কোনো শক্তি নেই যে সেই চিন্তা ভাবনা থেকে তাদের বিরত করতে পারে এবং সেই ভিত্তিতে তারা যদি বেশির ভাগ চায়, তবে অবশ্যই দেশভাগ করতে হবে। তবে ইচ্ছা করলে হিন্দুরা তার বিরোধিতা করতে পারে।"

জিন্না দেখলো, তার দাবীর তেমন কোনো বিরোধিতা হিন্দুদের মধ্যে নেই, বরং হিন্দুদের প্রধান নেতা গান্ধীর, তার দাবীর ব্যাপারে যথেষ্ট অনুমোদনও রয়েছে।

এরপর ১৯৪৪ সালে জিন্নার সাথে গান্ধীর বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ হয়। গান্ধী, জিন্নাহকে বলে, "আমি আপনার বা ইসলামের শত্রু নই। আমি আপনাদের দীন সেবক মাত্র। আমাকে দয়া করে ফিরিয়ে দেবেন না।" গান্ধীর এই অসহায় আত্মসমর্পনে উৎফুল্ল জিন্না পাকিস্তান আদায়ের প্ল্যান তৈরি করে ফেলে। কারণ, জিন্না বুঝেছিলো, শুধু মুখে বলে কিছু আদায় হবে না, এর জন্য এ্যাকশনে যেতে হবে। তাই ১৯৪৬ সালের ২৮ জুলাই বোম্বেতে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের জাতীয় সভায়, ১৬ আগস্টকে জিন্না, "ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে" বা "প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস" হিসেবে ঘোষণা করে। এই সভায় জিন্না বলে, "পাকিস্তান বাদ দিয়ে অন্য কিছুর সাথেই মুসলমান জাতি কোনো প্রকার আপোষ করবে না। এখন সময় হয়েছে, সেই দাবী আদায়ে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার। আমরা আজ একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত সব সময়ই আমরা নিয়মতান্ত্রিক পথেই দাবী জানিয়ে এসেছি। কিন্তু আজ সময় এসেছে সেই নিয়মতান্ত্রিক পথকে বিদায় জানাবার।...আজ আমাদের কাছে একটি পিস্তল আছে এবং আমরা তা ব্যবহার করতে সমর্থ।" ( পীরজাদা, ফাউন্ডেশন অব পাকিস্তান, পৃষ্ঠা-৫৬০)

শুরু হলো প্রস্তুতি:

১৯৪৬ সালে সমগ্র বাংলায় মুসলমান ছিলো ৫৫%, হিন্দু ৪৫%। তাই খুব সহজে কংগ্রেসকে হারিয়ে প্রাদেশিক নির্বাচনে জিতে বাংলার ক্ষমতা দখল করে মুসলিম লীগসোহরাওয়ার্দী বা সুরাবর্দী হয় মুসলিম সরকারের মূখ্যমন্ত্রী; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ছিলো তার হাতে। জিন্নার ডাইরেক্ট এ্যকশন ডে বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় এই জল্লাদ। ২৮ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট, সময় খুব কম। তাই খুব দ্রুত পরিকল্পনামাফিক এগোতে থাকে সে। ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট, স্টেটসম্যান পত্রিকার এক নিবন্ধে সুরাবর্দী লিখে, "হিংসা এবং রক্তপাত অন্যায় নয়, যদি তা মহৎ উদ্দেশ্যে করা হয়। মুসলমানদের কাছে আজ পাকিস্তান আদায় ছাড়া অন্য কোনো প্রিয় কাজ নেই।"

এই দিনই খাজা নাজিমুদ্দিন, যে পরে পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী হয়, সে মুসলিম ইনস্টিউটে, মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের এক সমাবেশে বলে, "মুসলিম লীগের এটা পরম সৌভাগ্য যে, এই রমজান মাসেই সংগ্রাম শুরু হবে। কারণ, এই রমজান মাসেই তো জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ।"

এই ভাবে, গান্ধীর মৌনসম্মতিতে মুসলমানরা শুরু করে দেশ আদায়ের জিহাদ এবং অবশেষে ২০ লক্ষ হিন্দু ও শিখের প্রাণ এবং কমপক্ষে ১ লক্ষ হিন্দু ও শিখ নারীর সম্মানকে মুসলমানরা কেড়ে নিয়ে আদায় করে পাকিস্তান। গান্ধী নামক এই কুলাঙ্গারের যদি জন্ম না হতো বা নাথুরাম যদি একে আরো ১০ বছর আগে খুন করতে পারতো ভারত কোনো দিনই ভাগ হতো না।

জয় হিন্দ।

Thursday, 13 August 2020

"সর্বধর্মান পপরিত্যাজ্য মামেকং শরণং ব্রজ" বলতে, গীতায়- শ্রীকৃষ্ণ কী বুঝিয়েছে ?


শ্রীকৃষ্ণ গীতায় অর্জুনকে বলেছেন, 

"সর্ব ধর্ম পরিত্যাগ করে আমার শরণাগত হও (১৮/৬৬) "। মহাভারত ৫ হাজার বছর আগে হয়ে থাকলে তখন তো আর ইসলাম, বৌদ্ধ, খিষ্টান এসব ধর্ম ছিলনা। এখানে শ্রীকৃষ্ণ কোন ধর্ম ত্যগ করার কথা বলছেন ?

উপরের এই প্রশ্নটি করেছে ‘মাধোবের মোহন বাঁশি’ নামে আমার এক ফেসবুক ফ্রেন্ড। শুধু তারই নয়, এই ধরণের প্রশ্ন উঠে বা উঠতে পারে অনেকের মনেই, তাদের সবার জন্য এই পোস্টে দিলাম এই প্রশ্নের উত্তর:

ধর্ম বলতে এখানে ইসলাম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এসব ধর্মকে বোঝানো হয় নি, আর এগুলো তো কোনো ধর্মই নয়, এগুলো একেকটি ব্যক্তিগত মতবাদ। কারণ, ধর্ম কোনো ব্যক্তি সৃষ্টি করতে পারে না, ধর্ম সৃষ্টি করতে পারে প্রকৃতি বা প্রকৃতি নামের ঈশ্বর। যেমন তিনি যখন পৃথিবীতে লোহা বা জলের সৃষ্টি করেছেন, তখনই সাথে সাথে লোহা বা জলের ধর্মও সৃষ্টি করে দিয়েছেন; এইভাবে জীব বা পদার্থ পদার্থ সৃষ্টির সাথে সাথে তাদের ধর্মও তিনি সৃষ্টি করে দিয়েছেন। 

ধর্ম হলো কোনো কিছুর গুন বা বৈশিষ্ট্য, যেমন- জলের ধর্ম হলো তারল্য এবং নিচের দিকে গমন করা এবং লোহার ধর্ম হলো কাঠিন্যতা। সেই রকম, বিবর্তনের ধারায় পৃথিবীতে মানুষের উদ্ভবের হওয়ার পর এবং মানুষের জ্ঞান বুদ্ধি পরিণত হওয়ার পর, মানুষের যে ধর্ম দাঁড়ায়, সেটা হলো পরের সম্পদ এবং পরের নারীর দিকে চোখ না দেওয়া, যে কথা বলা আছে হিন্দু শাস্ত্রে, এই ভাবে-

“পরদ্রবেষ্যু লোষ্ট্রবৎ”

অর্থাৎ, পরের দ্রব্যকে মাটির ঢেলা বিবেচনা করবে। 

এবং

“মাতৃবৎ পরদারেষু, কন্যাবৎ পরকন্যাষু”

অর্থাৎ, পরের স্ত্রী কন্যাদের মায়ের মতো দেখবে।

পৃথিবীতে সকল প্রকার অপরাধের মূলে হলো এই দুই জিনিস- পরের সম্পদনারী। হিন্দু শাস্ত্রে এই দুটির দিকেই তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে, তার মানে এটা মেনে চললেই কোনো ব্যক্তিকে আর কোনো ধরণের অপরাধ করতে হবে না এবং যারা প্রকৃতপক্ষে মানুষ, তারা সব সময় এই নীতিটি মেনে চলে, তার মানে সে সনাতনী কালচার পালন করে।

এছাড়াও বেদব্যাসের মতে মানুষের ধর্ম হলো-

“পরোপকারঃ পুন্যায়, পাপায় পরপীড়নম্।”

অর্থাৎ, অন্যের উপকার করা ধর্ম, অন্যের উপকার করা অধর্ম।

এগুলোই হলো মানুষের ধর্ম। প্রতটি মানুষ সাধারণভাবে হিন্দু বা সনাতন ধর্মের এই রীতিগুলো মেনে চলে বলেই সনাতন ধর্মকে বলা হয় সনাতন মানব ধর্ম। তাই সনাতন ধর্মে বলা হয়েছে, 

“সনাতন মানবধর্মমূলং হি প্রকৃতি”

অর্থাৎ, মানুষ প্রকৃতিগতভাবে সনাতন ধর্ম নিয়েই জন্মগ্রহণ করে বা মানুষের ধর্ম হোক সনাতন।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময় যখন গীতার বাণী আসে, তখন পৃথিবীতে মানুষের ধর্ম ছিলো একটি ই, তা সনাতন এবং এখনও আছে একটি ই, তা সনাতন। ইসলাম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ বা আরও নানা জনের নামে যা চলছে, তা কোনো ধর্ম নয়, সেগুলো ব্যক্তিগত মতবাদ যা উপরে বলেছি। মানুষের ধর্ম একটি ই তা হলো মানব ধর্ম বা সনাতন মানব ধর্ম। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে গীতার মধ্যে,

“সর্বধর্মান পরিত্যাজ্য মামেকং শরণং ব্রজ” দ্বারা শ্রীকৃষ্ণ কী বললেন ?

এই বিষয়টি বুঝতে হলে, তার আগে বুঝতে হবে গীতার ১৮ অধ্যায়েরই আরও দুইটি শ্লোকের অর্থ।

গীতার ১৮/৭ এর প্রথম শ্লোকে বলা আছে, 

‘নিয়তস্য তু সন্ন্যাসঃ কর্মণো নোপপদ্যতে’

অর্থাৎ, নিত্যকর্ম বা স্বধর্ম বলে যার যে কর্ম নির্দিষ্ট আছে, তার সেই কর্ম ত্যাগ করা অনুচিৎ।

আবার, ১৮/৪৭ এর প্রথম শ্লোকে বলা আছে,

“শ্রেয়ান্ স্বধর্ম বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ”

অর্থাৎ, স্বধর্ম বা নিজের কাজ দোষ বিশিষ্ট হলেও তা উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত পরধর্ম বা অন্য জাতির কাজ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। 

এই দুই শ্লোকে নিত্যকর্ম বলতে বোঝানো হয়েছে স্বধর্মকে এবং স্বধর্ম বলতে বোঝানো হয়েছে নিজের কাজকে।

পৃথিবীতে সভ্যতার সূচনা লগ্ন হতেই চার শ্রেণির মানুষ রয়েছে, গীতার মাধ্যমে যাকে প্রকাশ করা হয়েছে- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্যশুদ্র হিসেবে। মানুষের এই বর্ণ বিভাজন সমাজের জন্য বাস্তব; কারণ, তা না হলে সমাজ চলবে না। এই সমাজে যেমন শিক্ষকরূপী ব্রাহ্মণের দরকার, তেমনি রাজনৈতিক নেতা ও তাদের অনুগত বাহিনী রূপ ক্ষত্রিয়ও দরকার, এরপর সকলের জন্য খাদ্য ও অর্থ সরবরাহের জন্য দরকার স্বাধীন পেশায় নিযুক্ত কৃষক এবং ব্যবসায়ী, যাদের বলা হয় বৈশ্য এবং উপরের তিন শ্রেণিকে সেবা প্রদানের জন্য দরকার চাকর রূপ শুদ্র।

সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকে এভাবেই সমাজ চলছে এবং শেষ পর্যন্ত এভাবেই চলবে। গীতায় জাতি বিভাজন বলতে এই চার শ্রেণিকেই বোঝানো হয়েছে এবং নিত্যকর্ম বা স্বধর্ম বলতে এদের নিজস্ব কাজকেই বোঝানো হয়েছে।

তাই গীতার ১৮/৭, এ

‘নিয়তস্য তু সন্ন্যাসঃ কর্মণো নোপপদ্যতে’ 

বলতে বোঝানো হয়েছে- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্র, যার জন্য যে কাজ নির্দিষ্ট আছে তার সেই কাজ ত্যাগ করা চলবে না, অর্থাৎ তাকে তার কাজটাই ঠিকভাবে করে যেতে হবে।

আবার ১৮/৪৭ এ,

“শ্রেয়ান্ স্বধর্ম বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ” 

বলতে বোঝানো হয়েছে, নিজের সেই কাজ দোষ বিশিষ্ট হলেও উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত পরধর্ম বা অন্য জাতির কাজ অপেক্ষা তা শ্রেষ্ঠ, সুতরাং সেই কাজ তাকে করে যেতেই হবে।

এভাবে সবসময়, যার যে কাজ, তাকে সেই কাজ করতেই গীতাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বা উৎসাহিত করা হয়েছে।

গীতার সূত্রানুযায়ী, অর্জুনের জন্ম ক্ষত্রিয় হিসেবে, তাই শ্রীকৃষ্ণ তাকে বার বার তার ক্ষত্রিয়ের ধর্মকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাকে নির্দেশ দিয়েছে যুদ্ধ করতে; কারণ, তার যুদ্ধ করার উপরই নির্ভর করছিলো অধর্মকে বিনাশ করে ধর্ম প্রতিষ্ঠার বিষয়।

এছাড়াও ধর্ম মানে হলো মত বা পথ। এজন্যই রামকৃষ্ণ দেব বলেছেন, ‘যত মত তত পথ’। তার এই বাণী অন্য কোনো ধর্ম সম্পর্কে ছিলো না, ছিলো সনাতন ধর্মেরই নানা মত পথের ব্যাপারে।

কিন্তু আমাদের সেকুলাররা তার এই বাণীর ভুল ব্যাখ্যা করে ‘যত মত তত পথ’ বলতে সনাতন ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যক্তিমতগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে বা করে এবং এসব ব’লে, সনাতন ধর্মের মতো সকল ধর্মই সমান ব’লে প্রচার করে হিন্দু ছেলে মেয়েদেরকে বিভ্রান্ত ক’রে অন্যান্য ধর্মের দিকে ঠেলে দিয়ে হিন্দু সমাজের সর্বনাশ করেছে বা করছে। কারণ, যখন আপনার ছেলে মেয়েক রামকৃষ্ণ মিশনে নিয়ে গিয়ে এটা শেখাবেন যে, সকল ধর্মই সত্য, আর এটা শিখে যখন আপনার ছেলে মেয়ে কোনো মুসলমান বা খ্রিষ্টানকে বিয়ে করে মুসলমান বা খ্রিষ্টান হয়ে যাবে, তখন তাকে কি আপনি তাকে দোষ দিতে পারবেন ? পারবেন না। সুতরাং যারা সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলে, রামকৃষ্ণ মিশনের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে শুধু সাবধান নয়, ১০০ গজ দূরে থাকুন। কারণ, এরা আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। 

যা হোক, এই ‘যত মত তত পথ’ এর উৎপত্তি, হিন্দু সমাজের বহু দেব-দেবীর কারণে। এই কারণে কেউ কালীর ভক্ত, কেউ শিবের ভক্ত, কেউ দুর্গার ভক্ত, কেউ বিষ্ণুর ভক্ত, এভাবে সবাই কোনো না কোনো কিছুর ভক্ত। কেউ আবার কালীর ভক্তের ভক্ত অর্থাৎ রামকৃষ্ণদেবের ভক্ত, আবার কেউ কৃষ্ণের ভক্তের ভক্ত অর্থাৎ চৈতন্যদেবের ভক্ত। এই সব নানা মত পথ বা নানা ধর্মকে ত্যাগ করে শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুনকে বলেছেন, তুমি শুধু আমারই আশ্রয় নাও, অন্য আর কিছুরই আর প্রয়োজন নেই। এজন্য শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুনকে তার বিশ্বরূপ প্রদর্শন করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে, সকল দেব-দেবীর আশ্রয় তার মধ্যেই এবং গীতাতেও বলেছেন, কোনো দেব-দেবী, তার ইচ্ছা ছাড়া তার ভক্তদের জন্য কিছুই করতে পারে না (৭/২১,২২)। মূলত “সর্বধর্মান পরিত্যাজ্য মামেকং শরণং ব্রজ” বলতে শ্রীকৃষ্ণ, সকল দেব-দেবীকে ছেড়ে তারই শরণ নেওয়ার কথা বলেছেন এবং স্বধর্ম বলতে চার শ্রেণির মানুষের যেই কাজ, সেই কাজকে বুঝিয়েছেন।

জয় হিন্দ।

জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ

--------------------------------------

পরিশিষ্ট : 

এ প্রসঙ্গে আর একটা কথা পরিষ্কারভাবে মনে রাখা দরকার যে, জন্মসূত্রে কেউ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য বা শূদ্র নয়; জন্ম সূত্রে সবাই সনাতনী। জন্মের পর গুরুগৃহে বা আজকের স্কুল কলেজে শিক্ষালাভের পর তা্র নিজ যোগ্যতা অনুসারে, সে লাভ করে তার স্ট্যাটাস অর্থাৎ সে হয়ে উঠে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য বা শুদ্র এবং এই স্ট্যাটাস লাভের পর নির্ণীত হয় তার কর্ম এবং সেই কর্মই তার জন্য নিত্যকর্ম বা স্বধর্ম। সকল পরিস্থিতিতেই প্রত্যেক্যের স্বধর্ম ঠিকঠাকভাবে পালনের জন্য শ্রীকৃষ্ণ গীতাতে খুব জোরালোভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।

সেই সাথে এটাও আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, পৃথিবীতে ধর্ম একটাই, আর সেটা হলো সনাতন ধর্ম বা সনাতন মানব ধর্ম, যার বর্তমান নাম হিন্দু ধর্ম। পৃথিবীতে কোনো কালে আর কোনো ধর্ম ছিলো না বা ভবিষ্যতে থাকবেও না; আছে বা থাকবে হয়তো কিছু ব্যক্তিগত মতবাদ, যাকে ধর্ম বলে কিছু লোক চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হয়তো চালাবে; এই ব্যক্তিমতগুলো কখনোই ধর্ম নয়, তাই গীতায় শ্রীকৃষ্ণ যে বলেছেন, “সর্বধর্মান পরিত্যাজ্য মামেকং শরণং ব্রজ” এখানে ইসলাম, খ্রিষ্টান বৌদ্ধধর্মের মতো ব্যক্তিমতের ধর্মের কথা যে বলা হয় নি, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ মনে রাখার দরকার নাই।

আবারও

জয় হিন্দ।

Tuesday, 11 August 2020

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য- কৃষ্ণচরিত্রকে ধ্বংস করার একটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র:


শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য- কৃষ্ণচরিত্রকে ধ্বংস করার একটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র:

হিন্দুদেরকে হেয় করতে মুসলমানদের একটি বড় চুলকানির বিষয় হলো কৃষ্ণ। তারা কৃষ্ণের চরিত্রকে বোঝাতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের থেকে বেশ কিছু শ্লোক উল্লেখ করে এবং সেটাকেই সত্য বলে ধরে নিয়ে আবোল তাবোল বলে, এই প্রসঙ্গে বলছি, এখন বা একশ বছর আগে মুহম্মদের নামকে অবলম্বন করে কিছু লিখলেই সেটা যেমন ইসলামের প্রবর্তক মুহম্মদের জীবনী হয়ে যাবে না, তেমনি খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকে লিখা শ্রীকৃ্ষ্ণকীর্তন কাব্যও হিন্দুদের আরাধ্য দেবতা শ্রীকৃষ্ণের জীবনী নয়। শ্রীকৃষ্ণের সম্পূ্র্ণ জীবনী আছে সংস্কৃতে লিখা শ্রীমদ্ভাগবত, হরিবংশ এবং আংশিক মহাভারতে। মুসলমানদেরকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, যদি ক্ষমতা থাকে সেগুলো থেকে কোনো রেফারেন্স দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের চরিত্রকে কলুষিত করে দেখা। 

এই প্রসঙ্গে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে রাখা ভালো, তাহলে আত্মবিশ্বাস আরো দৃঢ় হবে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য লিখেছে বড়ু চণ্ডীদাস নামে এক কবি, ১৩৫০ থেকে ১৪০০ সালের মধ্যে; এই বড়ু চণ্ডীদাস হিন্দুদের কোনো প্রসিদ্ধ বা স্বীকৃত ধর্মগুরু ছিলো না, ছিলো এজন সস্তা কবি, যার উদ্দেশ্য ছিলো কৃষ্ণকে নিয়ে একটি মনগড়া সস্তা যাত্রাপালা লিখা এবং যার এই হীন কাজের পৃষ্ঠোপোষক ছিলো তৎকালীন মুসলিম শাসক। সুতরাং সেই সস্তা যাত্রাপালায় কৃষ্ণের নামকে অবলম্বন করে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কাহিনী যে সম্পূর্ণ কাল্পনিক, এবার তার কিছু প্রমান দিই- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের নায়িকা রাধা, কিন্তু এই রাধার কোনো অস্তিত্ব নাই মহাভারত এবং শ্রীকৃষ্ণের প্রামান্য জীবনী ভাগবতে; শুধু তাই নয়, হিন্দু ধর্মের প্রাচীন কোনো গ্রন্থে রাধার কোনো উল্লেখ নেই। হিন্দুসমাজে রাধার আবিষ্কার ভারতে মুসলিম শাসন শুরু হওয়ার পরে লিখা ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে, যার কাহিনীকে বেজ করে লিখা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য, যে কথা একটু আগেই বলেছি।

ভাগবত অনুসারে, শ্রীকৃষ্ণ ১০ বছর ২ মাস বয়সে বৃন্দাবন ছেড়ে মথুরায় চলে যায় এবং তারপর সে কোনোদিন আর বৃন্দাবনে ফিরে যায় নি। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে- কৃষ্ণ, যুবক বয়সেও বৃন্দাবনে থেকে যায় এবং রাধার সাথে প্রেম চালিয়ে যায়, তাহলে এই কাহিনী মনগড়া নয় তো কী ?

রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কাহিনীর মাধ্যমে হিন্দুদেরকে ধোকা দেওয়ার জন্য, যে পুরাণ থেকে এই রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার উৎপত্তি, সেই ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের পৃষ্ঠপোষকদের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও মারাত্মক ষড়যন্ত্র হলো, এটার রচয়িতা হিসেবে মহর্ষি বেদব্যাসের নামের ব্যবহার। অথচ একটু ভাবলেই এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে- যে বেদব্যাস, ভাগবত ও মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর হিসেবে তুলে ধরেছে, যার চরিত্রে কোথাও এতটুকু কালি লাগতে দেয় নি, সেই বেদব্যাস কিছুতেই ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের মতো একটি সস্তা যৌনকাব্য লিখতে পারে না।

সবচেয়ে বড় কথা, কৃষ্ণের যৌবনকালে কৃষ্ণ ছিলো দ্বারকার প্রধান ব্যক্তি, এককথায় রাজার মতো এবং তখন সে রীতিমতো রুক্মিনীর সাথে প্রেম করছিলো এবং যাকে সে বিবাহ করে, তাহলে সেই কৃষ্ণ কখন রাধার সাথে প্রেম করলো বা প্রেম করার জন্য বৃন্দাবন গেলো ? আর রাধার সাথে কৃষ্ণের যদি এতই প্রেম থাকে তাহলে কৃষ্ণ, রাধাকে বিয়ে করলো না কেনো ? 

হিন্দু ধর্মের প্রাচীন কোনো গ্রন্থে রাধার কোনো উল্লেখ নেই, এই কথা সর্বপ্রথম বলেন বঙ্কিমচন্দ্র, তার ‘কৃষ্ণ চরিত্র’ গ্রন্থে ১৮৬০/৭০ সালের দিকে। একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, আমি আপনি হয়তো ভালো করে সংস্কৃত পড়তে জানি না বা পারি না, বঙ্কিমচন্দ্র কিন্তু সংস্কৃত পড়তে ঠিকই জানতেন। 

চৈতন্যদেবের সময় থেকে শুরু হয় রাধার ঝড়, সেই ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে বঙ্কিমচন্দ্র যখন এই মত ব্যক্ত ক'রে এই ভাবে রাধাকে অস্বীকার করেছেন, তখন তিনি যে আন্দাজে কোনো কথা বলেন নি, এটা কিন্তু খুব সহজেই ধরে নেওয়া যায়। শুধু তাই নয়, বঙ্কিমের আগে "উইলসন" নামের ইংরেজ ভদ্রলোক রাধার উপর গবেষণা করেছিলেন, বঙ্কিম তারও রেফারেন্স দিয়ে বলেছেন যে, 

“রাধাকে প্রথমে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে দেখিতে পাই। উইলসন সাহেব বলেন যে, ইহা পুরাণগণের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ বলিয়াই বোধ হয়। ইহার রচনাপ্রণালী আজিকালিকার ভট্টাচার্যদিগের রচনার মত। ” 

অবস্থাটা বোঝেন আজিকালিকার ভট্টাচার্যদিগের মতো। এই ভট্টাচার্যরা যে জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলো তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু এরা কর্মসূত্রে ছিলো মুসলমান; তাই মুসলমানদের ফরমায়েশ খেটে হিন্দু ধর্মের প্রধান পুরুষ শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে এরকম একটি কুরুচিকর যৌনকাব্য লিখতে তাদের বিবেকে বাধে নি। আর সেই মিথ্যাগুলো এখন প্রচার করতেও মুসলমানদের বিবেকে বাধছে না; আর বাধবে কিভাবে, বিবেক থাকে তো মানুষের, মুসলমানরা- কোথায়, কবে, কখন মানুষ ?

জয় হিন্দ।

জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।

Sunday, 31 May 2020

নেহেরু পদবীর উৎপত্তি এবং বিলুপ্তির ইতিহাস


নেহেরু পদবীর উৎপত্তি এবং বিলুপ্তির ইতিহাস :

(আপনি হিন্দু হলে এই প্রবন্ধ পড়ুন এবং ভাবুন, কংগ্রেস কখনো আপনার স্বার্থ দেখবে বা রক্ষা করবে কি না ?)

জওহরলাল নেহেরুর দাদুর নাম ছিলো গিয়াসুদ্দিন গাজী। গিয়াসুদ্দিনের পূর্বপুরুষরা কত প্রজন্ম আগে মুসলমান হয়েছিলো, সেই তথ্য জানি না, তবে তারা যে মুসলমান শাসকদের সাথে মিলে পাইকারীভাবে হিন্দু হত্যা করেছিলো, সেই প্রমান তার নামের সাথে যুক্ত 'গাজী' শব্দের মধ্যেই আছে।

বিষয়টির একটু ব্যাখ্যা দিই। ইসলামে, "মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজী” ব’লে একটা ব্যাপার আছে। এর মানে হলো, অমুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে কোনো মুসলমান মারা গেলে সে শহীদ হিসেবে গন্য হবে এবং পরকালে সে বিনা বিচারে সর্বশ্রেষ্ঠ বেহেশতে প্রবেশ করে ভোগ করবে অঢেল সুখ ও কমপক্ষে ৭২ জন হুরের সাথে পাবে আনলিমিটেড সেক্স করার সুযোগ। অন্য দিকে যারা যুদ্ধে বেঁচে থাকবে, তারা গাজী উপাধিতে ভূষিত হবে এবং পৃথিবীতেই পাবে পরাজিত অমুসলিমদের ধন-সম্পদ-নারী, যা গনিমতে মাল হিসেবে পরিচিত। তো গিয়াসুদ্দিনের সাথে যেহেতু গাজী উপাধি লাগানো আছে, সেহেতু এটা নিশ্চিত যে, সে অথবা তার বাপ দাদাদের মধ্যে কেউ হিন্দু হত্যা করে এবং তাদের ধন-সম্পদ-নারী লুঠ করে এই উপাধি পেয়েছিলো। শুধু এই নেহেরুর দাদুর বেলাতেই নয়, যাদের নামের সাথে গাজী উপাধি যুক্ত আছে, তাদেরও পূর্বপুরুষ সরাসরি হিন্দু হত্যা এবং তাদের ধন-সম্পত্তি লুঠপাটের সাথে জড়িত ছিলো। বর্তমানে বাংলাদেশের গাজী ট্যাংক এবং গাজী টিভির মালিকের পূর্বপুরুষরাও কোনো এক সময়, অতীতে হিন্দু হত্যা করেই এই গাজী উপাধি পেয়েছিলো।

যা হোক, ইংরেজরা ভারতের ক্ষমতা দখল করার পর। ভারতে মুসলিম শাসনকে খতম করার জন্য, মুসলিম শাসকদের পৃষ্ঠপোষক এবং উত্তরাধিকারী অনেককে হত্যা করে, সেই সময় ইংরেজরা ব্যাপকভাবে হত্যা করতে থাকে প্রভাবশালী অনেক মুসলমানকেও। ইংরেজদের এই হত্যাকাণ্ডের কবল থেকে বাঁচার জন্য অনেক মুসলমান তখন দাড়ি কামিয়ে, টুপি ফেলে দিয়ে, মুসলমান নাম বাদ দিয়ে, হিন্দু নাম নিয়ে হিন্দু সেজে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়। এই সময়, এভাবেই, জীবন বাঁচাতে গিয়ে গিয়াসুদ্দিন হয় গঙ্গাধর, কিন্তু তার নামের সাথে "নেহেরু” পদবী এলো কোথা থেকে ?

আপনারা অনেকেই, ভারতীয় হিন্দুদের নামের সাথে, পদবী হিসেবে- প্যাটেল, শেঠ, দেওল ইত্যাদি অনেক শব্দ শুনে থাকবেন; কিন্তু নেহেরু পরিবারের চার প্রজন্মের নাম ছাড়া, কখনো কি কোনো জাতি গোষ্ঠীর নামের সাথে "নেহেরু" পদবী দেখেছেন বা শুনেছেন ? উত্তর একটাই, আর তা হলো 'না' । তাহলে নেহেরু শব্দের বা পদবীর উৎপত্তি হলো কিভাবে ?

হিন্দি 'নহর’ শব্দের অর্থ হলো খাল বা নালা, যে নালা খাল দিয়ে কম-বেশি নোংরা জল শহর থেকে বেরিয়ে নদী বা কোনো বড় জলাশয়ে গিয়ে পড়ে। ইংরেজরা যখন মুসলমানদের মারছিলো, তখন গিয়াসুদ্দিন প্রাণ বাঁচাতে, এরকম এক ছোট খাল বা নালার ভেতর গিয়ে লুকিয়েছিলো। ইংরেজরা তাকে দেখতে পেয়ে সেখান থেকেই তাকে টেনে বের করে এবং সে হিন্দু না মুসলমান, এটা বোঝার জন্য, তার নাম জিজ্ঞেস করে। তখন প্রাণ বাঁচাতে গিয়াসুদ্দিন বলে, "আমার নাম গঙ্গাধর"। ইংরেজরা জিজ্ঞেস করে, গঙ্গাধর কী ? তখন গিয়াসুদ্দিন, যেহেতু খাল বা নহর এর মধ্যে লুকিয়েছিলো এবং নহর এর ভেতরে বা তার পাশে দাঁড়িয়েই ইংরেজদের সাথে কথাবার্তা বলছিলো, তখন সে হঠাৎ বলে ফেলে, "নহর, গঙ্গাধর নহর"। ইংরেজরা তো আর 'নহর' এর মানে বুঝে না। তাই সেই যাত্রায় গিয়াসুদ্দিন রক্ষা পায়। কিন্তু ভারতীয়রা তো 'নহর' এর মানে বোঝে, তাই যখন কাগজপত্রে ঐ নাম লিখতে গেলো, তখন গিয়াসুদ্দিন গাজী, নিজের নাম পাল্টে লিখলো, "গঙ্গাধর নেহেরু"; আর তখন থেকেই সে এবং তার পরিবার নেহেরু পরিবার নামেই পরিচিত ও পরে বিখ্যাত হলো। এই গঙ্গাধর নেহেরুর ছেলে মতিলাল নেহেরু এবং তার ছেলে জওহর লাল নেহেরু, আর জওহর লালের মেয়ে ইন্দিরা নেহেরু। নেহেরু পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম, ইন্দিরার মাধ্যমেই আবার নেহেরু পদবীর বিলুপ্তি ঘটে।

জওহরলালের কোনো পুত্র ছিলো না, ইন্দিরা ই তার একমাত্র মেয়ে। ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত জওহরলালের পরিবার ছিলো অত্যন্ত আধুনিক, আর আধুনিক পরিবারে সবাই একত্রে বসে মদ না খেলে প্রেস্টিজ থাকে না। নেহেরু পরিবারে এই মদের সাপ্লাই দিতো, ইউনুস খান নামের এক মুসলমান। ইউনুস খান, মদ নিয়ে আসতে না পারলে, মাঝে মাঝে আসতো তার ছেলে ফিরোজ খান। আস্তে আস্তে এই ফিরোজে খানের প্রেমে পড়ে যায় জওহরলালের মেয়ে ইন্দিরা নেহেরু এবং একসময় ইন্দিরা পাকা সিদ্ধান্ত নেয় ফিরোজ খানকে বিয়ে করার। কিন্তু মুসলমান ছেলের সাথে ইন্দিরার বিয়ে দিলে, ভারতে একটা প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হতে পারে, এমনকি নেহেরুর রাজনৈতিক ভিত্তি ধ্বংস না হলেও ধ্বসে পড়তে পারে, এই ভয়ে নেহেরু ছিলো দ্বিধান্বিত| কিন্তু এই সমস্যা সমাধানেও এগিয়ে আসে গান্ধী। গান্ধীর বুদ্ধিমতো, ইন্দিরাকে পড়াশোনার নাম করে লণ্ডন নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানের এক মসজিদে ইন্দিরাকে গোপনে মুসলমান বানিয়ে ফিরোজের সাথে বিয়ে দিয়ে তাদেরকে লণ্ডনে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এদিকে ভারতে ইন্দিরার বিয়ে কথা তো আর চাপা থাকবে না। কিন্তু মুসলমান ছেলের সাথে ইন্দিরা বিয়ের কথা ফাঁস হলেও ভারতে শুরু হতে পারে কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রব্লেম। এই সমস্যার সমাধানের কৌশলও বের করে গান্ধী। কংগ্রেস নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া ভারতে প্রচার করে, ফিরোজ নামের এক পার্সি যুবককে, গান্ধী, দত্তকপুত্র হিসেবে নিয়েছেন এবং তার সাথে ইন্দিরার বিয়ে দিয়ে নেহেরু ও গান্ধী পরিবারের সম্পর্কে আরো মজবুত করেছেন।

মিডিয়ার এই প্রচারণা এতই শক্তিশালী ছিলো যে, ফিরোজ যে আসলে মুসলমান না পার্সি, সেটা ইন্দিরার বিয়ের ৫০ বছর পরও লোকজন ঠিক মতো বুঝতে পারে নি, লোকজন এটাও ঠিক মতো বুঝতে পারে নি যে, "ইন্দিরা নেহেরু" আসলে কিভাবে "ইন্দিরা গান্ধী" হলো ? আর নেহেরু ও গান্ধী পরিবারের মধ্যে আসলে সম্পর্কটা ই বা কী ?

যা হোক, লন্ডনেই ইন্দিরা গর্ভে জন্ম হয় ফিরোজের দুই পুত্র সঞ্জয় আর রাজীবের। গান্ধীর দেওয়া সূত্রানুসারে তারাও ভারত এবং লন্ডনে পরিচিত হয় "রাজীব গান্ধী" আর "সঞ্জয় গান্ধী" নামে। এভাবে গিয়াসুদ্দিনের বানানো "নেহেরু" পদবীর বিলুপ্তি ঘটে ইন্দিরার মাধ্যমে। এই দুই পুত্রের জন্মের কয়েকবছর পরেই মুসলমানদের চরিত্রানুসারে ফিরোজ আর একটা মেয়ের সাথে প্রেম করে তাকে বিয়ে করে আনে। সতীনের সংসারে ইন্দিরা নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে দুই ছেলেকে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ভারতে বাপের কাছে চলে আসে। এরপর ইন্দিরা, ফিরোজের প্রেমের কথা ভুলে রাজনীতিতে যোগ দেয় বা মনোযোগ দেয়। এই হলো, গিয়াসুদ্দিন গাজীর, গঙ্গাধর নেহেরু এবং ফিরোজ খান ও ইন্দিরা নেহেরুর ছেলেদের গান্ধী হওয়ার কাহিনী।
উপরের এইস সব কারণের জন্যই দেখবেন, ভারতের রাজনীতি এবং ইতিহাসে ইন্দিরা এবং তার দুই ছেলে, সঞ্জয় এবং রাজীবের যে প্রভাব প্রতিপত্তি, তার বিন্দু মাত্র নেই, দুই রাজপুত্রের জন্মদাতা ফিরোজ গান্ধীর। অনেকে শুধু ফিরোজ গান্ধীর নামই শুনেছে, কিন্তু তার ছবিটি পর্যন্ত তারা কেউ কোনোদিন দেখে নি। ভারতের দুই দুইজন প্রধান মন্ত্রী, ইন্দিরার স্বামী এবং রাজীবের বাবা ফিরোজ গান্ধী খানকে মিডিয়ায় ফোকাস না করার প্রধান কারণ হলো এটাই। কেননা, তাহলে থলের বিড়াল বেরিয়ে গিয়ে, কংগ্রেস এতো দিন ভারতের হিন্দুদের যে ধোকা দিয়েছে তার পর্দা ফাঁস হয়ে যেতে পারে। ফিরোজ খান বেঁচে আছে না মরে গেছে, আর কবে মরলো, সেই ইতিহাসটা পর্যন্ত কংগ্রেস চাপা দিয়ে রেখেছে।

কিন্তু সত্যমেব জয়তে, অর্থাৎ সত্যের জয় একদিন হবেই এবং তা একদিন প্রকাশ পাবেই, এভাবেই বেরিয়ে আসছে কংগ্রেসের নোংরামি আর ভারতের হিন্দুদের প্রতি তাদের ধোকা দেওয়ার ইতিহাস।

জয় হিন্দ।

নাথুরাম গডসে যেসব কারণে গান্ধীকে হত্যা করেছিলো


30 জানুয়ারি গান্ধী বধ দিবস, এ উপলক্ষ্যে দেখে নিন-

নাথুরাম গডসে যেসব কারণে গান্ধীকে হত্যা করেছিলো :

অব্যাহত মুসলিম তোষণ; এর ফলে ভারত মাতার দ্বিখণ্ডন এবং এর ফলে মুসলমানদের দ্বারা প্রায় ২০ লক্ষ হিন্দু ও শিখের মৃত্যু এবং কয়েক লক্ষ হিন্দু ও শিখ মেয়ের মুসলমান কর্তৃক ধর্ষিতা হওয়ার ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে, নাথুরাম গডসে, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি, বিকেল ৫ টায় দিল্লির বিড়লা ভবনের সামনে গুলি করে হত্যা করে। সেই সময় গান্ধী তার দুই নগ্ন শয্যাসঙ্গিনী মানু ও কানু গান্ধীর কাঁধে ভর করে, ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক হানাহানি বন্ধে বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে গান্ধীর আয়োজনে যে প্রার্থনা সভা চলছিলো, তাতে যোগ দেওয়ার জন্য বিড়লা ভবন থেকে বের হচ্ছিলো। খেয়াল করুন, মুসলমানরা যখন পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে, তরোয়াল দিয়ে হিন্দু ও শিখদের হত্যা করছিলো, মেয়েদের ধর্ষণ করছিলো, হিন্দু ও শিখদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে দেশ থেকে তাড়াচ্ছিলো, সেই সময় গান্ধী মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে এই হানাহানি বন্ধে প্রার্থনা সভার আয়োজন করে যাচ্ছিলো আর সেই প্রার্থনা সভায় কোরানের আয়াত পাঠ করে শোনাচ্ছিলো, যার শ্রোতা একমাত্র হিন্দুরা। মুসলমানরা হিন্দুদের হত্যা করছে, আর গান্ধী কোরানের আয়াত শোনাচ্ছে সেই সব হিন্দুদের, যে হিন্দুরা নিজেরাই কিনা কোরানের আয়াত অনুসারে মুসলমানদের দ্বারা আক্রান্ত। এই অপদার্থ, মুসলিমতোষক ও নপুসংক গান্ধীর হাত থেকে হিন্দুজাতি তথা ভারতকে বাঁচানোর জন্য, গডসে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে পর পর তিনটি গুলি করে। সাথে সাথে গান্ধী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পিস্তলের গুলিতে যাতে অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য গডসে হাত উঁচু করে, এক পাও না নড়ে, ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। প্রকৃত বীর কাকে বলে, সেটা একবার চিন্তা করুন। গুলি করার পর গডসে পালায় নি, পালানোর চেষ্টা করে নি এমনকি সে সেকথা ভাবেও নি। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে গডসেকে নিয়ে যায়।

পৃথিবীর ইতিহাসে সম্ভবত এই একমাত্র আসামী, যাকে খুনের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করতে পুলিশকে বিন্দু মাত্র কষ্ট স্বীকার করতে হয় নি। ৬৫৫ দিন ধরে গডসের বিচার চলে। বিচারে গডসে তার পক্ষে কোনো উকিল নিয়োগ করেন নি। আত্মপক্ষ সমর্থন করে গডসে যে বক্তব্য প্রদান করে, তা ই "নাথুরাম গডসের জবানবন্দী" নামে পরিচিত। গান্ধী খুনের ঘটনায়, নাথুরাম গডসের সাথে ষড়যন্ত্রকারী ও সহযোগী হিসেবে নাথুর ভাই গোপাল গডসে সহ আরও সাতজনকে আসামী করা হয়। কিন্তু আদালতে, গডসে, কোনোরকম সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রের কথা অস্বীকার করে এবং নিজেই গান্ধী হত্যার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নেয়, ফলে অন্যান্যরা এই মামলা থেকে মুক্তি পায়। কিন্তু আদালতে দেওয়া গডসের ভাষণ, জনসম্মুখে যাতে প্রকাশ না হয়, সেজন্য নেহেরুর কংগ্রেস সরকার তা প্রকাশ না করার বাধ্যবাধকতা করে আইন পাশ করে। ফলে দীর্ঘদিন ভারতবাসী, গান্ধী হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে, গডসে কী বলেছে, সে সম্পর্কে অন্ধকারেই থেকে যায়। কিন্তু ১৯৬৮ সালে বোম্বে হাইকোর্টে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায়, আদালত, গডসের জবানবন্দী প্রকাশের পক্ষে রায় দেয় এবং তারপরই ভারতবাসীসহ সারা পৃথিবীর জানতে পারে, গান্ধী হত্যার প্রকৃত কারণ। এরপর ১৯৭৭ সালে গান্ধী হত্যার আপিল মামলার একজন বিচারপতি, জি.ডি খোসলা, নাথুরামের জবানবন্দী এবং বিচার সম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে একটি বই লিখেন এবং তারপরে নাথুর ভাই গোপাল গডসেও, কেনো নাথুরাম, গান্ধীকে হত্যা করেছে, তার বিষদ বর্ণনা দিয়ে একটি বই প্রকাশ করে, এই দুটি বইয়ের মাধ্যমেই মূলত ভারতবাসীসহ সারা পৃথিবীর সচেতন লোকজন এখন মোটামুটি জানে যে, নাথুরাম গডসে, কেনো নিজেকে বলি দিয়ে গান্ধীকে হত্যা করেছিলো।
আদালতের বিচারপতিরা গডসেকে প্রশ্ন করেছিলো, কেনো গান্ধীকে হত্যা করলেন ? এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে গডসে যা বলেছিলো, সেটাই নাথুরাম গডেসের জবানবন্দী হিসেবে এখন পরিচিত ও বিখ্যাত। এতে গডসে, গান্ধীকে হত্যার কারণ সম্পর্কে যা বলেছিলো, তার সেই বক্তৃতার মধ্যেই গান্ধী হত্যার সকল কারণ, সংক্ষেপে মোটামুটি বর্ণনা করা আছে। সেই জবানবন্দীটি এখানে উল্লেখ করছি :

"একটি নিবেদিতপ্রাণ ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেয়ায় আমি স্বাভাবিকভাবে হিন্দু ধর্ম, হিন্দু ইতিহাস ও হিন্দু সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি; হিন্দুত্বের প্রতি আমার গভীর মমত্ববোধ জেগে উঠে।বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমার মধ্যে কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিমুক্ত স্বাধীন চিন্তার বিকাশ ঘটে।যে জন্য আমি অচ্ছুত প্রথা ও জন্মগত বর্ণভেদ উচ্ছেদে নিজেকে নিয়োজিত করি। আমি খোলাখুলি জাতপাত বিরোধী আন্দোলনে যোগদান করি এবং বিশ্বাস করতে শুরু করি,সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নে প্রতিটি হিন্দুর মর্যাদা সমান।শুধু যোগ্যতার ভিত্তিতেই উচ্চ-নিচ ভেদাভেদ হতে পারে।এ ভেদাভেদ জন্মগতভাবে কোনো বিশেষ বর্ণের বা পেশার কারণে হতে পারে না।আমি প্রকাশ্যে বর্ণবাদ বিরোধী ভোজে অংশ নেই।এসব ভোজে হাজার হাজার হিন্দু ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, কায়স্থ, বৈশ্য, চামার ও বাঙ্গি যোগ দেয়।আমরা বর্ণভেদ প্রথা ভেঙ্গে দেই এবং একে অপরের সঙ্গে খাবার খাই।

আমি প্রাচীন ও আধুনিক ভারতের ইতিহাস পাঠ করেছি।ইংল্যান্ড, আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ সম্পর্কেও পড়াশোনা করেছি।তাছাড়া দাদাভাই নওরোজি, স্বামী বিবেকানন্দ, গোখলে ও তিলকের লেখা বই-পুস্তক ও বক্তৃতাও প্রচুর পাঠ করেছি। শুধু তাই নয়, আমি সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদের মূল বিষয়বস্তুও পাঠ করেছি।তবে আমি বিশেষভাবে পাঠ করেছি বীর সাভারকার ও গান্ধীজীর লেখা বই-পুস্তক ও তাদের বক্তৃতা। আমি বিশ্বাস করি, বিগত ত্রিশ বছর যাবৎ এ দু'ব্যক্তির চিন্তা ও কার্যকলাপ ভারতীয়দের যতদূর প্রভাবিত করেছে অন্য কোনো ব্যক্তির চিন্তা ও আদর্শ ততটুকু প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়নি। এসব পড়াশোনা ও চিন্তা-ভাবনা থেকে আমি ভাবতে শুরু করি, একজন দেশপ্রেমিক ও বিশ্ব নাগরিক হিসাবে হিন্দুরাজ ও হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠা করাই আমার প্রথম কাজ।৩০ কোটি হিন্দুর (১৯৪৮ সালে) ন্যায়সঙ্গত স্বার্থরক্ষা এবং তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানবজাতির এক-পঞ্চমাংশের স্বাধীনতা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে। এ বিশ্বাস আমাকে হিন্দু সনাতনী আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি আত্মনিয়োগে অনুপ্রাণিত করে। আমি আরো বিশ্বাস করতে শুরু করি, হিন্দু সনাতনী আদর্শই কেবল আমার মাতৃভূমি হিন্দুস্তানের জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন ও সংরক্ষণ করতে পারে।

১৯২০ সালে লোকমান্য তিলকের মৃত্যুর পর থেকে প্রথমবার কংগ্রেসে গান্ধীজীর প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং পরে কংগ্রেসে তার প্রভাব নিরংকুশ হয়ে দাঁড়ায়। জনগণকে সচেতন করে তোলার জন্য গান্ধী যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা ছিল তাদের কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। গান্ধীর অহিংস ও সত্যাগ্রহ স্নোগানের ফলে জনগণের মধ্যে তার প্রভাব আরো বৃদ্ধি পায়।কোনো সচেতন ও শিক্ষিত লোক এ শ্লোগানের বিরোধিতা করেনি। এসব শ্লোগানে কোনো নতুনত্ব ছিল না। যে কোনো গণআন্দোলনেই এসব শ্লোগান দেয়া হয়। তবে কখনো কখনো দেশ আমাদেরকে অহিংসার পথ অগ্রাহ্য করতে এবং শক্তি প্রয়োগে বাধ্য করে। আমি কখনো এ কথা চিন্তা করিনি যে, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ অন্যায়। আমি আগ্রাসী শত্রুকে শক্তি প্রয়োগে পরাভূত করা এবং প্রতিরোধ করা আমার ধর্মীয় ও নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করেছি।রামায়ণের বর্ণনা অনুযায়ী রাম সীতাকে উদ্ধারে রাজা রাবনের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। মহাভারতের বর্ণনানুযায়ী কৃষ্ণ কংসের পাপাচারের অবসান ঘটাতে তাকে হত্যা করেছিলেন এবং অর্জুনকে তার আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে লড়াই করে তাদেরকে হত্যা করতে হয়েছে।শুধু তাই নয়, তাকে পরম পূজিত কর্ণের সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে।কারণ কর্ণ ছিলেন আগ্রাসীদের পক্ষে।আমার দৃঢ় বিশ্বাস, রাম, কৃষ্ণ ও অর্জুনকে সহিংসতার অবতার হিসাবে অভিযুক্ত করে মহাত্মা গান্ধী মানুষের স্বাভাবিক আচরণের প্রতি চরম অজ্ঞতা প্রদর্শন করেছেন।

নিকট অতীতে ছত্রপতি শিবাজিই প্রথম মুসলিম আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বীরোচিত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ভারতে মুসলিম উৎপীড়নের মূলোৎপাটন করেন।আগ্রাসী আফজাল খানকে হত্যা করা ছিল শিবাজির জন্য অবশ্য কর্তব্য।নয়তো তিনি নিজেই নিহত হতেন।শিবাজি, রানা প্রতাপ ও গুরু গোবিন্দের মতো ঐতিহাসিক বীর যোদ্ধাদের বিপথগামী দেশপ্রেমিক হিসাবে নিন্দা করে গান্ধীজী নিজের আত্মম্ভরিতা প্রকাশ করেছেন। গান্ধীজী অহিংস ও সত্যাগ্রহ নীতির নামে দেশে অবর্ণনীয় দুর্দশা ডেকে এনেছেন।পক্ষান্তরে, রানা প্রতাপ, শিবাজি ও গুরুগোবিন্দ তাদের জাতিকে যে মুক্তি এনে দিয়েছিলেন সেজন্য তারা জাতির হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে থাকবেন।

গান্ধীজী বিগত ৩২ বছর ধরে যে বাগাড়ম্বর করেছেন সেটা তার মুসলিমপন্থি আমরণ অনশনে পূর্ণতা লাভ করে।গান্ধীর এ অনশন আমাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে যে, দ্রুত তার অস্তিত্ব নাশ করতে হবে।তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের অধিকার ও কল্যাণে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। কিন্তু ভারতে প্রত্যাবর্তন করার পর তার মধ্যে রাজানুগত্যের একটি মনোভাব জন্ম নেয়। তিনি এমন এক পরিস্থিতিতে কাজ করতে থাকেন যেখানে তার কাজকর্মের ভালোমন্দের বিচার করতেন শুধু তিনি নিজে।দেশ যদি তার নেতৃত্ব চেয়ে থাকে তাহলে দেশকে তার অভ্রান্ততাও গ্রহণ করতে হবে।আর যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে তাকে কংগ্রেস থেকে দূরে সরে যেতে হবে এবং নিজের পথে চলতে হবে। এ অবস্থায় কোনো মাঝামাঝি পথ নেই।

হয়তো কংগ্রেসকে তার পাগলামি, খামখেয়ালি ও পুরনো ধ্যানধারণা গ্রহণ করতে হবে নয়তো কংগ্রেসকে গান্ধীকে বাদ দিয়ে চলতে হবে।অসহযোগ আন্দোলন হচ্ছে গান্ধীর মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তা। এ আন্দোলনের কৌশল কারো জানা ছিল না। কখন আন্দোলন শুরু করতে হবে এবং এ আন্দোলনে বিরতি দিতে হবে সবই ছিল গান্ধীর একক সিদ্ধান্ত। এ আন্দোলন ব্যর্থ কিংবা সফল হোক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই দাঁড়াক তাতে গান্ধীর কিছুই আসতো যেতো না। তার ইচ্ছাই ছিল চূড়ান্ত। একজন সত্যাগ্রহী কখনো ব্যর্থ হতে পারে না' এটাই ছিল তার মূলমন্ত্র। কিন্তু সত্যাগ্রহ বলতে কি বুঝায় তিনি ছাড়া তা আর কারো জানা ছিল না। এভাবে গান্ধী নিজেই নিজের কাজকর্মের বিচারক ও জুরি দু'টিই হয়ে দাঁড়ান। কঠোর কৃচ্ছতা, নিরবচ্ছিন্ন কাজ ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ চরিত্রের সঙ্গে উন্মত্ততা ও ছেলেমানুষীর সংমিশ্রণে গান্ধী এক অপ্রতিরোধ্য ও অপরিবর্তনযোগ্য নেতায় পরিণত হন। অনেকেই মনে করতেন, তার রাজনীতি ভুল। কিন্তু এদেরকে হয়তো কংগ্রেস ছাড়তে হয়েছে নয়তো তার খামখেয়ালির কাছে নিজেদের বিবেক বুদ্ধিকে জলাঞ্জলি দিতে হয়েছে।চরম দায়িত্বহীনতার একটি পর্যায়ে গান্ধী একটির পর একটি ভুল করে গেছেন।একটির পর একটি ব্যর্থতা তাকে গ্রাস করছিল। তার নেতৃত্বে উপর্যুপরি দুর্যোগ আসছিল।

গান্ধীর মুসলিমপ্রীতির পরিচয় ফুটে উঠে ভারতের জাতীয় ভাষার প্রশ্নে তার বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গিতে। এটা সর্বজনবিদিত যে, জাতীয় ভাষা হিসাবে হিন্দির দাবি ছিল সর্বাগ্রে।ভারতে তার ক্যারিয়ারের শুরুতে গান্ধী হিন্দির প্রতি অতীব গুরুত্ব দিয়েছিলেন।কিন্তু যখন তিনি দেখতে পেলেন, মুসলমানরা হিন্দি পছন্দ করে না তখন তিনি হিন্দুস্তানী ভাষা হিসাবে আখ্যায়িত অন্য একটি ভাষার প্রবক্তা সাজেন। ভারতের প্রত্যেকেই এ কথা জানে, হিন্দুস্তানী নামে কোনো ভাষা নেই। এ ভাষার কোনো ব্যাকরণ অথবা কোনো শব্দ ভাণ্ডারও নেই।হিন্দুস্তানী ভাষা হচ্ছে একটি কথ্য ভাষা।তবে লিখিত ভাষা নয়।এটা হচ্ছে হিন্দি ও উর্দুর সংমিশ্রণে একটি জারজ ভাষা। গান্ধীর প্রচারণা সত্ত্বেও এটি জনপ্রিয় হতে পারেনি। তিনি মুসলমানদের তুষ্ট করার জন্য বলেছিলেন, হিন্দুস্তানী হবে ভারতের জাতীয় ভাষা।তার অন্ধ অনুসারীরা তাকে অনুসরণ করে এবং তথাকথিত এ ভাষা ব্যবহার করতে শুরু করে। মুসলমানদের সন্তুষ্ট করার জন্য হিন্দি ভাষার সৌকর্য ও মাধুর্য বিসর্জন দেয়া হয়। গান্ধী এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন হিন্দু স্বার্থকে বলি দিয়ে।

১৯৪৬ সালের আগস্ট থেকে মুসলিম ভাড়াটিয়া বাহিনী হিন্দু নিধনে মেতে উঠে।তদানীন্তন লর্ড ওয়াভেল এসব ঘটনায় মর্মাহত হলেও তিনি ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ধর্ষণ, হত্যা ও অগ্নিকান্ড বন্ধে তার কতৃত্ব প্রয়োগ করেননি।বাংলা থেকে করাচি পর্যন্ত হিন্দুর রক্তে রঞ্জিত হয়।কোথাও কোথাও হিন্দুরা প্রতিশোধ গ্রহণে হামলা চালায়। ১৯৪৬ সালের সেপ্টেম্বরে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়।কিন্তু শুরু থেকে এ সরকারের মুসলিম সদস্যরা সরকারের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতে লিপ্ত হয়। মুসলমানরা যে সরকারের অংশ ছিল সে সরকারের বিরুদ্ধে তারা যত বেশি আনুগত্যহীন ও উদ্ধত হয়ে উঠছিল, গান্ধী তত বেশি তাদের প্রতি মোহাবিষ্ট হচ্ছিলেন।সংকট নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হয়ে লর্ড ওয়াভেল পদত্যাগ করেন এবং লর্ড মাউন্টব্যাটেন তার স্থলাভিষিক্ত হন। কংগ্রেস জাতীয়তা ও সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতো।কিন্তু তারা বেয়নেটের মুখে গোপনে পাকিস্তান দাবি মেনে নেয় এবং জিন্নাহর কাছে নির্লজ্জভাবে আত্মসর্মপণ করে।ভারত বিভক্ত হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ভারতের ভূখণ্ড আমাদের কাছে বিদেশী ভূখণ্ড হিসাবে পরিগণিত হয়। লর্ড মাউন্টব্যাটেন কংগ্রেস সার্কেলে ভারতের শ্রেষ্ঠতম ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল হিসাবে বিবেচিত হচ্ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।কিন্তু ঘোষিত সময়ের ১০ মাস আগে মাউন্টব্যাটেন আমাদেরকে একটি খণ্ডিত ভারত উপহার দেন। এটা ছিল গান্ধীর ৩০ বছরের একনায়কতান্ত্রিক নেতৃত্বের ফসল এবং কংগ্রেস এটাকে বলছে স্বাধীনতা ও ক্ষমতা হস্তান্তর।অবশেষে হিন্দু- মুসলিম ঐক্যের ফানুস এক সময় ফেটে যায় এবং নেহরু ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের সম্মতিতে ধর্মভিত্তিক একটি রাষ্ট্র কায়েম হয়। নেহরু ও তার দোসররা তাদের ত্যাগের এই ফসলকে স্বাধীনতা হিসাবে আখ্যায়িত করেন।কার ত্যাগ? গান্ধীর সম্মতিতে যখন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দেশকে বিভক্ত করে ফেলে তখন আমার মন ভয়ানক ক্রোধে ফেটে পড়তে থাকে।

দিল্লির কয়েকটি মসজিদ হিন্দুরা দখল করে নিলে গান্ধী আমরণ অনশন শুরু করেন। তিনি শর্ত দেন, এসব মসজিদ খালি করে দেয়া না হলে তিনি অনশন ভঙ্গ করবেন না।কিন্তু যখন পাকিস্তানে হিন্দুদের উপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয় সে সময় গান্ধী টু শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি এবং তিনি নিন্দাও করেননি।গান্ধী খুব ধূর্ত।তিনি পাকিস্তানি মুসলমানদের উপর কোনো শর্ত আরোপ করেননি।তিনি জানতেন, অনশন করে মরে গেলেও কোনো পাকিস্তানি মুসলমান তার জন্য দুঃখ পাবে না। এ কারণে তিনি পাকিস্তানি মুসলমানদের উপর কোনো শর্ত আরোপ করেননি। অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানতেন, জিন্নাহ তার অনশনে বিচলিত হবেন না এবং মুসলিম লিগ তার অন্তরাত্মার প্রতি খুব কমই গুরুত্ব আরোপ করে। গান্ধীকে জাতির পিতা হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।যদি তাই হয় তাহলে বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশকে ভাঙ্গার সম্মতি দিয়ে তিনি তার পিতৃসুলভ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, গান্ধী তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিজেকে পাকিস্তানের জাতির পিতা হিসাবে প্রমাণ করেছেন। জিন্নাহর বজ্র কঠিন ইচ্ছাশক্তির কাছে তার অন্তরাত্মা,আধ্যাত্মিক শক্তি ও অহিংস মতবাদ সবই পরাজিত এবং ক্ষমতাহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে আমি আপন মনে ভেবেছি এবং দেখতে পেয়েছি, আমি পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গেছি। গান্ধীকে হত্যা করলে আমি জনগণের কাছ থেকে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই আশা করতে পারি না এবং আমাকে আমার সকল সম্মান হারাতে হবে।তবে আমি একই সঙ্গে এ কথাও ভেবেছি, গান্ধীর অবর্তমানে ভারতের রাজনীতি নিঃসন্দেহে বাস্তবভিত্তিক বলে প্রমাণিত হবে, প্রতিশোধ গ্রহণের যোগ্য হবে এবং সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে শক্তিশালী হবে।কোনো সন্দেহ নেই, আমার ভবিষ্যৎ হবে পুরোপুরি ধ্বংস। তবে জাতি পাকিস্তানি আগ্রাসন থেকে নিরাপদ হবে।মানুষ আমাকে বোকা কিংবা মাথামোটা বলে উপহাস করতে পারে।তবে জাতি যুক্তির পথ খুঁজে পাবে যা একটি স্বাধীন ও বলিষ্ঠ জাতি গঠনের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করি। এসব বিষয় চিন্তা করে গান্ধীকে হত্যার জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।কিন্তু এ কথা আমি কারো কাছে প্রকাশ করিনি। আমি আমার দু'হাতে শক্তি সঞ্চয় করি এবং ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি বিড়লা হাউসে প্রার্থনা সভায় গান্ধীকে গুলি করি। আমি বলতে চাই যে, আমি এমন এক ব্যক্তির প্রতি গুলিবর্ষণ করেছি যার নীতি ও কার্যকলাপ কোটি কোটি হিন্দুর দুঃখ, দুর্দশা ও ধ্বংস ডেকে এনেছে।দেশে এমন কোনো আইন নেই যার আওতায় এমন এক অপরাধীর বিচার হতে পারে।তাই আমি তার প্রতি মৃত্যুবাণ নিক্ষেপ করেছি।'

ব্যক্তিগতভাবে কারো প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ নেই।তবে আমি বলতে চাই, এ সরকারের নীতির কারণে তাদের প্রতি আমার কোনো শ্রদ্ধা নেই।এ সরকারের নীতি হচ্ছে দৃষ্টিকটুভাবে মুসলিম ঘেঁষা।একই সঙ্গে আমি বিশ্বাস করি, সরকারের এ মুসলিম ঘেঁষা নীতির মূলে রয়েছে গান্ধীর উপস্থিতি।আমাকে দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নেহরু পুরোপুরি অনবহিত যে, তিনি প্রায়ই যখন ভারতকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে উল্লেখ করেন তখন তার কথা ও কাজের গরমিল স্পষ্ট ধরা পড়ে। এটা উল্লেখ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্র কায়েমে নেহরু নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং গান্ধীর মুসলিম তোষণ নীতির কারণে তার কাজ সহজতর হয়ে গিয়েছিল। আমি যা করেছি তার দায়-দায়িত্ব আমার।তাই আমি আমার দায়ের পরিণতি গ্রহণ করার জন্য আদালতে দাঁড়িয়েছি এবং বিচারক আমার প্রাপ্য শাস্তি আমাকে দেবেন।আমি আরো বলতে চাই, করুণার জন্য আমি প্রার্থনা করছি না।আমি এটাও চাই না কেউ আমার পক্ষ থেকে করুণা ভিক্ষা করুক।আমি যা করেছি সে জন্য সকল মহল থেকে আমাকে ভর্ৎসনা করা হচ্ছে। এতে আমার আস্থায় বিন্দুমাত্র ফাটল ধরেনি। আমার এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, সৎ ইতিহাসবিদগণ আমার কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন এবং ভবিষ্যতে একদিন প্রকৃত সত্যের মূল্য দেবেন।

যদি দেশভক্তি পাপ হয় তবে আমি পাপ করেছি, যদি প্রশংসাযোগ্য হয় তো আমি নিজেকে সেই প্রশংসার অধিকারী বলে মনে করি। আমি এও বিশ্বাস করি যে মনুষ্য দ্বারা স্থাপিত বিচারালয়ের উপর যদি কোন বিচারালয় থাকে সেখানে আমার কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবেনা। আমি দেশ আর জাতির ভালোর জন্য এই কাজ করেছি।আমি ওই ব্যক্তির উপর গুলি চালিয়েছি যার নীতির জন্য হিন্দুদের উপর ঘোর সংকট এসেছে আর হিন্দুরা নষ্ট হয়েছে।
আমার অস্থি ভষ্ম পবিত্র সিন্ধু নদে সেইদিন প্রবাহিত করো, যেদিন সিন্ধু নদ এক স্বতন্ত্র নদ রূপে ভারতীয় ধ্বজার তলা দিয়ে বয়ে যাবে; তাতে যত বছর সময় লাগে লাগুক না কেনো, যত বংশধর জন্ম নেওয়ার প্রয়োজন হোক না কেনো, কিন্তু তত দিন পর্যন্ত আমার অস্থি ভষ্ম বিসর্জন করবে না।"
গডসের শেষ ইচ্ছা অনুসারে, তার অস্থি ভষ্ম, এখনও তার পরিবারের কাছে রক্ষিত আছে। প্রতিবছর তার বলিদান দিবসে- উৎসাহী তরুন, যুবক ও প্রকৃতদেশপ্রেমিকরা সেই অস্থিভষ্ম সামনে রেখে নাথুরাম গডসেকে স্মরণ করে।
নাথুরাম যেদিন তার এই জবানবন্দী আদালতে দেয়, সেদিন আদালতের এজলাস ছিলো লোকে ভর্তি । কিন্তু এরা কেউ সাধারণ লোক ছিলেন না, সবাই ছিলেন জজ-ব্যারিষ্টার-উকিলের স্ত্রী। বিচারপতিরা দ্বিতীয় কোনো প্রশ্ন করে নি এবং কারো কোনো হস্তক্ষেপ বা কোনো রকম বিরতি ছাড়াই গডসের অনলবর্ষী বক্তৃতা আদালতে উপস্থিত সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনেছিলো। গডসে যখন বক্তৃতা শেষ করে, তখন সবাই চোখের জল মুছতেছিলো। জি.ডি খোসলা তার বইয়ে লিখেছেন, এই চোখের জল গান্ধীর জন্য নয়, গডসের জন্য। যদি উপস্থিত সবার মতের ভিত্তিতে রায় দেওয়া হতো, তাহলে নিশ্চয় গডসে সেদিন মুক্তি পেয়ে যেতো।
এরপর ১৫ নভেম্বর, ১৯৪৮; নেহেরুর সরকার, গডসের ফাঁসি কার্যকর করে। বলিদানের ঠিক আগে, গডসে, সোমনাথ মন্দিরের জন্য ১০০ রুপী দান করে যান এবং ফাঁসীর মঞ্চে চড়ার পর গডসের শেষ উক্তি ছিলো, "অখণ্ড ভারত, অমর রহে।"
অশুভ শক্তিকে বিনাশ করার জন্য ভগবান শ্রীরাম চন্দ্র, রাবনকে বিনাশ করেছিলো; হিন্দুদের মুক্তির জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলো, কংসকে হত্যা করেছিলো; তাহলে কমপক্ষে ২০ লক্ষ হিন্দু ও শিখ হত্যা এবং কয়েক লক্ষ হিন্দু ও শিখ নারীর ধর্ষিতা হওয়ার ও ভারত মাতাকে বিভক্ত করার প্রত্যক্ষ কারণ যে পাপাত্মা গান্ধী, সেই গান্ধীকে বিনাশকারী, নাথুরাম গডসেকে কেনো আপনি শ্রদ্ধা না করে ঘৃণা করবেন ? গডসে কি গান্ধী নামের এক অশুভ শক্তির হাত থেকে হিন্দুদের মুক্তি দিয়ে যায় নি ?

নিজের বিবেকের কাছে আজ এই প্রশ্নটি করুন।

জয় হিন্দ।

Wednesday, 20 May 2020

হিন্দুশাস্ত্রে বর্ণিত ৪৯ প্রকার পাপ বা বিধি-নিষেধ সম্পর্কিত আলোচনা - ( পর্ব- ১ )


হিন্দুশাস্ত্রে বর্ণিত ৪৯ প্রকার পাপ বা বিধি-নিষেধ সম্পর্কিত আলোচনা - ( পর্ব- ১ )

সভ্যতার সূচনালগ্নে, অর্থাৎ যখন মানুষ জ্ঞান বুদ্ধিতে মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, তখন পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা, সিন্ধু সভ্যতার বিকাশ এবং সেই সভ্যতার অধিবাসী, যারা আর্য নামে পরিচিত এবং যাদের বর্তমান নাম হিন্দু, তারা তাদের ধর্মগ্রন্থে মানুষের আচরণের সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, যাকে বলা যেতে পারে মানব সমাজের সংবিধান বা দলিল; সেই সংবিধান অর্থাৎ হিন্দু শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, মানুষের কী কী করণীয় আর কী কী বর্জনীয় ? যেটা আমার আজকের আলোচ্য বিষয় এবং সেই আলোচনা থেকে আপনারা জানতে পারবেন, কেনো হিন্দুরা জন্মগতভাবেই আদর্শবাদী বা আদর্শ মানুষ। এছাড়াও এই সিরিজ পোস্ট থেকে জানতে পারবেন, মুসলমানদের আরও কয়েকটি মিথ্যা দাবীর বিষয় সম্পর্কে, যেগুলো সম্পর্কে মুসলমানদের দাবী, তারাই সেগুলোই প্রবর্তক, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।

সমাজে মানুষের দ্বারা করণীয়, ভালো বা উপকারী কাজগুলোকে পূণ্য এবং খারাপ কাজগুলোকে পাপ বলে অভিহিত করা হয়। পাপ মানে হচ্ছে সীমা। তাই যে সীমা লংঘন করে তাকেই বলা হয় পাপী। হিন্দু শাস্ত্রে দুই ধরণের পাপ আছে- ১. মহাপাপ, ২. উপপাপ। যারা মহাপাপ করে, বাংলায় এদেরকে মহাপাপী বললেও সংস্কৃত ভাষায় এদেরকে বলে মহাপাতক; এই সূত্রে যারা উপপাপ করার অপরাধে অপরাধী, তাদেরকে সংস্কৃতে বলে উপপাতক

উপপাপ হোক বা মহাপাপ, সাধারণ অর্থে সবগুলোকেই বলা হয় পাপ এবং হিন্দু শাস্ত্রে উনপঞ্চাশ রকমের পাপের কথা বলে মানুষের আচরণের সীমাকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই পোস্টে আলোচনা করবো সেই বিষয়গুলো নিয়ে, যেগুলো সভ্যতার সূচনালগ্নেই, হিন্দু শাস্ত্র, মানুষের জন্য প্রবর্তন করেছিলো এবং এই আলোচনা থেকে আপনাদের কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, হিন্দু শাস্ত্র, মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধানের ব্যবস্থা সেই ৮/১০ হাজার বছর আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছে।

একটু আগেই বলেছি, হিন্দু শাস্ত্র মতে পাপ দুই প্রকার- উপপাপ ও মহাপাপ। মহাপাপ ৪ প্রকার, সেগুলোর আলোচনা পাবেন এই সিরিজের শেষ পর্বে।তার আগে ৪৫ প্রকার উপপাপগুলো সম্পর্কে আলোচনা সেরে নিই।

প্রথমেই ১ নং উপপাপে বলা হয়েছে গো-হত্যার কথা। তার মানে উপপাপগুলোর মধ্যে গো-হত্যা প্রথম। এ থেকে স্পষ্ট যে, কোনো অবস্থাতেই কোনো হিন্দুর পক্ষে গো-হত্যার কারণ হওয়া যাবে না।

যে ব্যক্তি বাজার থেকে মুরগীর মাংস কিনে, সেই ব্যক্তিই সেই মুরগী হত্যার জন্য দায়ী; বাজারে দোকান বসিয়ে যে মুরগী বিক্রি করছে, সে দায়ী নয়; কারণ, আমি মুরগীর মাংস খাবো ব’লে বাজারে গিয়েছি বলেই দোকানীকে সেই মুরগীকে হত্যা করতে হয়েছে, আমি না চাইলে সেই মুরগীকে দোকানদার হত্যা করতো না। তার মানে যে ব্যক্তি, যে পশু-পাখির মাংস খায়, সেই ব্যক্তিই সেই পশু বা সেই পাখি হত্যার কারণ। একইভাবে, যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ গরুর মাংস খায়, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণই গরু হত্যার কারণ। হিন্দুদের জন্য গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ এই কারণেই যে, তারা যেন গরু হত্যার কারণ না হয়। এই কারণে হিন্দু শাস্ত্রের পাপের তালিকায় প্রথমেই রাখা হয়েছে গো-হত্যাকে।

যে সব মুসলমান এবং “যেসব মুসলমান চাটা অতি আধুনিক হিন্দু”, যাদেরকে সানিউর রহমান, তার এক ভিডিওতে বলেছে থার্ড ক্লাস হিন্দু, সানিউরের মতে, যাদের জন্ম মুসলমানদের বীর্যে, সেই সব নামধারী হিন্দু এবং মুসলমান, যারা হিন্দুধর্মের গ্রন্থগুলোতে, গরুর মাংস খাওয়ার বিধান খুঁজে পায় এবং তা প্রচার করে হিন্দুদেরকে গরুর মাংস খেতে উৎসাহিত করে, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি- বই পুস্তকে হিন্দুদের গরুর মাংস খাওয়া সম্পর্কে কী বলা আছে, সেসব ঘাঁটতে গিয়ে এত গলদঘর্ম হওয়ার কোনো কারণ নেই, হিন্দু শাস্ত্রে উল্লিখিত ৪৯ প্রকার পাপের মধ্যে গো-হত্যা জনিত পাপকে প্রথম দিকে রাখা হয়েছে, এ থেকেই এটা স্পষ্ট যে, কোনো হিন্দুর গরুর মাংস খাওয়া চলবে না, যেহেতু গরুর মাংস খাওয়া ই হচ্ছে গো-হত্যার একমাত্র কারণ।

২ নং উপপাপের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে “অযাজ্যযাজন”, এর মানে হচ্ছে অযোগ্য অর্থাৎ পাপী ব্যক্তির হয়ে পূজা বা যজ্ঞক্রিয়া সাধন।

এটা ব্রাহ্মণ-পুরোহিতদের জন্য প্রযোজ্য। খারাপ বা পাপী ব্যক্তির জন্য পূজা বা ধর্মকার্য করাকে পুরোহিত ব্রাহ্মণদের জন্য পাপ বলা হয়েছে এই জন্য যে, তাহলে সাধারণ লোক পাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে বা খারাপ কাজ করতে ভয় পাবে। সমাজকে শুদ্ধ রাখার জন্য হিন্দু শাস্ত্র প্রণয়িতাদের যে এটা কতবড় দূরদর্শী সিদ্ধান্ত তা ভেবে আমি অবাক হয়েছি, একটু সময় নিয়ে আপনিও ভাবুন, অবাক হতে বাধ্য হবেন। ধর্মের ভয় মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়। কোনো মানুষ যখন এটা দেখবে যে, পাপকাজ করলে তার বাড়িতে পূজা যজ্ঞ করার জন্য কোনো ব্রাহ্মণ পুরোহিত আসবে না, তখন সে কি কোনো খারাপ কাজ করতে উৎসাহ পাবে ? পাবে না।

এর বিপরীতে ইসলামের বিধান হলো, যত পাপ কাজই করো না কেনো, নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বেরোলেই সব পাপ মাফ। ইসলামে এই পাপ মাফের ব্যবস্থা দিনে পাঁচবার। কেউ যদি প্রতিদিন নামায না পড়ে, তাহলে সপ্তাহে একবার, শুক্রবার, জুম্মাবার। কেউ যদি এই জুম্মাবারেও নামায না পড়ে, তার জন্য রয়েছে বছর শেষে ঈদের নামায। এছাড়াও আছে, শব ই কদরের পাপমুক্তির রাত। তাই মুসলমানদের পাপ, মাফ না হয়ে যেতে পারেই না। আর এই কারণেই প্রায় সব মুসলমান বছর জুড়ে মিথ্যা বলে, ঘুষ খায়, দুর্নীতি করে, চুরি ডাকাতি করে, খুন ধর্ষণ করে; কারণ, তারা জানে একবার নামায পড়লে তাদের সব পাপ মাফ হবেই এবং এইভাবে তারা আল্লার পতিতালয়ে বেহেশতে গিয়ে মিনিমাম ৭২ হুরকে নিয়ে শুতে পারবেই। ছোভানাল্লা।

কিন্তু হিন্দু শাস্ত্রে এই রকম পাপ মাফ পেয়ে সমাজকে কলুষিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। যদিও বলা হয়, উপবাস করলে পাপ মাফ হয় বা কৃষ্ণ নাম করলে পাপ মাফ হয়, এটা আসলে অনিচ্ছাকৃত পাপের জন্য এবং ভবিষ্যতে যাতে আর ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃত পাপ না হয়, সেসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে মনকে প্রস্তুত রাখার জন্য।

৩ নং উপপাপে বলা হয়েছে “পরস্ত্রীগমন” এর কথা।
এটা নিয়ে বেশি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দেবার প্রয়োজন আছে বলে করি না। কারণ, আমরা সবাই জানি, পরের স্ত্রীর দিকে দৃষ্টি দিলে সেই সংসার এবং নিজের সংসারের মাধ্যমে সমাজে কিছু না কিছু উপদ্রব ঘটবেই অর্থাৎ সমাজের শান্তি নষ্ট হবেই। আর যা কিছু সমাজের শান্তি নষ্ট করে তাই পাপ। এজন্যই পরস্ত্রীগমনকে পাপ বলা হয়েছে, অর্থাৎ এর মাধ্যমে ব্যভিচারকে নিষেধ করা হয়েছে। অথচ মুসলমানরা বলে, ইসলামে নাকি চৌদ্দশত বছর আগেই বলা হয়েছে,

“তোমাদের যৌনাঙ্গকে সংযত করো !

যদিও গনিমতের মালের নামে ধরে আনা অমুসলিম নারীদের বেলায় যৌনাঙ্গকে সংযত করলে মুসলমানরা কিভাবে তাদের ভোগ করবে, সে ব্যাপারে কোনো মুসলমান মুখ খুলে না এবং যে ইসলামে অমুসলিম নারীদেরকে ধর্ষণ করার কথা বলা হয়েছে, সেই ইসলামে নাকি একথা বলা আছে যে, তোমরা তোমাদের যৌনাঙ্গকে সংযত করো!যা হোক, ইসলামের কোনো ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গকে সংযত করার কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও, যেহেতু তারা জোর গলায় প্রচার করে যে, রোগ ব্যাধির কথা চিন্তা করে ইসলাম সেই চৌদ্দশত বছর আগেই বলেছে, তোমাদের যৌনাঙ্গকে সংযত করো, তাদের সেই কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলছি, তাহলে ব্যাভিচারকে পাপ বলে হিন্দু শাস্ত্রে যে ৮/১০ হাজার বছর আগেই তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেটা ইসলামের আগে বলা হয়েছে, না পরে বলা হয়েছে ? শুনে রাখ, ইসলাম যদি পুত্র হয়, হিন্দু ধর্ম হলো, সেই পুত্রের বাপ নয়, বাপের বাপের বাপের বাপের বাপ।

হিন্দু শাস্ত্রে ৪ নং উপপাপে বলা হয়েছে “আত্মবিক্রয়’ এর কথা।

এর মানে হলো কোনো কিছুর বিনিময়ে নিজের সত্ত্বাকে কারো কাছে বিক্রি করা যাবে না। কারণ, এই আত্মবিক্রয়ের ফলেই সমাজে মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং অধর্মের সূচনা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ যখন টাকা খেয়ে আদালতে গিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়, তখন নির্যাতিতরা ন্যায় বিচার পায় না, অপরাধীরা উৎসাহ পায় এবং সমাজে আরো অপরাধ ঘটে। একারণেই হিন্দু শাস্ত্রে আত্মবিক্রয়কে পাপ বলা হয়েছে। এটাকে প্রাথমিকভাবে খুব ক্ষুদ্র একটা ব্যাপার বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এর ফলাফল সমাজে সাংঘাতিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এটা বিবেচনা করেই আত্মিক্রয়কে পাপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মুসলমানদেরকে জিজ্ঞেস করছি, তথাকথিত আধুনিক ধর্ম ইসলামে কি এরকম কোনো বিধান আছে ?

৫ নং উপপাপে বলা হয়েছে “গুরুত্যাগ” বা গুরুর প্রতি যথাযথ কর্তব্য পালন না করা।

এটাকে আসলে বুঝতে হবে সৎগুরুত্যাগ হিসেবে বা তার প্রতি কর্তব্য পালনের ব্যাপার হিসেবে। কারণ, বর্তমান সমাজে বাণিজ্যিক অর্থাৎ অসৎ গুরুর অভাব নেই। এখন এই অসৎ গুরুকে আপনি যদি প্রকৃত গুরু বিবেচনা ক’রে, গুরুত্যাগ পাপ মনে ক’রে তাকে যদি ছুঁড়ে না ফেলে আঁকড়ে ধরে থাকেন, তাহলে আপনার ইষ্টের চেয়ে অনিষ্টই বেশি হবে। গুরু বা সৎগুরু তিনিই, যিনি সর্বাবস্থায় আপনার সর্বাঙ্গীন কল্যান চান। আমার লেখা ‘গুরুতত্ত্ব’ নামে একটি প্রবন্ধ আছে, সেটা যদি পড়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় এটা বুঝেছেন যে, প্রকৃত গুরু কাকে বলে, আর কোন কোন অবস্থায় গুরুকে ত্যাগ করা যাবে ? তাই এ নিয়ে এখানে বিস্তারিত বলে এই পোস্টের পরিধি আর বাড়ালাম না।

৬ ও ৭ নং উপপাপে বলা হয়েছে, মাতৃত্যাগ ও পিতৃত্যাগ অর্থাৎ মাতা-পিতার প্রতি কর্তব্য পালন না করা।

এই প্রসঙ্গে কাউকে জ্ঞান দিতে গেলে সেটা আমার নিজেরই মূর্খামি হবে, তাই এ প্রসঙ্গে আর কিছু বললাম না। শুধু ইসকন ভক্ত এবং সাধু-সন্ন্যাসী-মহারাজদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা যে সংসার ত্যাগের নামে পিতা-মাতাকে ত্যাগ করেন, এটা কি পূণ্যের কাজ, না পাপের কাজ ? অথবা অন্যভাবে প্রশ্নটা করতে পারি, আপনারা ধর্মের নামে যে সংসার ত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন, সেটা কি সঠিক, না ভুল পথ ?

তৈত্তিরীয় উপনিষদ, যা কৃষ্ণযজুর্বেদীয় শাখার অন্তর্গত, তার ১/১১/১ নং শ্লোকে বলা হয়েছে,

“আচার্য, সমাবতর্নের দিন, তার শিষ্যদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, ‘সত্য কথা বলবে, ধর্ম আচরণ করবে, বেদপাঠ হতে বিরত থাকবে না, আচার্যকে প্রিয় উপহার দেবে এবং বংশ ধারাকে অব্যাহত রাখবে।”

‘বেদ’ এ যে চারটি আশ্রমের কথা বলা হয়েছে, সেখানেও দ্বিতীয় আশ্রমের নাম গার্হস্থ্য আশ্রম, যেখানে কর্তব্য হলো সংসার ধর্ম পালন করা এবং সন্তানের জন্ম দেওয়া। আপনারা হিন্দু শাস্ত্রের কোন বিধানের বলে সংসার ত্যাগ ক’রে বিয়ে শাদী না ক’রে সাধু-সন্ন্যাসী-মহারাজ হয়েছেন ?ক্ষমতা থাকলে জবাবটা দিয়ে যাবেন, আর না পারলে নিজেরা সংসারে ফিরে এসে পিতা-মাতার প্রতি যে কর্তব্য তা পালন করবেন, বিয়ে ক’রে সন্তানের জন্ম দিয়ে স্বর্গ পাওয়ার পথ প্রশস্ত করবেন। কারণ, মহাভারতে বলা আছে, যে ব্যক্তি সন্তানের জন্ম না দিয়ে মারা যাবে, সে স্বর্গে যেতে পারবে না। সন্তানের জন্ম না দিলে আপনারা তো স্বর্গেই যেতে পারবেন না, সেক্ষেত্রে মোক্ষলাভের আশা করেন কিভাবে ? আর অবশ্যই নিজেদের ভুল পথে যেতে অন্য কাউকে তো উৎসাহিত করবেনই না, বরং নিষেধ করবেন।

৮ নং উপপাপে বলা হয়েছে, “স্বাধ্যায়ত্যাগ” অর্থাৎ বেদপাঠ পরিত্যাগ করা।

যে কাজ করি বা করতে হয়, সেটা আর না করাকে বলা হয় ত্যাগ করা। তাহলে আমরা ৯৯.৯৯% হিন্দুরা বেদ তো কোনো দিন পাঠ করিই নি, আর পাঠ করবো কিভাবে বেদ যে কেমন গ্রন্থ সেটাও তো দেখি নি, তাহলে সেটাকে ত্যাগ করবো কিভাবে ? তার মানে ‘বেদ’ এর সংস্পর্শে না এসে জন্ম থেকেই আমরা পাপ করে চলেছি। এই পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য অবশ্যই আমাদেরকে প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে একদিন বেদ পাঠ করতে হবে, তার আগে দরকার বেদ গ্রন্থকে বাড়িতে সংগ্রহ করে রাখা। যারা এখনও বেদ দেখেন নি বা যাদের বাড়িতে বেদ নেই, তারা আমার সাথে যোগাযোগ করবেন, বেদ কোথায় পাওয়া যায়, তা বলে দেবো; দাম খুব বেশি নয়, ৪ খণ্ডের এক সেট বেদ বাংলাদেশি টাকায় ৮০০ এর মতো, পশ্চিমবঙ্গেও এরকমই। তাই বাড়িতে বেদ রাখুন, আর তা পাঠ করে “স্বাধ্যায়ত্যাগ” নামক পাপ থেকে দূরে থাকুন।

৯ নং উপপাপে বলা হয়েছে, “অগ্নিত্যাগ” অর্থাত যাগযজ্ঞ না করা।

বেদের যুগে সনাতন ধর্মের একমাত্র ধর্মীয় কার্য ছিলো যজ্ঞ করা। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে সনাতন ধর্মের মধ্যে নানা রকম মূর্তি পূজা যুক্ত হয়েছে, যাবর্তমানে উৎসব ব্যতীত আর কিছুই নয়; শুধু মাত্র কৃষ্ণকে ভজনাকরলেই, যেগুলোর আর কোনো কিছু করার প্রয়োজনই নেই। কারণ, কৃষ্ণই হচ্ছে সকল দেব-দেবীর আশ্রয় বা মূল, যার প্রমান শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ প্রদর্শন। এমন কি গীতাতে এ কথাও বলা হয়েছে যে, কৃষ্ণের অনুমতি ছাড়া কোনো দেব-দেবীও কারো জন্য কিছু করতেও পারে না।

সমাজের জন্য উৎসবের প্রয়োজন, তাই বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজাকে আমরা যদি উৎসব হিসেবে দেখি বা রেখে দিই, তাতে কোনো ক্ষতি নেই; কিন্তু প্রকৃত ধর্মচর্চা করতে হলে আমাদেরকে বেদের নির্দেশ মেনে যজ্ঞই করতে হবে। আশা করছি বিষয়টি নিয়ে সকলে ভাববেন।

১০ নং উপপাপে বলা হয়েছে, “সুতত্যাগ” অর্থাৎ ছেলে মেয়ের প্রতি কর্তব্য না করা।

এই কাজটা সাধারণত কেউই করে না, সবাই চেষ্টা করে তার ছেলে মেয়েদেরকে যথাসাধ্য ভালো ক’রে মানুষ করার। তাই এই পাপটি, কোটিতে ২/১ জন ছাড়া সম্ভবত কাউকে স্পর্শ করে না, আর কোটিতে ২/১ টি ব্যতিক্রম থাকতেই পারে, তাই এ নিয়ে আর কোনো কথা বললাম না।

১১ নং উপপাপে বলা হয়েছে, “পরিবিত্তিতা”, এর মানে হলো বড় ভাই/বোনের আগে ছোট ভাই/বোনের বিয়ে দেওয়া।

এতে সমাজে বড়দের মর্যাদা নষ্ট হতে পারে, তাদের সম্পর্কে নানা রকম প্রশ্ন উঠতে পারে এবং এর ফলে সামাজিক শৃঙ্খলার ক্ষতি হতে পারে ব’লে হিন্দু শাস্ত্রে একে পাপ বলে গণ্য করা হয়েছে।

১২ নং উপপাপও এই বিয়ে সংশ্লিষ্ট, এর নাম “পরিবেদন”, এর মানে হচ্ছে বড় ভাই/বোনের আগে ছোটদের বিয়ে করে ফেলা। এক্ষেত্রেও ১১ নং পাপের মতো সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হবে। তাই শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এ্ই দুই ধরণের বিয়ের সাথে যুক্ত সকলে এই পাপের অংশীদার হবে। এমন সূক্ষ্ম সমাজ চিন্তা কি পৃথিবীর অন্য কোনো জাতির ভেতর আছে, না এমন ভাবনা কেউ ভাবতে পেরেছে ?

১৩ নং উপপাপে বলা হয়েছে, “কন্যাদূষণ” অর্থাৎ কোনো নারীকে ধর্ষণ করা।

এটা যে কত বড় পাপ, সে সম্পর্কে সবাই কম বেশি জ্ঞান রাখেন; তাই আমি আর বেশি কিছু বললামনা। শুধু এটা খেয়াল রাখবেন, এটাকে রাখা হয়েছে ১৩ নং এ, যে ১৩ সম্পর্কে প্রবাদ সৃষ্টি হয়েছে আনলাকি থার্টিন ব’লে, তার মানে অশুভ সংখ্যা ১৩। তার মানে এই কাজটি কেউ করলে বা করার চেষ্টা করলে তার জীবনে যে দুর্ভাগ্য কিভাবে নেমে আসবে, যে ব্যক্তি সেটা করবে, সে তা হাড়ে হাড়ে টের পায় বা পাবে। ধর্ষণকে আমি আনলাকি থার্টিন বললেও, আগে বলা অন্য পাপগুলোকে যে লাকি বলছি, এমন মনে করার কিন্তু কোনো কারণ নেই। কারণ, পাপ মানেই অশুভ বা খারাপ কাজ, আর খারাপ কোনো কিছু কারো জীবনে কখনো ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে না।

হিন্দু শাস্ত্রে বর্ণিত মহাপাপ এবং উপপাপের মোট সংখ্যা ৪৯টি। এই পর্বে প্রথম ১৩ টি সম্পর্কে আলোচনা করলাম, বাকিগুলো নিয়ে আলোচনা শীঘ্রই পাবেন।

মানব জীবনাচরণে এই ৪৯ প্রকার বিধিনিষেধ, সভ্যতার সূচনালগ্নেই, হিন্দু শাস্ত্র মানুষকে প্রদান ক’রে, একটি মানব শিশুকে আদর্শ মানু্ষ হিসেবে গড়ে উঠার ও নিজের জীবনকে পরিচালিত করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে; যার কারণে হিন্দুরা জন্মগতভাবেই আদর্শ মানুষ এবং যারা বিভিন্ন ব্যক্তিমতের ধর্মে বিশ্বাস করেও মানুষের মতো জীবনযাপন করে, তারাও প্রকারন্তরে হিন্দুধর্মই পালন করে এবং হিন্দুদের মতো আদর্শ মানুষ হওয়ার চেষ্টা করে।

জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।

দিব্যজ্ঞান নয়, কাণ্ডজ্ঞান চাই ( পর্ব-২)


দিব্যজ্ঞান নয়, কাণ্ডজ্ঞান চাই ( পর্ব-২)

বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের কাছে দারিদ্ররা সারা বছর উপেক্ষিত, শুধু বন্যায় -দুর্যোগে দরিদ্ররা নারায়ন হয়। ভালো কথা, কিন্তু বিবেকানন্দ যে বলে গেলেন, সমাজকে সংগঠিত করা দরকার। আগামী পঞ্চাশ বছর তোমাদের আরাধ্য দেবী হোক- ভারত জননী অর্থাৎ রাষ্ট্র সাধনা। সে কথা সযত্নে বাদ দিলাম। মূল গাছটায় জল না দিয়ে আমরা শুধু ডালপালার সেবাযত্ন করে চলেছি। ফলে গাছটা শুকিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। জাত বাঁচলে, রাষ্ট্র বাঁচলে আমরা সবাই বাঁচবো। সকল চিন্তাশীল মানুষের ভাবনাচিন্তাগুলো এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে করা দরকার।

ভারত বর্ষে তাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন - ইতিহাসসম্মত, বুদ্ধিগ্রাহ্য ও কাণ্ডজ্ঞানযুক্তভাবে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করা; অস্পৃশ্যতা, জাতিভেদ, প্রাদেশিকতা থেকে মুক্ত করে হিন্দুদেরকে একটি বিশাল শক্তিতে পরিণত করা। রাজনীতি যাদের ব্যবসা, তাদের জন্যও এটা দরকার; কেননা, হিন্দু সমাজ না থাকলে তাদের ব্যবসা অচল হয়ে যাবে।

কোনো অসাম্পদ্রায়িক দলও মুসলমান এলাকায় হিন্দু প্রার্থী দাঁড় করাতে সাহস পায় না। মুসলমানদের মধ্যে যারা দেশপ্রেমিক, উদারপন্থী আছেন, তাদের জন্যও হিন্দু সমাজের সংগঠিত থাকা দরকার। এম.সি চাগলার মতো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির, মুসলমান সমাজে কোনো স্থান ছিলো না। ইরানে কিংবা পাকিস্তানে থাকলে তাকে হত্যা করা হতো। হিন্দু সমাজ তাকে সম্মান দিয়েছে, স্বীকৃতি দিয়েছে। সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী নূরজাহানকে হিন্দুরা শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় আপন করে নিলো। "অথচ সুর আমার কাছে প্রার্থনা, সঙ্গীত আমার কাছে ঈশ্বর" বলায় পাকিস্তানে দাবী উঠলো নূরজাহানকে নতুন করে মুসলমান হতে হবে।

দাউদ হায়দার নামে একজন বাংলাদেশী কবি, মুহম্মদের নামে সমালোচনা করায় তাঁর প্রাণদণ্ডে দাবী উঠেছিলো। তাকে পালিয়ে এসে আত্মরক্ষা করতে হয় ভারতে। ভারত মুসলিম রাষ্ট্র হলে, তার মৃত্যু ছিলো অবধারিত ।

হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে যে কোনো সময় মুসলমান মূখ্যমন্ত্রী হতে পারে। যেমন বিহারে আব্দুল গফুর, মহারাষ্ট্রে আন্তুলে, রাজস্থানে বরকত উল্লাহ, আসামে আনোয়ারা তৈমুর। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরে একজন হিন্দু মূখ্যমন্ত্রী হবেন, কেউ কি ভাবতে পারেন ? পারেন না। অতএব যা কিছু কল্যানকর এবং শুভংকর, তাকে রক্ষার জন্য হিন্দু সমাজকে জীবিত রাখতে হবে।

যারা হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করতে চাইছে, তাদেরকে সর্বতোভাবে সাহায্য করুন, সহযোগিতা করুন। আর্য সমাজ, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ সর্বশক্তি দিয়ে হিন্দু জাতিকে ঐকবদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থ দিয়ে, শ্রম দিয়ে এদের গতি বৃদ্ধি করুন। নিজে কপট উদার সেজে, এদেরকে সাম্প্রদায়িক বলে আত্মহত্যার পথকে প্রশস্ত করবেন না। একটু কাণ্ডজ্ঞান দেখান। আমাদের দিব্যজ্ঞানের ফলে অর্ধেক ভারত আজ পাকিস্তান। পাকিস্তান বাংলাদেশ ও ভারতে ২৫ কোটি মুসলমান (১৯৮০) এক কোটি খ্রিষ্টান। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ খুব অল্প সময়ে আট লক্ষেরও বেশি খ্রিষ্টান ও মুসলমানকে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে এনেছে। আরও আনবে। ইসকন ও কাজ করছে। ইসকনের বিরুদ্ধে কিছু বলবেন না। যে কাজ আমাদের করা উচিত ছিলো, ওরা সেটা করে দিচ্ছে। নিজের নীচতা দিয়ে ওদের বিচার করবেন না।

দেশদ্রোহিতার অপরাধে মাইকেল স্কট, ফাদার ফেরারকে ভারত থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিলো। ফাদার ডি. সুজাকেও গ্রেফতার করা হয়েছিলো। বিদেশি এজেন্ট খ্রিষ্টান ফাদাররাই। ইসকন বিদেশি এজেন্ট হলে সারা পৃথিবী জুড়ে মন্দির করতো না, এত কৃচ্ছ সাধন ও করতো না। অন্যদিকে বিহার-শরীফে, মোরাদাবাদে- মর্টার, বন্দুক তৈরির কারখানা পাওয়া গেলো মুসলমান পাড়ায়। লক্ষ্ণৌয়ের মসজিদে পাওয়া গেলো পনেরো হাজার তাজা বোমা। ধানবাদের মুসলিম হোটেল থেকে পাওয়া গেলো বাক্স বাক্স জোরালো ডিনামাইট। টন টন আরডিএক্স বিস্ফোরক আছে মুসলিম মাফিয়াদের হাতে। ধর্ম প্রচারের নামে খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের খোলাখুলি রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ অচলায়তন হিন্দু সমাজের টনক নড়িয়ে দিয়েছে। তার লক্ষণ ফুটে উঠেছে জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে। এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও।তাই বিপুল শক্তি নিয়ে হিন্দু সমাজের জাগরণ ঘটছে।

হিন্দুর শক্তি বৃদ্ধিতে, রাষ্ট্রদ্রোহী ছাড়া কারও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। হিন্দু কারো মসজিদ ভেঙেছে, গীর্জা ভেঙ্গেছে-ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্তও নেই। কিন্তু আজও একটি হিন্দু নারী, মুসলমানদের দ্বারা অপহৃত হলে, হিন্দু মন্দির মুসলমান কর্তৃক ধ্বংস হলে, কোনো মুসলমান তার প্রতিবাদ করে না, নীরবে সমর্থন করে। এগুলো বিদ্বেষ সৃষ্টির কথা নয়, বাস্তব অবস্থার কথা, হিন্দুর বাঁচার কথা।

সারাদেশে আইন সকলের জন্য সমান হয়, কিন্তু এখানে (ভারতে) মুসলমানদের জন্য বিবাহ আইন পৃথক। হিন্দু বিবাহ করবে একটি, পরিবার পরিকল্পনা করে সন্তান নেবে দুটি; তাদের শ্লোগান হলো আমরা দুই, আমাদের হবে দুই। আর একজন মুসলমান বিয়ে করবে চারটি, পরিবার পরিকল্পনা করবে না; তাদের শ্লোগান হলো আমরা পাঁচ, আমাদের হবে পঁচিশ। এই ব্যবস্থা পাশাপাশি চললে, ভারত মুসলিম রাষ্ট্র হতে আর কতদিন ?

শুধু কি এখানেই শেষ ? যে মুসলমানের কাছে বিবাহের কোনো পবিত্রতা নেই, স্থায়িত্ব নেই। আজ বিয়ে করে, কাল তালাক দিয়ে পরশু নিকা করতে পারে। তিনি বিবাহ করতে পারবেন চারটি। আর যে হিন্দু বিশেষ কারণ না ঘটলে কিছুতেই দ্বিতীয় বিবাহ করবে না, নিয়ন্ত্রন আনা হলো তার জন্য! এই সেক্যুলারিজমের আরও মহিমা আছে। হিন্দু দুটি বিয়ে করলে তাকে গ্রেফতার করতে পারবে ৩ টি স্ত্রীর মালিক মুসলিম পুলিশ অফিসার। তাকে বিচার করে সাজা দিতে পারবে ৪ টি স্ত্রীর মালিক মুসলমান বিচারপতি। সাজাটি কী ? সাত বছরের কারাদণ্ড। জানি বিশ্বাস হচ্ছে না। বিশ্বাস না হওয়ার কারণ- নেতা, সংবাদপত্র, বুদ্ধিজীবীদের কল্যানে জনগনকেও ক্রমশঃ কাণ্ডজ্ঞান শুন্য করে ফেলা সম্ভব হয়েছে। এদেশের সব দলের নেতারাই দিব্যজ্ঞানসম্পন্ন নয়তো আরবের অর্থপুষ্ট হয়ে কাণ্ডজ্ঞান বিবর্জিত।
এখন তো প্রমানিত, বিজেপি ছাড়া সব দল- দাউদ, মেনন, রশিদের এজেন্ট। তাই প্ল্যান করে তারা দেশটাকে মুসলমান করে দিতে চাইছে। যারা এই সত্য কথাগুলো জনসমক্ষে বলছে, আররেব এজেন্টরা তাদেরকেই সাম্প্রদায়িক বলছে। এই দ্বিমুখী চক্রান্তের প্রতিবাদ করে দেশকে বাঁচাবে কে ?

-হিন্দুর সংঘবদ্ধ শক্তি।

পাকিস্তান, বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক বিবি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে, জন্ম নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে, এখানে হবে না কেনো ? কাণ্ডজ্ঞানহীন নেতৃত্ব রয়েছে বলে ? নেতারা নৈবেদ্যর উপর মণ্ডার মতো। আমরা হচ্ছি নৈবদ্যর চাল। হিন্দু সমাজ গা ঝাড়া দিলেই, এই স্বার্থপর হিন্দুবিরোধী মণ্ডারূপী নেতারা অদৃশ্য হয়ে যাবে। পরিবার পরিকল্পনা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক করার এবং হিন্দু কোড বিল তুলে দেবার জন্য সকলে রাজনৈতিক দলগুলোকে চাপ দিন।

নেতারা হিন্দু সেন্টিমেন্টের কোনো পরোয়াই করে না। তারা জানে হিন্দুরা অসংগঠিত আত্মবিস্মৃত। হিন্দুদের অপমান করে, তাদের স্বার্থক্ষুণ্ন করে বহাল তবিয়তে নেতাগিরি করা যায়। তাই শুধু মুসলমানকে তুষ্ট করে, তোষণ করে, হিন্দু কোড বিল চালু রাখে। গো হত্যার পক্ষে কথা বলে, শাহবানু মামলার রায় পাল্টে দেয়। রামের মন্দির ভেঙ্গে বাবরের তৈরি মসজিদ বিলুপ্ত হলে সবাই বৎস হারা গাভীর মতো হয়ে যায়। হিন্দুর উপর প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে উঠে। রামচন্দ্রকে কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়ে- ঐতিহাসিক চরিত্র বলে বাবরকে বেশি মর্যাদা দেবার চেষ্টা করে। এরাই বাংলাদেশ থেকে, হিন্দু শরণার্থী আত্মরক্ষা করার জন্য ভারতে এলে পুশব্যাক করে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেবার চেষ্টা করে, ভারতে থাকতে দিতে চায় না। অথচ অনুপ্রবেশকারীরা মুসলমান হলে, একটি কথাও বলে না। বাংলাদেশ থেকে এক কোটি মুসলমান পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করেছে। একথা বলেছে, ঢাকার সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীরা। মেটিয়া বুরুজ, পার্ক সার্কাস, মুর্শিদাবাদে এরা কাতারে কাতারে ঢুকেছে। শুধু কলকাতায় চার লক্ষ (১৯৮০, বর্তমানে নিশ্চিতভাবে এর কয়েক গুণ)) বিদেশী মুসলমানের হিসেব আছে সরকারের খাতায়। ধর্মতলায় ব্যাগ বিক্রেতাদের কিংবা হাওড়ার সাবওয়ের আশে পাশে তাকালেই এদের দেখা যায়। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল এদের প্রশ্রয় দাতা। সিপিএম রেশন কার্ড করে দিচ্ছে তো কংগ্রেস ভোটার লিস্টে নাম তুলে দিচ্ছে। শুধু লক্ষ্য সামনের নির্বাচন।

কলকাতায় হকার উচ্ছেদ করতে গিয়ে জ্যোতি বসু সব হিন্দু হকারদের তুলে দিয়েছিলো। বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলমানদের তুলতে পারলো না। তাদের পিছনে এসে দাঁড়ালো মিঞা কলিমুদ্দিন। তখনকার ডেপুটি স্পিকার- মুসলিম কনফারেন্সের সভাপতি- প্রত্যেকটি মিটিং এ গিয়ে বললো, আমরা আগে মুসলমান, পরে ভারতীয়। এই কথার প্রতিবাদ করতে পারে, কোনো দলে এমন নেতা নেই।

সুতরাং আজ গভীরভাবে ভাবতে হবে, কাদের হাতে আমরা আমাদের সামজের ভবিষ্যৎ তুলে দিয়েছি। ভাবতে, বুঝতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে দেরী হলে অনুশোচনা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।

ধর্মজ্ঞানী, রাজনৈতিক নেতাদের মতো, সাহিত্য সাংবাদিকতার জগৎটাও আজ নিয়ন্ত্রণ করছে, দিব্যজ্ঞানী ও স্বার্থান্বেষী বুদ্ধিজীবী মহল। এদেশের ধর্ম সংস্কৃতি ও হিন্দুত্বকে আঘাত করাই এদের লক্ষ্য। হিন্দু সমাজের সর্বনাশ করে এরা মানবতাবাদী সাজতে চায়। দেশের ছদ্ম বুদ্ধিজীবীরা যুক্তিহীন অর্থহীন প্রবন্ধ লিখে সংবাদপত্রে, হিন্দু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে-হিন্দু সংগঠনের বিরুদ্ধে। আহাম্মকের মতো লেখে, হিন্দুরা হিন্দু রাষ্ট্র চাইলে, শিখ ও বৌদ্ধরাও পৃথক রাষ্ট্র চাইবে, মুসলমানেরা আলাদা রাষ্ট্র চাইবে। এই হতভাগ্যেরা ভারতের সংবিধান একবার খুলে দেখে না। যাতে লেখা আছে- শিখ, বৌদ্ধ, জৈন এরা হিন্দু সামজের অন্তর্গত। এরা স্মৃতিভংশ অথবা শয়তান। নইলে এদের মনে পড়তো, শতকরা ২৩ ভাগ মুসলমানের জন্য ৩০ ভাগ জমি দিয়ে এরা পাকিস্তান তৈরি করে দিয়েছে। তারপরেও মুসলমানরা কয়েক কোটি হিন্দুকে পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু জমি দেয় নি।

এদেশের কিম্ভূতকিমাকার রাজনৈতিক নেতারা এবং অপদার্থ বুদ্ধিজীবীরা বড়ই বিচিত্র। এরা হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা ১০ লক্ষ প্যালেস্টাইনী মুসলমান উদ্বাস্তুদের জমি দেবার জন্য সহানুভূতি দেখাতে পারে। সরকার আর্থিক সাহায্য দিতে পারে। নির্জোট সম্মেলনের নেতারূপে তাদের জন্য বিশ্ব জনমত তৈরি করতে পারে। পারে না, শুধু অন্যায়ভাবে পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া কয়েক কোটি হিন্দুর জন্য ন্যায়ত আইনত প্রাপ্য জমি চাইতে।

বঙ্গসেনা, বিএলও - বাংলাদেশের আটটি জেলা নিয়ে স্বাধীন বঙ্গভূমির দাবী করছে। তার জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করছে। জনমত এই দাবীর পেছনে সংহত হলেও, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি হিন্দু এই আন্দোলনে আশার আলো দেখলেও, ভারতের সংবাদপত্র নির্বাক। নেতারা, পণ্ডিতেরা বলতে পারছেন না- এ দাবী ন্যায্য, আইনসঙ্গত এবং মানবিক দাবী। অনেক আগেই এই দাবী উচ্চারিত হওয়া উচিত ছিলো। রাজনৈতিক নেতারা এবং বুদ্ধিজীবীরা এসব ভাবতে পারেন না; রুগ্ন, পারজিত দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে তারা ভাবেন, এসব বললে ভারতের মুসলমানরা আবার যদি রাষ্ট্র চায়! এরা ভুলে যান যে, মুসলমানরা দেশ ভাগ করে তাদের রাষ্ট্র বুঝে নিয়েছে। যতটা জমি পাওয়া উচিত তার চেয়ে বেশি জমি নিয়েছে। অতএব মুসলমানেরা আবার রাষ্ট্র চাইলে, তাদেরকে সীমান্ত পার করে দিতে হবে; এটা হচ্ছে যুক্তি এবং ইতিহাসের শিক্ষা।

কাণ্ডজ্ঞানহীন পণ্ডিত বুদ্ধিজীবীরা এ শিক্ষা নেয় না। তারা গোটা দেশকে বিভ্রান্ত করে সর্বনাশকে আড়াল করতে চায়, হিন্দু বিরোধিতায় উৎসাহ প্রদান করে। কোরান না পড়ে, ইসলামকে না জেনে, অকারণে তার প্রশংসা করে। কোরানে ঠিক কী লেখা আছে, তা নিয়ে কোনো বিদগ্ধ লেখক কোনোদিনও আলোচনা করে না। কেনো করে না ? এরা সকলেই দিব্যজ্ঞানসম্পন্ন এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন ব'লে।

আনন্দবাজার, আজকাল পত্রিকা অকারণে গরু খাওয়ার পক্ষে ওকালতি করে। বিপক্ষে চিঠি লিখলে ছাপে না। গল্প উপন্যাস প্রবন্ধে হিন্দুদের ছোট করে দেখানো এদের ফ্যাশন। প্রগতিশীল হওয়ার তীব্র ইচ্ছা এদের বুদ্ধিকে বিকৃত ও নাশ করে দিয়েছে।

এরা জানে ইসলামে গরু কাটার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, কোরানের জন্মভূমিতে কোনো গরু নেই। অথচ এটা গোপালের দেশ। গরুর প্রতি মানুষের প্রচণ্ড শ্রদ্ধা। গরু কাটলে শতকরা ৮৫ জন মানুষের প্রাণে লাগে। মাহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, স্বাধীনতা প্রাপ্তির চেয়ে গো হত্যা বন্ধের প্রশ্নকে আমি বেশি জরুরী মনে করি। নেতাজী, ঐক্যের জন্য আজাদ হিন্দ ফৌজে গরু খাওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। আজাদ হিন্দ ফৌজের ডাক্তার কর্নেল চ্যাটার্জি তার লেখা বইয়ে একথা উল্লেখ করেছেন। সংবিধানে গো হত্যা বন্ধের নির্দেশ আছে। সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চ গো হত্যা নিষেধের পক্ষে রায় দিয়েছে। কোলকাতা হাইকোর্ট গো হত্যা বন্ধের রায় দিয়েছে। বিনোবা ভাবে, গো হত্যা বন্ধ করার জন্য আমরণ অনশন করে নিজের প্রাণটাই দিয়ে দিলেন। তবু গো হত্যা বন্ধ হলো না। পবিত্র সংবিধান, মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, অধিকাংশ মানুষের শ্রদ্ধাকেন্দ্র- সবকিছুকে অপমান করে পার পাওয়া যায়, কারণ হিন্দু সমাজ অসংগঠিত।

অপরপক্ষে, মুসলমানরা সংগঠিত, তাই তাদের অন্যায় ইচ্ছাকেও বুদ্ধিজীবীরা সমর্থন করতে চায়। সহস্র যুক্তি থাকলেও এদেশের কোনো লেখক, শুয়োর খাবার জন্য কলম ধরতে পারে না। যাত্রায়, নাটকে, সিনেমায় সর্বত্র হিন্দুদের শ্রদ্ধারকেন্দ্রগুলোকে লাঞ্ছিত করা হয়। হিন্দু মুসলমানের মিলন দেখাতে হিন্দুর মেয়েকে মুসলমান নিয়ে যাবেই। সিনেমার নায়ক-নায়িকা বিপদে পড়লে শুধু আশ্রয় পায় মসজিদ কিংবা গীর্জায়। হিন্দু ব্রাহ্মণ, পণ্ডিত, সন্ন্যাসীদের দেখানো হচ্ছে খল চরিত্র রূপে। তাদের কমণ্ডুলে মদ, ঝুলিতে গাঁজা, তারা চোরাচালানদার বদমাইশ। আর ফাদার এবং মৌলভীরা স্নেহ ক্ষমার প্রতিমূর্তি। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ সিনেমায় মুসলমান ও খ্রিষ্টান চরিত্রের মুখে ডায়লগ থাকে তাদের ধর্মের পক্ষে। বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে দেখানো হয় আল্লার মহিমা, যীশুর মাহাত্ম্য। যেকোনো মুসলিম চরিত্র নাটকের প্রয়োজনে মারা গেলে ভেসে আসবে আজানের করুন সুর, পর্দায় ফুটে উঠবে মক্কার কাবা, লক্ষ লক্ষ মুসলমান সেখানে নামাজ পড়ছে।

আরো আশ্চর্যের ব্যাপার, জার্মান নাট্যকার ব্রেখটশের নাটক বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়ে তার মধ্যে ক্লাউনের মতো আমদানী করা হচ্ছে ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরকে। সফোক্লিসের নাটক, ইবসেনের নাটক বাংলা করতে গিয়ে লেখক-পরিচালকরা অকারণে আঘাত করছে হিন্দু সংস্কৃতিকে। গীতিকাররা কৃষ্ণকে নিয়ে, গৌরাঙ্গকে নিয়ে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ গান রচনা করছে, গাইছে। বিচিত্র এদেশের হিন্দুরা । এসবে এদের কোনো কষ্ট হয় না। কোনো ভক্তের প্রাণে এসব লাগে না। ভিখারীর বৈরাগ্য, নপুংসকের ব্রহ্মচর্য আর শক্তিহীনের ভক্তি এরকমই হয়; চ্যাংড়া নাট্যকার, ফক্কড় সাংবাদিকরাও তাদের পরোয়া করে না।

এদেশের সাংবাদিককূল, হিন্দু মুসলিম ঐক্যের প্রয়োজনে কোথাও দাঙ্গা হলে লিখে, দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ, দাঙ্গা যাতে না ছড়ায় এই বৃহত্তর স্বার্থে সত্য গোপন করা হয়। ভালো কথা, কিন্তু হিন্দুদের দুটি সম্পদ্রায়ের মধ্যে একটু কিছু হলে বিরাট হেডলাইন আসে, "হরিজনদের প্রতি বর্ণহিন্দুদের নারকীয় অত্যাচার", এমন কেন লেখা হয় ?

কারণ, অধিকাংশ সাংবাদিক হিন্দুত্ব বিরোধী দিব্যজ্ঞানসম্পন্ন এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন। তারা চায় না, হিন্দু সমাজ ঐক্যবদ্ধ হোক, শক্তিশালী হোক। মালদহের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় লেখা হলো, ঘোষেদের সঙ্গে মুসলমানদের দাঙ্গা; ঘোষেরা যেন হিন্দু নয়। হিন্দু সংহতি নষ্টকারী এই সব প্রাণীগুলো আসামের ঘটনা সব জেনেও স্পষ্ট করে বলতে পারলেন না, আসাম আন্দোলনের প্রকৃত চরিত্রটি কী ছিলো ? বিভিন্ন ঘটনা, আন্দোলন বহির্ভূত বিষয় নিয়ে সাতকাহন পাঁচালি গেয়ে প্রমাণ করতে চাইলেন, এবারেও সেই আগের মতোই বাঙালি বিতাড়ন আন্দোলন। এর আগেও এই সাংবাদিকরা শুধুই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।

বাঙালি বাঙালি করে এরা অস্থির হয়ে যায়, কিন্তু আসাম থেকে কোনোদিন বাঙালি মুসলমান বিতাড়িত হয় নি কেনো ? বাঙালি মানে কি শুধু হিন্দু বাঙালি ? পূর্ব বাংলার তো সবাই বাঙালি। দফায় দফায় যারা বিতাড়িত হয়েছে, তারা শুধু হিন্দুই কেনো ? এই সোজা কথার জবাব এদের কাছে নেই। বাঙালিদের জন্য যাদের বেশি দরদ, যারা বাঙালির স্বার্থ রক্ষায় "বাঙালিস্তান" গড়তে চায়, সেই "আমরা বাঙালি" সংগঠনও এই প্রশ্নে নীরব। বাংলাদেশের নির্যাতিত হিন্দুদের জন্য এরা একটা কথাও বলে না। এবারও এরা সব সময় চেয়েছেন, আসামের আন্দোলনকে লঘু করে দেখাতে। এত দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী আন্দোলন ভারতের ইতিহাসে আর কখনো হয় নি। সারা দেশের উর্দু পত্রিকাগুলোর আর্তনাদ শুনলেই বোঝা যাবে এই আন্দোলনের লক্ষ্য। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য, বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের বিতাড়ন। হিন্দুদের বিতাড়ন নয়।

হিন্দু পৃথিবীর যেখান থেকেই আসুক, এখানে সে বিদেশি নয়, অনুপ্রবেশকারী নয়, এমনকি শরণার্থীও নয়, এদেশ তার মাতৃভূমি। অসমীয়া হিন্দুরা একথা বুঝেছে, কিন্তু তাদের আরো সক্রিয় হতে হবে। আসামে উনপঞ্চাশ লক্ষ (১৯৮০ এর হিসাব) বাংলাদেশি মুসলমানের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এই অনুপ্রবেশ বন্ধ করতেই হবে। বন্ধ না করতে পারলে, আসামের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। আসাম হবে আর একটা পাঞ্জাব কিংবা কাশ্মির। আসামের তরুণরা এ ব্যাপারে সতর্ক হচ্ছে, উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে, এটাই আশার কথা। কিন্তু হিতেশ্বর সাইকিয়া, প্রফুল্ল মহান্তীর সরকার, সবটাই উল্টে দিচ্ছে।

পাঞ্জাব আজ অগ্নিগর্ভ। সেখানে তৈরি হয়েছে শিখ মুসলিম সুহৃৎ সমিতি। এর পেছনে আছে পাকিস্তান এবং এখানকার মুসলমানদের একটি অংশ। হিন্দু সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশরূপে শিখেরা কখনোই এত নিষ্ঠুর নৃশংস হতে পারে না। তিনশো বছরের শিখ ইতিহাসে এরকম নজিরও নেই। নির্মম হিন্দু হত্যায় তাই ফুটে উঠেছে, পরিচিত ইসলামিক বর্বরতা। এই বাস্তব অবস্থার ভয়ংকরত্ব এবং সমস্যা সমাধানের কথা কেউ বলতে পারছে না। ঔদার্য নিয়ে, দিব্যজ্ঞান নিয়ে, মিথ্যের চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে - বিশ্বের সর্বাপেক্ষা নিরীহ, উদার পরমত সহিষ্ণু, মনুষ্যগোষ্ঠী হিন্দু সমাজ আজ - নিজের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করছে ; যারা শুধু সর্ব মানবে নয়, পশুপক্ষী, কীটপতঙ্গ এমনকি প্রতিটি ধুলিকণায় ঈশ্বরকে কল্পনা করেছে। মানবাত্মার সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটেছে যাদের ধর্ম-দর্শনে। সেই হীরন্ময় ঐতিহ্যের ধারক হিন্দুসমাজ আজ বিপন্ন। তথ্য-প্রমান যুক্তির আলোয় এই কঠিন সত্য আজ নগ্নভাবে প্রকটিত। যতদূর সম্ভব, ঐক্যবদ্ধ সংগঠিত করে হিন্দুত্বকে বাঁচানো আজকের হিন্দুদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

যে যাই বলুন, ভারতবর্ষের জাতীয় জীবনের মূল ধারা মানে হিন্দু ধারা। হরিদ্বার থেকে কোলকাতা পর্যন্ত পৌঁছাতে গিয়ে গঙ্গায় অনেক নদী এবং নর্দমার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাতে গঙ্গার স্বকীয়তা, পবিত্রতা নষ্ট হয় নি। গঙ্গা, গঙ্গাই রয়ে গেছে। হিন্দুও তাই। শক্তির অভাব আমাদের নেই। আছে আত্মিক শক্তি এবং সংখ্যার শক্তি। শুধু নেই আত্মবিশ্বাস এবং সংগঠনের শক্তি। ফলে হিন্দু সমাজের অবস্থা এখন অনেকটা উট পাখির মতো। উটপাখি দৌড়াতে পারে ঘন্টায় ৪০ থেকে ৪৫ মাইল। লাথি মেরে ছিটকে ফেলে দিতে পারে একটা তাজা ঘোড়াকে, পায়ে তার এত জোর। কিন্তু আত্মবিশ্বাস না থাকার ফলে বিপদ দেখলে প্রত্যেকটা উট পাখি কী করে ? চোখ দুটো বন্ধ করে ঠোঁটটা বালিতে গুঁজে দেয়। ভাবে, বিপদ এড়িয়ে গেলাম, তখন তাকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায় কুকুর আর রুগ্ন শেয়ালের দল; যারা তার একটা পদাঘাতেরও যোগ্য নয়। এ অবস্থা চলতে পারে না, এ সহ্যের অতীত। হিন্দু সমাজ সংগঠিত হচ্ছে, জাগ্রত হচ্ছে। হতেই হবে। কারণ, লক্ষ লক্ষ বছরের ঐতিহ্যসম্পন্ন পৃথিবীর সবচেয়ে সৎ শুভ্র এবং পবিত্র জীবনদর্শনের উজ্জ্বল উত্তরসূরী হিন্দু জাতির ভবিষ্যৎ, আমরা কিছু কাণ্ডজ্ঞানহীন রাজনীতিক, বালখিল্য বুদ্বিজীবী অথবা ভন্ড ধার্মিকের হাতে ছেড়ে দিয়ে চুপ করে বসে থাকতে পারি না। কারণ, এটা হিন্দু জাতির অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।

যদি না পারি ? ভবিষ্যতে হয়তো কিছু স্পেসিমেন মনুষ্য আমরা চিড়িয়াখানায় দেখতে পাবো। বাধ্যতামূলক ধর্মান্তরিত অহিন্দু পিতারা, তাদের বালক পুত্রদের হাত ধরে বলবে, এই দ্যাখ, অতীতে এই দেশে এক ধরণের প্রাণী ছিলো, এর সংখ্যায় ছিলো প্রচুর, শক্তিও ছিলো যথেষ্ট; এদের নাম ছিলো হিন্দু। এদের বেদ ছিলো, বেদান্ত ছিলো, গীতা উপনিষদ ছিলো, মার্ক্সবাদ, গান্ধীবাদ সবই ছিলো; কিন্তু বাস্তববুদ্ধি ছিলো না। তাদের ব্রহ্মজ্ঞান ছিলো, দিব্যজ্ঞান ছিলো, শুধু কাণ্ডজ্ঞান ছিলো না। তাই তারা এখন পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দু চারটি প্রাণী মাত্র এখন দেখা যায়। তাই দ্রষ্টব্য বস্তু বলে চিড়িয়াখানায় রাখা হয়েছে। মারা গেলে এখান থেকে নিয়ে গিয়ে আরক মাখিয়ে যাদুঘরে রাখা হবে।

দীর্ঘদিনের কলংক কালিমা, বাবরি মসজিদ হিন্দুরা ধুলিসাৎ করে দিয়েছে, ফলে বিশাল হিন্দু সমাজে আত্মবিশ্বাস এসেছে।

দুর্নীতি দূষিত রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় জনতা পার্টির অভ্যুত্থান জাতীয় জীবনে অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

আর্য সমাজ, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের চেষ্টায় এ পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ লাখ মুসলমান এবং পাঁচ লাখ খ্রিষ্টান হিন্দু সমাজে ফিরে এসেছে।

মীরাটের ঈমাম সৈয়দ মেহবুব আলী, মাদ্রাজের ঈমাম শেখ আমীর মুহম্মদের মতো শতাধিক ইসলামিক পণ্ডিত হিন্দু ধর্ম গ্রহন করে হি ন্দু ধর্মের প্রচার করে বেড়াচ্ছেন।

খ্রিষ্টান ধর্মের প্রচারক, এ্যাণ্ডারসন মাউরি হিপসন রায়, উত্তর পূর্বাঞ্চলে হিন্দু ধর্ম-সংস্কৃতির প্রসারে ব্যস্ত রয়েছেন।

প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল- দাউদ ইব্রাহিম, রশিদ খানের এজেন্ট প্রমানিত হয়ে যাওয়ায় তারা সবাই এক হয়ে হিন্দু সমাজ এবং ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

সমুদ্র থেকে হিমালয়, ভারতবর্ষের সর্বত্র, নগরে বন্দরে গ্রামে গঞ্জে হিন্দু সংগঠন এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে, ঘুমন্তু সিংহ হাই তুলেছে, আড়মোড়া ভাঙছে, রাষ্ট্রদ্রোহীরা তাই চিন্তিত হয়ে উঠেছে।

হিন্দুর জাগরণের আর দেরী নেই।

জয় হিন্দ।

সমাপ্ত

দিব্যজ্ঞান নয়, কাণ্ডজ্ঞান চাই ( পর্ব-১)


দিব্যজ্ঞান নয়, কাণ্ডজ্ঞান চাই  ( পর্ব-১)

পরমপূজ্য শিবপ্রসাদ রায়ের অসাধারণ সৃষ্টি "দিব্যজ্ঞান নয়, কাণ্ডজ্ঞান চাই" নামের এই ছোট্ট পুস্তিকাটি, বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হিন্দুত্ববাদের প্রথম বই, যেটি প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৮২ সালে। এরপর এটি শুধু ভারতের সবগুলো ভাষাতে প্রকাশ হ'য়ে ভারতই জয় করে নি, বিশ্বের অন্যান্য ভাষাতেও প্রকাশিত হয়ে সাড়া বিশ্বেই বেশ আলোড়ন তুলেছে। এজন্য ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই বইয়ের ২৫টি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, যা একটি অনন্য রেকর্ড। কোনো হিন্দুর পক্ষে কখনোই প্রকৃত হিন্দু হওয়া সম্ভব নয়, যদি তার এই বইটি পড়া না থাকে। পশ্চিমবঙ্গে বইটি বহুল প্রচারিত না হলেও দুষ্প্রাপ্য নয়। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুরা এর সাথে খুব বেশি পরিচিত নয়। তাই যাদের কাছে, বই আকারে এই পুস্তিকাটি এখনও পৌঁছায় নি, সেই সব নেট-ফেসবুক ইউজারদের জন্য আমার এই নিবেদন, "দিব্যজ্ঞান নয়, কাণ্ডজ্ঞান চাই" এর সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্ট।

দিব্যজ্ঞান নয়, কাণ্ডজ্ঞান চাই

শিবপ্রসাদ রায়

ছোটোবেলায় একটা বই পড়েছিলাম, নাম 'বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা চলে না’। বড় হয়েও এদেশের বহু ঘটনা, বুদ্ধি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারছি না। মনে হচ্ছে, গোটা দেশের ভাবনা-চিন্তাগুলো যেন একটা অবাস্তব ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে। অবিলম্বে যদি আমরা বাস্তবের মাটিতে পা না রাখতে পারি, আমাদের জন্য অপক্ষো করছে চরম সর্বনাশ।

এদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং মনুষ্যত্বের অবক্ষয়ের জন্য দায়ী করা হয় ভারত বিভাগকে। এই ভারত বিভাগ ছিলো এদেশের তাবৎ হিন্দু নেতৃবৃন্দের নির্বুদ্ধিতার পরিণতি। শতকরা নব্বই জন মুসলমানের দাবী ছিলো: " হিন্দু মুসলমান দুটো পৃথক জাতি। হিন্দুর সাথে পাশাপাশি বাস করে মুসলমানদের ধর্ম সংস্কৃতি অক্ষুণ্ন রাখা অসম্ভব। অতএব আমাদের একটা হোমল্যাণ্ড চাইম যার নাম পাকিস্তান।" এইভাবে মুসলমান সমাজের পুরোটাই যখন ভারতবর্ষকে দুই ভাগ করতে ব্যস্ত, তখন হিন্দু নেতারা কী করছিলেন ? জনগণকে বোঝাচ্ছিলেন, "হিন্দু মুসলমান পৃথক জাতি নয়। এক জাতি, ভারতীয় জাতি। মুসলিম লীগ এবং মহম্মদ আলি জিন্নার দ্বিজাতিতত্ত্ব এবং পাকিস্তানের দাবী সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।" মাহাত্মা গান্ধী বললেন, "ভারত দ্বিখণ্ডিত হলে তা আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে হবে।" পণ্ডিত নেহেরু বললেন, "পাকিস্তান ইজ এ ফ্যান্টাস্টিক ননসেন্স।" সর্দার প্যাটেল বললেন, "ভারত বিভাগ তো একটা পরিহাস মাত্র। এমন কথা আমরা চিন্তাও করতে পারি না।" রাজন্দ্রেপ্রসাদ তাঁর বিরাট গ্রন্থ 'ইন্ডিয়া ডিভাইডেড' লিখে লিখে প্রমান করলেন, "পাকিস্তান একটা অসম্ভব অবাস্তব
ব্যাপার। বেশির ভাগ মুসলমান জাতীয়তাবাদী, আর তারা কংগ্রেসের মধ্যে। সুতরাং অদূরদর্শী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরাই পাকিস্তানের কথা বলে আতঙ্ক ছড়াতে চাইছেন।" এই সব নেতাদের লক্ষ লক্ষ অনুগামী কোটি কোটি মানুষকে এই মিথ্যা কথাটা বোঝালো।

কিন্তু বাস্তবে কী ঘটেছিলো ? অসংখ্য প্রাণ, চোখের জল, নারীর সম্ভ্রম আর রক্তের বিনিময়ে পাকিস্তান রচিত হলো। হিন্দু মুসলমান দুটো পৃথক জাত, এই সত্যকে স্বীকার করে ভারতকে দুভাগ করা হলো। দেড় কোটি হিন্দুর সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তাড়ানো হলো পাকিস্তান থেকে। এখনও নিয়মিত তাড়ানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তাড়ানো হবে।

এখন এদেশের জাতীয় নেতাদের এবং তাদের অনুগামীদের কী বলা হবে ? ভণ্ড, মিথ্যাবাদী, আত্মপ্রবঞ্চক, অদূরদর্শী, ক্ষমতা লোভী ? এই প্রত্যেকটি বিশেষণ এদের কীর্তির উপযুক্ত। কিন্তু আমি তা বলবো না। এরা লোকান্তরিত, তাই এদের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়েই বলবো, এরা ছিলেন দিব্যজ্ঞানসম্পন্ন কিন্তু কাণ্ডজ্ঞানহীন। এদের কোনো আচরণই বুদ্ধি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দু তার প্রাণ উৎসর্গ করেছে স্বর্গীয় প্রেরণায়; আর মুসলমান তার স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেছে, ভারতে মুসলিম রাজত্ব প্রতিষ্ঠার কামনায়। পূর্ব বাংলা পাকিস্তান হলো, মুসলমানরা সংখ্যায় বেশি বলে। ফাঁসির মঞ্চে প্রাণদানের সংখ্যা পূর্ববঙ্গে সর্বাধিক। কিন্তু আত্মদানের তালিকায় পূর্ববঙ্গে কেনো গোটা বঙ্গে একজন মুসলমানও নেই। স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশ্বাসঘাতকতা করে, ইংরেজের সহযোগিতা করে, মুসলমানরা পুরস্কার পেলো পাকিস্তান, বাংলাদেশ। আর ফাঁসিতে গুলিতে প্রাণ দিয়ে পূর্ববঙ্গের হিন্দুরা হলো বাস্তুচ্যুত, শরণার্থী, রিফিউজি। মাতৃভূমি থেকে তাদের পালিয়ে আসতে হলো ভারতে। যারা আসামে আশ্রয় নিলো তাদের পরিচয় হলো বিদেশী বহিরাগত। যারা বাংলাদেশে রয়ে গেলো, তারা হয়ে গেলো জিম্মি, মালাউন, কাফের। আর যারা ত্রিপুরায় গেলো, তারা সংবাদপত্রের ভাষায় হলো অনুপজাতি।

কি করুন পরিণতি ! অথচ শ্যামাপ্রসাদ ছাড়া একজনও আত্মসম্মান-সম্পন্ন নেতা ছিলেন না গোটা দেশে, যাকে এই ঘটনা বিচলিত করেছে। তার প্রচেষ্টায় রক্ষিত হয়েছিলো এই পশ্চিমবঙ্গ এবং পাঞ্জাব। কিন্তু তাকে সবাই বলেছিলো সাম্প্রদায়িক। শ্যামাপ্রসাদ কাশ্মিরের চুড়ান্ত ভারত ভূক্তি চেয়েছিলেন, ৩৭০ ধারার উচ্ছেদ চেয়েছিলেন, তিনি মধ্যপথে সিজ ফায়ার না করে যুদ্ধ চালিয়ে পুরো কাশ্মির উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন; তাকে হত্যা করা হলো তাঁকে । যারা কাশ্মিরের অর্ধাংশ পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়ে বাকিটাকে প্রায় পাকিস্তান করে রেখে দিলো, যাদের জন্য কাশ্মির আজ অগ্নিগর্ভ, তারাই আজ প্রগতিশীল-ধর্ম নিরপেক্ষ- অসাম্প্রদায়িক ! আর যারা ৩৭০ ধারার উচ্ছেদ করে কাশ্মির সমস্যার সত্যিকারের সমাধান চায়, তাদের বলা হয় সাম্প্রদায়িক ! ভারতের অর্ধাংশ ( বাংলাদেশ+পাকিস্তান) এবং কাশ্মিরের অর্ধাংশ মুসলমানদের উপঢৌকন দেওয়া সত্ত্বেও, ভারতে আবার সেই একই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। কাশ্মির সবটাই চলে যেতে পারে। প্রকৃত পক্ষে কাশ্মির আজ প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কাশ্মির চালাচ্ছে পাকিস্তান এবং তাদের বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংস্থা।

ভারত আবার খণ্ডিত হতে পারে। বিদেশি অর্থে পুষ্ট হয়ে অধিকাংশ মুসলমান আজ সেই উদ্দেশ্যে কাজ করে চলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বিচার তোষণে তারা ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বে-আইনীভাবে সরকারী জমি দখল করে পার্কসার্কাসে অসংখ্য বাড়ী তৈরি করেছে। রাজাবাজারে গড়ে তুলেছে মসজিদ। দিল্লির ইমাম বলেছে, "আমরা এদেশের আইন কানুন মানি না। বাবরি মসজিদ না পেলে আবার হোমল্যান্ডের আওয়াজ তুলবো। পার্লামেন্টে আগুন লাগিয়ে দেবো।" এমন উত্তেজনাপূর্ণ বক্তৃতা দিয়ে তারা দাঙ্গা বাধিয়েছে মীরাটে, আলীগড়ে, দিল্লিতে, বরোদায়। এই অবস্থা বুঝে যারা কিছু বলতে গিয়েছে বা এখনও বলতে যাচ্ছে, তাদেরই বলা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক ! এই দিব্যজ্ঞান সম্পন্ন (প্রকৃতপক্ষে নির্বোধ) নেতাদের, অর্ধেক ভারতবর্ষ হারিয়েও কাণ্ডজ্ঞান ফেরে নি।

হিন্দু মুসলমানের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হলো। কিন্তু এদেশীয় (কংগ্রেস) নেতাদের একজাতি তত্ত্বের মিথ্যে নেশাটা কাটলো না। পাকিস্তান হিন্দু শুন্য, বাংলাদেশও প্রায় হিন্দু শুন্য। কিন্তু (১৯৪৭ এ) লোক বিনিময়ের মতো একটা বাস্তব সমাধান হাতের কাছে পেয়ে তা ব্যবহার করা হলো না। তাই যে মুসলমানরা হিন্দুর সঙ্গে থাকলে ধর্ম বিপন্ন হবে বলে পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো, তারা ভারতেই রয়ে গেলো, তাদের কিছুই হারাতে হলো না। পাকিস্তান, বাংলাদেশ তাদের ফিক্সড ডিপোজিট; ওগুলো মুসলিম রাষ্ট্র, ওগুলোতে কারো হাত দেওয়া চলবে না, কিন্তু ভারত হলো যৌথ সম্পত্তি, তাই এখান থেকে যতটা পারো লুটে নাও। ভারতকে দুটুকরো করার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তান হলো মুসলিম রাষ্ট্র, কিন্তু ভারত হিন্দু রাষ্ট্র হলো না।

হিন্দু রাষ্ট্রে অন্য কোনো ধর্ম বিপন্ন হয় না। নেপাল হিন্দু রাষ্ট্র, তাই সেখান থেকে একটি মুসলমানকেও পালাতে হয় নি। কিন্তু পাকিস্তান বাংলাদেশের হিন্দুরা বলির পাঁঠার মতোই অসহায়। যখন খুশি তাদের উপর অত্যাচার করা যায়, বিতাড়িত করা যায়, যে কোনো হিন্দু নারীকে ইচ্ছা করলেই অপহরণ করা যায়, ধর্ষণ করা যায়, ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করা যায়। ভারতের একজন মুসলমানেরও কিন্তু এজন্য কষ্ট হয় না। তারা কোনোদিন এর একটা মৌখিক প্রতিবাদও করে না। বাংলাদেশ থেকে যাদের বিতাড়িত করা হয়েছে বা যারা স্বেচ্ছায় চলে আসতে বাধ্য হয়েছে, বাংলাদেশ তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে চাইলেও (যেটা বাংলাদেশ কখনোই করবে না), ভয়ে তারা ফিরবে না ; কারণ,তারা জানে ইসলামিক রাষ্ট্র মানে কী ?

ভারতের সেই শতকরা ৯৭ জন মুসলমান পাকপন্থীই রয়ে গেছে, ধর্মসংস্কৃতি অক্ষুণ্ন রেখেই ( যারা বলেছিলো হিন্দুদের সাথে থাকলে মুসলমানদের ধর্মসংস্কৃতি অক্ষুণ্ন থাকবে না)। এরা মুজিব মারা গেলে খুশি হয় ( কারণ, তারা মনে করে মুজিব বাংলাদেশ স্বাধীন করে ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তানকে ভেঙেছে)। কিন্তু ভুট্টোর ফাঁসি হলে বাস পোড়ায়, সিনেমা হল পোড়ায়। ক্রিকেটে পাকিস্তান জিতলে ব্যাণ্ড বাজিয়ে মিছিল বের করে। ফুটবলে মোহমেডান স্পোর্টিং জিতলে আল্লাহু আকবর ধ্বনি দেয়।

এই সব আচরণের একটাই অর্থ, এদের আনুগত্য দেশের বাইরে। লখনউয়ের মুসলমানরা ইরাক বা ইরানের সমর্থক। ওদের বাড়ীতে বাড়ীতে খোমেইনি আর সাদ্দামের ছবি। ওখানে প্রায়ই যে শিয়া-সুন্নীদের প্রাণঘাতি সঘর্ষ হয়, সেটা আসলে ইরাকপন্থী এবং ইরানপন্থী মুসলমানদের সঘর্ষ । এখন যদি কেউ প্রশ্ন তোলে ভারতবর্ষে ভারতপন্থী মুসলমানরা কই ? সঙ্গে সঙ্গেই বহু মানুষ সেই মানুষটিকে বলেন বা বলবেন সাম্প্রদায়িক ! কেনো বলেন ? এরা দিব্যজ্ঞান সম্পন্ন, কিন্তু কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে। এদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল তিনটি মৌলিক বিষয়ে একমত পোষণ করে; সেগুলো হলো- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেকক্ষতা। কিন্তু এই তিনটি আদর্শই নির্ভরশীল গরিষ্ঠ হিন্দু জনসংখ্যার উপর। ভারতীয় উপমহাদেশের যেখানেই হিন্দুর সংখ্যা কমে গেছে, সেখানেই এগুলো হাওয়া হয়ে গেছে। ( মুসলিম এলাকায় গিয়ে ওগুলো কথা বললে এখন চাপাতির কোপ খাওয়ার সম্ভাবনা)

আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশে এসব কথা বলার লোক আর নাই। আফগানিস্তানের নাম এক সময় গান্ধার ছিলো, দেশটা হিন্দুদের ছিলো, ভারতের অংশ ছিলো, এই কথাটাই আজ অনেক হিন্দুর মনে নেই! কাশ্মিরে এক টাকা কেজি চাল খাইয়ে, দুই টাকা কেজি চিনি খাইয়ে এবং এম.এ, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যন্ত বিনা পয়সায় পড়িয়েও সেখানে মার্ক্সবাদী সমাজতন্ত্র এবং গান্ধীবাদী অহিংসা সবই অচল। কাশ্মিরে ভারতের রাষ্ট্রপতিও চেষ্টা করলেও এক ইঞ্চি জমি কিনতে পারবেন না। ১৯৪৬ সালের হিন্দু হত্যার উৎসবের সময়, পশ্চিম পাঞ্জাবের হাজার বিশেক হিন্দু, মুসলমানদের হাত থেকে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে পালিয়ে চলে এসেছিলো কাশ্মিরে। তাদের সংখ্যা এখন (১৯৮০) পঁচাত্তর হাজার (বর্তমানে হয়তো আরো বেশি)। তাদের আজ পর্যন্ত নাগরিকত্ব দেওয়া হয় নি। তারা এখনও কাশ্মিরে অবাঞ্ছিত।

শেখ আব্দুল্লাহর (নেহেরু কর্তৃক নির্বাচিত কাশ্মিরের উজির-এ-আজম) আমলে কাশ্মিরে একটা বিল পাস হয়েছিলো, যাতে পাকিস্তানে চলে যাওয়া মুসলমানরা, কাশ্মিরে ফিরে এলে, তাদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অথচ বাংলাদেশের হিন্দুদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি মানে শত্রু সম্পত্তি। প্রয়াতা ইন্দিরা গান্ধী সারা দেশে "এসমা(অত্যাবশ্যকীয় রাষ্ট্রীয় পরিষেবা)" প্রয়োগ করেছিলেন, কিন্তু কাশ্মিরে পারেন নি। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক নেতারাও একদম চুপ।

দেশদ্রোহীতার অপরাধে যাকে এগারো বছর জেলে রাখতে হয়েছিলো এবং যার হাতে শ্যামাপ্রসাদের রক্ত লেগে আছে সেই শেখ আব্দুল্লাহকে মূখ্য মন্ত্রী করতে হয়; আব্দুল্লাহ মারা গেলে ফারুককে। শুধু সেখানে হিন্দুরা সংখ্যালঘু বলে। গত কয়েক বছরে কাশ্মিরে তিনশো হিন্দু মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে। তিনলক্ষ হিন্দুকে বিতাড়িত করা হয়েছে। সত্যার্থ প্রকাশ গ্রন্থ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ নেতা এই সকল ঘটনা জানেন; কিন্তু তারা সকলেই দিব্যজ্ঞানসম্পন্ন, তাই প্রতিবাদ করার মতো কাণ্ডজ্ঞান তাদের নেই।

রাষ্ট্রসংঘ একটি হিসেব কষে দেখিয়েছে, মুসলমানদের অনিয়ন্ত্রিত জন্মহার এবং বিপুল অনুপ্রবেশ ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে হিন্দুদেরকে সংখ্যালঘু করে দেবে। ব্যাপকভাবে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার জন্য আরব রাষ্ট্রগুলো থেকে কোটি কোটি টাকা আসছে। একথা ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের। হাজার হাজার বছরের "মীনাক্ষীপূরম"- এ মাত্র সাড়ে আটশো হিন্দু, মুসলমান হবার সাথে সাথেই সেটা হয়ে গেলো রহমতনগর। ভারতে হিন্দু সংখ্যালঘু হয়ে গেলে ভারত আর ভারত থাকবে না। এই ছোট্ট কাণ্ডজ্ঞানের কথাটা দেশের দিব্যজ্ঞান সম্পন্ন ধর্মীয় গুরু, রাজনৈতিক নেতা, সাধু-সন্ত, বুদ্বিজীবী কারো মাথায় ঢুকছে না। বরং তারা এবিষয়ে আরো গোলমাল পাকিয়ে দিচ্ছে নানা ভাবে।

রামকৃষ্ণ মিশনের একটি সম্মেলন হয়েছিলো বেলুড়ে, ১৯৮১সালে। তিন দিন ধরে আলোচনা হলো কি করে সব ধর্মের মধ্যে সমন্বয় করা যায়। এই দায়িত্বটা যেন শুধু হিন্দুদেরই? কিন্তু শিলং এ খ্রিষ্টানদের হাতে মিশনের সন্ন্যাসী মার খেলেও সেকথা আলোচনা হলো না। চেরাপুঞ্জিতে রামকৃষ্ণ মিশনের জলের পাইপ কেটে দিলো; কতভাবে অত্যাচার করলো, সে কথা কেউ বললো না। অন্য ধর্মের হাতে মার খাওয়া আর সর্বধর্ম সমন্বয়ের চেষ্টা করা, এদেশের অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মনে হয় একমাত্র কাজ।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, বর্ধমান শহর থেকে মাদার তেরেসাকে এক লক্ষ টাকা তুলে দিলেন। শুধু উপাচার্য নন, মন্ত্রীরা এবং বহু বিশিষ্ট হিন্দুও লক্ষ লক্ষ টাকা তেরেসাকে সংগ্রহ করে দিলেন। মা করুণাময়ী জগজ্জনী বলে, মাদারকে নিয়ে কি নাচানাচিই না হলো। কিন্তু এই টাকা দিয়ে মাদার এদেশের হাজার হাজার হিন্দুতে খিষ্টান বানালো। এই কাজে সাফল্য দেখানোর জন্য খ্রিষ্টান দেশগুলো মাদারকে নোবেল পুরষ্কার দিলো। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আজ যাবতীয় সমস্যার মূল এই ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টানরা। ত্রিপুরায় কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যা করেছিলো এরাই। নিহত হিন্দুদের জন্য জগজ্জননীর চোখ থেকে এক ফোটা জলও পড়ে নি।কলেজ স্ট্রিটের এক ছোট ব্যবসায়ী, বিবাহের জন্য একটি অনাথিনী মেয়ে চেয়েছিলো জগজ্জননীর কাছে; জবাব এলো, খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহন করলে তবেই মেয়ে পাওয়া যাবে। এই হচেছ মাদারের আসল পরিচয়। খ্রিষ্টান সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট। খ্রিষ্টান না হলে তিনি কারো সেবা করেন না। বাংলাদেশ টেরেসাকে প্রবেশের অনুমতিই দিলো না। আর এই হিন্দু সমাজ, গরু যেমন গরুর মাংস গাড়ীতে করে নির্বিকার চিত্তে বয়ে নিয়ে যায়, কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না, পরমানন্দে জাবর কাটে, এরাও তেমনি, চৈতন্যহীন একটা জাত, ভালো-মন্দ বিচার করার বা শত্রু মিত্র চেনার ক্ষমতাও এদের নেই। আর হিন্দুত্বের সম্পূর্ণতা, শ্রেষ্ঠ সম্পর্কেও এদের কোনো ধারণা নেই।

রামকৃষ্ণ মিশন এবং খ্রিষ্টান সম্পর্কে শিবপ্রসাদ রায় তার "দিব্যজ্ঞান নয় কাণ্ডজ্ঞান চাই" পুস্তিকায় বলেছেন-

পৃথিবীতে কেউ সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের কথা বলে না, বলে শুধু হিন্দুরাই। কিন্তু এ কথা বলতে গেলেও যে হিন্দুভূমির দরকার, হিন্দু জনসংখ্যার দরকার, এই কাণ্ডজ্ঞানটুকুও এদের নেই। বাস্তবতা বর্জিত দিব্যভাব, তুরীয়ভাব দাঁড়িয়ে গেছে ভণ্ডামী মিথ্যাচারে আর প্রবঞ্চনায়। এই দীর্ঘস্থায়ী ভাবের ঘরে লুকোচুরি, গোটা হিন্দু জাতটাকেই মেরুদণ্ডহীন, আত্মরক্ষায় অসমর্থ ক'রে দিয়েছে। তাই অতীতে, বর্তমানে শুধু দেখি হিন্দু মার খায়, কাঁদে , পালায়, ধর্মান্তরিত হয়। একটা জাতের যদি আত্মরকক্ষার শক্তিই না থাকে, তাহলে তার উচ্চ দর্শন, সহস্র মহাপুরুষ থেকেই বা কী লাভ ? এই রকম দুর্বল জাতকে কেউ শ্রদ্ধা করে না, করুনা করে। এখন হিন্দুদের কেউ করুনাও করে না, শিকার বলে মনে করে। সব শিকারীর লক্ষ্য এখন হিন্দু সমাজ। সেবা আর প্রলোভনের টোপ হাতে নিয়ে হাজার হাজার শিকারী হিন্দুদের শিকার করতে এসেছে, আসছে। খ্রিষ্টানরাষ্ট্র , মুসলিম রাষ্ট্রগুলো থেকে টাকা, কর্মী ভারতে আসে কোন সাহসে ? কারণ, তারা জেনে গেছে এখানে কোনো ঝুঁকি নেই। হিন্দু বাগাড়ম্বর, বিলাসী, শিথিল, ক্রয়যোগ্য, উদাসীন, আত্মরক্ষায় অসমর্থ, নিজেকে মনে করে উদার সর্বজ্ঞ। এমন আত্মনাশী জাতি আর বিশ্বের কোথায় পাওয়া যাবে ? অতএব শিকার করো। আরব রাষ্ট্রের টাকা আসছে ভারতে। খ্রিষ্টান মিশনারীরা শুধু ঘুরে বেড়ায় হিন্দু পাড়ায়। তাই এখন এদেশের ধর্মীয় গুরু, রাজনৈতিক নেতা এবং জনগনকে রূঢ় রাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। যোগী-সাধক-ভক্ত-বৈষ্ণব সকলকে মনে রাখতে হবে, জপ করুন, সাধনা করুন, কীর্তন করে কেঁদে ভাসিয়ে দিন, সর্বাগ্রে মনে রাখুন, হিন্দুভূমি-হিন্দুসমাজ-হিন্দুজাতি না থাকলে, কিংবা হিন্দুর সংখ্যা কম হয়ে গেলে, ওসব কিছুই থাকবে না। রাজনৈতিক নেতা এবং কর্মীদের মনে রাখতে হবে, মার্ক্সবাদ-গান্ধীবাদ-মমতাবাদ যা ই বলুন, এসব ততদিন ই বলা যাচ্ছে, যতদিন এদেশে হিন্দু বেশি আছে। মার্ক্সবাদে সুপণ্ডিত এবং গান্ধীবাদের তাত্ত্বিক নেতাদের মনে রাখতে হবে, তাদের সব তত্ত্বজ্ঞান মূল্যহীন হয়ে গেলো, পূর্ববঙ্গে, হিন্দু সংখ্যালঘু হয়ে গেল ব'লে। প্রয়াত প্রমোদ দাশগুপ্ত এখানে (পশ্চিমবঙ্গে) যতই গর্জন করুন, তিনি ভাবতেও পারেন নি, তাঁর স্বপ্নের মার্ক্সবাদ, তার জন্মভূমি ফরিদপুরে গিয়ে প্রচার করবেন। প্রফুল্ল সেন ভুলেও ভাবেন নি, তার জীবনাদর্শ গান্ধীবাদ, তার পিতৃভূমি খুলনায় গিয়ে আর প্রচারের সুযোগ পাবেন।

ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সম্পর্কে তার শিষ্যদের দাবী, তিনি নাকি পুরুষোত্তম, পূর্ণব্রহ্ম। তিনি বহু শিষ্যকে বলেছে, ধর্ম সবই সমান। কিন্তু পাকিস্তান হওয়ার আগেই, তিনি সৎসঙ্গের মূল আশ্রম পাবনা ছেড়ে পালিয়ে এলেন ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে। তার দিব্যজ্ঞান তাকে দিয়ে অনেক মহৎ, উদার কথা বলিয়েছে; কিন্তু কাণ্ডজ্ঞান তাকে বলেছে, "যা পালা, হিন্দুস্তানে, যেখানে হিন্দু বেশি আছে। তোর ব্রহ্মের শক্তি দিয়ে তুই এখানে আত্মরক্ষা করতে পারবি না।" তাই কাল বিলম্ব না করে তিনি পালিয়ে এলেন হিন্দুস্তানে। হিন্দুর সংখ্যা কম হয়ে গেলে পূর্ণব্রহ্মেরও কোনো মর্যাদা থাকে না। এই সরল সত্যটা ঠাকুরের শিষ্যদের সবচেয়ে আগে বুঝতে হবে।

এই বঙ্গে আরেকজন খ্যাতিমান গুরু ছিলেন, ইনি নাকি জন্মসিদ্ধ ঠাকুর ? বালক ব্রহ্মচারী, জন্ম, ঢাকা জেলার মেদিনীমণ্ডল গ্রামে। পূর্ববঙ্গ, পাকিস্তান হয়ে গেলে তার সিদ্ধাও কোনো কর্মেই লাগলো না। তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হলো, কোথায় ? পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে হিন্দু বেশি আছে। হিন্দু কম হলে পূর্ণব্রহ্মও ক্ষমতাহীন। জন্মসিদ্ধ ব্রহ্মচারীও তাই। এগুলো দিব্যজ্ঞানের কথা নয়, রাগের কথাও নয়। প্রমানিত সত্য। কিন্তু এই আঘাত, এই পলায়ন থেকে তারা কিছুই শিক্ষা নিলেন না। সন্তানদল একটি গানের রেকর্ড বের করেছে, যার প্রথমে আজান, পরে কথা, "যে আল্লা সেই রাম, রাম নারায়ন রাম।" আল্লাহ এবং রামের সহাবস্থান পূর্ববঙ্গে হলো না। আল্লার অনুগামীদের দাপটে হিন্দুর চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে তাকে পালিয়ে চলে আসতে হলো ভারতে। তারপরেও এই গান নিশ্চয় ঔদার্য এবং সহিষ্ণুতার লক্ষণ। কিন্তু এটি কাণ্ডজ্ঞানহীনতার এবং আত্মহত্যার লক্ষণও বটে। এত উদার এবং ভণ্ডজাত কখনো বাস্তবের সম্মুখীন হতে পারে না। তাই যখনই হিন্দু সমাজের উপর আঘাত এসেছে, এই সব দিব্যজ্ঞান সম্পন্ন মার্ক্সবাদী, পূর্ণব্রহ্ম ঠাকুর, ব্রহ্মচারীরা দিশেহারা হয়ে গেছে; পালিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। তাঁদের ঔদার্য, পাণ্ডিত্য, বাগ্মিতা, ব্রহ্মত্ব, সিদ্ধান্ত কোনো কাজেই লাগেনি।

ভারতে এসে এদের প্রথম কাজ ছিলো ধর্মের একটা ভিত্তি তৈরি করা, হিন্দু সমাজের সকল সম্প্রদায়কে একটা প্লাটফর্মে আনা, হিন্দুজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। প্রাণের আধার যেমন শরীর, তেমনি হিন্দু ধর্মের আধার হচ্ছে হিন্দু জাতি, হিন্দু সমাজ। সংগঠিত হিন্দু সমাজ না থাকলে তেত্রিশ কোটি দেব-দেবী, হাজার হাজার ধর্মগুরু, পণ্ডিত-রাজনৈতিক নেতা কেউ নিজেদের মর্যাদাকে রক্ষা করতে পারে না, পারবে না; তখন তাদের পালাতে হয়, মরতে হয়, না হয় ধর্মান্তরিত হতে হয়। এই খণ্ডিত বঙ্গে এখনও মুসলমানদের সংখ্যা শতকরা ৩০। এই সংখ্যা একান্নতে পৌঁছলেই মার্ক্সবাদ, গান্ধীবাদ, মমতাবাদ, অহিংসার বাণী, সর্বধর্ম সমন্বয়ের চেষ্টা, ভজন, কীর্তন, মালা, টিকি, মহোৎসব, ভোগ-আরতি সব শেষ হয়ে যাবে। সব ধর্ম সমান, খেটে খাওয়া মানুষের জাত নেই, হিন্দু মুসলিম ঐক্য চাই, এ দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ, এখানে শুধু হিন্দুদের কথা বলছেন কেনো ?- এসব বলার জন্য তখন আর কেউ থাকবে না। পূর্ববঙ্গে এই দিব্যজ্ঞান যুক্ত কথা আর কেউ বলে না, বলতে পারে না। ঢাকার রমনার বিখ্যাত কালীবাড়িটা যখন কামান দেগে চূর্ণ করে ট্যাংক দিয়ে সমান করা হলো, তখন কেউ একটা কথা বলে নি। এগুলো ফলিত সত্য। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে যখন হাজার হাজার মন্দির ধ্বংস করা হলো, তখনও কেউ একটা কথা বলে নি। এই বাস্তব সত্যের উপর দাঁড়িয়ে আজ সকলকে ধর্মের কথা, রাজনীতির কথা, ব্যক্তিজীবনের নিরাপত্তার কথাও ভাবতে হবে।

হিন্দু সংগঠিত, শক্তিশালী এবং সংখ্যাগুরু না থাকলে শুধু তার ধর্মই লাঞ্ছিত হয় না, তার জীবন সম্পত্তিও নিরাপদ থাকে না। এ শুধু পূর্ববঙ্গ বা পাকিস্তানের ইতিহাস নয়। এ এক হাজার বছরের ইতিহাস। গত হাজার বছর ধরে হিন্দুর দেব-দেবী যেভাবে লাঞ্ছিত অপবিত্র হয়েছে, তাতে দেবতাদের মর্যাদা বাড়ে নি। বহু মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমাদের দেব-দেবীর মহিমা কি শুধু পুঁথিপত্রে, কথাবার্তায় ? কথাটা মিথ্যে নয়। এদেশে আগে জনসংখ্যা ছিলো ত্রিশ কোটি, দেব-দেবীর সংখ্যা ছিলো তেত্রিশ কোটি। অর্থাৎ একটা দেবতা একটা মানুষের কল্যান করলেও আমরা তিন কোটি দেবতাকে বিদেশে মানুষের কল্যানের জন্য রপ্তানী করতে পারতাম। তাহলে এদেশে এত রোগ, শোক, দারিদ্র, অশিক্ষা, ভণ্ডামী, দুর্নীতি, স্বার্থপরতা কেনো ? এদেশে মঠ মন্দিরের সংখ্যা চৌত্রিশ লক্ষ, সাধু-সন্ন্যাসী, মোহান্ত, পণ্ডিত, পূজারীর সংখ্যা আটান্ন লক্ষ (বর্তমানে আরও বেশি)। এঁদের দায়িত্ব হিন্দু সমাজকে অভয় দেওয়া, সাহস যোগানো। অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার, এরাই ভীত সন্ত্রস্ত্র মাত্র কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি মৌলভী আর পাদ্রীর সামনে। কেনো ? কোথাও নিশ্চয় ফাঁকি আছে। আসলে জাত হিসেবে আমরা অত্যন্ত স্বার্থপর, ফাঁকিটা সেখানেই। সাধু-সন্ন্যাসী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, পণ্ডিত, পুরোহিত, যা ই হোন না কেনো, বেশিরভাগ হিন্দুর জীবন আত্মকেন্দ্রিক। ব্যক্তি ও পরিবারকে কেন্দ্র করেই তার সব চিন্তা ও কর্ম সীমাবদ্ধ; জীবনী শক্তির সবটুকু এতেই ব্যয়িত। মানুষের উপর তার বিশ্বাস নেই; সোজাসুজি ঈশ্বর, গুরু ও জ্যোতিষীর উপর নির্ভরশীল। হিন্দুর জীবন চর্চায় রাষ্ট্র নেই, সমাজ নেই, দেশ নেই। এটাই বৃহৎ ফাঁকি। এই ফাঁকিই সমগ্র হিন্দু সমাজকে স্ব-বিরোধী ও আত্মবিশ্বাসশুন্য করে দিয়েছে। হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজকে তারা সংকীর্ণ কাজ মনে করে। অথচ তাদের দিন কাটে, জীবন কাটে, ইউনিয়ন-রাজনীতি-গ্রুপিং করে, ছোট ছোট ক্লাব-জাতপাত-দলাদলি-ভেদবুদ্ধি-ঈর্ষা আর পরচর্চার উত্তেজনায়।

পাড়ায় বন্ধু নেই, প্রতিবেশির সঙ্গে মামলা চলছে, নিজের বাবাকে খেতে দেয় না, অথচ সাঁই বাবার ভজনা করছে। গর্ভধারিণী মা ভিক্ষে করছে, আর ছেলে তারাপীঠ-ঠনঠনিয়া কাঁপিয়ে দিচ্ছে মা মা করে। এরাই রাজনীতিতে হিন্দু মুসলিম ঐক্যের আওয়াজ তুলছে। দুনিয়ার শ্রমিককে এক করার কথা বলছে। হীন প্রবৃত্তি পরায়ণ ও স্বার্থপর হিন্দু, ভগবানকে পর্যন্ত নির্বোধ ভাবতে শুরু করেছে। তাই সকলকে বঞ্চিত করে, জপে-তপে-কীর্তনে-পূজায় ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে চাইছে। স্ব-বিরোধী মানুষের দিব্যজ্ঞান থাকে, কাণ্ডজ্ঞান থাকে না। ভণ্ডামী করে তাদের বেঁচে থাকতে হয়। স্ব-বিরোধী জাতের পায়ের তলায় মাটি থাকে না। আমাদের ধর্ম রাজনীতি সবকিছু একটা অবাস্তব ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে। তাই হিন্দুদের ইতিহাসের বেশির ভাগই দাঁড়িয়ে মার খাওয়ার ইতিহাস।

গৌরাঙ্গদেব বলে গেলেন, "ষোল নাম বত্রিশ অক্ষর" এ যুগের মহামন্ত্র। আমরা পাগলের মতো নাম গানে মেতে গেলাম। তিনি যে বললেন, "সঙ্গশক্তি কলৌযুগে" অর্থাৎ কলিযুগে সংঘবদ্ধ শক্তি ছাড়া বাঁচা যাবে না। সে কথাটা আমরা বেমালুম ভুলে গেলাম। আমাদের এমন একটা দেবতা নেই, যার হাতে অস্ত্র নেই। অথচ যে কোনো হিন্দু বাড়িতে গেলে দেখা যাবে, এক দঙ্গল ঠাকুর দেবতা আছে, কিন্তু একটা লাঠিও নেই।

এই পর্ব এই পর্যন্তই, বাকি অর্ধেক পাবেন ২য় পর্বে

জয় হিন্দ।