Thursday, 3 June 2021
শিব ও বিষ্ণুর মনে হয় ভূগোল জ্ঞান ছিল না ?
Thursday, 1 October 2020
পরিণত বয়সে- বীর্যপাত, বীর্যের ক্ষয় নয়, বীর্যের ব্যালান্স
পরিণত বয়সে- বীর্যপাত, বীর্যের ক্ষয় নয়, বীর্যের ব্যালান্স :
বেশ কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি ফটোপোস্টের বক্তব্যগুলো একটি গোষ্ঠী লাগাতারভাবে প্রচার করে যাচ্ছে। এদের সাথে আমি সম্পূর্ণভাবে একমত না হলেও, এটা আমি বলছি না যে অবৈধ যৌনসঙ্গ বা শুধুমাত্র দৈহিক সুখলাভের জন্য বীর্যক্ষয় করা উচিত। তবে এর কিছু বাস্তবতা আছে, যে বাস্তবতা না মানলে পুরুষেরা নানারকম সমস্যায় পড়বে, তাতে তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে এবং অন্যান্য উন্নতি ব্যাহত হবে।
ছোটবেলা থেকেই নানাজনের কাছে নানাভাবে শুনতে শুনতে এটা আমাদের মাথায় সেট হয়ে যায় যে, বীর্যক্ষয়ে দেহের ভয়াবহ ক্ষতি হয়, পড়াশোনা হয় না, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এতকিছু এতবার জানা বা শোনার পরও ছেলেরা যখন নিজেকে আটকাতে পারে না, হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যক্ষয় করে ফেলে, তখন তাকে গ্রাস করে এক ভয়াবহ বিষণ্নতা, এক অপরাধবোধ, যা তাকে প্রায় মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ করে তোলে এবং সে বার বার প্রতিজ্ঞা করে যে এই কাজ সে আর কখনো করবে না, কিন্তু তার শরীর কয়েকদিন পরেই তাকে আবার সেই কাজ করতে বাধ্য করে। সে আবারও সেই একই কাজ করে এবং একইভাবে অনুতপ্ত হয় এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়, যা তাকে শারীরিকভাবেও বিপর্যস্ত করে। এই ঘটনা একজন ছেলের জীবনে বার বার ঘটতে থাকে এবং এ সম্পর্কে ভুল শিক্ষার ফলে সে বার বার নিজের ক্ষতি করতে থাকে।
বাস্তবে কোনো পুরুষের পক্ষে বীর্যকে রক্ষা করা সম্ভব নয়, যে এটা রক্ষা করতে পারবে- হয় সে নপুংসক, নয়তো সাধক ব্রহ্মচারী মহাপুরুষ, বাস্তবে যারা সমাজের কোনো উপকারে লাগে না।
ছোটবেলা থেকেই আমি পড়ার পাগল, আমার আশেপাশের এমন কোনো বই পুস্তক বা পেপার পত্রিকা থাকবে না, যেগুলো আমার পড়ার বাইরে, তো ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেওয়ার পর একবার গেলাম চট্টগ্রামে, সেখানে আমার কাজিন আগে থেকেই চাকরি করতো। আমার কাজিন ছিলো বি.এ পাশ, তারও বিভিন্ন প্রকার বই পুস্তক পড়ার অভ্যাস ছিলো। তো তার বইয়ের তাকে দেখলাম যৌনতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি বই। যৌনতা তো পুরুষের কাছে এমনিই আকর্ষণের বিষয়, যার ব্যতিক্রম আমিও নই, আরও কারো পক্ষে হওয়াও সম্ভব নয়, আগেই বলেছি- যৌনতা যদি কারো কাছে ভালো না লাগে, হয় সে নপুংসক, নয় তো সাধক ব্রহ্মচারী, বাস্তবে সমাজের যাদের কোনো ভূমিকাই নেই।
যা হোক, বই পড়া শুরু করলাম এবং তার বিজ্ঞানভিত্তিক ও যুক্তিসঙ্গত আলোচনা বেশ ভালোই লাগলো, সেই বইয়ে লেখক বলেছেন, অনেক মানুষ বাল্যকালের অর্জিত ধারণায় মনে করে যে বীর্যক্ষয় করলে শরীরের নানাবিধ ক্ষতি হয়, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যদি এটি সত্য হতো, তাহলে বিবাহিত পুরুষরা তো মাটির সাথে মিশে যেতো। কারণ, একজন বিবাহিত যুবক প্রায় প্রতিদিনই বীর্যক্ষয় করে, কোনো কোনো দিন একাধিকবারও করে। যুক্তিটি আমার মনে খাটলো এবং চিন্তা করে দেখলাম সত্যি তাই তো।
বয়ঃসন্ধিকালে পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপত্তি হয়, যা একজন বালককে পুরুষের রূপান্তরিত করে, এই টেস্টোস্টেরন হরমোনই পুরুষের দেহে বীর্যের উৎপন্ন করে। পুরুষের প্রজনন তন্ত্রের মধ্যে বীর্যথলি নামক একটি প্রত্যঙ্গ আছে, সেই বীর্যথলি যখন ভরে উঠে, তখন পুরুষেরা ভীষণ উত্তেজনা বোধ করে, তখন নিজেকে শান্ত করার জন্য ঐ পুরুষকে বীর্যপাত ঘটাতে হয়, যদি কেউ কোনো সংস্কার বশত হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত না ঘটায়, ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে তার বীর্যপাত ঘটে যায়, একজন সক্ষম ও সুস্থ পুরুষের এ থেকে কোনো পরিত্রাণ নেই, বলা যায় এটাই তার নিয়তি।
তবে যে ছেলে রেগুলার বিভিন্ন প্রকার যোগ ব্যায়াম করে বা যেভাবেই হোক কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করে, সে তার এই বীর্যের উৎপাতকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়; কারণ যোগ ব্যায়াম বা যেকোনো প্রকার শারীরিক পরিশ্রম করার ফলে দেহের ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়। কিন্তু সাধারণভাবে কারো পক্ষে বীর্যের উৎপাতকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, যদি কেউ হস্তমৈথুন না করে তার স্বপ্নদোষ ঘ'টে তার বীর্যপাত হবেই।
যদি কোনো অবিবাহিত যুবক এই প্রতিজ্ঞা করে বসে যে সে কখনো বীর্যপাত করবে না, তাহলে তার ঘুম ঠিকমতো হবে না, আর ঘুম ঠিকমতো না হলে তার প্রতিদিনের সমস্ত কাজ, যেমন- চাকরি বা পড়াশোনা বা যেখানে কঠিন মনোযোগ দিতে হয়, সেসব কাজে সে খারাপ করতে থাকবে, এভাবে সে আস্তে আস্তে নিজের ক্ষতি নিজে করতে থাকবে, ফলে তার জীবনের সার্বিক উন্নতি ব্যাহত হবে।
অপরিণত বয়সে, যেমন- বালক বা কিশোর অবস্থায় বীর্যক্ষয় অবশ্যই শরীরের জন্য ক্ষতিকর; কারণ, এই সময় মানুষের দেহ গঠন হতে থাকে, তাই এই সময় বীর্যক্ষয়ে দেহের বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু যুবক বা পরিণত বয়সে বীর্যক্ষয়ে বাস্তবে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না, বরং এই সময়ে বীর্যক্ষয় না হলেই শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। যারা বিবাহিত, তারা তো বীর্যক্ষয় করে বা করবেই, এটা সাধারণ বিষয়। কিন্তু যারা অবিবাহিত, তারা যদি দেহে যৌনতার কারণে প্রচণ্ড উত্তেজনা বোধ করে, তখন তাদেরকে বীর্যপাত করতেই হবে, না হলে তারা নানারকম শারীরিক এবং মানসিক চাপে পড়বে, যা তাদের ক্ষতি করবেই করবে।
সনাতন ধর্মের চার আশ্রমের প্রথমটি, যাকে বলে ব্রহ্মচর্য, যে সময়ে মানুষ শিক্ষা গ্রহন করে, সেই সময়ে অপ্রয়োজনে শুধু দৈহিক সুখলাভের জন্য বীর্যক্ষয় অবশ্যই খারাপ এবং তা দেহের জন্য ক্ষতিকারক, কিন্তু যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে- সে বীর্যপাত না করে সুখ পাচ্ছে না, নানারকম সমস্যায় ভুগছে, তখন সে বীর্যপাত করতে পারে, এতে তার কোনো শারীরিক ক্ষতি তো হবেই না, উল্টো ভালো ঘুম হবে এবং এর ফলে বিভিন্ন কাজে ভালো করে মনোযোগ দিতে পারবে।
বীর্য রক্ষার ব্যাপারটা সারা পৃথিবীর মধ্যে শুধু ভারতীয় সাধু সন্ন্যাসীদের মধ্যেই প্রচলিত, যারা বিয়ে করে সংসার করে না। কিন্তু এতে বাস্তবে ভারতের কী উপকার হয়েছে ? নিজেদের বীর্য রক্ষা করে তারা জগতের কোন কল্যানটা করেছে ? ম্যাক্সিমাম মুনি ঋষিগণ বিয়ে করেছিলেন, সংসার করেছিলেন, সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, ফলে এটা প্রমাণিত যে গার্হস্থ্য আশ্রমে প্রবেশ করে আপনি বীর্যকে কাজে লাগাতে পারেন, তাতে সনাতন ধর্মে কোনো সমস্যা নেই। বরং সমস্যা এটাই যদি আপনি আপনার বীর্যকে কাজে না লাগিয়ে সন্তানের জন্ম না দেন। কারণ, তাতে সনাতনী সমাজের জনসংখ্যা কমে সনাতনী সমাজ শক্তিহীন হবে, আপনার বংশ তো বিলুপ্ত হবেই, আর সন্তানের জন্ম না দিয়ে সনাতনী সমাজের ক্ষতি করায় আপনার পারলৌকিক কোনো গতি তো হবেই না, সেটা পরের ব্যাপার।
তাই বীর্যধারণ বা বীর্যরক্ষার ব্যাপারটা জীবনের একটা সময়ের জন্য প্রযোজ্য, যখন আপনার শরীর গঠন হচ্ছে, আপনি শিক্ষা জীবনে আছেন, কিন্তু যৌবনে আপনাকে বিয়ে করতেই হবে, তখন বীর্য রক্ষা কোনো বিষয় নয়, তখন বিষয় হলো বীর্যকে কাজে লাগিয়ে উপযুক্ত সন্তানের জন্মদান। কিন্তু সঠিক সময়ে বিয়ে না হলে, বীর্যের উৎপাতের কারণে যদি আপনার ঘুম ঠিক মতো না হয় বা কোনো কাজে ভালোভাবে মনোযোগ দিতে না পারেন তখন আপনি বীর্যপাত করতে পারেন, এটা কোনো ভাবেই বীর্যের ক্ষয় নয়, বীর্যের ব্যালান্স।
ইন্টারমিডিয়েট বা উচ্চমাধ্যমিক পড়াকালীন আমি ভারত সেবাশ্রম সংঘের একটি আশ্রমে বেশ কিছুদিন ছিলাম, সেখানে নিরামিষ খাইয়ে ছেলেদের হীন দুর্বল করার পাশাপাশি, তাদের বীর্যরক্ষার ব্যাপারে বেশ উৎসাহ দেওয়া হয়। এসব নিয়ে ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের বেশকিছু বই আছে, সেগুলো পড়তে দেওয়া হয়। যদিও আমি ক্লাস নাইন থেকেই বিভিন্ন প্রকার যোগ ব্যায়াম, ক্যারাটে, বক্সিং এসবের চর্চা করি এবং যৌনতার দিক থেকে একজন সক্ষম ও সুস্থ পুরুষ হিসেবে প্রয়োজনে মাঝে মাঝে বীর্যপাতকে কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না এবং বাল্যকালে অর্জিত ধারণা মোতাবেক অপরাধবোধে ভুগি, তার উপর আবার আশ্রমে গিয়ে ঐসব বই পুস্তক পড়ে বিষয়টি নিয়ে খুবই সিরিয়াস হয়ে গেলাম যে না আর কোনোভাবেই বীর্যপাত করবো না, দেখি কী হয় ?
এর জন্য যৌন উত্তেজক কোনো কিছু দেখি না, সেই রকম আলোচনা শুনি না, এর মধ্যে আমার শরীরচর্চা কিন্তু চলছেই, তারপরও সপ্তাহ দুয়েক যেতেই খেয়াল করলাম ঘুমের ঘোরে উত্তেজনা বোধ হচ্ছে, নানা রকম সেক্সুয়াল স্বপ্ন দেখছি, উত্তেজনার জেরে ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে, প্রস্রাব করে এসে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করছি, এইভাবে নানারকম মানসিক অশান্তি ও শারীরিক সমস্যা নিয়ে চলছি, লক্ষ্য একটাই বীর্যপাত আর ঘটতে দেবো না, কিন্তু ২৮ দিনের দিন ঘটনা ঘটেই গেলো, ঘুমের মধ্যে আমার বীর্যপাত হয়ে গেলো এবং তারপর আবার শরীর ও মনে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পেলাম। তবু এই বাস্তব ব্যাপারকে বাল্যকালে অর্জিত বিশ্বাস এবং আশ্রমের শিক্ষার জন্য আমি মন থেকে মেনে নিতে পারছিলাম না যে প্রয়োজনে বীর্যপাতে শরীরের কোনো সমস্যা হয় না, এটা মাঝে মাঝে প্রয়োজনে করা যেতে পারে। কিন্তু এই ভ্রান্ত বিশ্বাস সম্পূর্ণ আমি ঝেড়ে ফেলতে পারি ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেওয়ার পর যখন আমি চট্টগ্রামে গিয়ে ঐ বইটি পড়ি।
তারপর থেকে বিয়ে করার পূর্ব পর্যন্ত এটা নিয়ে আমি আর কখনোই হীনন্মন্যতায় ভুগি নি, যখন প্রয়োজন হয়েছে, তখন করেছি এবং এভাবেই আমি যথেষ্ট সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন নিয়ে বেঁচে আছি। রেগুলার ব্যায়াম করার ফলে প্রায় সালমান খান টাইপের একটি শরীরসহ, সব সময়ই আমার শরীরে সাধারণ মানুষের তুলনায় দ্বিগুন শক্তি ছিলো এবং এখনও আছে, যে শক্তিদ্বারা কাউকে এক থাপ্পড় দিয়ে তার ত্রিভুবন ঘুরিয়ে দিতে পারি, অন্যান্য আঘাতের কথা আর না ই বা বললাম এবং এই দৈহিক শক্তি ও ফিটনেস আমি নিরঙ্কুশ বীর্যধারণ করে করি নি, প্রয়োজনে বীর্যপাত করেছি, সেটা তো খুলেই বললাম, তাহলে বীর্যপাতে এই অপকার হয়, ঐ অপকার হয়, এসব বলে কি যুব সমাজের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে তাদেরকে অপরাধবোধে ভুগিয়ে তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করার কি কোনো দরকার আছে ? শত কেনো, হাজার চেষ্টা করলেও তো কোনো যুবক নিজেকে বীর্যপাত করার থেকে আটকাতে পারবে না।
হিন্দু সমাজে বৈষ্ণব নামধারী একশ্রেণীর ধর্ম ব্যবসায়ী বা গুরু আছে, এদের বেশির ভাগই বাড়িতে কেউ নিরামিষ খায় না, কিন্তু শিষ্যের বাড়িতে গেলে বা কোথাও কোনো অনুষ্ঠান করতে গেলে নিরামিষ ছাড়া কিছু খায় না বা এমনভাব দেখায় যে যদি কোনো আমিষ খায় বা আমিষের স্পর্শ লাগে এদের ভয়াবহ সর্বনাশ হয়ে যাবে। বাস্তবে এটা একপ্রকার ভণ্ডামী। বাস্তবে বৈষ্ণব সমাজ যেহেতু নপুংসকতার পূজারীর সমাজ এবং ভণ্ডামীর সমাজ, যে নপুংসকতা ও ভণ্ডামী বৈষ্ণব সমাজের প্রভাবে সনাতনী সমাজেও বিস্তার লাভ করেছে বা করছে, তাই বৈষ্ণব মতবাদের প্রভাবে অনেক হিন্দু নিজেরা অঢেল মাছ মাংস খেলেও বা তাকে সমর্থন করলেও তাদের কানমন্ত্র গুরুরা বা সনাতন ধর্মপ্রচারকেরা মাছ মাংস খাক, সেটা তারা মেনে নিতে পারে না। নিরামিষ না খেলে বৈষ্ণব সমাজে বা বৈষ্ণব প্রভাবিত হিন্দু সমাজে তারা কোনো মূল্য পাবে না, এটা ধরে নিয়ে ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও তারা নিরামিষ খেয়ে নিজেদের বাজার ঠিক রাখে, আর যারা আমিষ খাওয়া থেকে নিজেকে কণ্ট্রোল করতে না পারে, তারা বাড়িতে মাছ মাংস খায়, আর বাইরে গিয়ে আমিষ না খাওয়ার এবং নিরামিষ খাওয়ার ভণ্ডামী করে।
এই একইভাবে যৌনতার ব্যাপারে কিছু যুবক এমন ভাব দেখায় যে, তারা ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না, যৌনতার ব্যাপারে তারা যেন নির্মল এবং সাধুসন্ত মহাপুরুষ। তাই খুব কম যুবকই আছে, যারা তাদের যৌনজীবনকে খোলাখুলি সবার কাছে স্বীকার করার সাহস রাখে, যেমন আমি এই প্রবন্ধে করলাম; কারণ, আমি ভণ্ড নই, আমি যা, তাই প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করি না বা তা প্রকাশ করার সাহস আমার আছে। এই একই কারণে মাছ মাংস খেয়েও আমি সনাতন ধর্মের প্রচার করি, আর এটা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেমন গীতাপাঠ করি, তেমনি সনাতন ধর্ম বিষয়ে বক্তৃতাও দিই। বৈষ্ণবগুরুদের মতো বিয়ে সংসার করে সন্তানের জন্ম দিয়েও আমি যেমন নিজেকে বৈষ্ণব বলে প্রচার করি না; কারণ, বৈষ্ণব মতবাদে বিয়ে সংসার সন্তানের জন্মদান বলে কিছু নেই; তেমনি ধর্মপ্রচার করতে হলেই তাকে নিরামিষ খেয়ে নপুংসক হতে হবে, এই ধারণাও আমি মানি না। আমি জানি সনাতন ধর্মের প্রকৃত সত্য কী, তাই সেটাই মানি, আর সেটাই কাজে প্রকাশ করি।
কারণ, আমার উদ্দেশ্যে জনগনের মন মতো কথা ও কাজ করে অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো নয়, আমার উদ্দেশ্যে সনাতন ধর্মের প্রকৃত সত্যকে সবার সামনে তুলে ধরা; কারণ, মিথ্যাই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, আর মহাভারতের কথা অনুযায়ী, যেখানে মিথ্যা আছে, সেখানে ধর্ম থাকে না। একারণে দশ জন যদি আমার লেখা পড়ে এবং তাদের মধ্যে থেকে একজন যদি আমার কথাকে মানে, সেটাই আমার সফলতা বলে মনে করি। কারণ, একটি বনে একটি বাঘই গুরুত্বপূর্ণ, ১০টি শেয়াল নয়। তাছাড়া আমি এই বাস্তবতাতেও বিশ্বাস করি যে- আজকে প্রকৃত সত্যকে হয়তো অনেকের কাছে তিতা লাগছে; কারণ, সত্য সব সময় তিতাই হয়; কিন্তু একদিন অধিকাংশ লোক আমার সেই সত্যকে মেনে নেবেই, কেননা সত্যের জয় যে অবশ্যম্ভাবী।
যা হোক, দেহের চাহিদাকে অবজ্ঞা করে কোনো পুরুষ যদি দেহের উপর দমন পীড়ন চালায়, সে শুধু নিজের ক্ষতিই করবে না, তার দ্বারা সমাজেরও ক্ষতি হতে পারে বা হয়। ইসলাম এমনিতেই ধর্ষকদের মতবাদ; কারণ, গনিমতের মালের নামে অমুসলিম নারীদেরকে ধরে এনে ধর্ষণ করে বা কোনো অমুসলিম এলাকাকে গায়ের জোরে দখল করার পর সেখানে তিন দিন ব্যাপী বিজয় উৎসব পালনের নামে ধর্ষণের উৎসব করে মুহম্মদ এবং তার অনুসারীরা মুসলমানদের জিনে যে ধর্ষণের বীজ ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে, তার কারণে মুসলমানদের মধ্যে ধর্ষণের একধরণের বাতিক আছে, তাই কারণে অকারণে এরা সুযোগ পেলেই ধর্ষণ করে ফেলে, আর এতে কে বাচ্চা বা কে বুড়ি সেটার কোনো হিসেবে করে না।
এছাড়াও আরেকটি কারণে মুসলমানদের মধ্যে ধর্ষণ প্রবণতা বেশি, সেটা হলো- ইসলামে হস্তমৈথুন করা নিষেধ। একারণে ধর্মের ভয়ে যেসব মুসলমান হস্তমৈথুন করতে পারে না, তাদের দেহের উত্তেজনা সহ্য করতে না পেরে ধর্ষণ করে ফেলে, এই ধর্ষকরা হলো ইসলামিক লেবাসধারী- মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা; আর এদের শিকার মসজিদ মাদ্রাসায় কোরান পড়তে আসা কম বয়সী শিক্ষার্থীরা। দেহের উত্তেজনা নিরসনে হিন্দু যুবকদের মধ্যে যদি বীর্যপাতের স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে হিন্দু যুবকদেরও মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটবে এবং তারাও ধর্ষণের মতো ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটিয়ে ফেলবে। তাই পরিণত বয়সে বীর্যের ব্যালান্স নিয়ে সমাজে ভুল তথ্য ছাড়ানো অনুচিত।
যারা বীর্যরক্ষা, বীর্যরক্ষা ব'লে চিল্লায়, তারাও যে বীর্য রক্ষা করতে পারে না, সেটা আমি নিশ্চিত; আর যদি তারা সেটা পারে, তাহলে তারা যে নপুংসক, সেটাও আমি নিশ্চিত। কারণ, এটা সাধারণ শারীরিক প্রক্রিয়া, পায়খানা প্রস্রাবকে যেমন আপনি আটকে রাখতে পারবেন না, তেমনি বীর্যকেও আপনি কখনো আটকে রাখতে পারবেন না, যদি আপনি এ ব্যাপারে সুস্থ স্বাভাবিক হন।
ফটোপোস্টে যাকে দেখছেন, সেই স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব, বীর্যরক্ষা করে জগতের কী কল্যাণ করেছেন ? তার কথা মতো বীর্যক্ষয় যদি সকল দুঃখের ও দুগর্তির আকর হয় এবং বীর্যক্ষয়ে যদি দৈহিক মানসিক ও আত্মিক সকল সর্বপ্রকার অধঃপতন হয়, তাহলে তো তিনি জীবনে একদিনও বীর্যক্ষয় করেন নি বলে ধরে নিচ্ছি। এতে তিনি জগতের কোন উপকারটা করেছেন ? তাঁর বীর্যরক্ষার ফলে কি তিনি নিজের দেহে বা মনে এমন আধ্যাত্মিক শক্তির সঞ্চার করতে পেরেছেন, যার দ্বারা হিন্দুরা মুসলমানদের অত্যাচার নির্যাতন থেকে রক্ষা পেয়েছে ? অথচ এই বীর্য দ্বারা যদি তিনি এক বা একাধিক সন্তানের জন্ম দিতেন, তারা হিন্দু সমাজের জন্য শক্তি হতো।
শুধু এই স্বরূপানন্দ ই নন, যাঁরাই বীর্যরক্ষার ভণ্ডামি করেছেন, যেমন- চৈতন্যদেব, রামকৃষ্ণদেব, বিবেকানন্দ, প্রণবানন্দ, জগদ্বন্ধু, মহানামব্রত ব্রহ্মচারী, বালক ব্রহ্মচারী, রামঠাকুরসহ অসংখ্য স্ত্রী-সংসার-সন্তানহীন মানুষ, যাদেরকে আমরা মহাপুরুষ বলে মনে করি এবং শ্রদ্ধা করি, তারা কি বাস্তবে বীর্যরক্ষা করে সমাজ সংসারের কোনো উপকার করতে পেরেছেন ? এদের বিপরীতে অন্তত এই দিক থেকে হরিচাঁদ এবং অনুকূলকে আমি শ্রেষ্ঠ মনে করি। তাঁরা বীর্যরক্ষার ভণ্ডামি না করে বিয়ে করেছেন, সংসারের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করেছেন এবং সন্তানের জন্ম দিয়ে সমাজের উপকার করেছেন। মূলত এই একটি সঠিক কাজ করার জন্যই দেখুন, থিয়োরিগতভাবে ভুল হলেও মতুয়া সমাজ এবং সৎসঙ্গের কেমন রমরমা, আর অন্যরা নিভু নিভু করছে।
যারা বীর্য রক্ষার পক্ষে এত সাফাই গায়, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি- আপনাদের জন্ম কি আপনার পিতার বীর্যরক্ষার ফলেই হয়েছিলো, না তার নিরন্তর বীর্যপাতের ফলে হয়েছিলো ? কোনো কোনো সন্তানের জন্ম হয়তো একবার সঙ্গমের ফলেই হয়, কিন্তু বেশির ভাগ সন্তানকে জন্ম দিতে গিয়ে তাদের পিতামাতাকে মাসের পর মাস বছরের পর বছর ধরে সঙ্গম করতে হয়। তাই দুই একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে আমার আপনার জন্ম কিন্তু আমাদের পিতা মাতার নিরন্তর সঙ্গমের ফলেই হয়েছে, যেখানে পিতারা বহু বীর্যক্ষয় করেছে। আর বীর্যক্ষয় যদি এতই খারাপ বা এতই ভয়াবহ হয়, তাহলে কেউ জীবনে একবারই বা তা করবো কেনো ? এই একবারও যদি আপনার পিতা বীর্যক্ষয় না করতো, তাহলে আপনার কি জন্ম হতো ? আর আপনাদের কথা অনুযায়ী যদি জগতের সকল পুরুষ বীর্যক্ষয় বন্ধ করে দেয়, তাহলে সৃষ্টি প্রক্রিয়া তো বন্ধ হয়ে যাবে, তাহলে সমাজ সভ্যতা কয়দিন টিকে থাকবে ?
বীর্যক্ষয় সম্পর্কিত এই ধরণের ভাবনা আসলে একটি নপুংসক ভাবনা, যার সূচনা মধ্যযুগে চৈতন্যদেব থেকে।
চৈতন্যদেব তো বিবাহ করেছিলেনই, যদি তিনি কমপক্ষে একটি সন্তানের জন্ম দিতেন এবং সেই সন্তান যদি পুত্র হতো, তাহলে হয়তো বৈষ্ণব মতবাদের বর্তমান চেহারাটাই শুধু অন্যরকম হতো না, চৈতন্যদেবকেও হয়তো পুরীর মন্দিরের পাণ্ডাদের হাতে খুন হতে হতো না। আর বর্তমানে- দুই দুইটি মেয়ের জীবন নষ্ট করার জন্য এবং নিজে সন্তানের জন্ম না দিয়ে হিন্দু সমাজের জনসংখ্যা কমানোর জন্য এবং নিজেদের আদর্শে হিন্দু যুবকদের সংসার বিরাগী করে ঐ সন্তানদের পিতা মাতার স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করার জন্য- যারা চৈতন্যদেবের সমালোচনা করছে, তারাও সমালোচনা করতে পারতো না। যেসব তথাকথিত মহাপুরুষ, বীর্যরক্ষার তাগিদে সন্তানের জন্ম দেয় নি, তাদের আদর্শ একদিন না একদিন মুখ থুবড়ে পড়বেই, যেহেতু সেই আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কোনো উত্তরাধিকারের জন্ম দিয়ে যায় নি। এই বিবেচনায় সৎসঙ্গ এবং হরিচাঁদের মতুয়া সমাজকে কিন্তু আমার অনেক বেশি টেকসই মনে হচ্ছে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো- যারাই বীর্যরক্ষার তাগিদে বিয়ে করে নি, সন্তানের জন্ম দেয় নি, তারাই আবার অন্যের বীর্যপাতের ফলে জন্ম নেওয়া মানুষদেরকে নিজেদেরে ভক্ত-অনুসারী বা শিষ্য বানাতে ব্যস্ত, তাদেরই আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বীর্যপাত যদি এত খারাপ হয় বা বীর্যপাত যদি পাপ হয়, তাহলে বীর্যপাতের ফলে জন্ম নেওয়া কোনো সন্তান কিভাবে পাপমুক্ত হয়, যে তাকে নিজেদের ভক্ত অনুরাগী বানানোর জন্য এত টানাটানি করতে হবে ?
বীর্যরক্ষার তাগিদে যাদের ঘুম হয় না, সেই সব মহারাজ-ব্রহ্মচারী-সাধু-সন্ন্যাসীরা বাস্তবে হিন্দু সমাজের ক্ষতি করে চলেছে- হিন্দু সমাজের জনসংখ্যা কমিয়ে এবং বীর্যরক্ষার নামে হিন্দু যুবকদেরকে সংসার থেকে দূরে রেখে। সমাজ টিকে থাকে জনসংখ্যার উপরে, আপনি যদি সেই সমাজকেই টিকিয়ে রাখতে কোনো ভূমিকা পালন না করেন, তাহলে আপনি কিভাবে সমাজের উন্নতি করলেন ? অখণ্ড ভারতের যে যে অংশে মুসলমানরা বর্তমানে নিজেদের শাসন কায়েম করেছে, সেটা তারা করেছে নিজেদের বীর্যকে কাজে লাগিয়ে সন্তানের জন্ম দিয়ে সেইসব সন্তানদের মাধ্যমে ঐসব এলাকার ভূমি দখল ক'রে; আর এদের বিপরীতে আমাদের হিন্দু ধর্মগুরুরা ব্যস্ত বীর্যরক্ষার নামে সন্তান জন্ম না দিতে ! হিন্দু সমাজ যদি কোনোদিন বিলুপ্ত হয়, এইসব নপুংসক মহারাজ-ব্রহ্মচারী-সাধু-সন্ন্যাসীদের আদর্শের কারণেই হবে।
আমি বাস্তব কথা বলি বলে- অনেকেরই আমার কথা ভালো লাগে না। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। বিনা পয়সায় প্রকৃত সত্য ও বাস্তবতার জ্ঞান দিয়ে যাচ্ছি, যা যে কাউকে ভালোভাবে রাখতে ও সুন্দরভাবে বাঁচাতে সক্ষম, যার ন্যূনতম বোধবুদ্ধি আছে, সে আমার কথাকে মেনে নিয়ে নিজের উপকার ঘটাবে, আর যার সেই ন্যূনতম বোধ বুদ্ধি নেই, সে ধ্বংস হবে; তাতে কার ই বা কী করার আছে ? এজন্যই বোধহয় শ্রীকৃষ্ণ গীতার একটি শ্লোকে অর্জুনকে বলেছিলো- আমার যা বলার তোমাকে বললাম, এখন তোমার যা ইচ্ছা হয় তা করো।
বাস্তবে বীর্যরক্ষার আন্দোলনকারীদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে বিয়ে থেকে দূরে রাখা। আর এটার চেয়ে ক্ষতিকারক কোনো বিষয় সমাজে নেই। কারণ, একজন পুরুষ বিয়ে না করলে একজন মেয়ের গতি হয় না, একটি পরিবার সৃষ্টি হয় না, যে পরিবার সমাজ বা রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও কোনো পুরুষ বিয়ে না করলে তার বংশ বিলুপ্ত হয় এবং বংশের বিলুপ্তির মাধ্যমে সমাজের জনসংখ্যা কমে সমাজ অস্তিত্বের সংকটে পড়ে। তাই বীর্যরক্ষার আন্দোলনকারীদের কোনোরকম পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং এদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই দমন করতে হবে; কারণ, এরা সমাজের ক্ষতি করছে। পরিণত বয়সে বীর্য রক্ষা নয়, বীর্যকে সঠিক পন্থাতে কাজে লাগালেই হয় বা হবে সমাজের প্রকৃত কল্যান।
জয় হিন্দ।
Thursday, 24 September 2020
কৃষ্ণকে জন্ম নেওয়ার সুযোগ কংস কেনো দিয়েছিলো ?
কৃষ্ণকে জন্ম নেওয়ার সুযোগ কংস কেনো দিয়েছিলো ?
#Md_Shibaji নামের এই খচ্চরের প্রশ্নের জবাব একটু পরে দিচ্ছি, তার আগে যে গ্রুপে সে এই প্রশ্নটি তুলেছে, সেই "ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি" সম্পর্কে কিছু বলে নিই।
এই ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি গঠন করে প্রবীর ঘোষ নামের এক সেকুলার। ইন্টারমিডিয়েট বা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর প্রবীর ঘোষের একটি বিখ্যাত বই 'অলৌকিক নয় লৌকিক', এক নাস্তিকের মাধ্যমে প্রথম হাতে পাই, এই একটা বই পড়েই আমি প্রবীরের দারুন ভক্ত হয়ে যাই, তারপর প্রবীরের যত বই যেখানে যা পেয়েছি সব সংগ্রহ করে পড়েছি।
প্রবীর ঘোষ- সাধারণত তার বইগুলোতে আমাদের চারপাশে ঘটা বা কোনো ব্যক্তিবিশেষের দ্বারা ঘটানো তথাকথিত অলৌকিক ঘটনাগুলো কিভাবে ঘটানো হয়েছে, তার বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা দেয়। এই প্রবীর ঘোষ এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা্ এককথায় পাঁড় নাস্তিক, বলা বাহুল্য এই প্রবীর ঘোষের বই পড়তে পড়তে আমিও এক সময় নাস্তিকে পরিণত হয়েছিলাম।
পাঠ্য পুস্তকের ইতিহাস বলে- গজনীর সুলতান মাহমুদ ১৭ বার সোমনাথ মন্দির আক্রমন করে ধ্বংস করেছে, কিন্তু এটা বলে না যে সেই ১৭ বার আক্রমনে সুলতান মাহমুদ কত লক্ষ হিন্দুকে হত্যা করেছে, কত লক্ষ নারী ও শিশুকে দাস হিসেবে বন্দী করে নিয়ে গিয়ে গজনীতে বিক্রি করেছে, আর কত মন সোনা রূপা পিতলসহ অন্যান্য ধনরত্ন, সোমনাথ মন্দির থেকে লুট করে নিয়ে গেছে।
সোম মানে চাঁদ বা চন্দ্র, পৌরাণিক কাহিনী মতে চন্দ্র, প্রজাপতি দক্ষ দ্বারা- আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে বিলুপ্ত হওয়ার অভিশাপে অভিশপ্ত হয়ে প্রভাস তীর্থ, অর্থাৎ যেখানে সোমনাথ মন্দির অবস্থিত, সেখানে এসে শিবের আরাধনা করতে থাকে, শিব তার আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে চন্দ্র বা সোমকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন, এতে চন্দ্র সেখানেই একটি মন্দির বানিয়ে শিবলিঙ্গ স্থাপন করে। ফলে চন্দ্র বা সোমের রক্ষাকর্তা হিসেবে শিবের এই মন্দিরের নাম হয় সোমনাথ মন্দির। এই মন্দিরটি কত প্রাচীন তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়; এই মন্দিরের সাথে রাবন এবং কৃষ্ণের নামও জড়িয়ে আছে।
যা হোক, এই মন্দিরের প্রতি লোকজনের আকর্ষণ বাড়াতে এটির নির্মাণ বা পুণনির্মান কালের কোনো এক সময়, এতে একটি ঘটনা ঘটানো হয়েছিলো, শিবলিঙ্গটিকে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিলো যাতে এটি শুন্যে অবস্থান করতে থাকে, অর্থাৎ শিবলিঙ্গটি ভূমি থেকে খানিক উপরে শূন্যে অবস্থান করতো, সাধারণ লোকজনের কাছে এটি অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হতো এবং মন্দিরের উন্নয়নের জন্য যেমন তারা অকাতরে মন্দিরে ধন সম্পদ দান করতো, তেমনি নিজেদের স্বর্ণ অলঙ্কার তারা মন্দিরে রেখে যেতো, প্রভু শিব, তাদের সেই ধনসম্পদকে রক্ষা করবে এই ভরসায়।
সোমনাথ মন্দিরে রক্ষিত এই সব ধন সম্পত্তির খবর যায় লুটেরা সুলতান মাহমুদের কাছে এবং তারপর সে একের পর এক ১৭ বার সোমনাথ মন্দিরে অভিযান চালায়।
এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে সোমনাথ মন্দিরের ঐ শিবলিঙ্গকে শুন্যে ভাসিয়ে রাখা হয়েছিলো ? একটু আগেই বলেছি, সোমনাথ মন্দির কত প্রাচীন, তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই প্রাচীনকালেও ভারতের বিজ্ঞান কতদূর এগিয়েছিলো, তার নিদর্শন আছে এই সোমনাথ মন্দিরে শিবলিঙ্গ স্থাপনের মধ্যে।
সোমনাথ মন্দিরে যে শিবলিঙ্গটি স্থাপন করা হয়েছিলো, সেটি ছিলো ধাতব এবং তাকে প্রাকৃতিক চুম্বকের মাধ্যমে চতুর্দিক থেকে আকর্ষণ করে মাঝখানে শুন্যে স্থির রাখা হয়েছিলো। বর্তমান যুগেও পৃথিবীতে এমন কোনো নিদর্শন নেই, যাতে চুম্বকের এই সূক্ষ্ম ব্যালান্সের ব্যবহার আছে। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে তড়িত চুম্বকের মাধ্যমে নানা ধরণের ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করেছে, কিন্তু প্রাকৃতিক চুম্বকের এরকম আশ্চর্য সূক্ষ্ম ব্যলান্সের ব্যবহার পৃথিবীর ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই, এই দিক থেকেও সোমনাথ মন্দিরে শিবলিঙ্গ স্থাপন, শুধু সেই প্রাচীনকালেই নয়, বর্তমান যুগেও একটি অলৌকিক ব্যাপারই বটে।
যা হোক, সোমনাথ মন্দিরের শূন্যে ভাসা সেই শিবলিঙ্গকে নিয়ে দেশে বিদেশে একটি অলৌকিক মিথ গড়ে উঠেছিলো, যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষিত হয় গজনী অর্থাৎ বর্তমান আফগানিস্তানের শাসক সুলতান মাহমুদের; ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে ভারতের প্রতি যত মুসলমান শাসকের নজর পড়েছে, তাদের সকলের একটাই উদ্দেশ্য ছিলো ভারতের হিন্দুদেরকে মুসলমান বানানো। সুলতান মাহমুদ ভেবেছিলো, সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করে যদি শিবলিঙ্গের সেই অলৌকিতার বিশ্বাসকে ভেঙ্গে দেওয়া যায়, তাহলে ভারতের হিন্দুদেরকে সহজে মুসলমান বানানো যাবে, তাই সে প্রথমবার মন্দির আক্রমন করে তা ধ্বংস করে এবং পরবর্তীতে ধন সম্পদের লোভে বার বার সে আক্রমন পরিচালনা করে। শুধু সুলতান মাহমুদই নয়, আরো অনেক মুসলমান শাসক এই মন্দির আক্রমন করেছে এবং লুঠপাটের সাথে তা ধ্বংসও করেছে। শুধু সোমনাথ মন্দিরের উপর একটি প্রবন্ধ আমি খুব শীঘ্রই লিখবো, সেখানে আপনারা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
যা হোক, শুন্যে ভাসা শিবলিঙ্গের অলৌকিকতার বিশ্বাসকে ভেঙ্গে ফেলায়, সেকুলার প্রবীর ঘোষ, তার এক বইয়ে সুলতান মাহমুদের প্রশংসা করে এরকম একটি কথা বলেছে- এটা ছিলো অন্ধ ধর্মবিশ্বাসী মানুষকে বিজ্ঞানের পথে আনার একটা প্রথম পদক্ষেপ।
আর এটাই হলো প্রবীর ঘোষকে আমার অপছন্দ করার প্রথম কারণ। যে ব্যক্তি ভারতের লক্ষ লক্ষ হিন্দুকে হত্যা করেছে, লক্ষ লক্ষ হিন্দু নারী শিশুকে দাস হিসেবে বন্দী করে নিয়ে গেছে, কোটি কোটি কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি লুট করে নিয়ে গেছে, এককথায় যার হাতে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা, ভারতীয় হিন্দু সভ্যতা বিপন্ন হয়েছে, তার প্রশংসা করেছে যে কুকুর, তাকে আমি কিছুতেই আমার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারি না; এজন্যই আমি ঘৃণা করি প্রবীর ঘোষকে এবং তার সংগঠন ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতিকে।
শুরুতেই MD Shibaji কে কেনো আমি খচ্চর বলে অভিহিত করেছি, এখন তার ব্যাখ্যা দিচ্ছি-
গাধা এবং ঘোড়া হলো কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের প্রাণী। এই গাধা এবং ঘোড়ার যৌনমিলনে যখন কোনো প্রাণীর জন্ম হয় তাকে বলে খচ্চর। এই খচ্চর শব্দটি বর্তমানে একটি গালি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে দুই ধরণের বৈশিষ্ট্য বা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড লক্ষিত হয় তার উদ্দেশ্যে। খেয়াল করুন, যার স্ট্যাটাসের জবাব দেওয়ার জন্য এই প্রবন্ধটি লিখছি তার নাম MD Shibaji, শিবাজি হলো এক ভারতীয় হিন্দু বীর 'ছত্রপতি শিবাজী'র নামের অংশ; আর Md বা 'মুহম্মদ' হলো প্রচণ্ড হিন্দু বিদ্বেষী মহাউন্মাদ ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী আরবীয় বর্বর- 'হযরত মুহম্মদ' এর নামের অংশ। তাহলে যার নামের মধ্যে এরকম পরস্পর বিরোধী ব্যাপার থাকে, সে খচ্চর নয় তো কী ?
এবার আসি, এই খচ্চর যে প্রসঙ্গে প্রশ্নটি করেছে, এই প্রবন্ধের মূল বিষয়, দেবকী ও বসুদেবকে এক সাথে থাকতে দিয়ে কংস কেনো কৃষ্ণকে দেবকীর গর্ভে জন্ম নেওয়ার সুযোগ দিলো- সেই প্রসঙ্গে।
হিন্দুধর্মের ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাসের মতো আজগুবি নয়, হিন্দুধর্মের ইতিহাসে প্রত্যেকটি ঘটনার কারণের পেছনে মনস্তাত্বিক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কারণ রয়েছে।
ইসলামের ইতিহাসের একটি ঘটনা হলো- মুহম্মদ যখন প্রাণ বাঁচানোর জন্য মক্কা থেকে মদীনায় পালিয়ে যাচ্ছিলো, তখন রাতের বেলা মক্কা থেকে পালিয়ে গিয়ে দিনের বেলায় মুহম্মদ ও আবু বকর একটি পাহাড়ের গুহার মধ্যে লুকিয়েছিলো। মুহম্মদের শত্রুরা তাদেরকে খুঁজতে খুঁজতে সেই পাহাড়ের গুহার মধ্যে ঢুকতে গিয়ে দেখে একটি মাকড়সা তাতে জাল বিছিয়ে রেখেছে, এটা দেখে কুরাইশরা ভাবে, না এই গুহার মধ্যে কোনো মানুষ ঢুকে নি, ঢুকলে মাকড়সার এই জাল থাকতো না। এভাবে আল্লা এক মাকড়সার জালের মাধ্যমে মুহম্মদ ও আবুবকরের প্রাণ রক্ষা করে।
এই প্রসঙ্গে আমার প্রশ্ন হলো- আল্লা যদি সর্বশক্তিমান হয় এবং মুহম্মদ যদি আল্লার পেয়ারের বান্দা বা দোস্ত হয়, তাহলে মক্কায় মুহম্মদকে আল্লা রক্ষা করতে পারলো না কেনো ? কেনো আল্লাকে পাহাড়ের গুহার প্রবেশ পথে মাকড়সার জাল বিছিয়ে মুহম্মদকে রক্ষা করতে হবে ? মুহম্মদ যেমন মাঝে মাঝে কোরান ভুলে যেতো, তেমনি মনে হয় আল্লাও মাঝে মাঝে ভুলে যেতো যে সে সর্বশক্তিমান। এজন্যই বলেছি- ইসলামের ইতিহাস হলো একটি আজগুবি ইতিহাস।
যা হোক, এবার নজর দিই কৃষ্ণের জন্মের ইতিহাসের দিকে-
দেবকী ও বসুদেবের বিয়ের পর দৈববাণী হয় যে, দেবকীর গর্ভের অষ্টম সন্তানের হাতে কংসের মুত্যু হবে। এটা শুনে সাথে সাথেই কংস, দেবকীকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। কিন্তু তখন দেবকীর প্রাণ বাঁচানোর জন্য বসুদেব বলে, আমাদেরকে কারাগারে বন্দী করে রাখো, আমাদের যে সব সন্তান হবে, সবগুলোকে তোমার হাতে তাদের জন্মের পর পরই তুলে দেবো। আমার এই পরামর্শ না মেনে তুমি যদি দেবকীকে হত্যা করো, তাহলে আমাদের সকল মিত্র রাজা মথুরা আক্রমন করে তোমাকে হত্যা করবে, কিন্তু যদি আমার পরামর্শ মানো, আমি কথা দিচ্ছি কেউ তোমাকে বা তোমার রাজ্যকে আক্রমন করবে না।
কংস বিষয়টি যুক্তিযুক্ত বলে মেনে নেয় এবং দেবকী ও বসুদেবকে এক সাথে কারাগারে বন্দী করে রাখে।
এখানে প্রশ্ন হলো- কংস, দেবকী ও বসুদেবকে কেনো এক ঘরে এক সাথে বন্দী করে রাখলো ?
এখানেই কাজ করেছে মানুষের চরিত্রের একটি সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার।
কংস ছিলো একজন বীর যোদ্ধা, সে কিভাবে একটি শিশুর ভয়ে ভীত হয়ে তার জন্মকে রোহিত করবে ? তাহলে তো সবাই বলবে- কংস একজন ভীরু কাপুরুষ, যে একটি শিশুর ভয়ে দেবকী ও বসুদেবকে আলাদা ঘরে বন্দী করে রেখেছে, এমন ভীরু কাপুরুষ কিভাবে রাজার পদে থাকতে পারে ? তার তো রাজা হওয়ার যোগ্যতাই নেই । কেননা, এমন ভীরু কাপুরুষ কোন রাজা তো বহিশত্রুর হাত থেকে নিজের রাজ্য এবং প্রজাদেরকে রক্ষা করতে পারে না বা পারবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি।
এসব কারণে, প্রজারা যাতে কংসকে ভীরু ও কাপুরুষ বিবেচনা না করে, সে কারণে কংস একটি চ্যালেঞ্জ নেয়, সে দেবকী ও বসুদেবকে এক ঘরে বন্দী করে রাখে এবং তাদের সন্তান জন্মানোর সুযোগ তৈরি করে দেয়; এজন্যই যে, দেবকীর একেকটা সন্তানকে জন্মানোর সাথে সাথেই সে হত্যা করে এটা প্রমাণ করবে যে, কংস দেবকীর কোনো সন্তানের ভয়ে ভীত নয় বা কাউকে সে ভয় পায় না। এভাবে কংসের উদ্দেশ্য হলো দেবকীর সকল সন্তানকে হত্যা করে নিজেকে বীর পুরুষ হিসেবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত করা।
প্রকৃত বীর পুরুষদের চরিত্র এমনই হয়, তারা সকল চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করে, তারা প্রাণ বাঁচানোর জন্য মুহম্মদের মতো রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় না।
আশা করছি, হিন্দুধর্ম সম্পর্কে এই খচ্চরের কটূক্তির জবাব, আমার বন্ধুদের মুখে তুলে দিতে পেরেছি।
উপরে যা লিখেছি, তার সব ঐ খচ্চরের স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে; এবার নিচে যে যা লিখছি, সেটা কৃষ্ণের জন্ম প্রসঙ্গে একটি বাড়তি তথ্য আমার পাঠক বন্ধুদেরকে জানানোর উদ্দেশ্যে।
আপনারা জানেন যে, দৈববাণী হয়েছিলো- কংসের বধ হবে দেবকীর অষ্টম পুত্রের দ্বারা। কিন্তু অষ্টম পুত্র কেনো ? দেবকীর প্রথম বা দ্বিতীয় সন্তানের দ্বারা যদি কংসের বধ হতো, তাহলে সমস্যা কী ছিলো ? এমন হলে তো দেবকী ও বসুদেবকে ছয়টি সদ্যজাত সন্তানের মৃত্যুর শোক সইতে হতো না।
একটি গ্রীক প্রবাদ হলো-"যে ডাক্তারের জ্যোতিষ শাস্ত্রে জ্ঞান নেই, সে কোনো ডা্ক্তারই নয়"। কিন্তু আমি মনে করি শুধু ডাক্তারি জ্ঞানই নয়, জ্যোতিষ শাস্ত্রের জ্ঞান ছাড়া সকল জ্ঞানই অপূর্ণ। জ্যোতিষ শাস্ত্রের জ্ঞান ছাড়া পি.এইচ.ডি ডিগ্রীধারী বাংলার কোনো অধ্যাপকও যেমন বলতে পারবে না যে 'একাদশী বৃহস্পতি' বাগধারার প্রকৃত অর্থ কী ? তেমনি ভাগবত সম্পূর্ণ মুখস্থ করে ফেললেও কোনো ধর্মগুরুর ক্ষমতা নেই, জ্যোতিষের জ্ঞান ছাড়া বলা যে, কেনো দেবকীর অষ্টম পুত্রের হাতেই কংসের মৃত্যু হয়েছিলো, কেনো অন্য কোনো পুত্রের হাতে নয় ?
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, আমাদের সৌরজগতের গ্রহ নক্ষত্রগুলো, আমাদের ভাগ্য তথা কর্ম ও জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রত্যেকটি গ্রহের সংখ্যাজ্ঞাপক একটি করে মান রয়েছে, যে সংখ্যাগুলো জানান দেয় ঐ গ্রহের চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে। জ্যোতিষ মতে, সূর্যের সাংখ্যিক মান ১, চন্দ্রের ২, বৃহস্পতির ৩, ইউরেনাসের ৪, বুধের ৫, শুক্রের ৬, নেপচুনের ৭, শনির ৮ এবং প্লুটো ও মঙ্গলের ৯। যেহেতু পৃথিবীতেই মানুষ বাস করে, সেহেতু পৃথিবী কমন বলে পৃথিবী গ্রহ হলেও তার কোনো মান ধরার প্রয়োজন হয় নি, তাই জ্যোতিষ শাস্ত্রে পৃথিবীর কোনো সাংখ্যিক মান নেই।
শনি ছাড়া অন্য গ্রহগুলোর প্রভাব মানুষের উপর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শুভ, তাই সেগুলোর প্রভাবে মানুষের জীবনের তেমন কোনো তারতম্য ঘটে না, যা ঘটে সেটা খুবই সূক্ষ্ম, সেগুলো বোঝার জন্য জ্যোতিষের জ্ঞান অপরিহার্য এবং জ্যোতিষীরাই একমাত্র সেগুলো উপলব্ধি করতে সক্ষম। কিন্তু শনির প্রভাবে মানুষের জীবন তছনছ হয়ে যায়, তাই শনির প্রভাব যে কেবল ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তিই বুঝতে পারে, তা ই নয়; তার জীবনে এমন সব ঘটনা ঘটে যে, তার পরিচিত বলয়ের সবাই সেগুলো টের পায়।
এই শনির সংখ্যা হলো ৮, তাই আট যুক্ত যে কোনো কিছু, ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে এবং সেই প্রভাব সব ক্ষেত্রেই ধ্বংসাত্মক বা নেগেটিভ। যাদের জন্ম ১৯৮৫/৮০ এর আগে তাদের হয়তো মনে আছে যে ২০০১ সালে বি.এন.পি জামাত নির্বাচনে জিতে বাংলাদেশে কী ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছিলো। খুন, ধর্ষণ, লুঠপাট, দখল অগ্নিসংযোগসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যে, তারা তা সেই সময় সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় করে নি। ভূমিধ্বস বিজয় উদযাপনের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেই সময় জামাত বিএনপির লোকেরা দল বেঁধে আওয়ামী লীগ সমর্থক বিশেষ করে হিন্দু মেয়েদেরকে ধর্ষণ করতে যেতো বা দল বেঁধে ধর্ষণ করতো, এমন একটি ঘটনার শিকার হয়েছিলো সিরাজগঞ্জ জেলার উ্ল্লাপাড়া থানার পূর্ণিমা শীল নামের্ একটি মেয়ে। সেই সময় এই দলবদ্ধ ধর্ষণ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মেয়েরা বাড়ি ছেড়ে অন্য এলাকায় গিয়ে লুকিয়ে থাকতো; যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলো দেশ, সেই নির্বাচন ছিলো বাংলাদেশের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এখন ৮ সংখ্যার কার্যকারিতার সাথে আমার কথার হিসাব মেলান।
বিজ্ঞানীরা তো পদার্থ নিয়ে কাজ করে, তাদের হাতে তো কোনো বস্তু থাকে, তারা সেটা নিয়ে গবেষণা করে তারপর সে সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করে। কিন্তু আমাদের মুনি ঋষিদের জ্ঞানের কথা একবার চিন্তা করুন, জ্যোতিষ শাস্ত্রের মাধ্যমে তারা এমন কিছু বিষয়ে কথা বলে গেছে, যেগুলো না যায় ধরা, না যায় ছোঁয়া। অথচ সেগুলো মানব জীবনে একেবারে বাস্তব এবং কার্যকর। আমাদের মুনি ঋষিদের জ্ঞানের সীমাটাকে একবার উপলব্ধি করুন, আপনার মাথায় কিছু যদি ঘিলু থাকে, আপনার মাথা নত হতে বাধ্য।
যা হোক, শনির কারণে ৮ সংখ্যা যে যেকোনো কিছুতে বিপর্যয় নিয়ে আসে, সেটা উপরের উদাহরণে সম্ভবত বোঝাতে পেরেছি; দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানের মাধ্যমে কংসের জীবনে বিপর্যয় আনা, কৃষ্ণকে অষ্টম পুত্র হিসেবে প্রকৃতির জন্ম দেওয়ার একটি কারণ। এককথায়, কৃষ্ণ ছিলেন কংসের জন্য শনি, তাই কৃষ্ণের হাতে কংস শেষ হয়ে গেছে। শুধু কংসের জন্যই নয়, কৃষ্ণ ছিলেন সমস্ত অধর্মীদের জন্য শনি, তাই সমস্ত অধর্মীদের বিনাশ করার জন্য কৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ঘটান এবং দুষ্কৃতকারীদেরকে বিনাশ করে ধর্মপ্রতিষ্ঠা করেন।
অষ্টম পুত্র হিসেবে কৃষ্ণের জন্ম নেওয়ার অন্য কারণ হলো- সময় নিয়ে বহু বছর ধরে কংসের অত্যাচারকে সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরে তার বিনাশ যে অপরিহার্য তার ন্যা্য্যতা প্রতিপন্ন করা।
কংস শুরু থেকেই অত্যাচারী ছিলো, তাই সে তার পিতা উগ্রসেনকে সিংহাসনচ্যুত করে বন্দী করে রেখেছিলো। যে লোক এমন কাজ করতে পারে, সে যে রাজ্যে প্রজাদের উপর আরো কত কী অত্যাচার করেছিলো, সেটা তো সহজেই অনুমেয়। তাই কংসকে বিনাশ করার নীল নকশা দেবতারা করে ফেলে এবং দেবকী-বসুদেবের বিয়ের পর, কংসের জন্য সা্বধান বাণী হিসেবে ঐ দৈববাণী প্রকাশ করে।
দেবকীর বিয়ে থেকে অষ্টম পুত্রের জন্ম পর্যন্ত কমবেশি ৮/১০ বছর সময় লেগেছে, এই সময়ে কংস তার অত্যাচারী রূপ থেকে সরে এসে দেবতাদের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে পারতো, যেটা কংস করে নি। উল্টো সে তার অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে দেবকীর ছয় ছয়টি সন্তানকে দেয়ালের সাথে আছাড় দিয়ে হত্যা করেছে, এর ফলে কংসের অত্যাচারের ভয়াবহ রূপ সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে সন্দেহাতীতভাবে নিরূপিত বা প্রমাণিত হয়েছে, যার কারণে কৃষ্ণের হাতে কংসের বিনাশ ন্যায্যতা প্রাপ্ত হয়েছে।
মূলত এই দুটি কারণেই কংস বধ, দেবকীর প্রথম বা দ্বিতীয় পুত্রের দ্বারা না হয়ে অষ্টম পুত্রের দ্বারা হয়েছে।
আশা করছি, কৃষ্ণের জন্ম কেনো অষ্টম পুত্র হিসেবে, সেই বিষয়টি আমার পাঠক বন্ধুদেরকে বোঝাতে পেরেছি।
জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।
'ওঁ সহানা ভবতুঃ' (ঈশ্বর আমাদেরকে রক্ষা করুন)
Saturday, 5 September 2020
কন্যা বিক্রির বিধান সনাতনে নেই, আছে ইসলামে :
কন্যা বিক্রির বিধান সনাতনে নেই, আছে ইসলামে :
Tanvir Ahmed Sharif নামের এই মহামূর্খ এবং মহাউন্মাদ সনাতন ধর্ম সম্পর্কে, মুসলমানদের জন্য হারাম ফেসবুকে, যা তা বলে বেড়ায়, যার না আছে কেনো ভিত্তি, না আছে কোনো সত্যতা। এইভাবে মিথ্যা আরোপ ক'রে সেগুলোর জবাব দিতে আমাদেরকে বাধ্য করে, এভাবে আমাদের সময় নষ্ট করাও কিন্তু তাকিয়াবাজ ইসলামের জিহাদেরই একটা অংশ; কেননা, যে সময় ব্যয় করে এই প্রবন্ধ আমাকে লিখতে হবে, সে সময় তো আমি অন্য কাজেও ব্যয় করতে পারতাম। সুতরাং আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করাও কিন্তু মুসলমানদের একটি জিহাদ।
যখন সমাজে অশুভ শক্তির উত্থান হয়, তখন তাকে দমন করতে সরকারকেও তার শক্তি এবং অর্থ ব্যয় করতে হয়। একইভাবে এই মিথ্যা প্রচারগুলোকেও আমি বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দিই না, দেবোও না, তাতে আমার যত সময় ব্যয় হয় হোক, আমার সময় নষ্ট করে মুসলমানরা যেমন আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তেমনি এই মিথ্যাচারের জবাব দিতে গিয়ে ইসলামের এমন নোংরামি বা গোপন তথ্যকে ফাঁস করবো যে, তারা আমার ও সনাতনী সমাজের যা ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে, তার অন্তত ৭ গুন আমি মুসলমান ও ইসলামের ক্ষতি করবো, তাই কথা না বাড়িয়ে শুরু করছি-
ছাগলা দাড়িওয়ালা এই Tanvir Ahmed Sharif প্রশ্ন করেছে- হিন্দু মেয়েকে দাসী, ২টি গরুর বিনিময়ে বিক্রি বাধ্যতামূলক কেন ? এর পক্ষে সে প্রথম রেফারেন্স দিয়েছে ঋগ্বেদের ৬/২৭/৮ নং শ্লোকের, দেখা যাক সত্যিই সেখানে কী বলা আছে ? এই মন্ত্রটি হলো-
"দ্বযাঁ অগ্নে রথিনো বিংশতিং গা বধূমন্তো মঘবা মহ্যং সংরাট্।
অভ্যবর্তী চায়মানো দদাতি দূণাশেয়ং দক্ষিণা পার্থবাণাম।।"
এর অর্থ হিসেবে হরফ প্রকাশনীর বেদ, যে বেদ প্রকাশ উদ্দেশ্যমূলক, সেখানেও বলা হয়েছে- "হে অগ্নি, চায়মানের পুত্র, ঐশ্বর্যশালী সম্রাট অভ্যবর্তী আমাক রথ ও রমনী সহকারে বিংশতি গোমিথুন প্রদান করেছেন পৃথুর বংশধরদের এ দান অক্ষয় অর্থাৎ কেউই এর বিলোপ করতে সমর্থ নয়।"
এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে- অভ্যবর্তী নামের কোনো এক সম্রাট, কাউকে তার নিজের কন্যা দান করেছেন, সাথে দিয়েছেন একটি রথ এবং বিশ জোড়া গরু। এবং এই বিষয়টি, সনাতনী পদ্ধতির বিয়েতে কন্যাকে যে পর্যাপ্ত উপহার সামগ্রী দিয়ে শশুর বাড়ি পাঠাতে হয়, সেটাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করছে। এখানে কন্যাদানের পরিবর্তে বরের কাছ থেকে কিছু নেওয়া, যেটা কন্যা বিক্রির সমতুল্য, সেরকম কোনো বিষয়ই নেই।
এরপর দেখা যাক মনুসংহিতার রেফারেন্সগুলোর কী অবস্থা।
মনুসংহিতাকে যদিও আমি সনাতন ধর্মের প্রামাণ্য কোনো গ্রন্থ বলে আমি মনে করি না, তারপরও যেহেতু হাজার হাজার বছর ধরে মনুসংহিতার অনেক বিধি বিধান সনাতনী সমাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, সেহেতু মনুসংহিতার যা কিছু ভালো, বাস্তব এবং বিজ্ঞানসম্মত, সেগুলোকে আমি গ্রহন করার পক্ষে, কিন্তু যা কিছু অবাস্তব, সেগুলোকে আমি ঝেড়ে ফেলার পক্ষপাতী।
যা হোক, পাঁঠা Tanvir Ahmed Sharif এর দেওয়া মনুসংহিতার অনেকগুলো রেফারেন্সের মধ্যে প্রথমটি হলো- ৩/৫৩, অর্থাৎ তৃতীয় অধ্যায়ের ৫৩ নং শ্লোক, দেখে নিন সেই শ্লোকটি এবং তার অর্থ-
"আর্যে গোমিথুনং শুল্কং কেচিদাহু মৃষৈব তত।
অল্লোহপেব্যং মহান বাপি বিক্রয়স্তাবদেব সঃ।"
এর অর্থ- আর্য বিবাহে বরের কাছ থেকে যে একজোড়া গরু গ্রহণ করা হয় তা শুল্ক। মনুর মতে তা ঠিক নয়; কারণ, শুল্ক কমই হোক বা বেশি হোক, তা গ্রহণ করলেই তা বিক্রয়সিদ্ধ হয়।
অর্থাৎ পূর্ব থেকে হয়তো কন্যাদানের পরিবর্তে বরের কাছ থেকে কোনো অর্থসম্পদ নেবার প্রচলন ছিলো, যাকে বলে পণ। কিন্তু মনু তার বিরোধিতা করে তা নিষিদ্ধ করেছে এবং বলেছে এটা করলে তা কন্যাকে বিক্রির সমতুল্য হয়ে যায়।
শুধু এই শ্লোকেই নয়, কন্যাদানের পরিবর্তে বরের কাছ থেকে যে কিছু নেওয়া যাবে না, সে ব্যাপারে মনুসংহিতায় এর আগের একটি শ্লোকেও স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, এভাবে-
"কন্যার পিতা কন্যার জন্য বরের কাছ থেকে অতি অল্প পরিমাণও শুল্ক অর্থাৎ পণ গ্রহণ করবেন না। যেহেতু কন্যার জন্য লোভবশত শুল্ক গ্রহণ করলে মানুষ সন্তান বিক্রয়ী হয়।-(মনু, ৩/৫১)
অথচ এই সব শ্লোকে এই মূর্খ Tanvir Ahmed Sharif দেখতে পাচ্ছে, হিন্দুরা তাদের মেয়েদেরকে দাসী বা ২টি গরুর বিনিময়ে বাধ্যতামূলকভাবে বিক্রি করে দিচ্ছে !!! এ মূর্খ, না পাগল ? লোকসমাজে একে রাখা তো বিপজ্জনক। কারণ, যার বোধবুদ্ধি নেই, সে কখন যে কী করে ফেলে তার তো কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। একে পাগলা গারদে রাখা হোক।
এরপর জঙ্গী Tanvir Ahmed Sharif এর রেফারেন্স হলো মনুসংহিতার ৯/৪, দেখা যাক সেই মন্ত্রটি এবং তার অর্থ-
"কালেহদাতা পিতা বাচ্যো বাচ্যশ্চানুপযন পতিঃ।
মৃতে ভর্তরি পুত্রস্থ বাচ্যো মাতুররক্ষিতা।
এর অর্থ- বিবাহযোগ্য সময়ে পিতা যদি কন্যাকে পাত্রস্থ না করেন, তাহলে তিনি লোকমধ্যে নিন্দনীয় হন এবং স্বামী মারা গেলে পুত্রেরা যদি তাদের মাতার রক্ষণাবেক্ষণ না করে, তাহলে তারাও অত্যন্ত নিন্দাভাজন হয়।
অথচ এই শ্লোকেও Tanvir Ahmed Sharif দেখতে পাচ্ছে হিন্দুরা তাদের মেয়েকে দাসী বা গরুর বিনিময়ে বিক্রি করছে ! এর কথা শুনে কবিতার একটি লাইন মনে পড়ে গেলো- বলো দেখি এ জগতে মূর্খ বলি কারে ? বোধশক্তি নাই যার মূর্খ বলি তারে।
এরপর হুরলোভী Tanvir Ahmed Sharif দাসী বা গরুর বিনিময়ে কন্যা বিক্রি করে দেবার বিধান পেয়েছে মনুসংহিতার ৩য় অধ্যায়ের ৯০ থেকে ৯৫ নং শ্লোকে, কিন্তু এই শ্লোকগুলোতে বলা হয়েছে-
"কুমারী কন্যা ঋতুমতী হলে তিন বছর পর্যন্ত গুনবান বরের জন্য অপেক্ষা করবে। এই সময়ের মধ্যে পিতা যদি তার বিবাহ না দেয়, তাহলে সে নিজেই নিজের পতি নির্বাচন করে নিতে পারবে। এতে ঐ কন্যার বা ঐ কন্যা যাকে বিয়ে করবে তার কোনো পাপ হবে না। কিন্তু এই ধরণের বিয়ের ক্ষেত্রে কন্যা কোনোরকম উপহার সামগ্রী পিতার বাড়ি থেকে নিতে পারবে না।"- (মনু-৩/৯০,৯১,৯২)
এরপর ৩/৯৩ এ বলা হয়েছে-
"ঋতুমতী কন্যাকে যে ব্যক্তি বিবাহ করবে, সেই ব্যক্তি কন্যার পিতাকে কোনোরকম শুল্ক দেবে না।"
কিন্তু এই শুল্ক বা পণের ব্যাপারে ৩/৫১ তেই বলা হয়েছে- "কন্যার পিতা কন্যার জন্য বরের কাছ থেকে অতি অল্প পরিমাণও শুল্ক অর্থাৎ পণ গ্রহণ করবেন না। যেহেতু কন্যার জন্য লোভবশত শুল্ক গ্রহণ করলে মানুষ সন্তান বিক্রয়ী হয়।"যে কথা আগেও বলেছি, তাই এই শ্লোকটি যে প্রক্ষিপ্ত তাতে কোনো সন্দেহ নয়। আর এই শ্লোক যদি প্রক্ষিপ্ত নাও হয়, তাহলে একই বিষয়ে দুই ধরণের কথা বলার জন্য মনুংসহিতা হিন্দু আইনের জন্য যে কোনো প্রামাণ্য গ্রন্থ নয়, যে কথা আমি অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, আমার সেই কথা ই প্রমাণ হয়।
যা হোক, এরপর ৩/৯৪ নং শ্লোকে বলা হয়েছে- ত্রিশ বছরের পুরুষ বারো বছরের কন্যাকে বিবাহ করবে।
আধুনিক যুগের বিচারে এটাকে বেমানান মনে হলেও, একটু গভীরে গিয়ে চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন যে পারিবারিক সম্মান রক্ষার জন্য এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। গড় বারো বছর বয়সের মধ্যেই প্রায় সব মেয়ের ঋতুস্রাব হয়ে যায়, আর এরপর সেই মেয়ের মনে প্রেম ও যৌনতার অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এই প্রেম ও যৌনতা অনেক মেয়েকে বিপথে চালিত করে, ফলে বিয়ের পূর্বেই অনেক মেয়ে গর্ভধারণ করে ফেলে, আর এতে পরিবার ও সমাজে নানারকম অশান্তি, ঝামেলা ও জটিলতার সৃষ্টি হয়। প্রেম ও যৌনতাকে কন্ট্রোল করতে না পেরে অনেকে মেয়ে আবার পিতা মাতা ভাই বোন পরিবার আত্মীয় স্বজন ধর্ম সমাজ কারো কথা চিন্তা না করে প্রেমিকের সাথে বাড়ি থেকে পালায়, যা নিয়ে ঐ মেয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজনের দুঃখ-কষ্টের কোনো সীমা থাকে না।
কুমারী কন্যা থেকে উদ্ভূত এই সব সমস্যারই সৃষ্টি হবে না, যদি সেই কন্যাকে বারো বছর বয়সেই বিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, তখন সে প্রেম ও যৌনতার জন্য একজন বৈধ সঙ্গী পেয়ে যাবে, ফলে কোনো অবৈধ চিন্তা তার মাথায় আসবে না, তার দ্বারা পরিবার, সমাজ ও ধর্মের কোনো ক্ষতি হবে না।
এখন অনেকেই বলতে পারেন, বারো বছর পূর্ণ হলে কন্যাকে বিয়ে দিয়ে তাকে কি যৌনতার দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত ?
এদেরকে আমি প্রশ্ন করছি, কেনো উচিত নয় ?
মানুষ, প্রকৃতিরই সৃষ্টি। আর প্রকৃতির সকল প্রাণীর নারী প্রজাতি ঋতুমতী হওয়া মাত্র যৌনক্রিয়া করে, তারপর বাচ্চার জন্ম দেয়। কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল, ভেড়া এদের মতো গৃহপালিত জীবজন্তুর দিকে তাকালেই আমার কথার সত্যতার প্রমাণ পাবেন। প্রথম ঋতুতেই এদের যৌনক্রিয়া করতে বা বাচ্চার জন্ম দিতে তো কোনো সমস্যা হয় না ? তাহলে মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে কেনো ? মানুষ কি প্রকৃতির বাইরের সৃষ্টি ? আর আগেই তো বলেছি এভারেজ ১২ বছর বয়সের মধ্যেই প্রায় সব মেয়ে ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যায়। আর ঋতুস্রাব হওয়া মানেই সেই মেয়ে যৌনতা ও সন্তানধারণের জন্য প্রস্তুত।
ঋতুস্রাবই প্রকৃতির যেকোনো নারী প্রজাতির প্রাণীর জন্য যৌনতার শুরু এবং গর্ভধারণের ইঙ্গিত, মানুষ যেহেতু্ প্রকৃতিরই সন্তান, সেহেতু মানুষও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই ১২ বছর পূর্ণ হলে কোনো নারীর বিয়েতে কোনো রকম সমস্যা থাকার কথা নয় বৈজ্ঞানিকভাবেও। একারণেই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১২ বছর পূর্ণকে ধরা হয়েছে।
আবার অনেকে ভাবতে পারেন ১২ বছরের মেয়ের সাথে ৩০ বছরের পুরুষের বিয়ের ব্যাপারটা কিভাবে মানানসই। এখানে একটু প্রব্লেম আছে বলে আমারও মনে হচ্ছে। কারণ, সনাতনধর্মে ব্রহ্মচর্য আশ্রমের কাল হলো ২৫ বছর পর্যন্ত, এর মানে হলো ২৫ এর মধ্যে কোনো যুবককে শিক্ষা সমাপ্ত করে বিয়ের মাধ্যমে গার্হস্থ্য আশ্রমে প্রবেশ করতে হবে। তাই পুরুষের বিয়ের পারফেক্ট বয়স হলো ২৫, যে বয়সে কারো যৌনশক্তিসহ অন্যান্য ক্ষমতা একেবারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এখন পুরুষের বিয়ের বয়স ২৫ এবং এবং নারীর ১২, এটা ধরে নিয়ে আমরা আলোচনা করে দেখি, ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়-
বাংলাদেশে নন্দিত ও নিন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূণ আহমেদ তার কোনো একটি লেখায় বলেছেন- "যে নারীর বুদ্ধি তার স্বামীর চেয়ে বেশি, সেই নারীর সংসার কখনো সুখের হয় না।" একটু চোখ কান খুলে রেখে নিজের চারপাশ অবজার্ভেশনে রাখবেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন এই কথার সত্যতা। আমার পরিচিত দুজন ব্যবসায়ী, বিয়ের পর তাদের স্ত্রীর মধ্যে মেধা দেখেছিলো বলে তাদেরকে নিজের খরচে এম.এ পাশ করিয়েছিলো। এম.এ পাশ করার পর চাকরি পেয়ে ঐ দুই মেয়েই তাদের স্বামীকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো। আমি এক সময় এনজিওর ক্ষুদ্রঋণ প্রোগ্রামে চাকরি করতাম, এটা সেই সময়ের অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি আরেকজন অশিক্ষিত, কিন্তু পশুখাদ্যের সফল ব্যবসায়ী আমাকে বললো, সে তার স্ত্রীকে এম.এ তে পড়াচ্ছে। পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে আমি ভাবলাম, বউ হারাতে তোর আর বেশি দেরি নেই।
এই ঘটনাগুলো আমাদেরকে এই শিক্ষা দেয় যে- কোনো সংসার তখনই আদর্শ সুখী সংসার হবে, যদি সেই সংসারের স্ত্রী, স্বামীর চেয়ে কম জ্ঞানী হয়। যদি ধন সম্পদ, সৌন্দর্য এবং জ্ঞানে কোনো পুরুষ, তার স্ত্রীর চেয়ে নিচে হয়, সেই পুরুষ কোনোদিনও সংসারে সুখ পাবে না। একারণে সংসারকে সুখী রাখতে হলে স্ত্রীর জ্ঞান বুদ্ধি এবং সৌন্দর্য হতে হবে পুরুষের চেয়ে কম। একারণেই পুরুষের শিক্ষা সম্পূর্ণ হলে অর্থাৎ তার বয়স ২৫ হলে, তার সাথে ১২ বছরের মেয়ের বিয়েতে কোনো সমস্যা নেই; কারণ, এই অর্ধেক বয়সী মেয়ে কোনোদিনই তার স্বামীর জ্ঞান বুদ্ধিকে ওভারটেক করে বড় বড় কথা বলে সংসারে অশান্তি আনতে পারবে না। সব সময় সে স্বামীর সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে সুখে সংসার করবে।
এখন এ প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলতে পারেন, এটা হলো নারীর জ্ঞানবুদ্ধিকে দমন করে রাখার একটা অপকৌশল।
যারা এমন ভাবছে, তাদেরকে বলছি- আপনি কি জানেন, বেশিরভাগ শিক্ষিত মেয়ে, চাকরি বাকরি পেলেই পুরুষের সাথে আর সংসার করে না। তারা নারী ও ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা বলে একা একা থাকে বা সন্তান থাকলে তাকে নিয়ে আলাদা হয়ে যায় ? কেউ কেউ তো বিয়েই করে না। তো যারা বিয়ে করে না, তারা তাদের যৌনতাকে কিভাবে দমন করে ? নিশ্চয় তারা যার তার সাথে শোয়। এবং এভাবে তাদের দ্বারা প্রকৃতপক্ষে সমাজের কোনো কল্যান হয় না, হয় অকল্যান।
কোনো নারী যখন বেশি শিক্ষিত বা বেশি জ্ঞানী ও বেশি বুদ্ধিমতী হয়, তখন কোনো পুরুষকেই সে আর নিজের যোগ্য মনে করে না। তসলিমা নাসরিন তার একলেখায় বলেছে- "বাংলাদেশে এমন কোনো পুরুষ নেই যে তার মেধাকে ধারণ করতে পারে।" সিরিয়াস বুদ্ধিমতী তসলিমা নাসরিনের জীবনের দিকে তাকান, জীবনে ৩/৪টা বিয়ে করেছে, একটাও টিকে নি, এখন তার না আছে সংসার, না আছে সন্তান। যখন যাকে তার পছন্দ, তখন সেটাই তার স্বামী। একপুরুষকে যতক্ষণ তার ভালো লাগে, ততক্ষণ তার সাথে শোয়, যখনই তাক ভালো লাগে না, তখন তাকে ছুঁড়ে ফেলে অন্য কাউকে ধরে। এটা কোনো নারীর জীবন হলো ?
আবার বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সেনসেশন বাউল শিল্পী মমতাজ, তেমন শিক্ষিত না হলেও কণ্ঠের জোরে যে পাড়ার মঞ্চ থেকে সংসদের চেয়ার পর্যন্ত দখল করেছে, গান গেয়ে বিস্ময়কর রকমের সফল এই মমতাজের কতগুলো স্বামী, জানেন ? মুহম্মদের বউয়ের মতো মমতাজের স্বামীও অগুনতি। অধিকাংশ- বেশি বুদ্ধিমতী এবং সফল নারীর জীবনই হয় এরকম, তারা একা একা সন্তানসহ বা সন্তানহীন নষ্টচরিত্রের জীবন কাটায়, তারা সমাজকে কলুষিত করে। তাদের কাছে সন্তান থাকলেও তারা সেই সন্তানকে সঠিকভাবে মানুষ করতে পারে না, পিতার আদরহীন সেই সন্তান বড় হয়ে হয় অমানুষ। নারীকে বেশি শিক্ষিত ও জ্ঞানী করার এই হলো সামাজিক কুফল। এসব বিবেচনা করে এখন আপনিই বলুন, ২৫ বছরের যুবকের সাথে ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে দিয়ে তাকে সংসারের কাজে লাগিয়ে দিয়ে তাকে একটি সুখী সংসার প্রদান করা কি খুব অন্যায় ? সনাতন ধর্মের প্রায় সকল সিদ্ধান্ত নারীর সুখের জন্য। যে বা যারা এটাকে মানবে না, বা শুনে ভ্রু কুঁচকাবে, মনে রাখবেন, তারাই ক্ষতির শিকার হবে।
যা হোক, উপরের আলোচনা থেকে তো এটা প্রমাণিত যে হিন্দুরা- দাসী বা দুটি গরুর বিনিময়ে নিজেদের মেয়েদেরকে বিক্রি করে না, বাধ্যতামূলক বিক্রি করার তো কোনো প্রশ্নই নেই। মুসলমানরা যেহেতু সবকিছুই উল্টো করে বুঝে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুই বোঝে না, তাই এইসব রেফারেন্সে তারা বাধ্যতামূলক কন্যা বিক্রির বিষয়টি খুঁজে পেতেই পারে। কিন্তু ইসলামের বিয়েতে কন্যাকে যে ডাইরেক্ট বিক্রি করে দেওয়া, এবার আলোচনা করবো সেই বিষয় নিয়ে-
অনেকেই জানেন ইসলামের বিয়েতে দেনমোহর বলে একটা ব্যাপার থাকে। এই দেনমোহর আর কিছুই নয়, কন্যার দাম। এই দেনমোহর অনেক ক্ষেত্রে কন্যার পিতা পেয়ে থাকে, আর যেক্ষেত্রে কন্যা নিজেই নিজের মালিক, সেক্ষেত্রে কন্যা পেয়ে থাকে। বিয়ের পর, বর যদি কন্যার দেনমোহর পরিশোধ না করে, তাহলে তার, স্ত্রীকে স্পর্শ করারও অধিকার নেই। আর যখনই বর, কন্যার দেনমোহর পরিশোধ করে, তখনই সেই পুরুষ, তার স্ত্রীর দেহকে ভোগ করার অধিকারী হয়। ব্যাপারটা এখানে সিম্পল, টাকা দাও, ভোগ করো, ঠিক যেন পতিতালয়। এখানে ভালোবাসার কোনো স্থান নেই। টাকা দিবা না তো টাচও করতে পারবা না। অনেক মুসলিম নারী আবার বেশ গর্ব করে বলে, দেনমোহর নারীর অধিকার। অধিকার তো বটেই, দেহ ভোগ করতে দিয়েছি, তার বিনিময়ে টাকা নেবো না ? নিচে দেখুন দেনমোহর সম্পর্কিত কোরানের একটি আয়াত, যার দ্বারা ইসলাম, নারীদেরকে বেশ্যায় পরিণত করেছে-
"অতঃপর দাম্পত্য জবনের যে মধু তাদের দ্বারা লাভ করো, তার বিনিময়ে তাদের মোহরানা ফরয হিসেবে আদায় করো।"-(কোরান, ৪/২৪)
মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব শরিয়া শাসিত মুসলিম দেশে বিবাহে ইচ্ছুক পুরুষদেরকে বিয়ের আগে কন্যার পিতাকে মোহরানার টাকা পরিশোধ করে তারপর কন্যাকে বিয়ে করতে হয়, যেটা মেয়েকে কেনা ই।
যেকোনো অনৈতিক আইন, সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি করবেই করবে। এই দেনমোহর প্রথার সুযোগ নিয়ে অনেক মুসলিম মেয়ে বিয়ের ব্যবসা খুলে বসে। তারা নিজেদের দৈহিক সৌন্দর্য এবং পতিতা মনমানসিকতা নিয়ে উচ্চমাত্রার দেনমোহরে ধনীলোকদেরকে বিয়ে করে এবং বাসর রাতেই সেই টাকা আদায় করে নেয় এবং তার কিছুদিন পরেই সেই পুরুষকে তালাক দিয়ে দেয়। এরপর সে আবার আরেকজনকে বিয়ে করে। এই কু প্রথার সুযোগ নিয়ে ২২ বছর বয়সের মধ্যে এক মুসলিম মেয়ে ২৪টি বিয়ে করেছে, যার প্রমান ফটোপোস্টে দেখতে পাচ্ছেন, এটা ঐ মেয়ে একাই ঘটাতে পারে নি, নিশ্চয় এর সাথে তার পরিবারের লোকজনও জড়িত। কিন্তু এই ধরণের কোনো সুযোগ সনাতনী মেয়েদের জন্য নেই। তাই হিন্দু মেয়েদের দ্বারা কোনো হিন্দু যুবকের প্রতারিত হওয়ার কোনো সুযোগও নেই। যেহেতু হিন্দুরা, বিয়ের নামে তাদের কন্যাকে বিক্রি করে না এবং কন্যাকে দিয়ে বিয়ের বাণিজ্য করায় না।
আমার পরিচিত এক মুসলিম যুবক, পারিবারিকভাবেই এক মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে, তার মধ্যে দুই বা তিনলাখ টাকা ছিলো উসুল। ইসলামের আইন বলে কথা, কোনো মুসলমান কি তা অগ্রাহ্য করতে পারে ? তাই বিয়ের পরপরই সেই ছেলের বাপ, উসুলের ৩ লাখ টাকা মেয়ের পরিবারকে দিয়ে দেয়। এভাবে সে বউকে কিনে সংসার শুরু করে, কিন্তু অল্প কিছুদিন পরই সে জানতে পারে এটা তার বউয়ের তিন নং বিয়ে, এর আগেও তার দুবার বিয়ে হয়েছিলো এবং উভয়ক্ষেত্রেই দেনমোহের টাকা পয়সা আদায় করে নিয়ে তাদেরকে ডিভোর্স দিয়েছে। তাই এই বিয়ের ক্ষেত্রেও মেয়ে এবং মেয়ের পরিবারের উদ্দেশ্য ছিলো অন্যরকম। এরপর একদিন সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটি লাগিয়ে মেয়ে বাপের বাড়ি চলে যায়, আর আসে না। খবর দেয়, সে আর সংসার করবে না। এরপর বিভিন্ন প্যাঁচে ও চাপে পড়ে ছেলের বাপকে দেনমোহরের বাকি টাকা পরিশোধ করে ছেলেকে ঐ মেয়ের খপ্পড় থেকে মুক্ত করে। মুসলিম ছেলেদের দুর্ভাগ্য এখানেই, টাকা দিয়ে বউকে কিনেও, সেই বউকে ধরে রাখতে পারে না, মুসলিম মেয়ে বা মুসলিম সমাজের নোংরা মনোবৃত্তির কারণে।
এই ভাবে যেখানে মুসলিম সমাজে, দেনমোহরের নামে বিয়ের সময় মুসলিম মেয়েদেরকে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং কেউ কেউ আবার বার বার বিক্রিত হয়, সেই মুসলমানরা আবার বলছে- হিন্দুরা কন্যাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে বিক্রি করে দেয় এবং তার প্রমাণে এমন সব রেফারেন্স হাজির করছে, যাদের কোনো ভিত্তিই নেই।
এই অপচেষ্টা আর কিছুই নয়, অন্যের বদনাম করে নিজেদের দুর্নামকে ঢাকা দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা আর কি।
জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।
হিন্দুরা গরুর মাংস খায় না ঠিক আছে, কিন্তু গরুর দুধ খায় কেনো বা গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি জুতা পরে কেনো ?
হিন্দুরা গরুর মাংস খায় না ঠিক আছে, কিন্তু গরুর দুধ খায় কেনো বা গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি জুতা পরে কেনো ?
ধর্ম নিয়ে চুলকানো মুসলমানদের স্বভাব| এই চুলকাতে গিয়ে মুসলমানরা নানা প্রশ্ন করে আপনাকে ক্ষতবিক্ষত করবে, আপনি যদি ঠিকঠাক মতো জবাব দিতে না পারেন, মুসলমানদের কাছে আপনি হেয় হবেন এবং এই সুযোগে বস্তাপঁচা ইসলামকে তারা শ্রেষ্ঠধর্ম হিসেবে তুলে ধরবে।
মুসলমানদের অনেকগুলো প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্ন হলো গরু সংক্রান্ত। তাই মুসলমানদের প্রশ্নবান থেকে আপনাদের রক্ষা করার জন্য, এই পোস্টে দিলাম, আমার জানা, গরু সংক্রান্ত সকল প্রশ্নের জবাব:
মুসলমান : আপনারা হিন্দুরা গরুর মাংস খান না কেনো ?
হিন্দু : আপনারা শুয়োরের মাংস খান না কেনো ?
মুসলমান - আমাদের ধর্মে নিষেধ আছে, তাই।
হিন্দু - গরুর মাংস খাওয়াও হিন্দু ধর্মে নিষেধ আছে। বরাবর ?
মুসলমান - হুম, কিন্তু আপনারা গরুর মাংস না খেলেও তো গরুর দুধ খান ?
হিন্দু - এজন্যই তো গরু কেটে তার মাংস খাই না। গরু জাতির প্রতি এটা আমাদের হিন্দুদের কৃতজ্ঞতা। ছোট বেলায় মায়ের দুধের পাশাপাশি গরুর দুধ খেয়েছি, তাই গরু আমাদের দুধমাতা। হালিমা যেমন ছিলো আপনাদের নবীর দুধমাতা, নবীর কাছে তার যথেষ্ট সম্মান ছিলো। আমাদের কাছেও তেমনি গরুর সম্মান। তাছাড়াও সারা বছর গরুর দুধ খাই, যা আদর্শ খাদ্য। খাওয়ার জন্য নির্বিচারে গরু কেটে খেয়ে ফেললে, এই আদর্শ খাদ্য পাবেন কোথা থেকে ? আপনারাও তো এই গরুর দুধ ছোটবেলায় খেয়েছেন, এখনও খান; তাহলে গরুর প্রতি আপনাদের কোনো কৃতজ্ঞতা নেই কেনো ?
এটাও মনে রাখবেন, মানুষ মায়ের দুধ খায় মাত্র এক বছর, কিন্তু গরুর দুধ খায় সারাজীবন। এই সূত্রে, গরু শুধু মাতৃসমতুল্যই নয়, মায়ের চেয়েও বেশি।
মুসলমান -হুম, তা না হয় বুঝলাম। গাই গরু না হয় দুধ দেয়, তাই তার মাংস খান না; কিন্তু বলদ গরু তো আর দুধ দেয় না, তার মাংস খান না কেনো ?
হিন্দু - আপনার জন্ম নিশ্চয় আপনার মা একা দেয় নি ? আশা করি আর বেশি কিছু বলতে হবে না। তাছাড়া চাষের কাজে বলদ গরু এখনও অপরিহার্য। আর এই উপমহাদেশে গরুর মাধ্যমেই শুরু হয়েছিলো কৃষিকাজ, যা আমাদের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন, আরব্য মরুভূমির সংস্কৃতির প্রভাবে সেটা আপনারা ভুলে যেতে পারেন, আমরা হিন্দুরা কিন্তু সেটা ভুলি নি। সবচেয়ে বড় কথা, আপনারা শুকর খান না, শুকরকে ঘৃণা করেন বলে; আর আমরা গরু খাই না, গরুকে শ্রদ্ধা করি বলে, দুটোর মধ্যে কিন্তু আকাশ পাতাল প্রভেদ। আচ্ছা, বলতে পারবেন, এমন কোন প্রাণী আছে, যাকে আপনারা শ্রদ্ধা করেন এবং কিন্তু তাকে হত্যা করে তার মাংস খান না ?
এরপর হয়তো কেউ কেউ বলতে পারে, ছাগলও তো দুধ দেয়, তাহলে ছাগলের মাংস খান কেনো ?
বলবেন, বেদ এর নির্দেশ হলো-
‘দুধের উৎস এবং কৃষিকাজ বাঁচাতে তোমরা গরু হত্যার কারণ হইও না’,
আমরা সেই নির্দেশ ফলো করে গরু হত্যার কারণ হই না, এটাই মূল বিষয়। ছাগল, আমাদের এই দুটি উদ্দেশ্যের কোনটাই পূরণ করে না, তাই ছাগলের মাংস খেতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ছাগল তো কৃষিকাজে লাগেই না, আর ছাগলের দুধও এত পর্যাপ্ত নয় যে, তা দিয়ে কোনো, গরুর দুধের মতো ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠতে পারে; ছাগলের যেটুকু দুধ হয়, তা তার ২টা বাচ্চার জন্যই প্রয়োজন, এক সাথে ছাগলের যদি ৩টা বাচ্চা হয়, তাহলেই তাদের দুধের সংকট পড়ে যায়, এজন্যই প্রবাদ বাক্যের সৃষ্টি হয়েছে- “ছাগলের তিন নং বাচ্চা” মানে তার ভাগে কিছুই আর নেই। তাছাড়া ছাগলের দুধ কোনো আদর্শ খাদ্য নয় এবং ১% মানুষও তার সারাজীবনে কোনো দিন ছাগলের দুধ নিয়মিত খেয়েছে কিনা সন্দেহ। এরপর প্রশ্ন করবেন, আপনি কি কোনোদিন ছাগলের দুধ খেয়েছেন ?
এরপর দেখবেন, ধর্ম নিয়ে চুলকানোর জন্য, যে মুসলমান আপনাকে প্রশ্ন করেছিলো, সে চুপ মেরে গেছে। কিন্তু এরপরও যদি কেউ আপনাকে এই প্রশ্ন করে যে, সবই তো বুঝলাম। গরুর মাংস খান না, ঠিক আছে, কিন্তু গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি ঢাক পূজায় বাজান কেনো, আর গরুর চামড়ার জুতা পায়ে পরেন কেনো ? এই প্রশ্নের জবাব জানার জন্য পড়ুন, পোস্টের নিচের এই অংশটি:
# হিন্দুরা গরুর মাংস খায় না কেনো ? এই প্রশ্নের দাঁত ভাঙ্গা জবাব যখন দিলাম। তখন মুসলমানরা আবার প্রশ্ন তুললো, তাহলে হিন্দুরা গরুর চামড়ার জুতা পড়ে কেনো ? এরপর হয়তো এই প্রশ্ন করবে যে, হিন্দুরা গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি ঢাক বাজিয়ে পূজা করে কেনো ? এজন্য সবগুলো প্রশ্নের উত্তর একসাথেই দিলাম এবং সেটা যে খুব ভদ্র ভাষায় নয়, সেটা একটু পরেই বুঝতে পারবেন।
গাছ কাটলে কাঠ হয়, আর কাঠ পুড়লে হয় কয়লা । একটা বাচ্চাও এই গাছ, কাঠ ও কয়লার পার্থক্য বুঝবে। কিন্তু সীলগালা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মুসলমানরা এটা কখনো বুঝবে না। গাছের, কাঠের এবং কয়লার ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা। এই তিন জিনিস কখনোই এক নয়, তাই তাদের আলাদা আলাদা নাম। একই ভাবে গরু, গরুর মাংস এবং গরুর চামড়া তিনটিই সম্পূর্ণ পৃথক জিনিস।
আপনি যদি জঙ্গলে গিয়ে বাস করতে বাধ্য হন, তাহলে জংলীদের কিছু বৈশিষ্ট্য আপনাকে পালন করতেই হবে, না হলে আপনি জঙ্গলে টিকতে পারবেন না। তেমনি মুসলমানদের দেশে বাস করতে গেলে, ইসলামিক সংস্কৃতির কিছু অংশ আপনাকে যেমন পালন করতেই হবে, তেমনি তার কিছু কিছু রেশ আপনার অজান্তেই আপনার কালচারে ঢুকে যাবে। গরুর চামড়া দিয়ে জুতা বা ঢাক বানানোর ব্যাপারটিও এই রকম। মুসলমানরা এই উপমহাদেশে আসার আগে থেকেই হিন্দুরা তাদের পূজা-প্রার্থনা এবং তাতে গান-বাজনা করে আসছে। তখন কি ঢাক এ গরুর চামড়া ব্যবহার করা হতো ? আর গরুর চামড়া ব্যবহার করলেও তাতে করতো মৃত গরুর চামড়া, কোনো কারণে যে গরু মারা গিয়েছে, তাকে হত্যা করা হয় নি, এই কাজটি করতো হিন্দু সম্পদ্রায়েরই মুচি বা ঋষিরা। এছাড়া মহাদেব শিবের পরিধানে আমরা দেখি বাঘের চামড়া, এর অর্থ হলো মৃত পশুর চামড়া ব্যবহার শাস্ত্র সম্মত এবং তাতে কোনো দোষ নেই। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, মৃত গরুর চামড়া ব্যবহার করলে আমরা হিন্দুরা কিন্তু গরু হত্যার কারণ হচ্ছি না, যেটা আমাদের শাস্ত্রীয় নির্দেশ যে, ‘গো হত্যার কারণ হইও না’, একারণে মৃত গরুর চামড়া ব্যবহারে কোনো শাস্ত্রীয় নিষেধ নেই।
এখানে বলে রাখি, ঢাকের এক পাশে বর্তমানে ব্যবহার করা হয় গরু বা মহিষের মোটা চামড়া, অন্য পাশে ছাগল বা ভেড়ার পাতলা চামড়া; চিকন এবং মোটা এই দুই ধরণের শব্দ তৈরির জন্যই এই ব্যবস্থা।
বাংলাদেশে যেহেতু গরুর চামড়ার ব্যবহার বেশি এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের পর কোনটা কিসের চামড়া তা বোঝা যায় না, সেহেতু ঢাক তৈরির কারিগরদের অজ্ঞাতে মহিষের চামড়ার পরিবর্তে গরুর চামড়া ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে বা গরুর চামড়ার সহজলভ্যতার জন্যও এটা ঘটতে পারে।
উপরের আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে, হিন্দুরা গরুর মাংস খায় না এবং তা থেকে উৎপন্ন কোনো জিনিসও সজ্ঞানে ব্যবহার করে না। যেটুকু ব্যবহার করে বা করতে বাধ্য হচ্ছে, তা মুসলমানদের কারণেই। কারণ, মুসলমানরা আছে বলেই গরু জবাই হচ্ছে, তা থেকে চামড়া আসছে, আর সেই চামড়ার তৈরি ঢাক বা জুতা হিন্দুদের ব্যবহার করতে হচ্ছে। মুসলিমরা না থাকলে এর কোনোটিই হতো না। যেমন ধানের গাছ না থাকলে ভাতই হতো না, তাহলে ভাত খাওয়ার আবার প্রশ্ন কী ?
হিন্দুরা গরুর মাংস খায় না বলেই এ নিয়ে মুসলমানদের যত ক্ষোভ আর প্রশ্ন। ওদের মতো রাক্ষস হলে, এসব প্রশ্ন যে আর করতো না সেটা নিশ্চিত। এই রাক্ষসরা সবকিছু খেলেও শুয়োরের মাংস খায় না। আর এর কারণ হিসেবে তারা যা বলে, সেসব হলো- শুয়োরের দেহে এক ধরণের পরজীবী বাস করে, তাই শুয়োর খেলে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে উম্মাদ হয়ে যায়; গরুর দেহেও পরজীবী থাকে, তাই গরুর মাংস খেলে ফিতা ক্রিমি এবং ম্যাড কাউ রোগ হয়, এছাড়াও হয় উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টোরল বৃদ্ধি, হার্ট এ্যাটাক, চক্ষু রোগ, কিডনি রোগ, এলার্জিসহ আরো বহুবিধ রোগ। আরও বলে, শুয়োর নোংরা; কিন্তু মুরগী এর চেয়ে বেশি নোংরা। শুয়োর ময়লা অবর্জনায় বাস করে, কিন্তু ফার্মের শুয়োরের এ সমস্যা নেই। আবার বলে, কোরান হাদিস অনুযায়ী, শুয়োর জবাই করলে পাক হয় না; দেখেন মজা; না খাবি, না খা। তাই ব'লে উল্টা পাল্টা যুক্তি দেওয়ার কি দরকার ?
এখানে পাক-নাপাক নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার। পাক মানে পবিত্র। পবিত্র অপবিত্র এর ধারণাটাই আসলে বোগাস। বাস্তবে কোনো জিনিস নোংরা বা পরিষ্কার হতে পারে, কিন্তু অপবিত্র বা পবিত্র হতে পারে না; এটা সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের ব্যাপার। কেউ কখনো পবিত্র বা অপবিত্রতার ব্যাপারটি প্রমাণ করে দেখাতে পারবে না।
যা হোক, শুয়োর না খাওয়ার নানা কুযুক্তি মুসলমানরা দেখালেও, তারা কিভাবে নিয়মিত শুয়োর খেয়ে যাচ্ছে, নিচেই তা দেখুন। এটি লিখেছে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন নামের একজন আলেম, অধ্যাপক, গবেষক, প্রাবন্ধিক -
"পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষত ইউরোপ, আমেরিকা, পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় শুকরের চর্বি (Lard,Pigfat) খাদ্যদ্রব্য রান্না ও প্রসাধন সামগ্রী তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে দামে সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে বাটার অয়েলের পরিবর্তে রান্নায় শুকরের চর্বি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রান্নার পাশাপাশি রুটি, পিজা, পিঠা, কেক, স্ন্যাক্স, সস, স্যান্ডউইচ, বার্গার, বিস্কুট, মিষ্টি ও ঝাল খাবারে শকুরের চর্বির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষণীয়। এছাড়াও সাবান, লোশন, চকোলেট, চিপস, শ্যাম্পু, লিপষ্টিক ক্যান্ডি, শেভিং ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট তৈরিতে শূকরের চর্বি অপরিহার্য উপাদান। এসব খাদ্য ও কসমেটিকস সামগ্রীতে যে আঠালো পদার্থ আছে তার বৈজ্ঞানিক নাম Gelatin। এটা শূকরের হাড় ও পায়ের খূরের চর্বি থেকে সংগৃহীত হয়।
বহুজাতিক কোম্পানি তাদের দেশের খাদ্য প্রশাসন বিভাগের সহায়তায় ব্যবসায়িক স্বার্থে উপাদানের ক্ষেত্রে সরাসরি (শূকরের চর্বি) না লিখে ইদানিং E-codes ‘ই-কোডস’ ব্যবহার করতে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডা. আমজাদ আলী খান জানিয়েছেন, যেসব পণ্যের প্যাকেটে নিম্নলিখিত ‘ই-কোডস’ লেখা থাকবে নিঃসন্দেহে সেখানে শূকরের চর্বি থাকবে।
ই-কোডগুলো হল এই রকম E100,E110,E120 ..........."
লুণ্ঠনকারী জাতি মুসলমান, নবীর সময় থেকেই, যুদ্ধের নামে বিভিন্ন দেশ লুন্ঠন করে খেয়েছে। ঘোড়া আর তলোয়ারের যুগ শেষ হওয়ায় এখন আর লুঠপাঠ করতে না পেরে বিভিন্ন দেশ থেকে তারা ভিক্ষা অর্থাৎ আমদানী করে খাচ্ছে। তো উপরের এই লিস্টটা দ্যাখ, ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে তোরা যে সব পণ্য আমদানী করে খাচ্ছিস বা ব্যবহার করছিস, তার প্রত্যেকটিতেই শুয়োরের চর্বি আছে। তাহলে কি শুয়োর তোরা খাস না, না খাচ্ছিস না?
সবচেয়ে মজা পাবেন, নিচের এই তথ্য জানলে
"শুধু চামড়া সেলাই করার কাজে শূকরের পশম দ্বারা তৈরি সুতা ব্যবহার করা জায়েয বলে হাদীসে উল্লেখ আছে। (সংক্ষিপ্ত মাআরিফুল কুরআন মদিনা ১৪১৩-৮৮ পৃষ্ঠা)"
তো তোরা, শুয়োরকে ধরিস না, মারিস না, খাস না, পোষাও নিষেধ, তাহলে শুকরের পশম দ্বারা তৈরি সুতা ব্যবহার করিস কেনো ? নিজেরা যা খুশি করবি, তাতে কোন দোষ নেই ! আর হিন্দুরা বাধ্য হয়ে গরুর চামড়ার তৈরি জুতা-ঢোল ব্যবহার করলেই দোষ, তাই না ?
যত সব আবাল কোথাকার।
এরপরও কোনো কোনো মুসলমান প্রশ্ন তুলে বা তুলতে পারে,
“গরুর পেট থেকে তো গরুর বাচ্চা হয়। মানুষের বাচ্চা তো হয়না! তাহলে গরু কি করে মানুষের মা হয় ?”
গরুর পেট থেকে হিন্দুদের জন্ম হয় না, তাই গরুকে হিন্দুরা মা মনে করবে কেনো ? গরু, সব মানুষের ক্ষেত্রেই পালন করে মায়ের ভূমিকা, তাই হিন্দুরা কৃতজ্ঞতাবশত গরুকে মায়ের মতো মনে করে, মা মনে করে না, যেটা একটু আগেও বলেছি।
এছাড়াও গরু সম্পর্কে এক মুসলমানের মন্তব্য এমন-
“গরু হিন্দুদের মা, গরুর পেট থেকে তো গরুর_বাচ্চা হয়.! koi.??? মানুষের_বাচ্চা তো হয়না.! তাহলে গরু কি করে মানুষের মা হয়?”
-যেন এই বিষয়টি মুসলমানদের এক বিশাল চিন্তার বিষয়। গরুকে হিন্দুরা যে মায়ের মতো সম্মান করে, এটা নিয়েই মুসলমানদের যত গাত্রজ্বালা। রাক্ষস মুসলমানদের মতো হিন্দুরাও যদি গরুকে কেটে রাক্ষসের মতো খেতো, তাহলে এটা নিয়ে বোধহয় মুসলমানরা কোনো চুলকানি থাকতো না।
যে প্রাণী, যার পেট থেকে জন্ম নেয়, সেটাই তার প্রকৃত মা; আর মায়ের ভূমিকা পালনকারী অন্যরা হয় তার মায়ের মতো। জন্ম দেওয়ার পর মায়ের মৃত্যু হলে, সেই শিশু শুধু মাত্র গরুর দুধ খেয়ে বাঁচতে পারে, এছাড়াও গরুর দুধ একটি আদর্শ খাবার, যে খাবার আমরা খাই সারাজীবন ধরে, এই সূত্রে হিন্দুরা গরুকে মায়ের মতো মনে করে এবং তাকে মায়ের মতো সম্মান করে, হিন্দুরা গরুকে মা মনে করে না, মনে করে মায়ের মতো।
কথা হচ্ছে, মুসলমানদের ক্ষেত্রেও গরু তো মায়ের মতো ভূমিকা ই পালন করে, কিন্তু মুসলমানরা তো অকৃতজ্ঞের জাত, তাই তারা গরুকে হত্যা করে তার মাংস খায়, হিন্দুরা কৃতজ্ঞ বলেই এটা করে না। এই সূত্রে হিন্দুরা কৃতজ্ঞ আর মুসলমানরা অকৃতজ্ঞ জাতি।
মানুষ নিজের দেশকেও মা হিসেবে সম্মান করে, এজন্যই বলে জন্মভূমি হলো মাতৃভূমি। তাহলে কি মুসলমানদের নির্বোধ সূত্র- মায়ের মতো মনে করলেই তাকে তার পেট থেকে জন্ম নিতে হবে- এই সূত্রানুসারে কি দেশের সব মানুষকে দেশের মাটি ফেটে জন্ম নিতে হবে ? মুসলমানরা নিশ্চয় বাংলাদেশকে মায়ের মতোই মনে করে, তাহলে তারা কি দেশের মাটি ফেটে জন্ম নিয়েছে ?
মুসলমানরাও তো সম্মান করে মুহম্মদের মায়ের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলে, মা আমিনা; আবাব মুহম্মদের বেটিকে বলে, মা ফাতেমা; আর মুহম্মদের সব বউ তো কোরানের নির্দেশেই মুসলমাদের মা। তাহলে এরা সবাই কি মুসলমানদের মা, না মায়ের মতো ?
মানুষের মূর্খামির একটা সীমা থাকা দরকার। কিন্তু মুসলমানদের মূর্খামির সীমা, কবে, কোথায় ছিলো ?
জয় হিন্দ।
Friday, 4 September 2020
ইসলামের দাওয়াতকারীদেরকে কথার মাধ্যমে প্রতিহত বা জব্দ করবেন যেভাবে :
ইসলামের দাওয়াতকারীদেরকে কথার মাধ্যমে প্রতিহত বা জব্দ করবেন যেভাবে :
তুই মুসলমান হয়ে যা। জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মুসলমানদের এই দাওয়াত পায় নি, এমন হিন্দু বাংলাদেশে সম্ভবত একজনও নেই। এমন একটি অবমাননাকর প্রস্তাব পাওয়ার পরও, মুসলমানরা সংখ্যায় বেশি বলে প্রতিবাদ করলে ঝামেলা হবে এবং এই প্রস্তাবের সঠিক মাথাঠাণ্ডা জবাব আমাদের জানা না থাকার কারণে, আমরা হিন্দুরা কিছু বলতে না পেরে মুখে একটা হাসি এনে পরিস্থিতি ম্যানেজ করার চেষ্টা করি, কিন্তু যোগ্য জবাব দিতে না পারায় মনের ভেতরে একটা রাগ ও কষ্ট কিন্তু থেকেই যায়। এই পোস্টটি পড়লে জানতে পারবেন সেই যোগ্য জবাব, যা মুসলমানদের থোতা মুখকে ভোঁতা করে দেবে।
যা হোক, কেউ আপনাকে মুসলমান হতে বললেই, তাকে সঙ্গে সঙ্গে উল্টো প্রশ্ন করুন, আমাকে মুসলমান হতে হবে কেনো ? আমার ধর্ম কি খারাপ ? তোদের মধ্যে পুরুষেরা চারটা বিয়ে করতে পারে, এটা কি কোনো আদর্শ পরিবারের ছবি ? কোনো মুসলিম মেয়ের সাথে আপনি যদি কথা বলতে থাকেন, তাকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করুন, তুই কি চাস, তোর স্বামী আরেকটা বিযে করুক ? দেখবেন, তার মুখ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে। তারপর বলুন, পৃথিবীর কোনো মেয়েই তার স্বামীকে অন্য মেয়ের সাথে ভাগ করতে চায় না, কিন্তু ইসলামে এই সতীনের সংসারের বিধান আছে। এইভাবে কি কোনো সুখী পরিবার তৈরি করা সম্ভব ? না নিজে সুখ পাওয়া সম্ভব ? তারপর তাকে একটু ইসলামের ইতিহাসের জ্ঞান দিন; বলুন, জানিস, তোদের নবীর প্রিয় নাতি, হাসান, কেনো মরেছিলো ? চার বিয়ের বিধান পূর্ণ করতে তৃতীয় বিয়ে করায়, দ্বিতীয় স্ত্রী ওকে বিষ খাইয়ে মেরেছিলো। এখন তুই ই বল, ইসলামের এই চার বিয়ের বিধান কী বাস্তব সম্মত ? এই বিধানকে কি কোনো নারী মেনে নিতে পারে ? দেখবেন, ও স্তব্ধ হয়ে গেছে।
এরপর বলুন, শুধু তাই ই নয়, বিয়ের পর যখন তখন তালাক দিয়ে বউকে রাস্তায় বের করে দেওয়ার বিধানও ইসলামে আছে। এটা কি ন্যায় সঙ্গত ? প্রকৃতিগতভাবেই মেয়েরা পুরুষের তুলনায় পিতৃতান্ত্রিক সমাজে কিছুটা দুর্বল ও অসহায়, এরপর তাকে যদি যখন তখন তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়, তখন তার যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে ? তোরা বলিস ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ মর্যাদা, এটা কি তার নমুনা ? কিন্তু হিন্দু ধর্মে এই তালাক দেওয়ার বিধান নেই, আর হিন্দু ছেলেরা, একটা বউ থাকতে দ্বিতীয় আর একটা বিয়ে করার চিন্তা কখনো করবে না। এখন তুই ই বল, কোন পরিবারে মেয়েরা সুখে আছে বা থাকবে, হিন্দু না মুসলিম ?
এই প্রশ্নের কোনো জবাব কোনো মুসলিম মেয়ে দিতে পারবে না বা দেবে না; কিন্তু তর্কের খাতিরে বলবে, ইসলাম নারীকে পিতার সম্পত্তির অধিকার দিয়েছে, কিন্তু হিন্দু ধর্ম দেয় নি। জবাবে বলবেন, দিয়েছে, কিন্ত পুরুষের অর্ধেক (কোরান, ৪/১১), বাংলাদেশে আমরা আর কয়টা হিন্দু বাস করি, আমাদের কথা বাদ দে, কিন্তু ভারত, যে ভারতে পৃথিবীর সমগ্র হিন্দুর প্রায় ৯০% এর বাস, সেই ভারতে কিন্তু পিতার সম্পত্তিতে হিন্দু ছেলের মেয়ের সমান অধিকার। এছাড়াও বাংলাদেশে অধিকাংশ হিন্দু পরিবার তাদের মেয়ের বিয়েতে যে পরিমান টাকা-পয়সা-গয়না, মেয়ের জন্য দেয়, তা কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে তার পাওনার চেয়েও অনেক বেশি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মাথার উপর তালাকের খড়গ ঝুলিয়ে তোকে যদি সোনার খাটে শুইয়ে রাখা হয়, তাহলে কি তোর ঘুম হবে ? প্রত্যকটা মুসলিম মেয়েকে সব সময় এই ভয়ে থাকতে হয় যে, কখন তাকে তালাক দিয়ে তার স্বামী তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় বা আরেকটা বিয়ে করে আনে ? কিন্তু কোনো হিন্দু মেয়ের এই টেনসন নেই। তাহলে কাদের পরিবার আদর্শ, আর কারা সুখী ? মুসলমান পুরুষরা যাতে যখন তখন তালাক দিতে না পারে, সেজন্যই তো বিয়ের সময় কাবিন নামায় বেশি করে দেনমোহর লিখে রাখে, যা তালাকের পর ছেলেদের মেয়েদেরকে দিতে হয়। এ প্রসঙ্গে আরো বলুন, ইসলাম ধর্ম কিন্তু কোনো মুসলিম মেয়ের সংসার টিকে থাকার গ্যারান্টি দেয় নি বা দিতে পারছে না, গ্যারান্টি আদায় করতে হচ্ছে টাকার বিনিময়ে। তাহলে এখানে কিন্তু টাকা ই বড়, ইসলাম ধর্ম বড় নয়।
যখন তখন সংসার ভেঙ্গে যেতে পারে, এই ভয়ে মুসলিম মেয়েরা বিয়ের পর পরই বাচ্চা নেয় বা সিনিয়ররা মেয়েকে বাচ্চা নেওয়ার পরামর্শ দেয়, যাতে বাচ্চার কারণে সংসারটা টিকে যায়, এটাও কি জীবনের একটা অনিশ্চয়তা নয় ? হিন্দু মেয়েদের কিন্তু এসব চিন্তা নেই। তাহলে কোনটা ভালো ধর্ম ? আবার শুনি, দেনমোহরে যে নগদ টাকা লিখা থাকে সেই টাকা স্বামী, স্ত্রীকে না দিলে বা মাফ চেয়ে না নিলে স্বামীর নাকি স্ত্রীর গায়ে হাত দেওয়ারও অধিকার নেই, এটা কি পতিতাবৃত্তির মতো হয়ে গেলো না ? আগে টাকা তারপর শরীর ? এখানে স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা কোথায় ? বিয়ের সময় কুমারী মেয়েদের সম্মতি নেবার দরকার নেই, বলা আছে হাদিসে ( মুসলিম শরীফ, ৩৩০৭), মেয়েরা কি গরু ছাগল যে, যার হাতে খুশি দড়ি ধরিয়ে দিলো ? অনেক হিন্দু পরিবার আছে, যেখানে বাচ্চা-কাচ্চা না হলেও স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে নি বা করে না, এজন্য যে সংসারে অশান্তি হবে, এটা কি মুসলিম সমাজে সম্ভব ? একজন বন্ধ্যা নারীর প্রতি এই যে সম্মান, এটা কি ইসলাম দেয় ? ইসলামে তো বন্ধ্যা নারীকে বিয়ে করাই নিষেধ ( সুনান আবু দাউদ, ১১/২০১৪৫)
ইসলাম মানলে দেবর-ভাসুরের সাথে কথা পর্যন্ত বলা যাবে না (Sahih Bukhari 7:62:159)। ইসলাম কি মনে করে, মেয়েরা যার সাথে কথা বলবে তাকে নিয়েই বিছানায় শোবে ?
হিলা বিয়ের ব্যাপারটা তো জানিস, স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আবার তাকে নিতে চায়, তাহলে সেই স্ত্রীকে অন্য একজনকে বিয়ে করে তার সাথে কমপক্ষে একরাত সেক্স করে তারপর পুরোনো স্বামীর কাছে ফিরতে হবে (কোরান, ২/২৩০, মুসলিম শরীফ, ৩৩৫৪), এটা কি কোনো সভ্য আইন ? ইসলাম কি সকল মেয়েকে বেশ্যা বানাতে চায় ?
আরো বলবেন, তুই জানিস মুসলমান পুরুষরা কোন কারণ ছাড়াই স্ত্রীকে পেটাতে পারে এবং এর জন্য তাকে কোনোদিন জবাব দিহি করতে হবে না ? (বুখারি, ৮/৮২/৮২৮)। এটা সংসার, না নরক ? এভাবে কি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা গড়ে উঠতে পারে ?
ইসলাম নাকি নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ মর্যাদা, তাহলে ইসলাম নারী নেতৃত্বকে স্বীকার করে না কেনো ? কেনো হাদিসে বলা হয়েছে, নারীর হাতে নেতৃত্ব দিলে জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে ? (বুখারি, ১০/৬৬১৮)। এটাকে কি তোর সত্য বলে মনে হয় ? নারীর নেতৃত্বে কোনো দেশ ধ্বংস হয়েছে, দেখাতে পারবি ?
আবার শুনি ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিষেধ (সুনান আবু দাউদ, ১১/২০১৪৫)। এজন্য ইসলাম সঠিকভাবে মানলে কোনো নারীকে সারাজীবন সন্তানের জন্ম দিয়ে যেতে হবে, এটা কি মানুষের জীবন, না পশুর জীবন ?
বোরকা পড়ে বস্তায় বন্দী হওয়ার ব্যাপারটা তো আছেই। তোরা মনে করিস, বোরকা পরা ভালো, এতে পুরুষের কুদৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। আচ্ছা বলতো, চরিত্রহীন মুসলমান পুরুষদের মনকে কন্ট্রোল করার ভার মেয়েদেরকে নিতে হবে কেনো ? সভ্য শালীন পোষাক, যা পৃথিবীর সব দেশে চলে, সে রকম পোষাক প'রে শরীরে প্রকৃতির আলো বাতাস লাগানোর অধিকার কি আমার নেই ? যতই বোরকা পর বা শালীন পোষাক পর, কোনো মুসলমান পুরুষের সামনে গেলে ওরা যেভাবে মেয়েদের দিকে তাকায়, সাধারন ড্রেস পরে কোনো হিন্দু ছেলেদের সামনে গেলেও ওরা সেভাবে তাকায় না, তাহলে কাদের চরিত্র ভালো ?
স্বামীর ইচ্ছা হলেই নাকি তাকে দেহ ভোগ করতে দিতে হবে (মুসলিম ৮/২০/৩৩৬৬), আর সে যেভাবে খুশি সেভাবে ভোগ করবে (কোরান- ২/২২৩), ইসলামে মেয়েদের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনো মূল্য আছে ?
তোদের নবী, মেয়েদের মনে করতো অশুভ এবং ক্ষতিকর (বুখারি, ৭/৩০, ৩৩), সেটা জানিস ?
তোদের নবী বলেছে, মেয়েদেরকে মাখতে হবে গন্ধবিহীন পারফিউম (সুনান আবু দাউদ, ৩২/৪০৩৭) । এটা কি সম্ভব যে পারফিউম গন্ধবিহীন হবে? এই লোকটাকে তোরা নবী বলে মানিস কিভাবে ?
আরো বলবেন, তোদের মধ্যে এই যে পারিারিক বিয়ে (কোরান, ৩৩/৫০), চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো ভাই বোনকে, এটা কি বিজ্ঞানসম্মত ? আমি নিশ্চিত তোর কোনো না কোনো কাজিন তোকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখছে, আর তোকে কামনা করে রাতে …., থাক আর বললাম না। কিন্তু আমার সকল কাজিন আমাকে বোনের মতোই দেখে। তাহলে কাদের কালচার শ্রেষ্ঠ ? মুসলমানদের, না হিন্দুদের ?
আরো বলবেন, তুই যদি কখনো রেপ হোস, তাহলে ইসলামী আইনে কি তুই তার বিচার পাবি ? ৪ জন পুরুষ সাক্ষীকে তুই কি যোগাড় করতে পারবি, যারা তোকে রেপ হতে দেখেছে ? (কোরান, ৪/১৫)। আর এটা কি সম্ভব, কাউকে সাক্ষী রেখে কোনো মেয়ের পক্ষে ধর্ষিতা হওয়া ? এর পরও কি তোর মনে হয় ইসলাম কোনো বাস্তব ধর্ম ?
আরো বলুন, তুই কি জানিস, ইসলাম তোর স্বামীকে তোর বাড়ির কাজের মেয়ের সাথে সেক্স করার অধিকার দিয়েছে ? (কোরান, ৩৩/৫২)। এটা কি তুই সহ্য করতে পারবি ? কোনো মেয়ে এটা সহ্য করতে পারে ? এরকম জঘন্য একটি ধর্মকে তুই আমাকে গ্রহণ করতে বলছিস !
আরো বলুন, শুনেছি, ইসলামে গান শোনা, ছবি আঁকা, ছবি তোলা, কবিতা লিখা ও খেলাধুলা করা হারাম। এগুলো কি কোনো ক্ষতিকর জিনিস ? ইসলামে এগুলো নিষিদ্ধ কেনো ? আমি গান গাইতে চাই, শুনতে চাই, ছবি তুলতে চাই, ছবি আঁকতে চাই, কবিতা লিখতে চাই, খেলাধুলাও করতে চাই, বোরকায় বন্দী হয়ে থাকতে চাই না, সুতরাং ইসলাম আমার জন্য নয়।
আরো বলুন, তুই কি জানিস, ইসলাম,মুসলমানদেরকে, বিনা কারণে অমুসলিমদের ধন সম্পত্তি লুঠ করতে, তাদেরকে হত্যা করতে এবং মেয়েদেরকে ধরে এনে ধর্ষণ করার অনুমতি দিয়েছে ? (কোরান- ৪/২৪, ৮/১, ৮/৪১, ৮/৬৯)। যে ধর্মে এসব অমানবিক নির্দেশ থাকে, সেটাকে তোর কিভাবে সভ্য বলে মনে হয় ?
শেষ একটা আক্রমন যে প্রসঙ্গে করতে পারে, সেটা হলো, ইসলাম গ্রহন না করলে তো তুই বেহেশতে যেতে পারবি না। জবাবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে বলুন, তুই কি জানিস বেহশেতের রূপ কী ? বেহেশতে গিয়ে পুরুষরা কী করবে ? আর সেখানে মেয়েদের কাজ কী হবে ? এমনিতে মুসলিম মেয়েদের বেহেশতে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তারপরও ধরে নিলাম, তোর স্বামীর সাথে তুই বেহেশতে গেলি, বেহেশতে তোর স্বামী পাবে কমপক্ষে ৭২টা হুর, হুর বুঝিস তো ? স্বর্গের বেশ্যা। আর কিছু গেলমান, গেলমান বুঝিস তো ? হিজড়া। তোর স্বামী ওদেরকে নিয়ে দিন রাত ফুর্তি করবে, আর তোকে সেটা বসে বসে দেখতে হবে। সহ্য করতে পারবি তো ? শুধু বসে বসে দেখা ই নয়, তোর স্বামী কার পর কাকে বিছানায় নিচ্ছে সেই হিসেব ও কিন্তু তোকে রাখতে হবে। এখন বল, বেহেশতে এত সুন্দরীকে পেলে তোর স্বামী কি তোর দিকে ফিরে তাকাবে ? এরপরও তুই কি বেহেশতে থাকতে পারবি ?
এত কথা শোনার এনার্জি আমার মনে হয় না কোনো মুসলমানের থাকবে, কিন্তু যখন যুদ্ধে নামা, তখন বেশি অস্ত্র নিয়ে নামা ই ভালো। যেগুলো বলেছি তার থেকে প্রসঙ্গ মতো ৩/৪ টা পয়েন্ট তুলে ধরতে পারলেই দেখবেন লেজ গুটিয়ে পালাবে বা বলবে, তোকে একদিন বড় হুজুরের কাছে নিয়ে যাবো, উনি তোকে এগুলোর জবাব দিতে পারবেন, যদি এই কথা বলে, তাহলেই বুঝবেন, আপনার জয় হয়েছে।
এই পুরো পোস্ট আমি লিখেছি একজন নারীর জবানীতে। কিন্ত এর মানে এই নয় যে, পুরুষেরা এভাবে জবাব দিতে পারবেন না। বিষয়গুলো জেনে নিয়ে জায়গা মতো প্রয়োগ করবেন, দেখবেন জয় আপনার নিশ্চিত। এছাড়াও যে ধরণের প্রশ্নের মুখে আপনার পড়েন, সেগুলো আমাকে জানাবেন, আমি তার উত্তর জানিয়ে দেবো।
জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রী কৃষ্ণ।
------------------------------------------------------
উপরে যে রেফারেন্সগুলো দিয়েছি, সেগুলো দেখে নিন নিচে-
সম্পত্তি ভাগ :
পুরুষের অংশ ২ জন মেয়ের সমান। -( কোরান, ৪/১১)
বিয়ের সম্মতি :
কুমারী বালিকার সম্মতি চাইতে হবে এবং নীরবতাই তার সম্মতি। (মুসলিম শরীফ, ৩৩০৭)
বন্ধ্যা নারীকে বিয়ে করা নিষেধ :
মালিক ইবনে ইয়াসার বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি নবীকে বললো, একটা উচ্চ বংশের সুন্দরী মেয়ে আছে, কিন্তু সে বন্ধ্যা। আমি কি তাকে বিয়ে করতে পারি ? নবী বললেন, না। সে নবীর কাছে আবার এলে নবী তাকে নিষেধ করলেন। সে তৃতীয়বার এলে নবী তাকে বললো, সেই মেয়েদের বিয়ে করো, যারা প্রেমময়ী ও উৎপাদন শীল। কারণ, আমি তোমাদের দিয়ে সংখ্যায় অন্যদের পরাস্ত করবো। ( সুনান আবুব দাউদ, ১১/২০৪৫)
দেবর-ভাশুরের সাথে সম্পর্ক :
নারীর নিকট স্বামীর ভাই মরন সদৃশ। (Sahih Bukhari 7:62:159)
হিলা বিবাহ :
অতঃপর (তৃতীয়বার) সে যদি তাকে তালাক দেয়, সে আর তার জন্য বৈধ হবে না, যে পর্যন্ত সে অন্য ব্যক্তির সাথে বিবাহিত হবে। তারপর সে তাকে যদি তালাক দেয় এবং যদি উভয়ে মনে করে যে, তারা আল্লার সীমারেখা রক্ষাকরতে সমর্থ হবে,তবে তাদের পুনর্মিলনে অপরাধ হবে না।- (কোরান, ২/২৩০)
“না তা তুমি পারো না, যতক্ষণ না তোমার নতুন স্বামী তোমার মাধুর্য উপভোগ করছে এবং তুমি তার মাধুর্য উপভোগ না করছো। - (মুসলিম, ৩৩৫৪)
স্ত্রীকে প্রহার :
কোনো পুরুষ কোন কারণে তার স্ত্রীকে প্রহার করেছে, সে ব্যাপারে তাদেরকে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হবে না।- (বুখারি, ৮/৮২/৮২৮)
নারীর নেতৃত্ব :
সে জাতি কখনোই সফলকাম হবে না, যারা তাদের শাসনভার কোনো নারীর হাতে অর্পন করে। (বুখারি, ১০/৬৬১৮)
সেক্সে নারীর অনিচ্ছার ফল :
যে নারী তার স্বামীর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ঘুমায় এবং তার স্বামী অসন্তষ্ট হয়ে রাত্রি যাপন করে, সেই নারীকে ফেরেশতারা সারা রাত্রি ধরে অভিশাপ দেয়।- (মুসলিম, ৮/২০/৩৩৬৬)
তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের শস্যক্ষেত্র , তাই তাতে যেভাবে খুশি গমন কর।- (কোরান, ২/২২৩)
নারী অশুভ ও ক্ষতিকর :
তিন জিনিসের মধ্যে অশুভ আছে, নারী বাড়ি আর ঘোড়া। (বুখারি- ৭/৩০)
আমার পর পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে ক্ষতিকর কিছু আর রইলো না। -(বুখারি, ৭/৩৩)
গন্ধবিহীন সুগন্ধি:
The perfume used by men should have an odour but no colour, and the perfume used by women should have a colour but no odour. Sunan Abu-Dawud, Book 32, Number 4037
ইনসেস্ট বিবাহ :
তোমার সেই চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো ও খালাতো ভগ্নীদেরকেও হালাল করেছি, যারা তোমার সাথে হিজরত করে এসেছে।– (কোরান,৩৩/৫০)
ধর্ষিতার শাস্তি :
তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে ৪ জন সাক্ষী তলব করবে, যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তাদের গৃহে অবরুদ্ধ করবে যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয়।- ( কোরান, ৪/১৫)
দাসীর সাথে স্বামীর সেক্স :
দাসী ব্যতীত আর কোনো স্বাধীন নারীকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করা বা অন্য কোনো নারীর সঙ্গে পরিবর্তন করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়, যদিও তাদের সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করে।-( কোরান, ৩৩/৫২)
গনিমতে মাল সম্পর্কিত :
তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের উপর অধিকার অর্জন করেছে সেইরূপ নারী ব্যতীত
অন্য কোনো সধবা নারী তোমাদের জন্য বৈধ নয়।- (কোরান, ৪/২৪)
এই গনিমতের মাল তো আল্লা এবং তার রসূলের। - (কোরান, ৮/১)
আর তোমরা জেনে রাখো যে, তোমরা যে গনিমতের মাল লাভ করেছো, তার এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ, তার রসূল এবং আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম মিসকিন ও পথিক মুসাফিরদের জন্য নির্দিষ্ট।- (কোরান, ৮/৪১)
অতএব তোমরা যা কিছু ধন মাল লাভ করেছো, তা খাও, তা হালাল এবং তা পবিত্র।- (কোরান, ৮/৬৯)
গান-বাজনা-ছবি আঁকা সংক্রান্ত হাদিস:
কবিতা থেকে পুঁজ উত্তম । (Sahih Muslim 28:5611)
বানর আর শুকর মানেই যারা পূর্বে বাধ্যযন্ত্র বাজাতো। (Sahih Bukhari 7:69:494)
যে রূপ পনি শস্য উৎপাদন করে, তদ্রুপ গান কপটতা জন্মায়।
যে ঘরে কুকুর ও ছবি আছে, সেই ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
নিশ্চয় জানিও আল্লার নিকটে তথা আখেরাতে সর্বাধিক কঠিন আজাব হবে ছবি তৈরি কারকদের।
যদি কেহ জীবজন্তুর ছবি অংকন করা হারাম জানা সত্ত্বেও উহা অংকন করে তবে সে কাফের হইয়া যায়।
মারহাবা।
কেনো, বড়র আগে ছোটকে বিয়ে দেওয়া যাবে না ?
কেনো, বড়র আগে ছোটকে বিয়ে দেওয়া যাবে না ?
Tanvir Ahmed sharif নামের এই উন্মাদ, যে নিজে ইসলাম পালন করতে পারে না, আবার আসে ইসলাম প্রচার করতে। ফটোপোস্টে দেখুন ফেসবুকের প্রোফাইল হিসেবে সে নিজের একটি ছবি দিয়েছে ছাগলা মার্কা দাড়ি সহ টুপি প'রে। ইসলামে কি ছবি তোলা হালাল যে সে এই ভাবে ছবি তুলেছে ! নিচে দেখে নিন ছবি সম্পর্কিত ইসলামের বহুল প্রচারিত কয়েকটি হাদিস, খুব বেশি পরিচিত ব'লে এগুলোর রেফারেন্স আর দিলাম না-
"যে ঘরে কুকুর ও ছবি আছে, সেই ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।"
"নিশ্চয় জানিও আল্লার নিকটে তথা আখেরাতে সর্বাধিক কঠিন আজাব হবে ছবি তৈরি কারকদের।"
"যদি কেহ জীবজন্তুর ছবি অংকন করা হারাম জানা সত্ত্বেও উহা অংকন করে তবে সে কাফের হইয়া যায়।"
এখানে আঁকানো ছবি সম্পর্কে এসব বালছাল বকা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ছবি মানেই যেহেতু উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরার ব্যাপার, তাই ক্যামেরায় তোলা ছবি সম্পর্কেও সেই একই কথা প্রযোজ্য; কারণ, ইসলামের কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন বা সংষ্কার নাই।
ছবির পর এই মুহম্মাদী উন্মাদ, যে ফেসবুক ব্যবহার করে ইসলামের নামে বালছাল বকেছে, ইসলাম মতে সেটাও হারাম। কারণ, তিরমিযির একটি হাদিসে বলা আছে-
"তোমরা নিজেদেরকে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে দূরে রেখো; কেননা, প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত হচ্ছে ভ্রান্তি বা ভুল পথ।"
-ফেসবুক, ইন্টারনেট একটি নব উদ্ভাবিত বিষয়, সেই নব উদ্ভাবিত বিষয় এই মূর্খ ব্যবহার করছে কেনো ? নিজে ইসলামের বাল বোঝে না, আবার আসে সনাতন ধর্মের সমালোচনা করে ইসলাম প্রচার করতে! ইসলাম, এর পাছা দিয়ে ঢুকিয়ে মুখ দিয়ে বের করা দরকার। শালা জঙ্গী কোথাকার, সারাদিন তো ইসলাম পালন করিস বেহেশতের ৭২ বেশ্যার জন্য, তোর চিন্তা-ভাবনা আর শুদ্ধ হবে কিভাবে বা যারা সামাজিক শুদ্ধতার চিন্তা করে, তাদের তোকে ভালো লাগবে কিভাবে ?
যা হোক, আবার বৈজ্ঞানিক গবেষণাও কোরানে সম্পূর্ণ নিষেধ, দেখুন নিচের আয়াত-
"যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই সে বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হইও না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু এবং হৃদয়, এদের প্রত্যেকের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হবে।" - (কোরান, ১৭/৩৬)
-কোনো বিষয়ে অনুমান বা কল্পনা দ্বারাই শুরু হয় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের গবেষণার সূচনা, ইসলামে সেটাই নিষেধ। তাহলে বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে মুসলমানরা ব্যবহার করে কেনো ? এরা নিজেরা কিছু করতে পারবে না, অমুসলিমদের পরিশ্রমে উদ্ভাবিত বিষয়গুলো ব্যবহার করে এবং সেগুলোর দ্বারাই তারা আবার অমুসলিমদেরকেই গালি দেয়, এদের মতো হারামজাদা ও ভণ্ড জাত পৃথিবীতে আর একটাও কি আছে ?
এই উন্মাদ বলেছে- হিন্দু আইনে বড় ছেলের আগে ছোটছেলের বিয়ে দিলে নরকবাসী, ইসলামে এরকম কিছু নেই, আসুন এ প্রথা দূর করি।
-ইসলামে তো অনেক কিছুই নেই, যেটা হিন্দু সমাজে আছে, তাহলে সেগুলো মানিস কেনো বা মানতে বাধ্য হোস কেনো ? ইসলামে, মেয়ের বিয়ের সময় কোনো প্রকার উপহার সামগ্রী বা টাকা পয়সা দেওয়া নিষেধ, বরং বরপক্ষকেই, কনের বাপকে টাকা পয়সা দিতে হয়, এই নিয়ম বর্তমানের মুসলমানরা পালন করতে পারছে না কেনো ? কেনো তারা মেয়ের বিয়ের সময় উপহার সামগ্রী বা টাকা পয়সা দিতে বাধ্য হচ্ছে ? যেহেতু এর সামাজিক উপযোগিতা আছে, সেহেতুই তো দিতে বাধ্য হচ্ছে। আর এটাই প্রমাণ করে যে- হিন্দুধর্ম সামাজিক বাস্তবতা সম্পন্ন ধর্ম; ইসলাম নয়, ইসলাম সম্পূর্ণ অবাস্তব মতবাদ সমাজের জন্য।
ইসলামে, ছোটদের আগে বড়দের বিয়ে দেওয়ার কোনো নির্দেশ নেই। কিন্তু বাপ বেটা মিলে একই দিনে একই সাথে দুই বোনকে বিয়ে করার বিধান আছে। জানিস তো সেটা ? না জানলে শুনে নে-
মুহম্মদের বাপ আব্দুল্লার জন্য মেয়ে দেখতে, মুহম্মদের দাদা মোতালিব গিয়েছিলো কনের বাড়ি, সেখানে গিয়ে সে আব্দুল্লার জন্য আমিনাকে পছন্দ করে, আর নিজের জন্য আমিনার চাচাতো বোন হালাকে পছন্দ করে। তারপর উভয় প্রস্তাবই কনের বাড়িতে গ্রহনযোগ্য হয় এবং একই দিনে একই সাথে দুই বোনের বাপ ও বেটার সাথে বিবাহ হয়। এই তো তোদের কালচার আর এই তো হলো তোদের আদর্শ। এই আদর্শের উত্তরসূরী হওয়ায় তোর চিন্তা-ভাবনা আর কত ভালো হবে ?
এরপর মুহম্মদ, যে ২৫ বছর বয়সে নিজের মায়ের বয়সী ৪০ বছরের খাদিজাকে বিয়ে করে একটা অসুখী দাম্পত্যজীবন যাপন করতে বাধ্য হয়। কারণ, মুহম্মদ ছিলো খাদিজার চাকর, তাই খাদিজা বেঁচে থাকা কালীন মুহম্মদ অন্য কাউকে বিয়ে করার কথা ভাবতেও পারে নি। কিন্তু যেই খাদিজা মরেছে, অমনি মুহম্মদ বিয়ের একেবারে মেইল ট্রেন ছুটিয়ে দিয়েছে, খাদিজা মরার পর প্রতিবছর মুহম্মদ গড়ে ২টি করে বিয়ে করে তার যৌনতার শখ পূরণ করেছে।
বিয়ের ক্ষেত্রে মুহম্মদের তো আবার কোনো নীতিনৈতিকতা নেই, যাকে পছন্দ হয়েছে ক্ষমতার জোরে তাকেই বিয়ে করেছে, সেটা হোক ছয় বছরের আয়েশা বা পুত্রবধূ জয়নাব। মুহম্মদকে তো মুসলমানরা সর্বোচ্চ আদর্শ মানে, মুহম্মদ যেভাবে হেগেছে, সেভাবে হাগারও চেষ্টা করে; তাহলে তারা ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছরের কোনো বিধবাকে বিয়ে করে না কেনো ? কেনো বিয়ে করে না নিজের বন্ধুর কোনো ৬ বছরের মেয়েকে ৫০ বছর বয়সে ? কেনো বিয়ে করে না নিজের পুত্রবধূকে ? এসব করতে কি লজ্জা লাগে ? মুহম্মদের এসব কুকর্ম করতে যদি লজ্জাই লাগে, তাহলে মুহম্মদকে সর্বোচ্চ আদর্শ মানিস কেনো ? বা মুহম্মদের দ্বারা প্রবর্তিত বস্তাপঁচা ইসলামের পক্ষে সাফাই গাস কেনো ?
সমাজে বড়দের কিছু অধিকার বা অগ্রাধিকার আছে, যেটা তাদের আগে ছোটরা করতে পারে না। এই অনেক বিষয়ের মধ্যে একটি হলো বিয়ে। কারণ, বড়র আগে যদি ছোট বিয়ে করে, তাহলে এই প্রশ্ন সমাজের মানুষের মধ্যে উঠবে যে বড়র মনে হয় কোনো সমস্যা আছে। যেকারণে ছোট ভাইয়ের বিয়ের পর যদি বড় ভাইয়ের জন্য কোথাও প্রস্তাব দেওয়া হয়, তাহলে প্রথমেই তারা প্রশ্ন করবে যে- আগে ছোট ছেলের কেনো বিয়ে হয়েছে ? কেনো বড় ছেলের বিয় হয় নি ? বড় ছেলের কি কোনো সমস্যা আছে ? এতে ছেলে পক্ষ যদিও বলে যে- না, কোনো সমস্যা নেই, তারপরও মেয়েপক্ষ সেটা বিশ্বাস করতে পারবে না বা বিশ্বাস করবে না, এভাবে সেই বড় ছেলের বিয়ের প্রস্তাব বার বার প্রত্যাখ্যাত হবে, যেটা হবে বড় ছেলের জন্য মনোকষ্টের, যার বিরূপ প্রভাব ঐ পরিবার বা সমাজে পড়তে বাধ্য।
সনি ৮ চ্যানেলে ভারতের উত্তর প্রদেশের এক মুসলিম পরিবারে ঘটা কাহিনীতে একদিন দেখলাম- বাড়ির ছোটমেয়ে তার গ্রামেরই একছেলের প্রেমে প'ড়ে তাকে বিয়ে করতে একেবারে পাগল হয়ে উঠেছে, এতে ঐ মেয়ের পরিবারের কোনো সমস্যা নেই। ছোটমেয়েকে তারা এটা বোঝাচ্ছে যে- তোর বড় বোনের বিয়ে হলেই, তোকে ঐ ছেলের সাথে বিয়ে দেবো। কিন্তু ছোটমেয়ে সেটা মানতে নারাজ। বড় বোন দেখতে একটু কম সুন্দরী ছিলো ব'লে সহজে তার বিয়ে হচ্ছিলো না। এতে ছোটো মেয়ে আরো অধৈর্য হয়ে পড়ে। তার কথা বড় বোনের যদি সারাজীবন বিয়ে না হয়, তাহলে কি এভাবে সারাজীবন বিয়ে না করে সে থাকবে ?
একপর্যায়ে ছোটে মেয়ে তার কাপড়চোপড় নিয়ে তার প্রেমিকের বাড়ি গিয়ে উঠে এবং ছেলের মাকে বলে- আপনি, আপনার ছেলের সাথে আমার বিয়ে করিয়ে দিন। ছেলে আর ছেলের মা তো হতভম্ব। কিছু না বলে বা কোনো কিছু না করে তারা কালক্ষেপন করতে থাকে। কিছু সময় পর ঐ বাড়িতে মেয়ের বাপ আসে, সে তাকে এটা সেটা বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়, কিন্তু মেয়ে রাজী হয় না।
তারপর মেয়ের বাপ রাতের বেলা এলাকার চেয়ারম্যানকে নিয়ে যায় ঐ বাড়িতে, চেয়ারম্যানের কথাতেও মেয়ে বাড়িত ফিরে না। এভাবে রাত কেটে যায়, পরেরদিন মেয়ের ভাই, ঐ বাড়িতে গিয়ে ঐ মেয়েকে জোর করে বাড়িতে ধরে আনে, এবং তাদের কথা মতো চলতে বলে, এটাও বলে যে- বড়বোনের আগে যদি তোর বিয়ে দিই, তাহলে সমাজের লোকজন ভাববে, বড় বোনের কোনো সমস্যা আছে, আর এটা একবার প্রচার হয়ে গেলে ওর কোনোদিন আর বিয়েই হবে না, তুই কিভাবে তোর বড় বোনের ক্ষতি এভাবে করতে পারিস ? এসব নানা কথা তাকে বোঝানো হয়, কিন্তু সে কিছুই মানে না। শেষ পর্যন্ত বড় ভাই, হাসুয়া টাইপের কিছু একটা দিয়ে তার ঘাড়ে কোপ দিয়ে তাকে খুন করে ফেলে এবং সেই কাটা মাথা নিয়ে গ্রামের মধ্যে ঘুরে অন্য মেয়েদেরকে এটা শিক্ষা দেয় যে সামাজিক যে নিয়ম, সেটা সবাইকে মানতে হবে, না হলে সবার এই পরিস্থিতি হবে।
এই ঘটনাটি প্রথমে পত্রিকা্য় পড়েছিলাম, পরে একদিন টিভিতেও দেখলাম। যা হোক, খুনের অপরাধে শেষ পর্যন্ত সেই ভাইকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় ঐ পরিবার, তাদের মেয়েকে তো চিরজীবনের হারায় ই, পরিবারের বড় ছেলে, যে ছেলে ঐ পরিবারের একজন সম্পদ, তাকেও তারা হারায়।
বড়র আগে ছোটর বিয়ে হলে সমাজে এই ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়, যেটা সমাজে নানা ধরণের অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে।
ধরে নিলাম, এই ধরণের মারাত্মক ঘটনা সব সময় ঘটে না বা সব সময় ঘটবে না। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেই, সেটা হলো-
যেকোনো বিয়ের প্রাথমিক উদ্দেশ্যে হলো যৌনতা উপভোগ। আর যেকোনো ভোগের ক্ষেত্রে প্রথম অধিকার হলো বড়দের। না হলে কেনো সৃষ্টিকর্তা তাকে বড় করে সৃষ্টি করেছন ? বিয়ের পর নতুন স্বামী-স্ত্রীকে যখন এক ঘরে তুলে দেওয়া হয়, তখন তারা কী করে, সেটা সবাই জানে ও বোঝে। বড় ভাইয়ের আগে কোনো ছোট ভাই যদি সেটা করে, তাহলে সেটা বড় ভাইয়ের জন্য একটি বিশাল মনোকষ্টের ব্যাপার। এই মনোকষ্ট একদিনের নয়, প্রতিদিনের। বড়র আগে ছোটর বিয়ে হলে, ছোটভাই যখন পাশের রূমে তার স্ত্রীকে নিয়ে এনজয় করে, তখন বড় ভাই ঘুমহীন চোখে হয়তো এপাশ ওপাশ করে। এই মানসিক অশান্তি ও কষ্ট, বড় ভাইয়ের প্রতিদিনের কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে বাধ্য, যার কারণে সেই পরিবারের বড় কোনো ক্ষতি না হলেও ছোটখাটো অনেক ক্ষতি হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
এসব বিবেচনা করেই এবং বড় ভাইয়ের সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবেই হিন্দুধর্মে বড় ভাই বা বোনের আগে ছোট ভাই বা বোনের বিবাহ দিতে নিষেধ করে একে পাপ বলে বিবেচনা করা হয়েছে এবং এই পাপে যারা জড়িত থাকবে, তারা সবাই নরকভোগী হবে বলে সাবধান করা হয়েছে মনুসংহিতার ৩/১৭১, ১৭২ নং শ্লোকে, এই বিধান সমাজের জন্য ভালো, না খারাপ ?
বড়র আগে ছোটর বিয়ে হলে সমাজে বড়দের সম্মান ও মর্যাদা নষ্ট হয়, তাদের সম্পর্কে নানা রকম প্রশ্ন উঠে, এবং এর ফলে সামাজিক শৃঙ্খলার ক্ষতি হয় ব’লে হিন্দু শাস্ত্রে একে পাপ বলে গণ্য করা হয়েছে, আর সেটার সমালোচনা করেছে এই জংলী জানোয়ার মুহম্মদী উন্মাদ, যাদের বিয়ে কোনো বিয়েই নয়, বেশ্যাবৃত্তির চুক্তি, আবার যাদের বিয়ের এক ঘণ্টারও কোনো গ্যারান্টি নেই। কখন কোন মুসলিম মেয়ের যে ঘর ভাঙবে, কে কখন যে তালাক খাবে এবং কে কখন যে কার বিছানায় গিয়ে কাপড় খুলতে বাধ্য হবে, সেটা কেউ জানে না। এই ধরণের নোংরা, জঘন্য সমাজের সদস্য হয়ে, এই উন্মাদ এসেছে হিন্দু সমাজের প্রথার সমালোচনা করতে, এই ছাগলকে পাঁঠা দিয়ে নয়, শুকর দিয়ে দোচানো দরকার, তাহলে যদি এর বোধ জাগ্রত হয়।
জয় হিন্দ।
Sunday, 23 August 2020
জঙ্গীদের বোধোদয় :
জঙ্গীদের বোধোদয় :
ফটোপোস্টে দেখুন সেলিম মালিক সেখ, প্রশ্ন করেছে- আসল জঙ্গী কারা ?
-তার মানের সারা পৃথিবীর মানুষ যে মুসলমানদেরকে জঙ্গী সন্ত্রাসী মনে করে, সেটা মুসলমানরা বুঝতে পেরেছে, এখন নিজেদের জঙ্গী বদনামকে ঘুচানোর জন্য অন্যদেরকে জঙ্গী প্রমাণ করার চেষ্টা করছে এবং এই খেলায়, যেহেতু হিন্দুদেরকে মুসলমানরা ঘোর শত্রু মনে করে, সেহেতু তাদের প্রধান টার্গেট হিন্দুরা, তাই হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে হিন্দুদেরকে জঙ্গী প্রমাণ করার এই অপচেষ্টা। কিন্তু যে বা যারা মুসলমানদের মতো হারামাজাদা নয়, তাদেরকে হারামজাদা বললেই যেমন, তারা হারামজাদা হয়ে যাবে না, তেমনি হিন্দুদেরকে জঙ্গী বললেই তারা জঙ্গী প্রমাণ হয়ে যাবে না।
যা হোক, এই জঙ্গী সেলিম মালিক সেখ, হিন্দুদেরকে জঙ্গী প্রমাণ করতে অথর্ববেদের একটি রেফারেন্স দিয়েছে এইভাবে- অথর্ববেদ ১২ নং কাণ্ড ৫ নং শ্লোক ৬২ নং মন্ত্র! কিন্তু মূর্খ হলে যা হয়, একটি রেফারেন্সও ঠিক মতো দিতে পারে না; হরফ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত অথর্ববেদ, কাণ্ড>অনুবাক>সূক্ত>মন্ত্র, এই ভাবে সাজানো এবং অগ্নিবীর কর্তৃক প্রকাশিত অনলাইন বেদে অথর্ববেদ, কাণ্ড>সূক্ত>মন্ত্র, এই ভাবে সাজানো। রেফারেন্স দেওয়ার সময় এই কোনোটিকেই এই জঙ্গী ফলো করে নি, তাই তার এই রেফারেন্স খুঁজতে গিয়ে হয়রান। শেষ পর্যন্ত ১২/৫/৬২ কে ভিত্তি ধরে অগ্নিবীরের অনলাইন বেদ, যেটার অনুবাদ ড. তুলসীরাম শর্মা, সেখানে গিয়ে যে মন্ত্রটি পেলাম, সেটা হলো-
"বৃশ্চ প্র বৃশ্চ সং বৃশ্চ দহ প্র দহ সং দহ"
এর অনুবাদ হিসেবে তুলসীরাম শর্মা লিখেছেন- "গো দেবতাদের ব্যাপারে যারা সীমালঙ্ঘন করে এবং যারা তাদের সমর্থক, তাদেরকে উপড়ে ফেলো, কেটে ফেলো, পুড়িয়ে ধ্বংস করে ছাই বানিয়ে দাও।"
তার মানে এই মন্ত্রটি পুরোটাই গরুর উপর ভিত্তি করে রচিত। জঙ্গী সেলিম মালিক সেখ যেমন বলেছে যে- বেদনিন্দুকদেরকে কাটো, মারো, জ্বালিয়ে ফুক দিয়ে ভস্ম করে দাও, ব্যাপারটি সেকরম কিছু নয়।
এরপর জঙ্গী সেলিম মালিক সেখ নাক সিটকিয়ে বলেছে- আবার তারাই বলে হিন্দুত্ব মানবতা শেখায়।
-হিন্দুদের ধর্ম সনাতন ধর্ম প্রকৃতপক্ষেই মানবতা শেখায়; কারণ, সনাতন ধর্মের বাণীই হলো-
“পরদ্রব্যেষু লোষ্ট্রবৎ” অর্থাৎ, পরের দ্রব্যকে মাটির ঢেলার মতো জানবে।
এবং
“মাতৃবৎ পরদারেষু, কন্যাবৎ পরকন্যাষু” অর্থাৎ, পরের স্ত্রী কন্যাদের মায়ের মতো দেখবে।
এছাড়াও মহামুনি বেদব্যাস বলেছেন-
"পরোপকারঃ পুন্যায়, পাপায় পরপীড়নম্।"
এর অর্থ : অন্যের উপকার করা ধর্ম, অন্যকে পীড়া দেওয়া অধর্ম।
পৃথিবীর সকল অপরাধের মূল এই অন্যের ধন সম্পদ এবং অন্যের নারী, এই দুটো ব্যাপারে আগ্রহ সনাতন ধর্মে একেবারে জিরো করে দেওয়া হয়েছে এবং অন্যকে যেকোনোভাবে পীড়া দেওয়া যে অধর্ম, সেটাও বলে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়গুলো যে ব্যক্তি মেনে চলবে, একমাত্র সে ই পৃথিবীতে মানুষ বলে গণ্য হবে। এসবের প্রেক্ষিতে এখন জঙ্গী সেলিম মালিক সেখকে জিজ্ঞেস করছি, এসব বাণী কি মানবতা শেখায় না ? এসবের বিপরীতে ইসলাম থেকে এমন একটা বাণী দেখা, যেটা মুসলমানদেরকে মানবতা শেখায়, যদি দেখাতে পারিস, ইসলামের সমালোচনা ছেড়ে দিয়ে আমি মুসলমান হয়ে যাবো, এটা আমার প্রতিজ্ঞা, তোর নবী মুহম্মদের প্রতিজ্ঞা নয়, যে নবী বলেছে-
“আল্লাহর ইচ্ছায়, যদি আমি কোন ব্যপারে শপথ করি আর পরে দেখি এর চেয়ে ভাল কিছু আছে তখন আমি যেটা ভাল মনে করি সেটাই করি আর তখন পূর্বেকার শপথ রক্ষার কোন দরকার মনে করি না।(সহি বুখারী, বই – ৬৭, হাদিস-৪২৭”)
আমি তোর নবীর মতো এত নীতিহীন নয় যে, বেটার অপশন পেলে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবো।
যা হোক, এরপর জঙ্গী সেলিম মালিক সেখ মন্তব্য করেছে-
"যেই ধর্মের ভগবান উগ্রবাদী, ওই ধর্ম আবার মানবতা শেখায় না, ওই ধর্মে শেখায় মানুষ হত্যা করা। ভগবান উগ্রবাদী তাদের ভক্তরাও উগ্রবাদী সন্ত্রাসী জঙ্গী হবে, এটাই স্বাভাবিক।"
-সনাতন ধর্ম যে মানবতা শেখায়, সেটা আগেই প্রমাণ করে দিয়েছি। আর সনাতন ধর্মের ভগবান উগ্রবাদী তাদের ক্ষেত্রে, যারা মানুষ নয়, মুসলমানদের মতো অমানুষ, জানোয়ার। মানুষরূপী অমানুষ জানোয়ারদেরকে দমন না করলে যেহেতু তারা মানুষদের উপর অত্যাচার করে, নির্যাতন ক'রে তাদের শান্তিকে বিঘ্নিত করে, তাই সনাতন ধর্মের ভগবান, সেই সকল অমানুষ, জানোয়ারদের ব্যাপারেই উগ্রবাদী, ভালো মানুষদের ক্ষেত্রে নয়; সাধারণ ভালো মানুষকে সে যে রক্ষা করে, সে কথা তিনি নিজেই গীতায় বলেছেন, এভাবে-
"পরিত্রানায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাং।
অর্থাৎ সাধুদের আমি রক্ষা করি, আর দুষ্কৃতকারীদেরকে বিনাশ করি।
তো এ ব্যাপারে জঙ্গী সেলিম মালিক সেখ এর এতো গা জ্বালা করছে কেনো ? মরুভূমির বর্বরের অনুসারী অধর্মী হওয়ায় সনাতন ধর্মের ভগবানের হাতে সে কি নিজের বিনাশ দেখতে পাচ্ছে ?
এরপর এই জঙ্গী প্রশ্ন করেছে- হিন্দুধর্ম মতে দুষ্কিতি (কাফের) কারা ?
এই প্রশ্নের জবাবে সে নিজেই গীতার ৭/১৫ নং রেফারেন্স দিয়ে বলেছে, যারা শ্রীকৃষ্ণের পূজা করে না, তারা সবাই দুষ্কৃতি অর্থাৎ কাফের।
এখানে দুষ্কৃতি ও কাফের শব্দকে যদিও এই জঙ্গী প্রায় সমার্থক করে ফেলেছে, কিন্তু এই দুটি শব্দের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। যারা ইসলামকে বিশ্বাস করে না, তারা কাফের। আর কাফেররা ইসলাম অনুযায়ী হত্যা যোগ্য। কিন্তু গীতায় যাদেরকে দুষ্কৃতি বলা হয়েছে, তারা প্রথমতই হত্যাযোগ্য নয়, শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন এই দুষ্কৃতিরা যদি তার শরণ নেয়, তিনি তাদেরকেও ক্ষমা করে দিয়ে উদ্ধার করবেন।
এই দুষ্কৃতি প্রসঙ্গে এই জঙ্গী নাক সিটকিয়ে বলেছে- এই সব ভগবানের ভক্ত, তারাই আবার বলে মুসলিমরা জিহাদী জঙ্গী তাদের কুরানে লিখা আছে কাফেরদের মেরে ফেলতে হবে।
এরপর সে বলেছে- একজন হিন্দু ভাই কুরানের একটা আয়াত দেখান তো যেইখানে আপনার ভগবানের মতো এমন কথা বলা হয়েছে ?
-এই যে তুই হিন্দুদেরকে 'ভাই' ব'লে সম্বোধন করলি না, এতেই প্রমাণিত হয়, ইসলাম সম্পর্কে তুই কিছুই জানিস না। কোরানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো অমুসলিমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না, দেখ নিচের আয়াতগুলি-
"হে ঈমানদার লোকেরা, ইহুদি ও ঈসায়ীদের নিজেদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। তারা নিজেরা পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহন করে, তাহলে সে তাদের মধ্যেই গন্য হবে।"- (কোরান, ৫/৫১)
অর্থাৎ, কোনো মুসলমান যদি কোনো অমুসলিমকে বন্ধু হিসেবে মনে করে, তাহলে সেই মুসলিমের আর ঈমা্ন থাকবে না, সে অমুসলিমদের দলে পড়ে যাবে। এছাড়াও যেসব মুসলিম কাফেরদেরকে বন্ধু হিসেবে নিতে চায়, তাদের প্রতি আল্লা হুমকি দিয়ে বলেছে-
"হে ঈমানদারগণ, ঈমানদার লোকদের ত্যাগ করে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহর হাতে নিজেদের বিরুদ্ধে দলিল তুলে দিতে চাও।"- ( কোরান, ৪/১৪৪)
শুধু তাই নয়, অমুসলিমরা যে মুসলমানদের সাথে একত্রে বাস করতে পারবে না, সেকথা বলা হয়েছে কোরানের এই আয়াতে, দেখ সেটা-
"পরে এই শহরে তোমাদের সাথে তাদের বসবাসই কঠিন হবে।- (কোরান, ৩৩/৬০)
কোরানে অমুসলিমদের সম্পর্কে যেখানে এই রকম কথা বলা হয়েছে, সেখানে তুই হিন্দুদেরকে ভাই সম্বোধন করে ভালো মানুষ সাজার চেষ্টা করছিস, তুই ইসলামের বাল জানিস, তার মানে তুই ইসলামের কিছুই জানিস না।
কথা প্রসঙ্গে তুই বলেছিস, কোরানে কাফের অর্থাৎ হিন্দুদেরকে হত্যা করার কোনো বিধান নেই, তাহলে দেখ এই সম্পর্কিত কিছু আয়াত, আর ভাব কোরানের এসব আয়াতকে বিশ্বাস করে বা মেনে কারা জঙ্গী, সন্ত্রাসী।
"এই কুরআন পরিপূর্ণ হেদায়েতের কিতাব। আর সেই লোকদের জন্য কঠিন যন্ত্রনাদায়ক আযাব রয়েছে, যারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে।"- (কোরান, ৪৫/১১)
-তার মানে যারা কোরানের আয়াতকে মেনে না নেবে তাদের জন্য আল্লা শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে এবং এরপর আল্লার রেফারেন্স দিয়ে মুহম্মদ বলেছে-
"আমরা তোমাদের অস্বীকার করেছি এবং আমাদের ও তোমাদের মাঝে চিরকালের শত্রুতা স্থাপিত হয়েছে ও বিরোধ ব্যবধান শুরু হয়ে গেছে, যতক্ষণ তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান না আনবে।"- (কোরান, ৬০/৪)
এই এক আল্লার প্রতি যারা ঈমান না আনবে, তাদের ব্যাপারে কোরানে বলা হয়েছে-
"তাদের উপর চারেদিক হতে অভিশাপ বর্ষিত হবে, যেখানেই তাদেরকে পাওয়া যাবে, তাদেরকে পাকড়াও করা হবে ও নির্মমভাবে মারা হবে।"- (কোরান, ৩৩/৬১)
এটা কি মুসলমানদের প্রতি হিন্দুদেরকে হত্যা করার নির্দেশ নয় ?
কাউকে হত্যা করতে হলে তো তার বা বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, এ সম্পর্কে মুসলমানদের প্রতি আল্লার নির্দেশ হলো-
"হে নবী, কাফের ও মোনাফেকদের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে জেহাদ করো এবং তাদের সম্পর্কে কঠোর নীতি অবলম্বন করো। শেষ পর্যন্ত তাদের পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম।"- (কোরান, ৯/৭৩)
মুহম্মদের অনুসারী মুসলমানদেরকে যে সব সময় কাফেরদের ব্যাপারে কঠোর হতে হবে, সেই কথা বলা হয়েছ নিচের এই আয়াত দুটিতে-
"মুহম্মদ আল্লার রসূল। আর যেসব লোক তার সঙ্গে রয়েছে, তারা কফেরদের প্রতি শক্ত এবং কঠোর।"- (কোরান, ৪৮/ ২৯)
"হে ঈমানদার লোকেরা, যুদ্ধ করো সেই সত্য অমান্যকারী লোকেদের বিরুদ্ধে যারা তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছে। তারা যেন তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা ও কঠোরতা দেখতে পায়। আর জেনে নাও আল্লাহ মোত্তাকী লোকদের সঙ্গেই রয়েছে।"- (কোরান, ৯/১২৩)
ইসলাম গ্রহন করে মুসলমান না হলে যে কারো নিস্তার নেই, সেই কথা বলা হয়েছে নিচের এই দুটি আয়াতে-
"কিন্তু বাঁচতে পারবে শুধু তারা, যারা তওবা করবে (অর্থাত ইসলাম গ্রহন করবে), তাদের উপর তোমাদের আধিপত্য স্থাপিত হওয়ার পূর্বে।"- (কোরান, ৫/৩৪)
"তাদের মধ্যে থেকে কাউকে নিজের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর পথে (ইসলামে) হিজরত করে আসবে । আর সে যদি হিজরত না করে(অর্থাত ইসলাম গ্রহন না করে), তবে যেখানেই পাবে তাকে ধরবে, তাকে হত্যা করবে এবং তাদের মধ্যে কাউকে নিজের বন্ধু ও সাহায্যকারী রূপে গ্রহন করো না।"- (কোরান, ৪/৮৯)
এবং কাফের অর্থাৎ অমুসলিমদের ব্যাপারে ইসলামের ফাইনাল নির্দেশ হলো-
"অতএব কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হবে, তখন প্রথম কাজ হলো গলাসমূহ কেটে ফেলা। এমন কি তোমরা যখন তাদেরকে খুব ভালোভাবে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেবে, তখন বন্দী লোকদেরকে শক্ত করে বেঁধে ফেলবে। অতঃপর অনুগ্রহ প্রদর্শন করবে বা রক্ত বিনিময় গ্রহনের চুক্তি করে নেবে, যতক্ষণ না যুদ্ধে অস্ত্র সংবরণ করে ।"- (কোরান, ৪৭/৪)
এই আয়াতগুলো কি কাফের অর্থাৎ হিন্দুদের সাথে শত্রুতা এবং তাদেরকে হত্যা করার নির্দেশ নয় ?
গীতায় অর্জুনকে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছ অধর্মীদের বিরুদ্ধে, আর অধর্মীরা ইসলাম মতে কাফেরদের মতো ইসলামকে অস্বীকারকারী নয়, অধর্মী হলো তারা যারা পরের সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করে এবং পরের স্ত্রী ও কন্যার দিকে কুনজর দেয়, এছাড়াও নানাভাবে যারা অপরকে পীড়া দেয়, তারাই অধর্মী, এই অধর্মীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশই গীতায় দেওয়া হয়েছে।তাই ইসলামের কাফের নিধন আর গীতার দৃষ্কুতি নিধন এক ব্যাপার নয়।
শকুনের মন্তব্যে যেমন গরুর কিছু হয় না, তেমনি তোর মতো মুসলমানদের বাঁকা মন্তব্যেও সনাতন ধর্ম অমানবিক হয়ে যাবে না। সনাতন ধর্ম মানবতার ধর্ম ছিলো, আছে এবং থাকবে। এটা সত্য যে পৃথিবীর যা কিছু খারাপ, যেমন- খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, মিথ্যা, চুরি, ডাকাতি সবকিছুই ইসলামের মূল নীতি এবং এই সবকিছুই মুসলমানদের জন্য মুহম্মদের আদর্শ, আমরা শুধু আমাদের ধর্মগ্রন্থই যে পড়ি, তা ই নয়, তোদের কোরান হাদিসও পড়ি, সেকারণে ইসলামের প্রকৃত রূপ আমরা জানি। আর তোরা ইসলামের যে বালও জানিস না, সেটা তো তুই নিজেই প্রমাণ করে দিয়েছিস হিন্দুদেরকে ভাই সম্বোধন ক'রে এবং কোরানে কাফেরদেরকেই হত্যা করার কোনো বিধান নাই ব'লে। আমাদের ধর্মগ্রন্থ আমরা পড়ি কি না, সেটা তুই তখনই জানতে পারবি, যখন তুই সনাতন ধর্ম নিয়ে কোনো কটূক্তি করবি।
শেষে তুই যে বি.দ্রতে বলেছিস- আমার কাজ কোনো ধর্মকে ছোট করা নয়, সত্যিটাকে মানুষের সামনে তুলে ধরা, এই প্রসঙ্গে তোকে বলছি- আমার কাজও সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরা, আমিও কোনো ধর্মকে ছোট করতে চাই না, যেহেতু পৃথিবীতে সনাতন ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মই নেই, ধর্মের নামে যেগুলো রয়েছে বা চলছে সেগুলো ব্যক্তিগত মতবাদ মাত্র।
এই বাঁশ খেয়ে তোর যদি লজ্জা না হয়, তাহলে আবার হিন্দুধর্ম নিয়ে কটূক্তি করিস, আর রেডি থাকিস বাঁশ খাওয়ার জন্য।
জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।







