Showing posts with label সনাতন বনাম ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label সনাতন বনাম ইসলাম. Show all posts

Saturday, 25 July 2020

কলিযুগের অবতার কে ? ধর্মটাই বা কী ? উপাসক কে ? মূর্তি পূজা কেনো করতে হবে ?


কলিযুগের অবতার কে ? ধর্মটাই বা কী ? উপাসক কে ? মূর্তি পূজা কেনো করতে হবে ?

kajol Krisna,
সনাতন ধর্মে কোনো যুগের অবতার বলে কিছু নেই, সকল অবতারের আদর্শ তার পরবর্তী সকল সময়ের জন্য প্রযোজ্য। সনাতন ধর্মে শাস্ত্র স্বীকৃত অবতারের সংখ্যা ১০, এঁরা হলেন- মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, বলরাম, কৃষ্ণ এবং কল্কি। ভাগবতে ২২ জন অবতারের নাম রয়েছে এবং যার মধ্যে বুদ্ধেরও নাম রয়েছে, যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিষ্ণু, অবতার হিসেবে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন সনাতন ধর্মের রক্ষার জন্য; কিন্তু গৌতম বুদ্ধ, সম্রাট অশোকের মাধ্যমে সনাতন ধর্মকে বিলুপ্ত করার চেষ্টা করেছিলো, বিষ্ণুপুরাণে অবতার হিসেবে গৌতম বুদ্ধের তো কোনো স্বীকৃতি নেই ই, বাস্তবেও কার্যকারিতার দিক থেকে গৌতম বুদ্ধ সনাতন ধর্মের কোনো অবতারের মতোও নয়, এমনকি সে কোনো সনাতনধর্মীয় মহাপুরুষও নয়।

আবার এই যুগ অর্থাৎ কলিযুগের অবতার হিসেবে অনেকে চৈতন্যদেবকে মনে করে এবং এটা যারা মনে করে তারা শ্রীকৃষ্ণকে অবজ্ঞা করে এটা ভেবে যে শ্রীকৃষ্ণ তো দ্বাপরযুগের অবতার, কলিতে তার কোনো ভূমিকা নেই; কলিযুগের অবতার হলো চৈতন্যদেব, সুতরাং চৈতন্যের ভজনা করলেই এই যুগে মুক্তি পাওয়া যাবে। বাস্তবে এসব চুড়ান্ত মিথ্যাচার এবং বিভ্রান্তি, এই বিভ্রান্তির কবলে যে পড়বে, তার মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। চৈতন্যদেব কলিযুগের অবতার বা ভগবান কিছুই নয়, সে শ্রীকৃষ্ণের একজন উন্মাদ ভক্তমাত্র, যার বাস্তব কোনো জ্ঞানবুদ্ধিই ছিলো না, মৃগীরোগ চৈতন্যদেব মাঝে মাঝে জ্ঞান হারিয়ে ফেলতো, আর তার শিষ্যরা মনে করতো, সে ভাব সমাধিতে গিয়েছে।

অবতার প্রসঙ্গের পর আপনি প্রশ্ন করেছেন- ধর্মটাই বা কী ?

আপনি এই প্রশ্ন এজন্য করেছেন যে- আপনি ইহুদি, খ্রিষ্টান, ইসলাম, বৌদ্ধ এগুলোকেই ধর্ম বলে মনে করেন ব'লে। কিন্তু বাস্তবে এগুলো কোনো ধর্ম নয়, এগুলো ব্যক্তিগত মতবাদ মাত্র। লোহা বা জলের ধর্ম যেমন মানুষ সৃষ্টি করতে পারে না, এগুলোর ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন প্রকৃতি নামের ঈশ্বর, তেমনি প্রকৃতিরূপ ঈশ্বরের সৃষ্টি মানুষের ধর্মও কোনো মানুষ সৃষ্টি করতে পারে না, মানুষের ধর্ম সৃষ্টি করে দিয়েছেন ঈশ্বর, যার নাম সনাতন ধর্ম বা সনাতন মানব ধর্ম। যার মূল কথা হলো- পরের স্ত্রী কন্যাকে নিজের মায়ের মতো দেখবে এবং পরের সম্পদকে মাটির ঢেলা বিবেচনা করবে- কারণ, সকল অপরাধের মূল হলো এই পরের স্ত্রী কন্যা এবং পরের সম্পদ, তাই এদুটো বিষয়ে মানুষের আগ্রহ সনাতন ধর্মে একেবারে জিরো করে দেওয়া হয়েছে এবং এই বিষয়টি যদি কেউ মেনে চলে, তাহলেই সে সমাজে মানুষ হিসেবে পরিচিত হবে, এজন্যই সনাতন ধর্মকে বলা হয় সনাতন মানব ধর্ম, যে ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যের উপর জন্মগ্রহন করে সকল শিশু, যে কারণে মুসলমান পরিবার, যে মুসলিম পরিবারে নাচ-গান-অভিনয়-কবিতা-ছবি আঁকা সহ সকল প্রকার শিল্পের চর্চা নিষেধ, সেই মুসলিম পরিবারেও এসব প্রতিভার কোনো না কোনো একটি নিয়ে শিশুরা জন্মগ্রহন করে থাকে। তাই মানুষের ধর্ম একটাই, সেটা সনাতন ধর্ম বা সনাতন মানব ধর্ম। অনেক মুসলমান এটা বিশ্বাস করে এবং প্রচার করে যে সকল মানব সন্তান ইসলামের উপর জন্মগ্রহন করে, যদি এটা সত্য হতো, তাহলে মুসলিম পরিবারের সকল ছেলে শিশু খতনাসহ জন্মগ্রহন করতো, পরে তাদেরকে খতনা করিয়ে মুসলমান বানাতে হতো না; আবার ইসলাম যদি সত্য হতো এবং সকল মানব সন্তান যদি ইসলামের উপর জন্মগ্রহন করতো, তাহলে নারীদের চুল নিয়ে যে আল্লার এত মাথা ব্যথা, সেই আল্লা কোনো মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মেয়ে শিশুর মাথায় চুল সৃষ্টি করতো না।

যা হোক, এরপর আপনার প্রশ্ন হচ্ছে- উপাসক কে ?

পৃথিবীতে ধর্ম যেহেতু একটাই, সেটা হলো সনাতন, তাই সনাতন ধর্ম নির্দেশিত ঈশ্বরই যে উপাসক হবেন, তাতে তো কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ নেই। নিরাকার হিসেবে এই উপাসক হলেন পরমব্রহ্ম বা ব্রহ্ম, যার সাকার রূপ হলেন বিষ্ণু এবং যার অবতারিত রূপ হলেন শ্রীকৃষ্ণ। সনাতন ধর্মে নির্দেশিত দেব-দেবীরা হলেন ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তির প্রকাশ, তাই তাঁরাও উপাস্য, কিন্তু তারা সবার উপাস্য নাও হতে পারেন। এই বিষয়টি বোঝানোর জন্য নিচের উদাহরণটির আশ্রয় নিচ্ছি-

আমরা জানি দেশের সর্বোচ্চ বা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেন প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন কারণে এই প্রধান মন্ত্রীর সাক্ষাৎ যে কেউ, যখন তখন পেতে পারে না। কিন্তু এমন কিছু ব্যক্তি আছে, যারা তাদের জ্ঞান ও কার্য অর্থাৎ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তারা যখন তখন অর্থাৎ চাইলেও দেখা সাক্ষাৎ করতে পারেন। যারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে পারে না, তারা যদি দেখা করতে চায়, তাহলে সেই দেখা করার উপুযক্ত কারণ সৃষ্টির পর তাকে প্রথমে নিজ এলাকার পাতি নেতাদেরকে ধরতে হবে, পাতি নেতা গিয়ে ধরবে নেতাকে, নেতা ধরবে এম.পিকে, এমপি যদি মন্ত্রী না হয়, তাহলে এমপি গিয়ে ধরবে মন্ত্রীকে, সেই মন্ত্রী যদি কোনো সিনিয়র মন্ত্রী না হয়, তাহলে সেই মন্ত্রী গিয়ে ধরবে কোনো সিনিয়র মন্ত্রীকে এবং সেই সিনিয়র মন্ত্রী যদি চায়, তাহলে সে তার সাথে প্রধানমন্ত্রীর দেখা করিয়ে দিলেও দিতে পারে।

যার সরাসরি দেখা করার ক্ষমতা নেই, তাকে এই ভাবে ঘুর পথে বিভিন্ন জনকে সন্তুষ্ট করে এবং তাদের দ্বারস্থ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়, কিন্তু যার সেই ক্ষমতা আছে, তাকে কারও কাছে যেতে হয় না, কারো দ্বারস্থও হতে হয় না, সে চাইলেই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতে পারে। এই একইভাবে যে ব্যক্তি তার জ্ঞান দ্বারা পরমব্রহ্মকে জেনে গেছে, তার আর কোনো দেব-দেবীর দ্বারস্থ অর্থাৎ তাদের পূজা করে তাদেরকে সন্তুষ্ট করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু যে ব্যক্তি সেই জ্ঞান অর্জন করতে পারে নি, তাকে তার পছন্দ মতো বিভিন্ন দেব-দেবীর দ্বারস্থ বা শরণ নিয়ে, তাদের পূজা করে, তাদেরকে সন্তুষ্ট করে, পরমব্রহ্মের কাছে পৌঁছার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, দেব-দেবীদের প্রতি ভক্তিহেতু যখন আপনি একনিষ্ঠ মনে তাদের পূজা প্রার্থনা করবেন, তখন ঈশ্বর আপনার মনে সেই জ্ঞানের সঞ্চার করে দেবেন, যে জ্ঞান দ্বারা আপনি ঈশ্বরকে জানতে বা বুঝতে পারবেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ঈশ্বরকে কেনো আপনার জানতে বা বুঝতে হবে ?

ইসলাম, খ্রিষ্টান, ইহুদি মতবাদে পুনর্জন্ম নেই; এরা বিশ্বাস করে যেকোনো জীবের জন্ম একবারই এবং মৃত্যু হলেই তার জীবন শেষ; তাই যদি হয়, তাহলে ঈশ্বর হবে পক্ষপাতদুষ্ট, তিনি ন্যায় বিচারক হবেন না। কারণ, এই সব মতবাদ অনুসারে আল্লা একই সময়ে সকল রূহ বা আত্মাকে সৃষ্টি করে কোথাও রেখেছে এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলোকে পৃথিবীকে পাঠাচ্ছে। এখন কোনো একটি আত্মাকে আল্লা হয়তো মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করলো, সে কিন্তু তার জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা জগতের অন্যান্য সকল প্রাণীর উপর প্রভূত্ব করার সুযোগ পেলো, সে ইচ্ছেমতো পশু পাখী জাতীয় প্রাণীদেরকে হত্যা করে তাদের মাংস খেলো এবং তাদের উপর নির্যাতন করলো, নিম্নশ্রেণীর বুদ্ধির প্রাণী হিসেবে জন্ম নেওয়ায়, তারা কিন্তু এর কোনো প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কিছুই করতে পারলো না। অন্যদিকে বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে জন্ম নেওয়ায় মানুষ এসব অপরাধ করেও পার পেয়ে গেলো। অথচ ঐ সব মতবাদ অনুসারে আল্লা কিন্তু একই সময়ে সকল আত্মাকে সৃষ্টি করেছিলো, এবং যারা সবাই শুধু নির্দোষই ছিলো না, ছিলো সমজাতীয়ও, তাহলে কিছু আত্মা কেনো সকল প্রকার ইতর শ্রেণীর প্রাণী হয়ে কষ্ট ভোগ করলো, মানুষের নিষ্ঠুরতাকে সহ্য করতে বাধ্য হলো এবং কিছু আত্মা কেনো মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে সকল প্রকার সুখ ভোগ করলো ? ইতর শ্রেণীর প্রাণীর মানুষের তুলনার কথা বাদ দিলেও, শুধু মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়া আত্মাদের মধ্যে কেউ বিলগেটস (ধনী), কেউ ট্রাম্প, পুতিন, মোদী (ক্ষমতাবান) কেউ ঐশ্বরিয়া ( জনপ্রিয় ও সুন্দরী), কেউ অক্ষয়, অমিতাভ (জনপ্রিয়), আবার কেউ বস্তিতে জন্ম নেওয়া ক্ষুধার জ্বালায় কষ্ট পাওয়া মানুষ, কেউ কালো কুতসিত, কেউ মানসিক বা শারীরিক প্রতিবন্ধী, একই ধরণের আত্মা থেকে জন্ম নেওয়া মানুষদের মধ্যের এই বৈষম্য কি আত্মাদের সাথে আল্লার অবিচার নয় ?

এর বিপরীতে সনাতন ধর্মের ঈশ্বর গীতায় বলেছেন- কেউ তার কাছে প্রিয় নয়, কেউ অপ্রিয় নয়, যে যেমন কর্ম করে, তাকে তিনি তেমনই ফল দেন এবং এই কর্ম ও ফলদানের প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে জন্ম জন্মান্তর ধরে। জীবন হলো আত্মার ভ্রমণ এবং এই যেকোনো আত্মার ক্ষেত্রে এই ভ্রমণ শুরু হয় ইতর শ্রেণী জীব দিয়ে, এভাবে ৮০ লক্ষবার বিভিন্ন নিন্মস্তরের জীব হিসেবে জন্ম নিয়ে তাদের সকল প্রকার সুখ দুঃখ ভোগ করার পর কোনো আত্মার মানুষ হিসেবে জন্ম হয়; তাই কোনো আত্মার যেমন হঠাৎ করেই হাতি, বাঘ, সিংহের মতো মর্যাদা সম্পন্ন প্রাণী হিসেবে জন্ম হয় না, বহু বহু জন্মের সে অমন দেহ পায়; তেমনি কোনো আত্মার এক জন্মেই ধনী, জ্ঞানী, ক্ষমতাবান, সুন্দরী মানুষ হিসেবে জন্ম হয় না, তাকেও বহু জন্ম ধরে ভালো কাজ করে সেই ধন, জ্ঞান ও ক্ষমতাকে ভোগ করার উপযোগী হতে হয়, তারপর তার সেই রকম পরিবারে, সেই রকম জ্ঞান ও সেই রকম সৌন্দর্য নিয়ে তার জন্ম হয়।

ইসলামের আল্লা যেমন একটা- স্বেচ্ছাচারী, স্বৈরাচার; যার তার সাথে সে তার খেয়াল খুশি মতো যা তা করতে পারে, সেখানে কোনো নিয়ম নীতি নেই, কিন্তু সনাতন ধর্মের ঈশ্বর এমন স্বেচ্ছাচারী, স্বৈরাচার নয়; তিনি নিয়মের বাইরে কিছুই করেন না, যে যা প্রাপ্য তার বাইরে কাউকে কোনো কর্মফল দেন না এবং ফাইনালি সনাতন ধর্মে বলে দেওয়া হয়েছে, কোনো মানুষ জন্ম মৃত্যুর এই চক্র থেকে মুক্তি পাবে তখনই, যখনই সে ঈশ্বরকে জানতে ও বুঝতে পারবে এবং পরিশেষে তাঁকে লাভ করতে পারবে। ঈশ্বরকে মানুষ জানতে ও বুঝতে পারে তখনই, যখন সে ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তির প্রকাশ দেব-দেবীদের প্রতি শ্রদ্ধাবান হয় এবং তাদের উদ্দেশ্যে পূজা প্রার্থনা করে।
সনাতন ধর্মে বলা হয়েছে- 'শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম', এটা যেমন বাস্তব, তেমনি আধ্যাত্মিক। বাস্তবে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাবান হলে তিনি যেমন শিষ্যকে জ্ঞানদান করেন, তেমনি কেউ যদি দেব-দেবীদের প্রতি শ্রদ্ধাবান হয়, ঈশ্বর তার মধ্যে ঈশ্বরকে বোঝার মতো জ্ঞান দান করেন, সেই জ্ঞানে তিনি ঈশ্বরকে বুঝতে পারেন, ঈশ্বরকে জানতে পারেন এবং এভাবে একপর্যায়ে তিনি ঈশ্বরকে লাভ করে জন্ম মৃত্যুর এই চক্র থেকে মুক্তি পেয়ে নিত্য সুখের স্থান দিব্যলোকে গমন করেন। এই আধ্যাত্মিক তত্ত্বগুলো বোঝার ক্ষমতা যেহেতু মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর নেই, সেহেতু মানব জন্মকে দুর্লভ মানব জন্ম বলা হয় একারণে যে বহু প্রতীক্ষার পর এই মানব জন্ম পাওয়া যায়, যে জন্মে এই আধ্যাত্মিক জ্ঞানকে বোঝা সম্ভব হয়। আত্মার ভ্রমণ শুরু হয় ইতর শ্রেণীর জীব দিয়ে এবং ভ্রমণ সমাপ্ত হয় মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার পর ঈশ্বরকে লাভ করে নিত্য সুখের স্থান দিব্যলোকে গমন করে। অন্যান্য প্রাণীর যেহেতু এগুলো বোঝার ক্ষমতা নেই, তাই মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার পর মানুষের কর্তব্য হচ্ছে ঈশ্বরকে জানা, বোঝা এবং তাঁকে লাভ করা, এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তির প্রকাশ দেব-দেবীদের নিকট আত্মসমর্পণ, তাদের পূজা প্রার্থনা করা।

আশা করছি- উপাসক কে ? এই প্রশ্নের আলোচনায় মূর্তিপূজা করতে হবে কি হবে না, বা কাদের জন্য মূর্তিপূজা প্রযোজ্য বা কাদের জন্য নয়, সেই বিষয়টিও আপনার কাছে ক্লিয়ার করতে পেরেছি।

জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।

Friday, 24 July 2020

হিজড়া সন্তানের জন্ম প্রসঙ্গে ইসলাম ও সনাতন ধর্মের ব্যাখ্যা :


হিজড়া সন্তানের জন্ম প্রসঙ্গে ইসলাম ও সনাতন ধর্মের ব্যাখ্যা :

নপুংসক বা হিজড়ারা কিভাবে জন্ম নেয়, সে সম্পর্কে ইসলামের কী ব্যাখ্যা, সেটা আপনার ফটোপোস্টে দেখতে পাচ্ছেন; এখানে হিজড়া সন্তানের জন্ম সম্পর্কে দুই ধরণের কথা বলা হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছে- যৌনকর্মের শুরুতে পুরুষ যদি বিসমিল্লাহ না বলে, তাহলে তার পুরুষাঙ্গের ছিদ্রপথে শয়তান আশ্রয় গ্রহণ করে এবং সেই যৌনক্রিয়ার ফলে যদি কোনো সন্তান গর্ভস্থ হয়, সে হিজড়া হয়। দ্বিতীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- নারীর ঋতুস্রাব চলাকালীন সময় যদি যৌনক্রিয়া করা হয় এবং সেই সময় যদি কোনো সন্তান গর্ভস্থ হয়, তাহলে সেই সন্তান হিজড়া হয়।

এই দুটি ব্যাখ্যা ই যে সম্পূর্ণরূপে মূর্খের প্রলাপ এবং হাস্যকার, সেটা আমার আলোচনা শেষে আপনারা কমপ্লিটলি বুঝতে পারবেন।

ইসলাম মতে যৌনক্রিয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার আরেকটি ফজিলত আছে, আর সেটা হলো- যৌনক্রিয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বললে নাকি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। দেখে নিন সেই হাদিস-

"যৌনকর্মের সময় বিসিমিল্লাহ (আল্লাহর ইচ্ছা) বললেই জন্ম নেবে পুত্র সন্তান – (Sahih Bukhari 4:52:74)

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- যৌন কর্মের সময় বিসমিল্লাহ বললেই যদি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়, তাহলে মুসলিম সমাজের সকল মেয়ে কি বিসমিল্লাহ না বলার ফল ? বা তারা কি আল্লার ইচ্ছায় সৃষ্টি নয় ? পিতৃতান্ত্রিক সমাজে বাস্তবতার কারণেই কন্যার চেয়ে পুত্রসন্তানকে দামী বলে মনে করা হয়; একারণেই বাংলার প্রায় সব দম্পতি চায় তাদের সন্তান পুত্র হোক, মুসলমানরাও এর ব্যতিক্রম নয়, এই প্রেক্ষাপটে ইসলামে যেখানে এত সহজে পুত্র জন্মানোর বিধান আছে, সেখানে মুসলমানরা কি তা কাজে লাগায় না ? যদি কাজেই লাগায়, তাহলে মুসলিম সমাজে এত কন্যা জন্মায় কিভাবে ? অন্যান্য সমাজের মতো মুসলিম সমাজেও পুত্র কন্যা জন্মানোর হার প্রায় সমান, যা প্রকৃতির বিধান, এ থেকে এটা প্রমাণিত যে যৌনকর্মের শুরুতে বিসমিল্লাহ বললেই পুত্র সন্তান জন্মাবে, এটা আসলে একটা বোগাস এবং হাস্যকর কথা।

ইসলাম মতে যৌনক্রিয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ না বললে যে শুধু পুত্র সন্তানই জন্ম নেয় না, তা ই নয়, সেই সন্তান হিজড়াও হয়। পৃথিবীতে মুসলমানদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২০% এর মতো, এই ২০% মুসলমানের মধ্যেও ৯০% সঠিকভাবে ইসলাম পালন করে না, ফলে তারা যে যৌনক্রিয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে না এটা তো স্বাভাবিক; ফলে পৃথিবীতে ৯৮% মানুষ যৌন কর্মের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে না, তাদের ঘরে কি পুত্রসন্তান জন্ম নিচ্ছে না ? খ্রিষ্টান, ইহুদিদের কথা না হয় বাদই দিলাম, হিন্দু আর বৌদ্ধরা তো আর যৌন কর্মের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে না, ফলে তাদের ঘরে কি পুত্র সন্তান জন্ম নেয় নি বা নিচ্ছে না্ বা তাদের সব সন্তান কি হিজড়া হচ্ছে ? হচ্ছে না। ফলে যৌনকর্মের শুরুতে বিসমিল্লাহ বললে পুত্র সন্তা্ন জন্ম নেবে, এটা প্রকৃতির কোনো সূত্র নয়, এটা মূর্খ মুহম্মদের একটি মনগড়া কথা মাত্র।

হিজড়া সন্তান জন্মানোর দ্বিতীয় ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে নারীদের ঋতুস্রাব চলাকালীন যদি পুরুষ তার সাথে যৌনক্রিয়া করে, তাহলেও সেই সন্তান হিজড়া হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে যার ন্যূনতম জ্ঞান আছে, তার পক্ষে কি এধরণের কথা বলা সম্ভব ? সম্ভব নয়। ঋতুস্রাব, নারীগর্ভে সন্তান জন্মানোর প্রসেসের কোনো শুরু নয়, শেষ। অর্থাৎ প্রতিমাসের একটি নির্দষ্ট সময় ধরে নারী গর্ভে ডিম্বানু প্রস্তুত হয়ে থাকে শুক্রানুকে গ্রহন করার আশায়, যদি সেই ডিম্বানু, শুক্রানু না পায়, তাহলে সেটা নষ্ট হয়ে যায় এবং তা ভেঙ্গেচুরে যোনী দিয়ে বের হয়ে আসে, এটাই ঋতুস্রাব। নারী গর্ভে এই ডিম্বাণু প্রস্তুত থাকতে পারে ঋতুস্রাব শুরুর ৮ম দিন থেকে ২১ তম দিন পর্যন্ত সময়ের কোনো এক সময়ে ৩৬ ঘণ্টা ব্যাপী; ফলে এই ৮ম দিন থেকে ২১তম দিনের বাইরে যেকোনো সময় অরক্ষিত যৌনমিলন করা হলেও গর্ভসঞ্চারের কোনো সম্ভাবনায় নেই, সেক্ষেত্রে ঋতুস্রাব চলাকালীন যৌনমিলনের ফলে সন্তান গর্ভে আসা এবং সেই সন্তান হিজড়া হওয়া এমন তথ্য ইসলামি বিজ্ঞানেই থাকা সম্ভব, যে ইসলামি বিজ্ঞানের অপর নাম মূর্খতা।

হিজড়া সন্তান জন্মানো সম্পর্কে মুহম্মদের বাণীগুলো যে কী পরিমাণ অবৈজ্ঞানিক, এতক্ষণে আশা করছি সেটা বুঝতে পেরেছেন, এবার দেখুন সনাতন ধর্মে হিজড়া সন্তান জন্মানোর বিষয়ে কী বলা হয়েছে।

জ্যোতিষ শাস্ত্র মুনি ঋষিদের দ্বারা রচিত, সুতরাং জ্যোতিষ শাস্ত্র সনাতন ধর্মের অংশ, সেই জ্যোতিষ শাস্ত্রে পুত্র, কন্যা বা হিজড়া সন্তান কিভাবে জন্ম নেয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আছে।

ভারতীয় জ্যোতিষে সৌরজগতের ৯টি সদস্যের কথা বলা হয়েছে, বলার সুবিধার্থে জটিলতা এড়াতে যাদেরকে সাধারণভাবে গ্রহ বলা হয়। কোনো মানুষের জন্মসময়ে এই ৯টি গ্রহ সৌরজগতে যেভাবে অবস্থান করে, সেটাই সেই মানুষের জন্মকোষ্ঠী বা হরস্কোপ; এই ৯টি গ্রহ, মানুষের- কোষ্ঠী বা কুষ্ঠি বা হরস্কোপের ১২টি ঘরে বিভিন্নভাবে অবস্থান করে মানুষের চরিত্র, স্বভাব ও ভাগ্য নির্ধারণ করে। যেমন সূর্য বা রবি যদি কোনো মানুষের হরস্কোপের ১ নং ঘরে থাকে, তার চরিত্র হবে একরকম; যদি ২ নং ঘরে থাকে চরিত্র হবে একরকম; যদি ৩ নং ঘরে থাকে, তার চরিত্র হবে আরেকরকম; এভাবে ১২ ঘরে সূর্যের অবস্থানে মানুষের চরিত্র হবে ১২ রকম, একই বিষয় প্রযোজ্য অন্যান্য গ্রহের ক্ষেত্রে। এই গ্রহগুলো নানা বিষয়ের কারক, সেই আলোচনায় যাবো না, এই প্রবন্ধের বিষয় যেহেতু হিজড়া সন্তান, সেহেতু সেই দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখার চেষ্টা করবো।

গ্রহগুলোর মধ্যে লিঙ্গগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে কয়েকটি গ্রহ আছে পুরুষ স্বভাবের, কয়েকটি আছে নারী স্বভাবের এবং কয়েকটি ক্লীব স্বভাবের। হরস্কোপের ৫ম ঘর অনেক কিছুর মধ্যে মানুষের সন্তানের লিঙ্গ এবং বৈশিষ্ট্যকে নির্ধারণ করে, সুতরাং কোনো মানুষের ৫ম ঘরে যদি রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি থাকে, সেই মানুষের পুত্র সন্তান জন্মাবে; কারণ এই গ্রহগুলো পুরুষালী স্বভাবের। একইভাবে ৫ম ঘরে যদি শুক্র এবং চন্দ্র থাকে, তার কন্যা সন্তান জন্মাবে; কারণ, এগুলো নারী স্বভাবের গ্রহ; আবার ৫ম ঘরে যদি শনি এবং বুধ গ্রহ থাকে, তাহলে সেই মানুষের যে সন্তান জন্ম নেবে তার মধ্যে লিঙ্গগত সমস্যা থাকবে অর্থাত তারা নপুংসক বা হিজড়া হবে; কারণ, শনি এবং বুধ ক্লীব গ্রহ। এভাবে হরস্কোপের ৫ম ঘরে গ্রহের অবস্থান বলে দেয়, আসলে তার কোনো ধরণের সন্তান জন্মাতে যাচ্ছে।

এরপর যেদিন স্বামী স্ত্রী তাদের যৌনকর্মের মাধ্যমে মাতৃগর্ভে সন্তানের সূচনা করছে, সেই দিনের উপরও নির্ভর করে সন্তানের লিঙ্গ, যেমন- রবি, মঙ্গল এবং বৃহস্পতিবারে যৌনকর্মের ফলে পুত্র সন্তানের জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, শুক্র এবং সোমবারে যৌনকর্মের ফলে কন্যা সন্তান এবং শনি এবং বুধবারে যৌনকর্মের ফলে নপুংসক সন্তান জন্মানোর সম্ভাবনা বেশি।

হরস্কোপের ৫ম ঘরে গ্রহের অবস্থান, যৌনকর্মের সাপ্তাহিক বার ছাড়াও সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সূর্যমতে কোন রাশি চলার সময় যৌনকর্ম করা হচ্ছে সেটার উপরও, যেমন- ১২টি রাশির মধ্যে ৬টি আছে পুরুষ রাশি এবং ৬টি আছে নারী রাশি। কোনো দম্পতির উভয়ের হরস্কোপের ৫ম ঘরে যদি এক বা একাধিক পুরুষ গ্রহ থাকে এবং পুরুষ রাশির সময়ে যদি তারা পুরুষ দিনে যৌনকর্ম করে, তাদের পুত্র সন্তান জন্মাবে মাস্ট; একইভাবে কোনো দম্পতির উভয়ের হরস্কোপের ৫ম ঘরে যদি নারী গ্রহ থাকে এবং তারা নারী রাশির সময়ে নারী দিনে যৌনকর্ম করে তারা কন্যা সন্তানের জন্ম দেবে। একজন আদর্শ নারী জন্ম দেওয়ার জন্য- হরস্কোপের ৫ম ঘরে নারী গ্রহ থাকা এবং নারী রাশি ও নারী দিনে যৌনকর্ম করা যেমন আবশ্যক, তেমনি আদর্শ পুত্র সন্তানের জন্ম দিতেও পুরুষ রাশি, পুরুষ দিন এবং হরস্কোপে পুরুষ গ্রহের কম্বিনেশন প্রয়োজন। যদি এগুলোর ব্যতিক্রম ঘটে তাহলেই জন্ম হবে নারী স্বভাবের পুরুষ বা পুরুষ স্বভাবের নারীর। আর যদি স্বামী স্ত্রী উভয়ের হরস্কোপের ৫ম ঘরে কোনো ভাবে শনি বা বুধ গ্রহের প্রভাব থাকে এবং তারা যদি শনি বা বুধবারে যৌনকর্ম করে সন্তানের জন্ম দেয়, তাহলে সেই সন্তানের লিঙ্গগত সমস্যা থাকবে, অর্থাৎ সেই সন্তান নপুংসক বা হিজড়া হবে।
এই হলো সনাতন ধর্মে হিজড়া সন্তান জন্মানোর ব্যাখ্যা, যা যথেষ্ট জটিল এবং যা সম্পূর্ণ বাস্তব। এর বিপরীতে ইসলামের হিজড়া সন্তান জন্মানোর ব্যাখ্যাটাকে স্মরণ করুন, মুহম্মদের মূর্খামিকে ভাবলে আপনার শুধু হাসিই পাবে।

ইসলাম- এই জগতের প্রায় সবকিছুকেই খুব সহজভাবে ব্যাখ্যা করার অপচেষ্টা করে, যেগুলো কিছু মূর্খ, বিনা প্রশ্নে মেনেও নেয় বা বিশ্বাসও করে, এরাই মুসলমান নামে পরিচিত; কিন্তু জগতের কোনো কিছুই এত সহজ সরল নয়, জগত বড়ই জটিল, আর এই জটিল জগতকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এবং সমগ্র জগতকে ধারণ করতে গিয়ে সনাতন ধর্মও হয়ে উঠেছে জটিল, তাই জগতের কোনো কিছুরই এককথায় ব্যাখ্যা দেওয়া সনাতন ধর্মমতে প্রায়ই সম্ভব হয় না; আর এই সুযোগ নিয়েছে এবং নিচ্ছে সনাতন ধর্ম বিরোধী শক্তিগুলো, তারা সনাতন ধর্মের প্রচার দুর্বলতার ম্যাকানিজমকে হাতিয়ার করে হিন্দু ছেলে মেয়েদের মাথায় অন্যান্য ব্যক্তিগত মতবাদকে গুজে দিচ্ছে, যার ফলে হিন্দু ছেলে মেয়েরা বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং সনাতন ধর্ম ত্যাগ করছে। এই ঘাটতি পুরণে হিন্দু সমাজকে জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ নির্মানে এগিয়ে আসতে হবে, আর এজন্য শুধু কীর্তনের মধ্যে হিন্দুদের ধর্মাচরণকে সীমাবদ্ধ না রেখে আলোচনাভিত্তিক ধর্মসভার আয়োজন করতে হবে, তাহলেই রক্ষা পাবে হিন্দুসমাজ এবং হিন্দুধর্ম এবং কালের অন্ত পর্যন্ত উচ্চারিত হবে-

জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।

Thursday, 4 June 2020

বেদ ও কোরান সম্পর্কে বিখ্যাত মনীষিরা যা বলেছেন


বেদ ও কোরান সম্পর্কে বিখ্যাত মনীষিরা  যা বলেছেন :

১। বেদ হচ্ছে শল্যবিদ্যা, শরীরবিদ্যা, প্রকৌশল, গণিত, সঙ্গীত, সংস্কৃতি, সকল কিছুর এক মিলিত সমাবেশ, যেন এক জীবন্ত বিশ্বকোষ।- উইলিয়াম জেমস, বিখ্যাত আমেরিকান দার্শনিক

২।পৃথিবীতে বেদ ও উপনিষদ এর মতো এত প্রণোদনাপূর্ণ, এত অতিমানবীয় গ্রন্থ আর নেই।-ম্যাক্স মুলার, প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক

৩।যখন আমি বেদ পড়ি তখন এক অপাকৃত আলোক যেন আমায় আলোকিত করে, এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে কোনো বিভেদ নেই, এটি সকল দেশ, সকল জাতি, সকল কালের জন্য, যেন জ্ঞান অর্জনের এক রাজকীয় পথ।-হেনরী ডেভিড থরো

৪।এই পর্যন্ত বেদ এত যত্নের সাথে সংরক্ষিত হয়েছে যে, আর কোনো গ্রন্থের সাথেই তার তুলা দেওয়া যায় না। এরকম পরিবর্তিত হবার ক্ষীণতম সম্ভাবনা পর্যন্ত না থাকা মানব ইতিহাসের একমাত্র দৃষ্টান্ত।- আর্থার এন্থোনি ম্যাকডোনেল

৫। আমরা আর্যদের প্রতি কৃতজ্ঞ কেননা তারা সংখ্যা আবিষ্কার করেছেন, যা ছাড়া বিজ্ঞানের কোনো আবিষ্কারই সম্ভবপর হতো না।- স্যার এ্যালবার্ট আইনস্টাইন

৬। আশ্চর্য! বুঝতে পারলাম যে, যত ঐশ্বরিক গ্রন্থের কথা শোনা যায়, তাদের মধ্যে বেদই একমাত্র গ্রন্থ যার সকল ধারণা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, একমাত্র এটিই জগতের ক্রমান্বয় উন্নতির পথ ঘোষণা করে।- Louis Jacolliot, বিখ্যাত ফরাসী লেখক ও ধর্মতত্ত্ববিদ

৭। বেদ শুধু অসাধারণ জীবনদর্শনের জন্যই অবিস্মরণীয় নয়, বরং অনবদ্য বিজ্ঞানের জন্যও; বিদ্যুৎ, বিচ্ছুরণ, বিমানবিদ্যা সবই যেন বেদের ঋষিদের জানা ছিলো।- ইলা হুইলার উইলকক্স, প্রখ্যাত আমেরিকান লেখিকা

৮। সকল বুদ্ধিবৃত্তি, রাজনীতি, অর্থনীতি, সকল ধর্মের ধারা বেদ থেকেই প্রবাহিত; এমনকি অসামান্য গ্রীক সভ্যতাকেও এর কাছে একেবারে বিবর্ণ মনে হয়।-ফ্রেডরিক ভন শেলজেল

৯। এটা খুবই আশ্চর্য যে - বেদের ভাষাশৈলী এত নিঁখুত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত যে, আধুনিক কালে আমাদের মিল্টন, শেকসপিয়ার বা টেনিসনকেও এর কাছে কম মনে হয়।- আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস

১০। নিঃসন্দেহে ঋগ্বেদ মানব সভ্যতার সর্বোচ্চ গরিমাময় রাজপথ।- প্রফেসর মরিস ফিলিপ (দ্য টিচিং অব বেদ গ্রন্থে)

১১। এটি এমন একটি তত্ত্ব যা এক স্রষ্টার অস্তিত্ব ঘোষণা করে, এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে বিজ্ঞান ও ধর্মের মিলন ঘটেছে।- ডব্লিউ. ডি. ব্রাউন

১২। বেদ হলো মানব সভ্যতার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উপহার, যার জন্য পাশ্চাত্য সব সময় প্রাচ্যের নিকট কৃতজ্ঞ থাকবে।- ভলতেয়ার

১৩। ঋগ্বেদ মানবতার সর্বোচ্চ পথের সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক।- গুইগুয়াল্ট

১৪। মূ্ল্যবান রত্নগুলো অনন্ত নয়। আদিকালের লোকেরা স্বর্ণ রৌপ্য, হীরক স্থাপত্য ব্যবহার করতো নিজেদেরকে অমর করে রাখার জন্য। আর্যগণ সে পথে যান নি। তাঁরা রেখে গেছেন সবচেয়ে বিশাল নিদর্শনটি, শব্দ। মিশরীয়রা অমরত্বের জন্য পিরামিড বানিয়েছিলো, আজ তা মরু ঝরে ক্ষয়ে গেছে, স্থাপত্য ধ্বসে পড়েছে ভূমিকম্পে, স্বর্ণ লুট হয়ে গেছে, কিন্তু আজও বেদ মানব সভ্যতায় এক অনন্ত তরঙ্গের ন্যায় প্রবাহিত হয়ে চলেছে।- ড. জিন লি মি

১৫। বেদ মানবসভ্যতার প্রাচীনতম ক্ল্যাসিক, ভারতবর্ষের সবচেয়ে মূ্ল্যবান সম্পদ, সমগ্র ভারতের আত্মা এই বেদেই প্রোথিত।- এ পি জে আবুল কালাম, সাবেক রাষ্ট্রপতি, ভারত।

এবার দেখা যাক ইসলম, কোরান ও মুসলমান সম্পর্কে কে কী বলেছেন-

১। কোরান ও ইসলামের তরবারি- মানব সভ্যতা, স্বাধীনতা ও সত্যের সবচেয়ে বড় শত্রু, যা আজ পর্যন্ত মানুষ দেখেছে।- স্যার উইলিয়াম মুর, বিখ্যাত ইতিহাসবিদ, দ্য লাইফ অব মুহম্মদ গ্রন্থের রচয়িতা।

২। যতদিন কোরান আছে, ততদিন পৃথিবীতে কোনো শান্তি নেই।- উইলিয়াম গ্ল্যাডস্টোন, বৃটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী

৩। সম্প্রতি আমরা একটি ধর্মযুদ্ধের সম্ভাবনা দেখছি, আক্ষরিক অর্থেই- কারণ, মুসলমানরা তাদের মূল ধারণাতে ফিরে আসছে যে, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে প্রাণ দেওয়াটাই তাদের স্বর্গে যাওয়ার একমাত্র উপায়।- রোনাল্ড রিগ্যান, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট, টাইমস পত্রিকার সাথে এক ইন্টারভিউয়ে, ১৭ নভেম্বর, ১৯৮০।

৪।আজকের দিনে বলশেভিজমের মতো চরমপন্থী ইসলামও একটা সশস্ত মতবাদ। এটা একটা আক্রমনাত্বক ধর্মতত্ত্ব, যা সশস্ত্র ধর্মান্ধ অনুগামীদের দ্বারা প্রসার লাভ করেছে। কমিউনিজমের মতো এটাকেও দমন করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী রণনীতি প্রয়োজন।- মার্গারেট থ্যাচার, বৃটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০২ তারিখে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত তার একটি প্রবন্ধে এই কথা বলেছেন।

৫। ধর্মত্যাগের শাস্তি থেকে মুসলমানদেরকে মুক্তি দেওয়া হলে ইসলামের অস্তিত্ব আজ থাকতো না। ধর্মত্যাগ বিরোধিতায় ইসলামকে আজ এই অবস্থায় রেখেছে।- ইউসুফ আল কুয়ারাদায়ী, মুসলিম ব্রাদারহুড প্রধান, মিশর।

৬। ইসলাম এমন একটি ধর্মবিশ্বাস, যা সমস্ত মানবজাতিকে দুটি চির বিবাদমান জাতি গোষ্ঠীতে ভাগ করে দিয়েছে। একদল, যারা আল্লাহ ও মুহম্মদকে বিশ্বাস করে, অর্থাৎ আল্লাহর দল, মুসলমানরা; আরেকদল শয়তানের দল অর্থাৎ সব অমুসলমানরা। ইসলামে- অমুসলিমদেরকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলাটা এতটাই জরুরী যে, ইসলামম, তার অনুগামী অর্থাৎ মুসলমানদেরকে, এর জন্য হত্যা, লুণ্ঠন, অমুসলিম নারীদেরকে অপহরণ করে ধর্ষণকেই সর্বাপেক্ষা বড় ধর্মীয় কর্তব্য বলে শিখিয়েছে। এসবই ইসলামে জিহাদ নামে পরিচিত এবং এসব কুকর্ম করেই মুসলমানরা কেবল বেহেশতে যাওয়া নিশ্চিত করতে পারে।- আনোয়ার শেখ, ইসলাম এন্য হিউম্যান রাইটস গ্রন্থে

৭। বোমা বাঁধতে ও মারতে শেখায় ইসলাম ধর্ম।- তসলিমা নাসরিন

৮। মুসলমানদের মূলমন্ত্র আল্লাহ এক এবং মুহম্মদ তার পয়গম্বর। যাহা কিছু ইহার বহির্ভূত সে সমস্ত কেবল খারাপ নহে, উপরন্তু তৎক্ষণাৎ সে সমস্ত ধ্বংস করিতে হইবে। যে সমস্ত নারী ও পুরুষ এই মতে অবিশ্বাসী তাহাকে নিমিষেই হত্যা করিতে হইবে। যাহা কিছু এই উপাসনা পদ্ধতির বহির্ভূত তাহাকে অবিলম্বে ভাঙ্গিয়া ফেলিতে হইবে। যে কোনো গ্রন্থে অন্যরূপ মত প্রকাশিত হইয়াছে, সেগুলিকে দগ্ধ করিতকে হইবে। প্রশান্ত মহাসাগর হইতে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত ব্যাপক এলাকায় দীর্ঘ পাঁচশত বৎসর ধরিয়া রক্তের বন্যা বহিয়া গিয়াছে, ইহাই মুসলমান ধর্ম।-স্বামী বিবেকানন্দ, প্র্যাকটিক্যাল বেদান্ত

৯। মুসলমানরা মুখে বলে চলেছে সার্বজনীন সৌভ্রাত্বের কথা, কিন্তু বাস্তবে কী দেখা যাচ্ছে ? কোনো অমুসলমান ব্যক্তির পক্ষে এই ভ্রাতৃত্বের অন্তর্ভূক্ত হওয়া সম্ভব তো নয় বটেই, বরং তার গলা কাটা যাবার সম্ভাবনাই দেখা দেবে।- স্বামী বিবেকানন্দ, জ্ঞানযোগ

১০। ইসলামের মতো অন্য কোনাো ধর্ম দেখিতে পাওয়া যায় নাই যাহাতে এই পরিমাণ রক্ত ক্ষরিত হইয়াছে ও যাহা অপরের প্রতি এতটা নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করিয়াছে। কোরানের মতে যে ব্যক্তি উহার শিক্ষাতে অবিশ্বাসী যে নিধন যোগ্য এবং তাহাকে হত্যা করার অর্থ তাহাকে দয়া প্রদর্শন। অপরূপ পরীতে পরিপূর্ণ এবং সর্ববিধ ইন্দ্রিয় সুখের আগার বেহেশতে পৌছিবার নিশ্চিততম পন্থা এই কাফেরদিগের নিধন।- স্বামী বিবেকানন্দ, প্র্যাকটিক্যাল বেদান্ত, ৪র্থ ভাগ

১১। সভ্যদেশে সেই সব লোকের কোনো স্থান নেই, যাদের ধর্ম শিক্ষা দেয়, যারা মুসলমান হতে অস্বীকার করে- তাদেরকে হত্যা করতে, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করতে, তাদের নারীদেরকে ধর্ষণ করতে, তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিতে অথবা জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করতে।- ড. বি.আর. আম্বেদকর, ভারতের সংবিধান প্রণেতা

১২। ইসলামের সৌভ্রাতৃত্ব সমগ্র মানব জাতির জন্য নয়। এ হলো মুসলমানের সঙ্গে মুসলমানদের সৌভ্রাতৃত্ব, যারা এই বাইরে তাদের জন্য আছে শুধু ঘৃণা ও শত্রুতা।- ড. বি.আর. আম্বেদকর, ভারতের সংবিধান প্রণেতা

১৩। নির্দোষ হলেও অমুসলমানদের হত্যা করা ইসলামে একটা কৃতিত্ব বলে মনে করা হয়। মুসলমানদের পক্ষে নিজের কুপ্রবৃত্তিকে জয় করা বা আত্মিক উন্নতির চেষ্টা করা নিষ্প্রয়োজন। তাকে কেবল প্রতিবেশি অমুসলমানদের হত্যা করতে হবে, তাদের জমি ধন-সম্পদ ও নারীদের হরণ করতে হবে, কেবল এসব করেই একজন মুসলমান স্বর্গে যেতে পারে।- স্যার যদুনাথ সরকার, ইতিহাসবিদ।

১৪। বস্তুত মুসলমান যদি কখনো বলে হিন্দুর সহিত মিলন করিতে চাই, সে যে ছলনা ছাড়া আর কিছু হইতে পারে, ভাবিয়া পাওয়া কঠিন।- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১৫। দু হাতে সরয়ের তেল মেখে তিলের বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে দেবে, যত তিল দুহাতে লেগে যাবে, ততবারও যদি কোনো মুসলমান বলে আমি তোমার বন্ধু, খবরদার বিশ্বাস করবে না।- শিখগুরু গোবিন্দ সিং

১৬। আমি এমন ভগবানে (আল্লায়) বিশ্বাস করি না, যে আমায় ইহজগতে রুটি দিতে পারে না, কিন্তু স্বর্গে সে আমায় নিত্যমঙ্গল ও চিরন্তন পরমসুখ প্রদান করবে।- স্বামী বিবেকানন্দ,

১৭। আপনি কখনোই মুসলমানদের প্রকৃত বন্ধু হতে পারবেন না, যদি আপনি ইসলাম গ্রহন না করেন।- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কালান্তর।

বেদের মহানতাকে উপলব্ধির পাশাপাশি ইসলামের ভয়ঙ্কর দিক সম্পর্কে জানুন এবং সচেতন হোন, হিন্দু হিসেবে গর্বিত হওয়ার সাথে সাথে নিজের ভবিষ্যতকেও বাঁচাতে পারবেন।

জয় হিন্দ।